ভারতবিষ্ভাবিহার গ্রন্থমালা-১৩ প্রথম প্রকাশ অগ্রহায়ণ ১৩৬৭

প্রকাশক আীবিনক্ক্ণ দক্জ

৪১ সি, শ্ঠামাপ্রসাদ মুখাঁজি রোভ, কন্সিকা ত1-২৬

মুদ্রাকর শ্রীঅজিতকুমাব্র বসু শক্তি ০গ্রস

২৭।৩বি, হরি ঘোষ স্ট্রীট, কলি কাত!-৬

পৃষ্ঠা ভূমিকা ন্ নাল্দী প্রশ্ডাবনা ২৮ অন্ক ৩৩ হু অক গু ছু অহ ৫.২. অক ২. & অঙ্ক অঙ্ক ৮৬ অক্ক ১০৪

টিপনী ১৮.

নিবেদন

স্কৃত কথাসাহিত্যের শিরোভৃষণ এই গ্রন্থটি আধুনিক উচ্চশিক্ষিতদের অভিনিবেশ বিস্তৃত দৃষ্টিসহ পাঠযোগ্য মনে করি। যুগোপযোগী সংক্ষেপ করিয়া! নাটকরচনা-নিপুণ কেহ যদি ইহার 01888108] ভাব অক্ষুণ্ন রাখিয়া অভিনয় আয়োজন করেন তবে সুখী হই। পাশ্চাত্যদেশে যেমন বিশালগৃছে বহুলোকপ্রিয় নাটকের, তেমনি শুধু রসামোদীদের জন্য শ্বল্লায়তন স্থানে 8: 17069119098] শ্রেণীর নাটকও অভিনয় হয়। আমার অহ্থরোধে ধাহারা এই পুশুকের কয়েকটি সংস্কৃত শ্লোকের বাংলা অনুবাদ (পৃ ২৯, ৭৫১ ৭৭ ১১৭) করিয়া দিয়াছেন, টিপ্রনীতে যথাযথাস্বানে তাহাদের নামোল্লেখ করিয়াছি। শ্রীমতী সীতা সেন পাগুলিপি্প্রণয়ন গ্রফ-সংশোধনে সহায়তা করিয়াছেন। ভারতীয়চিত্রকলাবিৎ অধ্যাপক শ্রীঅশোক ভট্টাচার্য, মুদ্রণশিল্পী শ্রাচার গ্রন্থপ্রকাশক শ্রীবিভাস ভট্টাচার্য মলাটের পরিকল্পনা করিয়াছেন। ইহাদের সকলের প্রতি আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি মলাটের চিত্রটি গোয়ালিয়রের গ্যারসপুরে প্রাপ্ত, অহ্নমান ১০ শতকের একটি বৃক্ষদেবতার প্রন্তরমৃত্তির |

অমূল্যচন্দ্র সেন

ভূমিকা

১. কালিদাদের জীবনকাল যুগ

মহাকবি কালিদাস ৪-৫ শতকের লোক ছিলেন। একদল ভারতীয় পণ্ডিত কিন্তু তাহাকে যুগেরও প্রায় ৪-& শতক পূর্ববর্তী কালের লোক বলিয়া! মনে করেন। তাহা! যদ্দি সত্য হইত তবে ইহার ব্যাখ্যা কিঃ যে তাহার মত অতবড় প্রতিভাবান যশস্বী কবির সম্বন্ধে অপরে দীর্ঘকাল কোনও উল্লেখই করিলেন না?

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে দেখা যায় কোনও গ্রন্থকারের বা গ্রন্থের খ্যাতি অপরকর্তৃক স্বীকৃত হইতে অন্যন এক শতার্বী লাগিত। অতএব কালিদাস যদি শ্রীষটপূর্ব শতক হইতে ত্রীঃপর শতকের মধ্যের লোক হইতেন, তবে ইহা! কিরূপে ঘটিল যে তাহার নাম সর্বপ্রথমে দেখা গেল কাদস্বরী কাব্যের রচয়িত! কবি বাণতট্রের হর্গরিতে (৬২০ শ্বী) এবং ইহার ্বল্পপরে (৬৩৪ শ্রী) উৎকীর্ণ, কর্ণাটের অস্তভুক্তি আইহোলে নামক স্থানের লিপিতে 1? হ্রী্টজন্ম যুগের প্রায় জঅমসাময়িক যদি তিনি ছিলেন, তবে তে! বলিতে হয় তাহার মতে! প্রতিতাবান ব্যক্তিকেও গুণদর্শী স্বদেশবাসীর নিকট পরিচিত হইতে ৬-* শত বৎসর লাগিয়াছিল। ইহ] সম্ভবপর নয়।

ইহা অবশ্য স্বীকার্য যে সাম্প্রদারিকতাদদি বিবিধ মনোভাব প্রস্থত অসহিষুতা ব! কুদ্রতা বা ঈর্যাবশতঃ আমর! আমাদের দেশের অনেক কীতিমান পুরুষের স্মৃতির প্রতৃত অবমাননা করিয়াছি, যেমন ব্রাঙ্গণ্যধর্মীরা বেদযার্গবিরোধী গৌতম বুদ্ধের নাম পর্যন্ত লোপ করিয়া দিয়াছিলেন ; অশোকের মত নৃপতিকুলভূষণ বৌদ্ধমতাঁবলম্বী ছিলেন বলিয়৷ তাহার অনন্য- সাধারণ বহু কীতি সম্বন্কে অবৌদ্ধ সংস্কৃত সাহিত্য সম্পূর্ণ নির্বাক অশ্মঘোষের মত শক্তিমান দার্শশিক কবি, বীহার কাছে স্বয়ং কালিদাসও খণী ছিলেন এবং ধাহার রচন1 অনূদিত হইয়া চীন প্রভৃতি দুরদেশে প্রচারিত হইয়াছিল, তিনি বৌদ্ধ ছিলেন বলিয়া বহু হিন্দু সংস্কৃত আলঙ্কারিক কবিতা- সংগ্রাহকদের মধ্যে একজনও তাহার রচন1 হইতে একটি বর্ণও উল্লেখ করেন নাই? মহাকবি কালিদাস সনাতনধর্মপন্থী হইয়াও লৌকিক কিন্বস্তীতে প্রথমজীবনে গন্ধমূর্ধে এবং পরে ভাড়ে পর্যবসিত হইয়াছিলেন ? মহাদার্শনিক

অভিজ্ঞান-শকুস্তল

আচার্য শঙ্কর বেদবাদী হইলেও ভেক্কিবাজি-প্রদর্শকে রূপান্তরিত হুইয়াছিলেন কোলক্রমে আমাদের হাতে রামমোহন বিগ্ভাসাগর বঙ্কিম বিবেকানন্দ অরবিন্দ রবীন্দ্রনাথ প্রভৃতি কি অবস্থা প্রাপ্ত হইবেন কে জানে! )। কিন্তু ৮-৯ শতকের বেদমাগী আচার্য শঙ্কর যখন ভারতীম্ব দার্শনিক সমাজে ১০-১১ শতকেই উল্লিখিত হইতে পারিয়াছিলেন, তখন সনাতনপন্থী কালিদাস শ্রীষ্টউজন্ম- নিকট যুগে যদি জন্মগ্রহণ করিয়া! থাকেন, তবে খ্রীষ্পর শতকের 'প্রথমাধ পর্যস্ত অজ্ঞাত রহিলেন, ইহা কি করিয়া বিশ্বাস্ত হইতে পারে ?

গোয়ালিয়র (সংস্কত “গোপালিপুর” হইতে ) রাজ্যের অন্তর্গত দসোর (বা! দসৌর, বা মন্দমসোর বা মন্দসৌর » বিখ্যাত প্রাচীন নগর দশপুর ) নামক স্বানে প্রাপ্ত, ৪৭৩ শ্রী উৎকীর্ণ, কবি বৎসভটি রচিত প্রশস্তির একটি শ্লোকে কেহ কালিদাসের যেঘদৃতের “বিছ্যুত্বস্তং ললিতবনিতাঃ শ্লোকটির প্রতিধবনি পান মনে করেন কিন্তু ইহ! স্থুনিশ্চয়ে বলা যায় না, উপরন্ধ মেঘদুতের শ্রোকটি খুব সম্ভবতঃ প্রক্িপ্ত !

শতকে জৈনকবি জিনসেন মেঘদূতের শ্লোকগুলির প্রতি এক বা ছুই পাদের সমস্যা ব! পাদপৃরণরূপে “পার্থ্াভ্যুদ্রয়” নামক কাব্য রচনা করিয়া জৈন তীর্ঘঙ্কর পার্খনাথের জীবনকথা বর্ণনা করেন। ইহাতে কালিদাসের ,তাৎকালীন মর্যাদ। প্রমাণ হয়।

বাঙালীর। কালিদাসকে বাঙালী বলিয়। কল্পন1! করিতে ভালবাসেন, কিন্ত তাহার তরুণ বয়সে রচিত খতুসংহার কাব্যে তিনি বর্ষাবর্ণন। প্রসঙ্গে বলিয়াছেন *বনানি বৈদ্ধ্যানি হরস্তি মানসং” অর্থাৎ বিশ্বাযপর্বত অঞ্চলের বনরাজি মনোহর করে। তিনি যদি বঙলদেশজাত হইতেন তবে প্রাকৃতিক শোভ। বর্ণনা উপলক্ষ্যে নবযৌবনে বিদ্ধ্য অঞ্চলের কথ তাঞার মলে জাগিবে কেন? তিনি যে সেদেশে প্রবাসে গিয়াছিলেন, এমন কথাও তো! বলেন নাই। তরুণ রচনায় কবিরা যাহা পারিপাশ্বিক ম্থপরিচিত্ত, তাহার দ্বারাই অধিক প্রভাবিত হন, যেমন রবীন্দ্রনাথের প্রাথমিক রচনায় “গুজরাট-মারাঠা” বা বিলাত, যেখানে তিনি যৌবনে কিছুকাল কাটাইয়্াছিলেন, সেখানকার নয়,

ংল। দেশের প্রাকৃতিক শোভাই ব্ূপ লাভ করিয়াছে মেঘদূতে উজ্জরিশী নগরীর প্রতি কালিদাস যে সুগভীর প্রাতির পরিচয় দিয়াছেন এবং তাহার পারিপাশ্বিক অঞ্চলের সহিত যেব্প নিকট পরিচয়ের প্রমাণ দিয়াছেন, তাহাতে অন্থমাঁন হ্য় তিনি সেই অঞ্চলে জাত এবং উজ্জয়িনী-নিবালী ছিলেন।

ভূমিক।

উত্তরকালের তিব্বতী বৌদ্ধ গ্রন্থে কালিদাসকে কাশীর লোক বলা হইয়াছে ( কারণ বুদ্ধের যুগে বারাণসী একটি শক্তিশালী সম্দ্ধ রাজোর বাজধানীন্ধপে প্রসিদ্ধ ছিল) এবং তাহার যাতাপিতার নামও উল্লিখিত হইয়াছে--বল! বাহুল্য সবই সম্পূর্ণ কাল্পনিক। হিমালয় প্রভৃত্তি উত্তর-ভারতের অনেক অঞ্চলের সঙ্গে কালিদাসের সাক্ষাৎ পরিচয় ছিল মনে হয়!

কালিদাসের আবির্ভাব হইয়াছিল গুপ্তবংশীয় শ্রেষ্ঠ নৃপতিদের যুগে। তিনি সম্ভবতঃ ২য় চন্দ্রগুপ্তের (বিক্রমাদিত্য ) সময়ে কবিজীবন আরম্ভ করেন এবং কুমারগুপ্তের রাজত্বকালে (৪১৪-৪৫৫ ঘ্রী) তাহার প্রতিভার পুর্্ফুতি হয়-_-এই কালকে ভারতেতিহাসের সুবর্ণযুগ বলা হয়, যেমন প্রাচীন গ্রীসের ছিল 1১87:101990. 4.£৪ (শ্রীষ্পূর্ব « শতক ) এবং রোখের ছিল 4£.0£556%0 ££৪ €১ শতক )। কুমারগুপ্তের যুগে ভারতে সুশাসন শান্তিস্বাপন এবং বৈদেশিক বাণিজ্যাদি দ্বার! সধুদ্ধিবৃদ্ধির ফলে জাতীয় শক্তি বিদ্যাকল। জ্ঞানবিজ্ঞান শান্ত্রচর্চা প্রভৃতিতে বন্থমুখী উন্নতিলাভ করে এযুগের অপর বৈশিষ্টা সনাতন ব্রাহ্মণ্য ধর্মের সংস্কৃত সাহিত্যের পুনরভুযুদয় (289091988006) | আমরা বতমানে মহাভারত পুরাণাদি গ্রন্থের যে রূপ দেখি তাহা! এই যুগে ঢালিয়! সাজায়! প্রস্তুত হয়। কুমারগুপ্তের পুক্র স্কন্দগুপ্ডের রাজত্বকালেরও ( ৪৫«--৪৮০ শ্রী) কিছু কালিদাস দেখিয়াছিলেন মনে হয়

কালিদ্াসের রচনাবলী হইতে প্রতীয়মান হয় যে তিন বেদ উপনিষৎ পুরাণ, সাংখ্য বেদাত্ত যোগদর্শন এবং “জ্যাতিষ আয়ুর্বেদাদি তৎকাল প্রচলিত বিদ্যার পঙ্গে পরিচিত ছিলেন তিনি গুপ্তনুপতিদের সভাকবি ছিলেন বল1 হয় এবং খুবই সম্ভবতঃ তিনি বাজান গ্রহপুষ্ট ছিলেন, কারণ তাহার রচনায় ছঃখকই-দারিদ্রোর চিত্র বিরল এবং তাহার জীবন তৈেতবসমুদ্ধ ছিল বলিয়াই অনুমান হয়। ইহ] সেযুগে সাহিতিতক, কবি, পণ্ডিত প্রভৃত্তিদের পক্ষে রাজাহ্ুগ্রহ ব্যতীত কল্পন! কর! যাম্রনা। তবে বিক্রমাদিত্যের “নবরত্ব- সভা”র কথা অলীক কিন্বদস্তী, কারণ এঁতিচ্াাসিক প্রমাণে দেখা যায় এই নবরত্বের অন্তভূক্তি বরাহমিহিৰ শতকের লোক ছিলেন৷ অপর 'এক প্রত বররুচির কাল অনির্দিষ্ট এবং বিতিন্ন সময়ে এই নামের জন তিনেক গ্রন্থকার জন্মেন। নবরত্বেরে কয়েকজনকে আবার কাল্লনিকই মনে হয়। মেঘদূতের টীকাকার দক্ষিণাবর্তনাথ মল্লিনাথ বৌদ্ধ শৈয়ায়িক

অভিজ্ঞান-শকুত্তল

দিঙমাগকে যে কাপিদাসের সমসাময়িক কল্পনা করিয়াছেন, তাহাও অপ্রামাণ্য, কারণ দিউনাগ যে কালিদাসের সমসাময়িক ছিলেন, ইহারও প্রমাণাভাব। তবে কিছুদিন হইল দ্দিউনাগ নামক কোনও ব্রাঙ্ণ কবির রচিত “কুন্দমালা” নায়ে একখানি সংস্কৃত নাটক নাকি পাওয়! গিয়াছে এবং বল হইতেছে এই কবিই কালিদাস-উদ্দি্ট ছিলেন | নাটককারের জন্মস্থান- কাল কিছুই স্বনিদিষ্ট না হওয়ায় এই অঙ্মান এতাবৎ জল্পনামাত্র

২. কালিদাসের রচনাশৈলা কালিদাস ভারতের শ্রেষ্ঠ সংস্কৃত কবি। গুপ্রযুগের ভাস্কর্ষের মতো তাহার রচনাশৈপ্ীও সুঠাম চত্ুরত্রশোভী বাগুল্যভার-বঙঞ্জিত, সুকুমার, অনর্থক অলক্কার-আভরণহীন, সরল অহজবোধ্য প্রাণবান এবং উচ্চশ্রণীর রসময় অর্থগোতক। তিন্ন কঠিন দ্ুরুচ্চার্য “পণ্ডিতি” শব্দের কটমট সন্ধি-সমাসের ব্যবহার পরিহার করিতেন এবং স্থখবোধ্য স্থুখোচ্চার্শ কোমল কমনীয় শব্বাবলী-সংযোগে এবং ছন্দ অলঙ্কার ভেন্কি সযত্ে বর্জন করিয়া স্থুপাঠ্যঃ পঠনমাত্র অর্থবোধ হয় এরূপ প্রাঞ্জল ভাষায় কাব্যনাটক রচনা! করিয়াছিলেন “কাব্যং রপাত্বকং বাক্যং”--বসকে কাব্যের প্রাণ বলা হয়, বসোতীর্ণ রচনায় তাহার সমকর্ষ কোনে সৎস্কতকবি হন নাই ! কাব্যরসের একটি বড় ৬পাদানকে সংস্কৃত আলঙ্কারিকর1 “ধ্বনি” বলিতে? অর্থাৎ যাহার দ্বারা অর্থ, ভাব রসের গোতনা হয়ঃ শাব্দক অর্থের মাধ্যমে কিন্ত বাক্যে অথপিত হইনেও ব্যবহৃত বাক্যাবপার আতরিক্ক রস, ভাঁব রূপচিত্রের ইঙ্গত যাহার দ্বারা হয়। হল্পবাক্য-ব্যব্ভাঞে মাধুষময় ভাবাত্মক শ্ধবনির” প্রকাশে কালিদাস [সঞ্ধহত ছিলেন, বৌযাণিক বীতির বাগববস্তার- বাহুল্য, মাত্রীজ্ঞপহীন পুনরুজিপ্রমূতা এবং পরবতী যুগের অন্যান্ত সংস্কৃত- কবিদের অত্যধিক অতিবঞুনপ্রবণতা, এই 'দাষগলি কালিদাসের রচনায় কদাপি দেখা যায় না। হ্বল্পকথায় সুদা্ঘ প্রসঙ্গেগ সংক্ষেপে মুূলগত তথ্য ভাব প্রকাশের নৈপুণ্যে, স্ুরুচিবোধে এবং মাতাজ্ঞানে তিশি সংস্কত সাহিত্যে অনুপমেয়। স্কত সাহত্যশৈলীতে যাহাকে “টবদতী রীতি” বলা হয়, কালিদাসের রচনা! তাহার প্রধান বাহুন--টবদভী কবিত! আযংবৃতবতী শ্রীকালিদাসং বরম্‌।” লক্ষ্যের বিষম্ব ইহার বিপবীত রীতি অর্থাৎ সুদীর্ঘ

ভূমিকা

কটমট শব্দ সন্ধিসমাস ব্যবহার, সহজ সরলভাবে না বালিয়া৷ ব্ছ অলগ্কার সহকারে ঘুরাইয়! পেঁচাইয়! পাণ্তিতা প্রকাশসহ বলাকে *গৌঁড়'* (বাংলা দেশের ) রীতি বল! হইত (সম্ভবতঃ হ্ায্যতঃই )! অতিস্থমিষ্ঠতা অতি- স্বকোমলতায় দুর্বল রীতিকে প্পাঞ্চালী” বলা হইত-_-আধুনিক বাংলার পরস্য] স্লিপ” রীতি কি ইহাই ? প্কাব্যাদর্শ” নামক সাহিত্যবচার-গ্রন্থের রচয়িতা, শতকের দণ্ডী অবশ্য বলিয়াছেন সমাসের প্রাচুর্যেই কাব্যের শক্তিবৃদ্ধি হয়।

প্রকৃতিকে কাব্যরসের প্রাণসার বল! হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনায় কালিদাস অতুলনীয় ছিলেন, অল্প কথায় প্রাকৃতিক নান দৃশ্টাবলির কি মনোহর চিত্রই তিনি আকিয়া গিয়াছেন। উপরস্ত মাহ্ষের জীবনের সঙ্গে প্রকতিলীলার তিনি নিকট সম্বন্ধ দেখিতেন। “উপমা কালিদাসস্য” প্রসিদ্ধ, প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং জাগতিক ঘটনাবলী, অধিকস্ত মানবের মনোভাব- নিচয় এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলির সঙ্গে জাগতিক ঘটনাবধলির এক প্রাণতা দর্শন তাহাকে বহু মনোরম উপমা প্রয়োগে প্রবুদ্ধ কারয়াছিল। চেতন অচেতন, সকল হষ্টিই যেন তাহার দৃষ্টিতে একস্ত্রে বাধা ছিল।

ূর্স্থরিদের মধ্যে বাল্ীকি, বৌদ্ধ কবি অশ্বধোষ (অঙ্ুমান শতক ) এবং নাট্যকার ভাসের (অস্থমান ৩-৪ শক) রচনাবলী কালিদাসকে সবিশেষ প্রভাবাধিত করিয়াছিল তাহার রচনায় রামায়ণ রচনাকাল অস্থমান শ্রীষ্পূর্ব শতক ) অশ্বঘোষের অনেক প্রতিধ্বনি আছে! ভাসের কাছে তাহার খণের কিছু পরিচয় আমর। €ই পুস্তকের টিপ্লনীতে দিয়াচি। মালবিকাগ্রিমিত্র নাটকের প্রস্তাবনায় কালিদাস তাঠাঁর পূর্ববর্তী নাটককার- রূপে ভাস এবং সৌযিল কবিপুত্রের নাম করিঘ্বাছেন উল্লেখের বিষয়, হইতে ১২ শতক পর্যস্ত প্রায় পাঁচ সাতক্জন প্রসিদ্ধ কবি কাব্য বিচারক আলঙগ্কারিক ভাসরচিত নাটকাবলার সঙ্গে পরিচয়ের নিদর্শন দিলেও তাহার পরে ভাস-নাটকগুলি লুপ্ত হইয়া যায় এবং ভাস নামযাত্রে পর্ববসিত হন। এই দুর্ভাগ্য আরও কতিপয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থের হইয়াছিল, যেমন অনুমান শতকের গুণাত্য-রচিত স্ববুহৎ গল্পসংগ্রহগ্রস্থ “বৃহতৎকথা” যাহা অবলম্বনে পরে ১১ শতকে সোমদেব কর্তৃক ণকথাসস্খিৎ- সাগর” রচিত হয়। সৌভাগ্যক্রমে ১৯১৯ খ্ী দক্ষিণী পণ্ডিত ত. গণপতি শাস্ত্রী ভাসরচিত তেরে খানি নাটক পুনরাবিষ্ধার করিয়া! ১৯১২ তরী সেগুলিকে

অভিজ্ঞান-শকুস্তল

প্রকাশিত করেন। কোৌটিল্যের "অর্থশান্ত্র”ও বহুকাল লুপ্ত থাকিয়া ১৯০৯ হী দক্ষিণী পণ্ডিত বু. শামশাস্ত্রী কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

কালিদাসের রচন1 ভাসের মতো! প্রাঞ্জল হইলেও সৌকুমার্য লালিত্যে ভাস অপেক্ষা অধিক হুৃদয়গ্রাহী। কালিদাসোত্তর যুগের শ্রেষ্ঠ সংস্কৃত কবি ছিলেন শতকের ভখভুতি, কিন্তু যে ভাব বান্ধপের প্রকাশ ভবভূতি করিতেন ছুই-তিনটি গ্লোকে, কালিদাস তাহা করিতেন, ছুই-তিনটি মাত্র কথায়।

৩. পাঁশ্চত্য জগৎ, মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ কালিদাস মাইকেল রবীন্দ্রনাথ, বাংলাদেশের এই কবিগুরুত্বয় কালিদাস কর্তৃক বিশেষ প্রভাবিত হুইয়াছিলেন তাহাদের রচনাধলীতে শকুন্তল-নাটকের ছায়। যেখানে যেখানে পাওয়! যায়, অতঃপর টিগ্রনীতে তাহার নিদর্শন দিয়াছি | মাইকেল কালিদাস সম্বন্ধে বলিয়াছিলেন-_ ভারতের খ্যাত বরপুত্র যিনি ভারতীর, কালিদাস-_স্ুমধুরভাষী। _মেঘনাদবধকাব্য, সর্গ' আবার-_ কবিতা-নিকুঞ্জে তুমি পিককুল-পতি ! কার গে। না মজে মন মধুর্রে ? ***০০০*০****শেলেন্রসদনে লভি জন্ম মন্দাকিনী ( আনন্দ-জগতে )! নাশেন কলুষ যথা তিন ভুবনে, সঙ্গীত-তরঙ্গ তব উৎলি ভারতে ( পুণাভূষি )! হে কবীন্ত্র' সুধা বরিষণে দেশ-দেশাস্তরে কর্ণ তোষে সেই মতে। _-পকালিদাস”, চতুর্দশপদী কবিতাবলী ইহার শেষ লাইনে মাইকেল ১৭৯১ শ্রী জার্মান মনীষীভূষণ গোয়েটে-কৃত যে শকুস্তলা-প্রশস্তির প্রতি ইঙ্গিত করিয়াছেন, ইংরেজিতে তাহার একটি অনুবাদ এইব্প-_ 120 9889 5০0 099179 0০ 7919)06 10 609 01907008 88115 59878 8100. 27) 609 10168 99 80৮910090

ভূমিকা + [1) 9899 ০০ 806 60 10859 80100861017) 608৮ 91081008 8100. 801079610108 61086 19 60010806208, [7 9899 5০০, 806 6০ 081] ০০০০ 1)985910 800 98101) 05 ৪, 00100107020 208006, 16197 ০৩ 60 606 910800106819-- 400. 61008] 099017109 60688 81] ! ইহার অপর একটি অনুবাদ এই-- স্/001056 61000, 6209 ০06 59878 01098801008 8,700 6109 [70168 0: 168 090111)9৯ 4110 %]1] 05 12101) 0109 90101] 15 01)810090 9707910190১ 19898690১ 699. ? ডড০০198৮ 01000 6109 987:৮1) 804 10995910 168911 11) 01068 8016 108,178 00120101179 ? |] 18009 61099) 0 97081 01068,18,, 9100 91] ০৮ 07009 19 9810, প্রেশক্তিটি গোয়েট স্বয়ংই দুইবার কিঞ্চিৎ বিভিন্রন্ূপে প্রকাশ করেন, তাহা হইতেই ইংরেজি অনুবাদ বিভিন্ন জনে বিভিন্ন মূলজার্মান অন্থসারে করিয়।- ছিলেন রবীন্দ্রনাথকৃত ইহার অস্থবাদ এইক্প-_ “কেহ যদি তরুণ বৎসরের ফুল পরিণত বৎসরের ফল, কেহ যদি মর্ত্য স্বর্গ একত্র দেখিতে চায়, তবে শকুস্তলায় তাহ। পাইবে ।৮ শকুন্তলা”, প্রাচীন সাহিত্য এবং_- নব বৎসরের ঝুঁড়ি--তারি এক পাতে বরষ-শেষের পরুফল, প্রাণ করে চুরি আর তারি সাথে প্রাণে এনে দেক় পুষ্টিবল, আছে স্ব্গলোক আর সেই এক ঠাই বাধা যেখ। আছে মহীতল-_ হেন যদি কিছু থাকে তুমি তবে তাই-_

ওহে অভিজ্ঞানশকুস্তল। স্কপাস্তর, পৃ ২১২.

অভিজ্ঞান-শকুস্তল

১৭৮৯ ত্বীসার উইলিয়াম জোন্স্‌ শকুগ্তলার ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন ১৭৯১ খ্রী 70:869£ কর্তৃক ইহার প্রথম জার্মান অন্গবাদ প্রকাশিত হয় (যাহা গোয়েটে পাঠ করেন--176:09£ কর্তৃক ২য় সংস্করণ ১৮০৩ খী) এবং পরে মূল সংস্কৃত হইতে আরও কয়েকটি জার্মান অহ্বাদ হয়। ১৮৩০ শ্রী 07955 কর্তৃক প্রথম ফরাসী অনুবাদ প্রকাশিত হয়। এই তিন ভাষার অনুবাদের ভিতিতে ইউরোপের নান। দেশের বিভিন্ন ভাষায়ও ক্রমে অন্ঠান্ত অন্থবাদ প্রকাশিত হয়। গোয়েটে তাহার সমসাময়িক জার্ধান মনীষীর। শকুস্তল! পাঠে বিমোহিত হইয়া তাহার যে উচ্ছুসিত প্রশংসাবাদ করেন এবং তাহার ফলে পাশ্চাত্য সাহিত্যরসিক সমাজে গ্রন্থখানি সম্বন্ধে যে সশ্রদ্ধ আগ্রহের স্ষ্টি হয়, তাহাকেই মাইকেল বলিয়াছেন সুধা বরিষণে দেশ- দেশাস্তরে কর্ণ তোষে।” ১৭৯৭ খ্রী প্রকাশিত গোয়েটে-রচিত “ফাউস্ট” নামক স্ুবিখ্যাত নাটকের 7১791009টি শকৃন্তল! নাটকের প্রস্তাবনা” দ্বারা অনুপ্রাণিত হইয়াছিল

মাইকেল কালিদাস এবং শকুন্তলা সম্বঞ্ধে আরও বলিয়াছেন-__

মেনকা অগ্পরীরূপী, ব্যাসের ভারতী,

প্রসবি তাযজিল! ব্যস্তে ভারত-কাননে

শকৃত্তল। জন্দরীরে, তৃমি মভামতি

কথরাপে পেয়ে তারে পালিলা যতনে-_

কালিদাস ! ধন্য কবি_ কবিকুলপতি !

তব কাব্যাশ্রমে হেরি নারী-রতনে,

কে না ভালবাসে ভারে, ছুম্বস্ত যেমতি

প্রেমে অর্ধ কে ন! পড়ে স্দন-ন্ক্কনে ?

নন্দনের পিক্ধবনি সুমধুর গলে

পারিজাত-কুস্ুমের পমল শ্বাসে ;

নানস-কমলরুচি বদশ-কমলে ;

অধরে অমুতসুধা, সৌদামিনী হাসে ;

ইতচাদি।

--শিকুত্তলা”, চতুরদশপদী কবিতাবলা। মাইকেলের “মাঁনস-কমলরুচি বদন-কমলে” অশ্বধোষের প্বিবেছুমুধ- পদ্কভানি, সক্তানি হর্ম্যেঘিব পক্ক্ঞানি” ( বৃদ্ধরিত.৩ ১৯ )প্মরণ করায়

ভূমিকা »

রবীন্্নাথ কালিদাসের বহু জয়ধ্বনি সাধুবাদ করিয়াছেন, এবং বলিয়াছেন-_ কবি কালিদাস। নীলকঠছ্যতিসম ক্িপ্কশীল-ভাস চিরস্থির আষাট়ের ঘনমেঘদলে | _-“মানসলোক*, চৈতালি ইহাতে মেঘদুতের “ভতুঃ কণচ্ছবিরিতি গণৈঃ সাদরং বীক্ষ্যমাণ:" বাক্যের ছায়! পড়িয়াছে। পুনরায়_ সন্ধ্যাভ্রশিখরে ধ্যান ভাঙি উমাপতি ভূমানম্দভরে নৃত্য করিতেন যবে, জলদ সজল গঞ্জিত যুদঙ্গরবে, তড়িৎ ৮পল ছন্দে ছন্দে দিত তাল, তুমি সেইক্ষণে গাহিতে বন্দনাগান--গীতিসমাপনে কর্ণ হতে বর খুলি স্নেহভাস্যভরে প্রায়ে দিতেন গৌরী তব চুড়া 'পরে। --“কালিদাসের প্রতি* চৈতালি। ইহাতে মেঘদূতের “ন্তত্যারজ্ঞে-"'পশুপচ্চেঃ-"'শাঙ্কোদ্বেগস্তিমিতনয়নং দৃষ্ট- ভ্ভির্ভবান্তা”, “কুর্বন্‌ সন্ধ্যাবলিপটইতাং শুলিনঃ শ্লরাঘশীয়ামামন্ত্রাণাং ফলম- বিকলং লগ্গ্যসে গঞ্জিতানাম্” এবং “যসা বহৃং ভবানী""কর্ণে করোতি” প্রভৃতি রাক্যের স্মৃতি আছে

৪. কালিদাসের প্রধান কৃতিত্ব

সংন্কৃতকাব্যের প্রধান উপজীব্য বিষঘ্ন ছিল নরনারীর প্রণয়রস কালিদাঁস৪ মুখ্যতঃ এই শূঙ্গাররসের উদগাত1। কিন্ত এই প্রণয়াকর্ষণ অতি শ্বাতাবিক ত্রন্দর এবং ইহার প্রভাব অনতিক্রম্য হইলেও কালিদাঁস ইন্দ্িয়বৃত্তি বা মানসিক ভাবকে সমাজ, সংযম ধর্মের বন্ধনে বাধিবার শিক্ষা দিয়াছেন, কারণ অন্থায় সে প্রেম প্রণয়পদবাচ্য প্রিণয়-ফললাভযোগ্য না হইয়া নিবু ষ্টি মেখাড়ম্বরের সগর্জন সবজ্রপাত তড়িৎ-প্রকাশের মতো নিরর্থক এবং অনর্থকারী হয়|

১০ অতিজ্ঞান-শকুত্তল

যৌনপ্রেমকে সংস্কৃতকাব্যে মিলনাত্মক বা সম্ভোগাত্বক বিরহ্থাত্বক, এই ছুই প্রকার বল হয়। মিলনায়কে দেহসভোগের প্রাধান্ত, বিরহাত্মকে বা বিপ্রলভে মনোবৃত্তির প্রাধান্য বিরহব্যতীত প্রেম পরিশোধিত ঘনীভূত হয় না বলিয়া_-“ন বিণা বিপ্রলভেন শৃঙ্গারঃ পু্িমশ্লখতে*_-সংস্কৃতকাব্যে বিরহাবস্থার বহুল বর্ণনা করা হইয়াছে_-কালিদাস মেঘদতে বলিয়াছেন “লোকে মনে করে বিরহে স্নেহ ( প্রীতি ) নষ্ট হইয়। যায়, কিন্ত তাচা ঠিক শয়ঃ। কারণ ভোগের অভাবে অভীপ্সিত বিষয়ের (অর্থাৎ ভোগের ) রস (আকর্ষণ, স্বাদ) বাড়িয়া তাহ! (সেই ন্গেহ ব। শ্রীতি) প্রেমরাশিতে পরিণত হয়।” তবে স্বদেশাতিমানীর যাহাই বলুন, ইহা অবশ্যই স্বীকার্য যে, পাশ্চাত্য সাহিত্যে বণিত প্রেমে মানসিক, রোমান্টিক 198118610 ভাবের যেমন প্রাধান্ত, সংস্কতকাবোর প্রেমে সে তুলনায় দেহসভোগের বাঁসনা বর্ণনাই অধিক বলনতী।

বিরহাত্সক প্রেমের নানা অবস্থা বিভাগ করিয়া সংস্কৃত কবিরা তাহার প্রত্যেকের লক্ষণার্দির বিস্তারিত বর্ণনা করিতে ভালবাসিতেন। এই নাটকে আমর। ইহার কিছু পরিচয় পাইব।

মেঘদূতে যক্ষমুখে যক্ষপত্বীকে প্রেরিত প্রবোধবাণীতে কালিদাস বলাইগ্নাছেন যে, যক্ষের নির্বাসনদণ্ড শেষ হইতে আরও যে চার মাস বাকি ছিল তাহ! ষক্ষপত্ী যেন কোনও প্রকারে চক্ষু মুদিয়া কাটাইয়া দেন, “তাহার পর বিরহের দ্বার! বৃদ্ধিপ্রাপ্ত আমাদের উভয়ের পেই সেই আত্মাভিলাষ (ভোগেচ্ছা ) আমরা শারদীয় জ্যোত্শালোক্তত রাত্রে পারতৃপ্ত করিব ।” ইহাঁতে বেশ স্পষ্টই বুঝ! যায সে যুগের প্রেমকল্পনা কিন্ধপ দেহভোগাত্মক ছিল এবং এই নাটকে আমর] তাহার পরিচয় পাইবে কিন্ত শ্ঙ্গাররসাত্মক বিষয়ে কালিণাসের লেখনী পরবতিকালের অন্ত বহু সংস্কতক'ৰ অপেক্ষা অধিক সংযম সুরুচির পরিচার়ক।

কালিদাসের কাব্যে বার করুণ রসের ক্ষেত্র থাকিলেও তাহাতে বীররস বড়ই ক্ষণস্থায়ী এবং কোমলমুতি ধারণ করিয়াছে-_কান্ত-কমনীয়! সুকুমারী বৈদভাী কাবাশৈলী “য়ন্বর| হইয়া! ধাহাকে পতিত্বে বরণ করিয়া- ছিলেন,” তাহার পক্ষে রুদ্রচণ্ডভাবে অসামধ্য স্বাভাবিক করুণরস বর্ণনায় কালিদাস অপেক্ষা অধিক সামর্থ্য দেখাইয়াছেন ভবভূতি। হাস্যরসের অবতারণায় ভাসের রচনা কালিদাস অপেক্ষা অধিক সমৃদ্ধ-কালিদাসের

ভূমিকা ১১

বিদৃষক-চরিব্রগুলির হাস্যোদ্রেক-প্রচেষ্টা কিছু ছুর্বল, শকুস্তলার বিদূষক বরং স্থানে স্থানে রসিকতার পরিবর্তে বিজ্ঞতারই পরিচয় দিয়াছে বেশি। কালিদাসের শ্রেষ্ঠত1 ছিল প্রণয়রস-চিত্রণে “প্রসন্নরাঘ” নাটকের টাকায় কবি জয়দেব ( অন্থমান ১৩ শতকের, কিন্তু ইনি গীতগোবিদ্দ-রচয়াতা জয়দেব হইতে ভিন্রব্যক্তি মনে হয়) কালিদাসকে কবিতা-নায়িকার “কবিকৃলগরু: কালিদাসে। বিলাসঃ” অর্থাৎ নায়ক-স্বরূপ বলিয়াছেন

৫. কালিদাসের রহ্ছনাবলী

কালিদাস চারখানি কাব্য (খতুদংহার, কুমাবসম্ভব, মেঘদূত রঘুবংশ ) এবং তিনখানি নাটক (মালবিকাগ্রিমিত্র, বিক্রুমোবশী শকুন্তলা ) রচন। করেন অন্ত যে সকল রচনা তাহার নামে চালান হয়, দেগুলি হয় কালিদাস নামধারী অগ্ত লোকের রচিত, না হয় নিছক মেকি। আচার্ধ শঙ্গরের নামে প্রচলিত কতিপ্য রচনা সম্বন্ধেও ঠিক এই কথাই প্রযোজ্য

কালিদাস-রচনাবলীর পৌর্বাপর্যক্রম সম্বন্ধে অনেকে অনেক রকম মত প্রকাশ করিয়াছেন আমর] কাব্য নাটকগুলির যে ক্রমে নাম করিলাম, উভয় শ্রেণীর অন্তভুক্ত গ্রন্থগুলির পৌর্বাপর্য-বিষয়ে তাহাই আমাদের ধারণ!

রচনাবলার পৌর্বাপর্ধ-ক্রম এবং সেই সঙ্গে কোনও গ্রন্থকার কোন্‌ রচন! কি বয়সে করিয়াছিলেন* তাহা নির্ণয় বা অন্কমানের কতকগুলি প্রধান সুত্র এইগুলিকে বলা যায়, যথ। (১) তরুশ রচনা--ভাষায় বাগবিস্তাঁসের আ়ম্বর। পারিপাট্য অলঙ্কারপ্রাচুরধধ ; শূঙ্গাররসাত্মক বিষয়ের বর্ণনায় আগ্র £নারীনব্ধপ বর্ণনায় আদিরস বিষয়ে স্কুলদৃষ্টিপ্রবণতা বাহুল্য; স্বকীয় কবিশক্তি- প্রকাশেব প্রয়াস; বজোগুণপ্রীতি ; অঙ্টৈর্য ; প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিহ্বলতা তন্ময়ত1; আদর্শ অপেক্ষা বাস্তবের প্রতি দৃষ্টি, ইত্যাদি; (২) প্রবীণ রচন1__ বাগর্ববস্তুতি অলঙ্কার-যোজনাদি বিষয়ে স্ব্নতা ) শূঙ্গাররস বর্ণনায় সংযম সুগম 8986179010 দৃষ্টি) স্বকীয় কবিশক্তি বিষয়ে বিনয় নত্রতা ; বর্ণনীয় বিষয়ের নির্বাচনে পৰিবেশনে গম্ভীর দার্শনিক দৃষ্টি ভাৰ॥ সংসারের অপ্রিয় বাস্তব বিষয়ে উদার সহিষুত1 ; মানবজীবন সংসারের ঘটনাবলীতে দৈবের বিধান দর্শনে সে বিষয়ে সত্তৃগুণাত্বক “অদ্্রোহো। নাতিমানিতা” বাস্তব অ-পক্ষা চিস্তাীলতা আদর্শে অধিক আগ্রহ ভাষা! ভাবের" পরিপকতা 3১ শব্দ ছন্দ নির্বাচনে ঝঙ্কার লালিত্য অপেক্ষা স্বচ্ছতা গাভীর্যের প্রতি অধিক দৃষ্টি; অপেক্ষাকৃত নীরসতা, নবীন স্থির

১২ অভিজ্ঞান-শকুত্তল

ন্যুনতা, পুনবাবৃত্তি-প্রবপতা, যৌবনে অভ্যস্ত পারিপার্থিকের শ্রীতিময় স্বৃতি, ইত্যাদি

রবীন্দ্রনাথের মতো দীর্ঘ কবিজীবন গ্ঘপদ্-রচনাপ্রাহূর্স সকল গ্রন্থ- কারের ভাগ্যে ঘটে না। তাহার সমুদায় রচনাবলীর কালও স্সনি্দিষ্ট। কৌতৃহলীরা উপরোক্ত স্বত্রগুলি তাহার রচনাবল'তে প্রয়োগ করিয়া ফল বিচার দ্বার সৃত্রগুলির সত্যতা মূল্য নির্ধারণের প্রচেষ্টা করিতে পারেন

হ্ত্রগুলির দৃ্টিতেই আমরা কালিদাস-রচনাবলীর পূর্বোক্ত ক্রম-নির্ণয়ে উপনীত ভঙ্য়াছি। উপরন্ত (১) মালাবক্াণগ্রিমিত্রের প্রারস্তে কালিদাস নিজের পৃর্ববতী নাটককারব্রয়ের নায় উল্লেখ করিয়াছেন, যথা ভাস, সৌমিল্ল এবং কবিপুত্র (বাস্তবে দ্ইজন কাব যুকভাবে “কবিপুত্র” নামে রচনা প্রকাঁশ করিতেন ), কিন্ত শকুজ্লাগ্চ তিশি কোনও পরববতীদের অন্ুল্লোখে শুধুমাত্ত “কালিদাসরচি৬৮ বলিয়াই নাটকখানি টউপস্তাপিত ককিয়াছেন ! ইহাতে বুঝা যায় এসময়ে তাহার নাম যশ এত স্বজ্ঞাত হইয়াছিল যে, নাটকরচন। বিষয়ে তাহার সামধ্য অবিসম্বাদিতন্ধপে শিক্ষিত সমাজে স্বারৃত হইয়াছিল। (২) রঘুবংশের প্রারভ্তে তিনি নিজ-যোগাতা বিষয়ে সবিস্তারে :য দেনা প্রকাশ করিয়াছেন--+কবিষশপ্রাথী মন্ববুদ্ধি আমাকে লোকে উপহাস করিবে” “কোথায় বা কর্বংশ, আর কোথায় বা আমার মতে অল্পবুদ্ধি লোক”, “উচু গাছের যে ফলে কেবল দীর্ধদেহ লোকেরই ভাত পৌছে, তাহাতে লোভবান হইয়া বামনের হাত তোলাপ মতো! আমার প্রয়াস” “ঘৃস্তর সাগর ভেলায় পার হইবার চেষ্টার মতে! আমার প্রয়াস” প্রভৃত্ি-সে স্বনিন্না আন্লীবজ্ঞ! ,সই এন্থকারই মাত্র করিতে পারেন খিনি স্থির জানেন যে*মপবের মুখে ভাহার যোগ্যত] বিষয়ে প্রশংস! এত যে সে বিষয়ে তিনি নিজে বিপত্নীত বলিলেই স্বরুচিসম্মত হইবে ফলভারধাঁন বৃন্তই অবনত হয় ওদ্ধত্য তরুণের স্বভাব, দীনতা স্বুবিনয় প্রৌঢিত্বের পরিচায়ক সুতরাং শকুন্তলা! রঘুবংশ কবির পরিণত বয়সের রচনা আবার উভতয়গ্রন্থের মধ্যে “বোধহয় রঘুবংশই সর্বশেষ রটশ1--বঘুবংশে বিনয়ের অতিবাছল্য, শকুস্তলার তুলনায় শৃর্গাররসের অতি- স্বমতা এবং ভ।ষায় শকুত্তলা অপেক্গীও স্বচ্ছ সরলতা হইতে এরূপ মঙ্কমাঁন ভয় (বক্রমোর্বশী শকুন্তলা সম্ভবতঃ কবির প্রায় চল্িশের ক'ছাকাছি নবম্মসে রচিত এবং উত্তয়ের মধো ব্যবধান বোধহয় ২৩ বৎসরের বেশি নয়! রঘুবংশ কবির পঞ্চাশোধ্বে রচিত মনে হয়।

ভূমিকা ১৩

খতৃসংহারে যেমন শৃঙ্গাররসলোলুপ তারুণ্যের মৃতি ন্বপ্রকট, কুমারসক্মবে যেমন যৌবনের কৰিশক্তির ঝঙ্কার. মেবদূতে যেমন প্রগাঢ় রসবতা, সে তুলনায়' শৃঙ্গাররসে নুন রঘুবংশে এত গাভীর্য যে পরিপকবোধহীন রসলোভী তাহাতে আমোদ পান না। যাহার! সচিত্র সালঙ্কার সজীবতার পক্ষপাতী, তাহাদের কাছে শুদ্রসরল গভীরতার মর্যাদ] উচ্চ হয় না, যেষন ইংরেজ কবি মিলটনের কাব্য বা জার্ধান সর্গীত-রচয়িতা বাখের সঙ্গীতবাছ্ সকলের বোধগম্য হয় না রঙ্গপ্রিয়ুত1 সজাবতার প্রতি বাঙালীর আকর্মণ অধিক বপিয়াই কি পাণ্ডিতাক্ষেত্রে বেদ উপনিষৎ দর্শনশাস্ত্র অপেক্ষা স্বৃতি তন্ব ন্যায়ের চর্চা এক যুগে তাহাদের কাছে অধিক সমাদর লাভ করিযাছিল? ১৬-১৭ শতকে আবার বাঙালী পণ্ডিতদের মধ্যে শ্রীচৈতন্ত মহাপ্রভুর কয়েকজন ভক্ত ছাড় কেহই কাব্য-সাহিত্যের চর্চ করেন নাই, যদিও স্মৃতি তন্ত্র, বিশেষতঃ নব্য হ্টায়ের চর্চা সেযুগে বিশেষ প্রসার লাভ করিয়াছিল

এই সম্পর্কে বলা অপ্রাসঙ্গিক হইবে ন!যে বাংলাদেশে ১৮১৯ শতকে মেঘদূত শকুস্তলার চা থাকলেও রখুবংশ পঙ্িতদের কাছে প্রায় অপরিাটতই ছিল। সংস্কাত কলেজে খিগ্তাসাগর মহাশয় যণন ছাত্র, তখন তাঙার অন্ততম অধ্যাপক প্রেম্টাদ তকবাটীশের জীবনা হইতে জানা যায় যে, কলেজের ত্দাণীস্তন প্রিন্সিশ্যাল সংস্কতাধশারদ কাওএল সাহেব তর্ক- বাগীশকে বথুবংশের টাক রচনার উৎসাহিত করিবার চে! করেন এবং মলিনাথক্কত রঘুবংশ-টাক1 আছে, লোকমুখে শুনিতে পাই! সাহেব বাংলার বাহির হইতে সে টাচ সংগ্রহ কংপয়া আনেন। সেকালের সংস্কৃতপটীর। গুরুমুখে ব1 গিক। ব্যতীত কোনও প্রাগন গ্রন্থ অথ্যয়ন করিতেন ন! বাংলা- দেশে রঘুবংশ-টীক1 অজ্ঞাত থাকাদ্র অতএন বুঝিতে হইবে ইংরে্গ আমলের পৃবে কিছুকাল ধরিয়া বাংলাদেশে রঘুবংশের অধ্যয়ন ছিল না অথচ জার্মানি প্রভৃতি সংস্কতেৎসাহী দেশের শিশ্বনিগ্ভালঘে কাপিদাস-পঠনপাঠনে তাহার শ্রেষ্টকাব্যঞ্চশে রঘুখংশই সাণ্রহে অধাত হয়। আমাদের পাশ্চাত্যের দৃষ্টি রুচিবোধ মর্ধাপদাজ্ঞানের বিভেদ ইহাতে বুঝা যাইবে কাওএল সাহ্ক কর্তৃক বাংলাদেশে মল্লিনাথের টীকাসহ রঘুবংশের অধ্যাঁপন। পুনঃগ্রবর্তনে %& ফলেই হয়তো! রুচিবোধে ন্যুন, অপরিণতবুদ্ধি লঘুচিত্ত কোনও পড়,য়! রসিকতা করিয়! সেই শ্লোকটি প্রচার করিয়াছিলেন--“রঘু আবার কাব্য! তাহাও আবার পাঠ্য ! তাহারও আবার টীকা ! তাহাঁও আবার পাঠ্য] 1” হায় হায়

১৪ অভিজ্ঞান-শকুস্তল ৬. সংন্কত নাটক পাশ্চাত্যদেশের নাটক সংস্কৃত-নাটকে বহু পার্থক্য নান! আধি- ভৌতিক আধিদৈবিক ঘটনার ঘাতপ্রতিঘাতে বিভিন্ন প্রকৃতির সাংসারিক সাধারণ মাছছষের মনে কর্মে কি প্রভাব হয়, পাশ্চাত্যনাটকে তাহার বাশ্তবচিত্র দেখাইবার প্রয়াস হয়। কিন্তু সংস্কৃত নাটককে কাব্যেরই এক পর্যায় মনে কর] হয়, “কাব্যেধু নাটকং রম্যম্‌?”, উহার সঙ্গে রাস্তবের সম্বন্ধ অল্পই, উহ! কল্পনা আদর্শমূলক এবং গদ্য-পগ্য কথোপকথনে রচিত রোমান্টিক কাব্য। উহার"প্রধান উপজীব্য বিষয় নরনারীর প্রেম এবং প্রধান লক্ষ্য রোমান্টিক কাল্পনিক ঘটনাবলীর সাহায্যে নরনারীর আদর্শচরিত্র বর্ণনা অতএব পাশ্চাত্যের সঙ্গে তুলনায় উহা! অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাবলীবহুল কিছু কৃত্রিম সংস্কৃত নাট্যশাস্ত্রকাররা! আবার নাটকরচনা, স্তানকাল, পাত্রবর্গ, রঙ্গালয়, রঙ্গভূমি (চলিত বাংলায় রঙ্গমঞ্চ, ৪6৪৪৪ ), ভাষা প্রভৃতি বিষয় সম্বন্ধে সহত্র নিয়ম বাধিয়া দিয়া নাটককে আরও আদর্শমুখী কৃত্রিম করিয়াছিলেন

প্রাচীনভারতে নৃত্যগীত, কথোপকথন মুদ্রাদি ( অঙগভঙ্গী ইঙ্গিত ) সহকারে পৌরাণিক কাহিনী অভিনয় খুবই লোকপ্রিয় ছিল বটে, কিন্ত কবিবা নাটক রচন| করিতেন কাব্য নাট্যামোদী শিক্ষিত সমাজের মুখ্যতঃ পাঠের জন্ত, রঙ্গভূমিতে অন্ষিনয়ের জন্য নয়। যেন অভিনয়ের জন্য বাঁলয়া যে সকল নির্দেশ (56889 91299010728 ) নাটকে দেওয়" হইত, তাহ! ছিল নাটকীয় ঠাট বা রীতি, যাহাতে পাঠকের মনে পঠিত বিষয় নাট্যমঞ্চে সাক্ষাৎ দৃষ্ট অভিনয়ের তুল্য সজীব হইয়া উঠে।

প্রাচীন প্রীসে নাটকাঁভিশয় খেখন শর্বশ্রেণীদ পে!কের খার| দৃষ্ট শ্রুত :8,010128] 17091606108 ছিল এবং নাট্যকাররাও যেমন সেই উদ্বেশ্ঠেই নাটকরচনা করিতেন, সংস্কৃত নাটক সম্বন্ধে তাহা বলা চলে না। সে অর্থে ভারতে 0801008] বা 0০00187 বা 1০10 91069158170105008 ছিল পুতৃলনাচ, 08060910106, কথকত!, পৌরাণিক কাহিনীর অভিনয়, নাচগানের আসর প্রভৃতি প্রবোধচক্ত্রোদয়ের মতো! দার্শনিক নাটকের অভিনয় যদি সত্যই করা হইত; তবে তাহ! দেখিত বা বুঝিতই বা কয়জন মর্মজ্ঞ ব্যক্তি ? পাশ্চাত্যদেশেও অজ ফাল যত নাটক লিখিত হয়, তাহার মধ্যে কয়খাঁদ সত্যই অভিনীত হুইয়া থাকে? ভবভূতিব নাটকে এমন মুদীর্ঘসমাসবদ্ধ কঠিন

ভূমিক! ১৫

বাক্যাবলী অতি সাধারণ স্ত্রী পাত্রের মুখে বলান হইয়াছে যাহা সেই জাতীয়া নারীর পক্ষে উচ্চারণ করাই দ্ৃষ্ষর এবং শিক্ষিত লোকেরও বুঝিতে সময় লাগে। গোয়েটের 8৪৪৩ অভিনীত হইয়া থাকে মাব্র সামান্ত অংশতঃ) এবং তাহাও কর্মাচিৎ : এই 199৪দ্ঠ নাটকের অভিনয় দেখা ক্লাস্তিকর নীরস বোধ হয় কিন্ত ইহার পঠনেই চিন্তাশীল জার্মানর! জ্ঞানবৃদ্ধ হন

তবে ভারতে 0০018) বা 1010 9106670817000676 ছাড়া শুধু শিক্ষিত লোকের জন্য নাটকাভিনয় যে হইতই না, তাহ! অবশ্যই নয়। রাজসভার পৃষ্ঠপোষণে বা ধনীগৃহে সন্ত্রান্ত শিক্ষিত লোকের মনোরঞ্জনার্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকারের রচিত রসোত্তীর্ণ নাটক অভিনীত হইত এবং তাহাতে উপস্থিত- বৃন্দের মধ্যে রাজকুলঃ বিদ্বান, ধনী প্রভৃতি ছাড়! রাজান্তঃপুরিকাদি অন্রাস্ত মহিলারাও থাকিতেন। শকুস্তলাও এইভাবে অভিনীত হইয়া থাকিতে পারে |

আধুনিক পাশ্চাত্য নাটকে মানবজীবনের সামাজিক, মানসিক প্রভৃতি কত সমন্তার ইঙ্গিত থাকে, বাস্তবজীবনের কত অপ্রিয়সতোর শ্বব্ূপ উন্মোচন কর] হয়। সে তুলনায় সংস্কতনাটক রোমান্টিক কল্পনা প্রাচুর্য আদর্শ- স্থ্ি-প্রিয়তাহেতু অবাস্তব! জাতীয় জাবনের সত্যস্বরূপ প্রকাশ যেমন ইতিহাসের তেমনি সাহিত্যেরও ধর্ষ। কল্পনাময় আদর্শের বিবরণে ইতিহাস যেমন স্বধর্মভ্রষ্ট হইয়! “কাহিনীতে” দাঁড়ায়, সাহিত্যও তেমনি জীবনের বাস্তব সত্য স্ধন্ধে উদাসীন হইলে কল্পনাবিলাসে আদর্শের তত্দ্রায় পধবপিতত হয়|

স্কৃত কাব্যনাটক্রে আদর্শ দৃষ্টি কিন্ত কিছু ভিন্ন; উহাতে বাস্তবের প্রতিফলন নয়, সৎ আদর্শের স্বাপন শিক্ষারানই অভীষ্ট কাব্য-বিচারক্র! এইরূপ নির্দেশ দিয়া গিয়াছেন, ফলে অবশ্যই বলিতে হয় উহ! অংশতঃ একদেশদর্শী। জীবন্ত মানুষের দুঃখকষ্ট, অভাব অভিযোগ, অগ্ঠাম্ম অবিচার অত্যাচার, তাহার জীবনে ধর্ষ সমাজের শিপনযাবলা, বাজ্যশাসন লোক- ব্যবহার কিকি সমন্তার স্ষ্টি করে এবং তাহার সমাধান বা প্রতিবিধান কিসে হইতে পারে, প্রভৃতির কোনঙ পরিচয় বা দ্রিজ্ঞাসা সংস্কতনাটকে মিলে না। বিধাতার বিধান, শাস্ত্র অন্থশাসপন, দেবণ্তার নির্দেশ সমাজের নিয়ম, রাজার ব্যবস্থা, সনাতন লোকাচার--সবই কালিদাসও সম্পূর্ণ মানিয়া লইয়াছেন, কোথাও এসৰ বিষয়ে কোনও সমস্তার কথা যেন লোকের শ্মনে-কখনই স্পগিত,না।_ প্রেমপ্রণয়, নারীরূপ, প্রকৃতিসোন্দর্য প্রভাততেই

১৬ অভিজ্ঞান-শকুস্তল

তাহারও দৃষ্টি নিবদ্ধ, ছুঃখকষ্টের বর্ণনায় বিরহই প্রধান। কিন্ত এসম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের উক্তিও বিবেচনাযোগ্য--

তবু কি ছিল না তব ম্ুখদুঃখ যত

আশা-নৈরাশ্যের ঘন্দ আমাদেরি মতো,

হে অমর কবি। ছিল না কি অগ্থক্ষণ

রাজসভা ষডচক্র আঘাত গোপন

কথনে! কি সহ নাই অপমানভার,

অনাদর, অবিশ্বাস, অন্যায় বিচার,

অভাব কঠোর ক্রুপ্র-_নিদ্রাহীন রাত

কখনে] কি কাটে নাই বক্ষে শেল গাথি।

তবু সে সবার উধ্বে নিলিপ্ত নির্মল

ফুটিখাছে কাব। তব সৌন্দর্স-কমল

আনন্দের হুর্ধপানে ;$ তার কোন ঠাঁই

ছুঃখদৈন্ দুদিনের কোনো চিহ্ন নাই।

জাবণমন্থণ বিষ (নিজে করি পান,

অমৃত য। উঠেছিল করে গেছ দান

--“কাব্য”, চৈতালি |

প্রাচীনভারতের রঙ্গালয় (0079809) রঙ্গ ভুমি (৪৪৪০) প্রভৃতির স্থাপনা, নির্মাণ, সৌষ্টব সঙ্জ! প্রভৃতি সম্বন্ধে নাট্যশাস্ত্রয় গ্রন্থাবলীতে বিস্তারিত ব্যবস্থ, আছে আধুনিক ভাবতীয় থিয়েটার স্টেজ প্রভৃতি বিলাতির অন্করণে করা হইয়াছিল প্রাশীন শ্রীক থিয়েটারে প্রাচীনভারতীয় রঙ্গভূমিতে স্টেজের সামনে কোনও পর্দা, টিণেটে৮ ০96%10, থাকি নাও শেক্সপীগরের যুগেও বিলাতি থয়েটারে ইহ থা,কত না। ভারতীয় স্টেজের পিছনে পর্দা থাকিত, তাহাকে যবণিকা (বা তিরস্করণী, পটী বা অপটী) বলা হইত | ইহা! নানাবণে চিত মহার্ঘ বাস্ধে প্রস্তুত হইত ইহা! দুইখণ্ড (যুগ্ম, প্রাকৃতে জমগ, তুলনীয় বাংলায় “বমজ সন্তান") বস্ত্রে প্রস্তুত হইত; তাহা। হইতে যবনিকা শঞ্চের উৎপত্তি হইয়া থাকিতে পারে, অথবা ভারতের পশ্চিমস্থ কৌনও বিদেশ হইতে এই বিচিত্র বর্ণের বস্ত্র আনা হইত বলিয়! ( ভারতের পশ্চিমস্থ সকল দেশকেই “ঘবন' বলা হইত ) নাম হয়। পাত্রবর্গ এর পর্দার পিছন হইতে রঙ্গমঞ্চে প্রবেশের সময়ে ছুইজন স্বরূপ নারী ছুই দিক

ভূমিকা

হইতে পর্দ! ছইটির প্রান্ত তুলিয়া ধরিত। পর্দার পিছনে পাত্রগণের সাজঘর থাকিত, তাহাকে নেপথ্যগুহ বা সংক্ষেপে নেপথ্য বলা হইত।

ংস্কতনাটকে “পাত্র” (শব্দটি সংস্কৃতে ক্লীবলিজ, সুতরাং স্ত্রী-পুরুষ উততয়বাঁচক, বাংলার “পাত্রী” সংস্কৃতে অশুদ্ধ )-গণের উক্তিরাজিতে গন্যের মধ্যে প্রভূত শ্লোক সংযুক্ত হয়| এই নাটকের প্রায় অর্ধাংশ প্রায় ত্রিশ প্রকারের ছন্দোবদ্ধ সংস্কত প্রাকৃত শ্রোকে রচিত আমর] সামান্য কয়েকস্বলে ছাড়া--- যেখানে বাস্তবক্ষেত্রে সাধারণতঃ পছ্যই ব্যবহার হইয়। থাকে--এই শ্লোকাবলি গছযেই অহ্থবাদ করিয়াছি

সংস্কত নাটকের ভাষারীতিতে রাজা, শিক্ষিতব্রা্গণ সন্ত্রাস্তব্যক্তি প্রভৃতি “উত্তমপাত্র” সংস্কতভাষী ; পদমর্ধাদ! বা শিক্ষানিবিশেষে সকল নাবী এবং “অধম” ( অর্থাৎ অপ্রধান ) পাত্রগণ সকলেই বিবিধ প্রকারের প্রাকতভাষী ( মাগধী, মহারাস্রী; শৌরসেনী, পৈশাচী প্রভৃতি )।

শুধু কালিদাসরচিত নাটকক্রয়ের মধ্যে নয়, সমগ্র সংস্কতনাটকাবলির মধ্যে এই নাটকের স্থান সর্বোচ্চ সমগ্র সংস্কত-সাছিত্যেরও মধ্যে ইহ! একটি শীর্ষস্থানীয় রচনা অনেকে শকুত্তল|-নাটককেই কালিদাসের সর্বশ্রেষ্ঠ কীতি বলেন। পৌরাণিক কাহিনীতে স্বীয় মনস্থিতা কল্পনা! সংযোগে কবি ইহাতে একজন ভারতীয় রাজা সরল! (সংস্কৃত কাব্যশাজ্ের শ্রেণীবিভাগে *মুধা” সংজ্ঞেয়া ) ভারতীয়! নারীর আদর্শ চরিত্র স্প্টি প্রসঙ্ে অতি কমনীয় রসস্ষ্টি করিয়াছেন

৭. শৃকুত্তলা নাটকের উপাদান শকুস্তলাকাহিনী মহাভারতাদি পৌরাণিক সাহিত্যে সুজ্ঞাত, কিন্ত এই মনোহর নাটকরচনার প্রয়োজনে তাহাতে কবিযে সকল পরিবর্তন সংযোজন] করিয়াছিলেন, তাহ! বিবেচনা! করিলে ভাহার কল্পনা, প্রতিভা] রুচির পরিচয় পাঁওয়] যায়।

মহাভারতের ( আদিপর্ব ) স্থাদীর্ঘ বিবরণ সংক্ষেপে এইব্প--রাজা দুত্যস্ত

সৃগয়ায় বাহির হইয়া বনে পথ হারাইয়। ঘুরিতে ঘুরিতে কথ মুনির আশ্র্ধে

উপস্থিত হইলেন কথ্ধ তখন সেখানে ছিলেন না। তাহার পালিতা কন্ত।

একাকিনী শকুন্তলা! আশ্রমনিয়মে পিতার অন্রপস্থিতিতে অতিথিকে আদর

অভ্যর্থন1 করিলে তাহার বূপে মুগ্ধ হইয়া ছুত্যস্ত তাহার জন্মকাহিনী জিজ্ঞাস চব

১৮ অভিজ্ঞান-শকুত্তল

করিলেন এবং শকুত্তল1 ক্ষত্রিয়ের বিবাহযোগ্য! বুঝিয়! শকুস্তলাকে গান্বর্ব- বিবাহের প্রস্তাব করিলেন। শকুস্তলা তাহাতে এই সর্ভে স্বীকৃত হইলেন যে, তাহার গর্ভজাত পুত্র যেন রাজসিংহাসনের একমাত্র অধিকারী হয়। দুষ্যস্ত এই সর্তে সম্মত হইয়া গান্ধর্ব বিবাহের পর কিছুদিন আশ্রমে বাঁস করিয়া! রাজধানীতে ফিরিয়া গেলেন কিন্ত কথের বিনা অহ্থমতিতে শকুম্তলাকে বিবাহ করায় কথ আশ্রমে ফিরিয়া নিশ্চয়ই তাহার উপর ক্ুদ্ধ হইয়া তাহাকে শাপ দিবেন, এই ভয়ে দুষ্যস্ত আর শকুত্তলার সংবাদ লইলেন ন1। কথ আশ্রমে ফিরিয়া স্বীয় তপোবলে সকল ঘটনা! এবং শকুস্তলার গর্ভসঞ্চার জানিলেন এবং তাহার অহ্থপস্থিতিকালের বিবাহ অন্মোদন করিলেন যথাকালে শকুস্তলার সর্বদমন নামক পুত্রের জন্ম হইল। সেই পুব্র বৎসর বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে ছৃষ্যস্তকে সংবাদ না দিয়াই কথ্ধ সপুত্রা কন্তাকে রাজধানীতে পাঠাইয়। দ্রিলেন। পুত্রসহ শকুত্তলা রাজসতায় উপস্থিত হইলে প্রজাবর্গ তাহার গোপন প্রণয়ের নিশ্পা করিবে, এই ভয়ে ছুষ্স্ত সর্বসমক্ষে শকুস্তলার সঙ্গে পরিচয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করিলে শকুস্তলা রাজাকে তীব্র কটুক্তি করিয়া! যখন সভা! ত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইতেছেন, তখন সভাস্ত সকলের শ্রুতিগোচরে আকাশবাণী হইল ছৃষ্যন্ত যেন ধর্মপত্বী পুত্রকে গ্রহণ করেন। তাহাতে শকুস্তলা প্রধান। মহিষীরূপে এবং তাহার পুত্র যুবরাজবূপে স্বীকৃত গৃহীত হইলেন

মহাভারতের উপাখ্যানটিতে এই কথাগুলি ছাড়া আর কিছুই নাই এবং তাহাও বল! হইয়াছে অতি 228৮6: ০৫ 1৪০6 ভাবে মাধূর্যহীন 010:00080- ৮০ ভাষায় গল্পে শকুন্তলা! মোটেই “যুগ্ধ/” নয়, আশ্রমবাসিনী হইলেও বেশ “পাকা” এবং সাংসারিক জ্ঞানসম্পন্না।

বৌদ্ধ পালি কট্‌ঠহরি ( অর্থাৎ কাষ্ঠ-আহরণকারিণী ) জাতকে অহব্মপ একটি গল্প আছে। বারাণসীর রাজ] ব্রহ্গদত্ত (জাতকের গল্পগুলিতে কোনও বাজার গল্প বলিতে হইলে প্রায়ই তাহাকে এই নাম দেওয়া হইত, যেষন সংস্কৃত গলে দেওয়া হয় বিক্রমাদ্িত্যের ) বনে একটি কাঠফুড়ানী জুন্বরী স্ত্রীলোককে দেখিয়া অভিভূত হইয়া তাহাকে গান্ধর্বমতে বিবাহ করিলেন এবং গৃহে ফিরিবার কালে তাহাকে নিজের একটি আংট দিয়া বলিয়া গেলেন যদি তাহার গর্ভে কন্তা জন্মে তবে আংটি বেটিয়া যেন তাহার লালনপালনের ব্যয়নির্বাহ কর! হয় এবং যদ পুত্র জন্মে তবে তাঁহাকে যেন আংটিটি সমেত ভাহান কাছে পাঠান হয়। পুত্র জন্মিয়া

ভূমিকা! ১৯

কিছু বড় হইলে নারী তাহাকে সঙ্গে লইয়। রাজার সভায় আসিয়! আংটি দেখাইল কিন্ত তাহাকে চিনিতে পারিয়াও রাজা! তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিলেন, কিন্ত তৎক্ষণাৎ প্রত্যক্ষ দৈবঘটনায় সভাসদরা নারীর কথা সত্য বলিয় বুঝিতে পারিলে রাজ। নারী বালককে গ্রহণ করিলেন এবং বলিলেন তিনি ইচ্ছা করিয়াই প্রথমে নারীকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছিলেন, যাহাতে নারীর কথার সত্যত] যে দেবতাদের দ্বার! প্রমাণিত হইল, লোকে তাহা দেখিবার সুযোগ পায়।

পালি জাতকের গল্পগুলি প্রচলিত প্রাচীনকাহিনী অবলম্বনে অছ্মান খর্টপূর্ব ৪-৩ শতকে রচিত হয়। যেমূল প্রাচীনকাহিনী--শতপথ-্রাহ্গণে শকুত্তলার (১৩. ৫. ৪) এবং এতরেয়-ব্রাহ্মণে দুষ্যন্তপুত্র ভরতের (৮. ২৩. ২১) উল্লেখ আছে--মহাভারতে দৃয্ন্ত-শকুস্তলার নামে স্বান পাইয়াছে, তাহাই পালি জাঙকে ব্রহ্গদত্ত-কাষ্ঠহারীর নামে স্থান পাইয়াছে! যাহা হউক, এই গল্পে আংটির উল্লেখ লক্ষ্যের বিষয়-_অভিজ্ঞানরূপে আংটির কথা হয়তো অনেক প্রাচীন গল্লেই বল! হইত, যেমন রামাধণে রামকর্তৃক হু্ছমানের হাতে সীতাকে আংটি প্রেরণ।

খীষ্টপূর্ব & শতকের গ্রাক এ্রতিহাসিক চ79৮০0০60৪ বলিয়াছেন (ঢা, 40-8 ) যে, 1০015078698 নামক শ্রীষ্টপূর্ব৬ শতকের একজন গ্রীক রাজা! তাহার স্বনামাক্ষিত স্বর্-অরকতমণিময় আংটি সমুদ্রে ফেলিয়া দিবার পাঁচছয় দিন পরে এক ধীবর একটা বড় মাছ পাইয় রাজাকে উপহার দিলে সেই মাছের পেটে আংটিট পাওয়। যায়। গুপ্তযুগে রোমের সঙ্গে বাণিজ্যহ্থত্রে গ্রীক-রোমান জণতের অনেক কাহিনী ভারতে পৌছিত। সেইন্ত্রে গল্পটি শুনিয়া! কালিদাসের তাহ অঙ্কে ব্যবহার করিয়! থাক1 অসভব নয়।

রামায়ণেও মহাভারতোক্ত দুষ্যস্ত-শকুত্তলা কাহিনী বিদিত। অশ্বঘোষও গল্পটি জানিতেন (বৃদ্ধচরিত, ১-৮৮ )1

পদ্পপুরাঁণে (স্বর্গঝণ্ড ) বণিত শকুত্তলাকাহিনী অবশ্যই প্রক্ষিপ্ত,। কারণ পল্মপুরাণের কান কোনও প্রাচীনপু থিতে গল্পটির উল্লেখ নাই পুরাঁণগুলিতে প্রাচীনকাহিনী অনেক কথিত হইয়াছে বটে কিন্তু অধুনা এই গ্রন্থগুলি। ( তথা মহাভারতেরও ) যে মুতি আমর! দেখি তাহা গুপ্রযুগে ঢালিয়া সাজান নবকলেবর। উপরন্ত কালিদাসের শকুন্তলানাটকের অনেক কথা, যাহা মহাভারত, পালজাতক, রামায়ণ বা অশ্বঘোষেও সম্পূর্ণ অজ্ঞাত এবং যা

২০ অভিজ্ঞান-শকুস্তল

নিঃসন্দেহ কালিদাসেরই স্য&, তাহ! সবই পদ্মপুরাণের বিবরণে স্বান পাইয়াছে, যেমন--দুর্বাসার শাপে দছ্ষ্স্তের শকুস্তলা-বিস্মরণ শকুম্তলার আংটি জলে পড়িয়! হারাইয়া যাওয়া! এবং ধীবরের ধর! মাছের পেটে উহার পুনঃপ্রাপ্তি; পুলিশের দ্বার! ধীবরকে গ্রেপ্তার ; পুত্রহীন ধনমিত্রের মৃত্যু; দৈত্যদের অঙ্গে যুদ্ধে দুষ্যন্তকর্তৃক ইন্দ্রের সহায়ত; মারীচের আশ্রম; সিংহশাবকের সঙ্গে শকুস্তলাপুত্র সর্বদমনের খেলা ; শকুস্তলাজননী যেনকার আবির্ভাব ; এমনকি অনসুয়-প্রিয়ন্বদ! সবীদ্বয়ের এবং শাঙ্ররিব-শারদ্ধত খষিকুমারদ্য়ের সংযোগ পর্যও। তবে প্রক্ষেপকার কতকগুলি বিষয়ে কালিদাসের পরিবর্তে মহাঁভারতেরই অনুসরণ করিয়াছেন, যেমন শকুন্তলাকহ্‌ক সর্ত করিয়। দুত্যস্তের বিবাহপ্রস্তাবে সম্মতদান। আবার কতকগুলা বষয়ে মহাভারত কালিদাস উভয়েরই নিরপেক্ষ হয়৷ প্রক্ষেপকার নিজবুদ্ধি প্রয়োগ করিয়াছেন --"মুরারেস্‌ তৃতীয়ঃ পন্থাঃ” ! যেমন, কথ ফল-আহরণে গিয়াছিলেন ; শকুস্তলা স্নানের পূর্বে আংটি প্রিয়গ্ধদাকে রাখিতে দিলে প্রিয়ন্বদার হাত হইতে তাহা জলত্র্ট হয় ? দুয্ন্ত-শকুস্তলার পুনমিলন সংঘটিত হইয়াছিল মারীচ কর্তৃক নয়, কথকত্তৃক ইত্যাদি! পদ্মপুরাণের আখ্যানে কালিদাস-নাটকের ভাষারও ছায়। পড়িয়াছে স্থানে স্কানে, যদিও স্থানে স্কানে সেবিষয়ে আবার পার্থক্যও হইয়াছে কিন্তু সব কথা বিবেচনা করিলে সত্যই প্রতীতি হয় ক্ষেপকার মহাভারত কালিদাসের নাটক, ছুইই সামনে রাখিয়! নিজ বিবরণ রচনা! করিয়াছিলেন মেকি রচনা বিচারের সঙ্গে ধাহাদের পরিচয় আছে তাহার। ভালই জানেন 701861%96রা প্রায়ই অন্তগ্রন্থ হইতে খণ ঢাকিবাঁর উদ্দেশে চাতুরি করিয়া স্বরচনায় মূল হইতে কিছু কিছু অদল বদল করেন, তবে তাহাদের ছুর্ভগ)ঞনে বা অনবধান৩বশতঃ এমন প্রমাণও রাখিয়া! যান, যাহার ফলে সঙ্গোপনের পরিবর্তে খণের প্রাকট্যই ঘটে, যেমন-- দুষ্যন্ত শকুস্তলাকে প্রত্যাখ্যান করিলে শকুস্তলাকর্তৃক তাহাকে তীব্র তিরক্কারের কথা মহাভারতে আছে বটে, কিন্তু এবিষয়টির বিস্তৃত বর্ণনা! কালিদাস যেন্ধপ করিয়াছেন, পদ্মপুরাণে তাহাই আর বেশ সবিস্তারে বাড়াইয়া বণিত হইয়াছে প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য যে, পন্মপুরাঁণে রামচরিত বর্ণনায় অনেক কথা রামায়ণ হইতে নয়, কালিদাসের রঘুবংশ হইতে গৃহীত। অতএব শকুস্তলা, রাম প্রভৃতির আখ্যান পল্মপুরাণের অনেক পুঁথিতে প্রক্ষিপ্ত হয় শুধু ওপ্তরাজত্বকালে নয়, কালিদাসেরও অনেক পরবতী যুগে।

ভূমিকা ২১

স্বতরাং দেখ! গেল মাত্র মহাভারতের শুষ্ককাহিনীকে অবলম্বন করিয়! কালিদাস কি অপূর্ব রূপ রসের স্থষ্টি করিয়াছেন, মনস্থিনী কল্পনার সংষোগে কত নাটকোচিত ঘটনা, অবস্থা ব্যক্তির সমাবেশ করিয়াছেন। কিন্ত দুষ্স্ত শকুন্তলা ছাড়া আরও অনেকে ধীহারা নাটকে স্থান পাইয়াছেন, তাহার! নাটকের প্রয়োজনে যথাস্থানে যথাযোগ্য স্থান পাইলেও কোথাও প্রাধান্ত পান নাই, নাটক সমাপ্তির পর “নেতা” (সংস্কত নাটকে &9:০-র আখ্য] ) ছৃষ্স্ত প্নায়িক।* (1১9:01529 ) শকুস্তল! ছাড়! আর কাহারও কথা মনে থাকে না! কিন্ত দুষ্াস্ত প্ধীরোদাত্ত” শ্রেণীর সর্বোত্তম চরিত্রের নেতাব্ধপে চিত্রিত হইলেও কবির প্রধান লক্ষ্য ছিল শকুস্তলার চরিব্রচিত্রণ, তাঁই পাঠকের মনে শেষাঁবধি শকুত্তলার চিত্রই উজ্জ্বল হইয়া থাকে, ছুষ্যস্তকেও বিস্বৃত হইতে হয়। শকুস্তলাকে কবি প্রকট করিয়াছেন কতই না! নাটকীয় স্থকৌশলে + নাটকে অন্ত অনেক নারীর চিত্র রহিয়াছে বটে কিন্তু তাহাদের অস্তিত্ব ভুলিয়াই যাইতে হয়। এমন কি, যে অনস্থয়া-প্রিয়গধদ1 সবীদ্বয় শকুন্তলার এত অন্তরঙ্গ], তাহাদেরও কবি অঙ্কের পর আর উল্লেখ করেন নাই; এই অন্থল্েখে তাহাদের কথা পাঠকের মনে আসিলেও তাহাদিগকে যেন শকুস্তলারই ভূষণস্বর্ূপা বলিয়া মনে হয়। নাটকে সমাবিষ্ট৷ নানীর শকুস্তলাকে আচ্ছাদন করিতে পারে নাই, প্রকাশেই সহায়তা করিয়াছে শকুস্তলার মুখে কবি সামান্যই কথা বলাইযাছেন এবং তাহার বহুগুণ কথ! বঙগাইয়াছেন দুষ্যস্তের যুখে, কিন্ত অস্তিমে আমাদের সমগ্র সহাহুভূতি পড়ে শকুত্তলারই উপর, দৃষ্যন্তের প্রতি করুণামাত্রের উদ্রেক হয়। কথ্ধের আশ্রম হইতে শকুন্তলার যাত্রাকালে শোকমপ্র কথ সখাঘয়ের গ্রন্থ আমর! অহ্ৃকম্পা বোধ কণ্র কিন্ত তাহার ফলে যাহার অতাবে তাহারা ব্যথিত হইয়াছিলেন, আমাদের মন সেই শকুস্তলারই অন্থসরণ করে। আশ্চর্যের বিষয়ঃ কবি শকুস্তলার মনোরম চিত্র আকিয়াছেন শকুণ্লামুখের সায়ান্ত স্বোক্তিতে, ততোধিক অন্টোক্তিতে, ততো”প্যধিক প্ধ্বনি” বিষয়ে স্বকীয় বিচিত্র সুক্ষ সামর্থ্য দ্বারা

৮, শকন্তলানাটকের মুল পুথি তাহার প্রকাশ সার উইলিয়াম জোন্স্‌ বাংলাদেশে প্রচলিত পুথি অবলম্বনে শকুস্তলার ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন। সেযুগে তখনও পাশ্চাত্য পণ্ডিতসমাজে

হ্২ অভিজ্ঞান-শকুস্তল

দেবনাগরী লিপি সং্কতভাষার বাহনদ্নূপে প্রচলিত হয় নাই, ভারতের বিতিপ্ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাদেশিক লিপিতেই যাবতীয় সংস্কতগ্রন্থের পুঁথি লিখিত হইত। ক্রমে দেখা গেল ভারতের সর্বত্র প্রাপ্ত শকুস্তলার পুথিগুলিকে এই পাঁচটি ধারা বা পর্যায়ে (1699008105) ) ভাগ কর যায় (এইনধপ ধারাতেদ মহাভারতাদি অন্য বহ্ন প্রপিন্ধ গ্রন্থপন্থন্ধেও ঘটিয়াছে )--যথা1 (১) বাংলাদেশের (২) উত্তরভারতের (৩) কাশ্মীরের €৪) দক্ষিণ ভারতের এবং (৫) মিথিলার

এই ধারাগুলি তুলন! করিলে দেখা যায় তাহাতে নান! বিভিন্নাতা (অন্ত প্রসিদ্ধ সংস্কৃতগ্রন্থাবলীর ধারাগুলিতেও এরূপ দেখা যায়), যথা__বাংলাদেশের ধারায় নাটকের আগ্ভাংশে এবং কাশ্মীরের ধারার শেষাংশে প্রচুর প্রক্ষিপ্ত হইয়াছে ; উত্তরভারতের ধার! দেবনাগরী লিপিতে লিখিত বলিয়! ইহাঁকে দেবনাগরী-ধারাঁও বলা হয়) প্রায় শুদ্ধ, যদিও ইহার কোন কোনও পুঁথিতে বঙ্গীয় ধার! হইতে কিছু কিছু প্রক্ষিপ্তও হইয়াছিল; দক্ষিণ ভারতের ধার! দেবনাগরীধারার প্রায় অন্থরূপ কিন্ত কিছু সংক্ষিপ্ত ; সম্ভবতঃ ইহা! অভিনয়োদেশ্ে সঙ্কলিত হয় নাই। €মথিলীধারার অস্তিত্ব আবির ছাড়। সেটি সম্বন্ধে আর কোনও বিশেষ বিবরণ প্রকাশ হয় নাই, অন্থমান হয় উহ! বঙ্গীয় ধারারই অনুরূপ |

শকুস্তলার প্রাচীনতম শ্রেষ্ঠ পাণ্ডিত্যপুর্ণ টাকা ( নাম “অর্থগ্যোতশিকা” ) রচিত হয় (কাল অনির্ণেয় ) কাণীনিবাসী রাঘবভট্ট কর্তৃক। ইহা! দেবনাগরী ধারার পুঁথি অবলম্বনে কৃত হইয়াছিল। বঙদেশীয় ধারার টাকাকাব ছিলেন শঙ্কর চন্দ্রশেখর, এবং দক্ষিণী ধারার ছিলেন অভিরাম অনুমান ১৫ শতকের কাটয়বেম। শঙ্কর চন্দ্রশেধরের টীকায় রাঘবভট্রের টাকার অতিরিক্ত প্রায় "৭টি শ্লোক "দখ। যায়-__-এগুলি স্কৃতরাং অবশ্যই প্রক্ষিপ্ত

বঙ্গীয় ধারার পুথির প্রথম বিচারমূলক সম্পাদনা 1101:9£78101090 দেবনাগরী বর্ণমালায় প্রকাশিত হয় ১৮৩০ শ্রী [2:19 হইতে ফরাসী পণ্ডিত 4.1. 009৫5 কতৃক। পূর্বে উল্লিখিত প্রথম ফরাসী অন্বাদও তাহারই কৃত ছিল। তাহার পর ১৮৭৭ খ্বী 9] হইতে জার্মান পণ্ডিত ১. 718০1১91 বঙ্গীয় ধারার অপর এক সম্পাদন! করেন এবং ইহার বিশোধিত পরিবধিত ২য় সংস্করণ হয় ১৯২২ তরী 0. 08%09119: কর্তৃক (লুঙগাভানে 0719736, 361199 01

ভূমিকা ২৩

দেবনাগরী ধারার পুঁধির প্রথম বিচারমূলক সম্পাদন] (বঙ্গীয় ধারার সঙ্গে তুলনাসহ ) প্রকাশ করেন 0%6০:0-এর ইংরেজ পণ্ডিত 331 2১10119: ড/11118105 (১৮৫৩ রী; ৩য় সংস্করণ ১৯৬১ কাশীর 010০0810008 98081 99799 )| দেবনাগরী ধারাম্থষামী প্রথম ইংরেজি অনুবাদও প্রকাশিত হয় ইহারই দ্বারা (€ম সংস্করণ, ১৮৮৭ ঘ্রী)। ইনি কিন্ত রাঘবভট্টরের টীক। পাইয়াছিলেন মনে হয় না।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথমে বঙ্গীয় ধারার পুথি সম্পাদন! করিয়াছিলেন এবং উচ্ধার অর্বাচীন অংশ সম্বন্ধে তিনি প্রভৃত বিরুদ্ধ-সমালোচনা করেন পাশ্চাতা সংস্কতপ্ত পণ্ডিত সমাঙ্ধে যখন বঙ্গীয় ধারার অশুন্ধতা এবং দেবনাগরী ধারার অপেক্ষাকৃত শ্ুদ্ধতা সুপ্রতিষিত হইল তখন সত্যদর্শী বিদ্যাপাগর দেবনাগরী ধারার শ্রেষ্ঠ তা বুঝিয়া মনিয়ার উইলিয়ামস কৃত দেবনাগরী ধারার মুদ্রিত

ংস্করণ, বঙ্গীয় ধারার পুঁথি এবং কাশী হইতে সংগৃহীত রাঘবতট্রের টীকার পুথি এই তিনের তুলনাবিচাঁর করিয়া দেবনাগরী ধারার একটি সটাক সম্পাদন! প্রকাশ করেন ( ৩য় সংস্করণ, ১৮৮৯ শ্রী)।

আমরা বর্তমান অন্থবাদের প্রয়োজনে মনিয়ার উইলিয়াম্স্‌ সাহেবের এবং বিদ্ধাসাগরের সম্পাদিত দেবনাগরী ধারার সংস্করণের সহিত রাখবতট্রের টাকার পাঠ তুলন| করিয়া! যে পাঠ সর্বোস্তম মনে হইয়াছে তাহাই অনুসরণ করিয়াছি। অর্থব্যাখ্যা বিষয়েও নানাবিধ মত বিবেচনা করিয়া যাহা আমাদের সামান্ বুদ্ধিতে সমীচীন মনে হইয়াছে তাহাই গ্রহণ করিয়াছি।

০. 080091151 কর্তৃক ১৯০৯ শী 14917818 হইতে দক্ষিণী ধারার পুঁথির সম্পাদন। প্রকাশিত হয় পাঠ নির্ধারণার্থে ইহারও সহায়তা আমরা গ্রহণ করিয়াছি

বঙ্গীয় ধারার পুথির প্রক্ষিপ্তরাশির অন্যতম পরিণাম হইয়াছিল শতুস্তল! চরিত্রের বিক্তিসাধন। বাঙালী পণ্ডিতর! শকুস্তলামুখে এমন সব উক্তি প্রক্ষেপ করিয়াছিলেন এবং তাহাকে এরূপ অনেক আচরণ করাইয়াছিলেন থে তিনি কালিদাসোদ্দি্! মুগ্ধার স্থানে প্রগল্তায় পরিবতিত1 হইয়াছিলেন। সমগ্র নাটকের বর্ণন| অন্ুস্মরণ করিলে কাপলিদাসোদিষ্ট শকুন্তপাচরিত্র যেভাবে প্রতিভাত হয়, তাহাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে না যে সে সরল ছুন্দর স্বকুমার চরিত্রের পক্ষে বাঙালী পণ্ডিতদের আরোপিত উক্তি ক্রিয়াবলী সর্বথা অসস্ভব | বাংলাদেশে প্রচলিত বহু অনুবাদে বঙ্গীয় ধারার দোষ

২৪ অভিজ্ঞান-শকুস্তল

অল্পবিস্তর সংক্রামিত হুইয়াছিল। বিদ্যাসাগর মহাশয় বঙ্গায় ধারার দোষক্রাচ অনেক দেখাইলেও দেবনাগরী ধারার সঙ্গে পরিচিত হুইবার পূর্বে নাটকের গল্লাংশ তাহার “শকুভ্তলা” পুস্তকে যেভাবে বলিয়াছিলেন, তাহাতেও দোষ কিছু রহিয়া গিয়াছিল। সুখের বিষয় আজকাল বাংল! দেশেও দেবনাগরী ধারাহ্যাম়্ী গ্রস্থই অন্ুস্থত হয়।

৯. এই নাটকের কিছু এতিহাসিক তিতি আছেকি?

কালিদাসের বিক্রমোর্ধশী নাটকের আখ্যানবন্ত এইবূপ--রাজা পুর্নরবা অপর উবশীর সঙ্গে প্রণয়াবদ্ধ হন এবং পরে তাহাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই বিচ্ছেদকালে উর্বশীর গর্ভে আফু নামে পুক্রবার এক পুত্র জন্মে কিস্ত পুরূরবার ইহা অজ্ঞাত থাকে আমু এক আশ্রমে প্রতিপালিত হইলেও কৈশোরেই ক্ষত্রিয়স্ুলভ ধহৃবিগ্ভায় অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শনের ফলে পুরূরবার সঙ্গে পরিচয় হইলে প্রমাণিত হয় তিনি পুন্ধরবার পুত্র। তারপর উর্বশী পুরূরবা'র চিরতরে পুনমিলন হয় এবং আমু যৌবরাজ্যে অভিষিক্ত হন।

শকুস্তলানাটকেরও আখ্যানবস্ত প্রায় একইব্ূপ--এক আশ্রমে অপর! কন্তা শকুস্তলার প্রতি রাজ। ছুষ্যস্তের প্রেমসঞ্ধার গোপনে বিবাহ; উভয়ের বিচ্ছেদ? ছুষ্যন্তের অজ্ঞাতসারে শকুস্তলার অন্ত এক আশ্রমে বাস এবং পেখানে শকুস্তলার পুত্র সর্বদমনের জন্ম ; দৈবাৎ সেই আশ্রমে আসিয়া বীর বালকপুত্রের সঙ্গে দুষ্যস্তের সাক্ষাৎ; উভয়ের পিতাপুত্র সম্বন্ধ প্রমাণ; দুধাস্ত শবকুস্তলার পুনমিলন ; শকুস্তলা মহিষীপদে বৃতা সর্বদমনের ভবিষ্য-রাজগরিম। সঞ্ধন্ধে খষিবাক্য

উভয় আখ্যানেই প্রণফ্লিযুগলের প্রেমগাঁঢ়তাঁ, বিশেষতঃ রাজার নিদারুণ বিরহকষ্ট প্রণয়িনীনিষ্ঠা সবিস্তারে বণিত। উভয় বিবরণেই রাজার প্রেমাম্পদা অপ.সরাজাতীয়! (অর্থাৎ অজ্ঞাতকুলসভবা 1?) এবং পরমা সুন্দরী উভয় বিবরণেই রাঞ্জার অজ্ঞাতে জাত পুত্র মহাবীর, পার্থক্য মাত্র এইটুকু যে রাজার সঙ্গে তাহার প্রথম সাক্ষাৎ হয় বিক্রমোর্বশীতে কৈশোরে এবং শকুন্তলাপ়্ বাল্যে॥ উভয় বিবরণেই পিতাপুত্রে সাক্ষাতের ফলে পতিপত্বীর পুনমিলন হয়। বিক্রযোর্বশীতে প্রণয়িযুগলের বিচ্ছেদের কারণ হইয়াছিল রাজার ওদাসীন্ত নয়, পুরূরবার প্রতি প্রেমাসক্তিবশতঃ উর্বশীর ইন্্

ভূমিকা ২& সভায় নৃত্যকালে অন্তমনক্কতাজনিত ভ্রম বিষ্ণুর প্রতি প্রেমাভাবের শাস্তিম্বপ্ূপে দেবাভিশাপ ; শকুস্তলায় সেই বিচ্ছেদ হইয়াছিল রাজার স্বেচ্ছায় নয়, ছুয্য্তচিন্তামগ্রা শকুভ্তলার প্রতি ছুর্বাসাঁর অভিশাপে হ্যাস্তের শকুস্তলাশ্বতিনাশ-বশতঃ।

কালিদাসের মত প্রতিভাবান ব্যক্তির উত্তাবিনী কল্পনাশক্তির অভাব ছিল না এবং তিনি কদাপি সবিস্তার-পুনরুক্তি করিতেন না। তথাপি সামান্ট পৌরাণিক কাহিনী স্মরণে তিনি একই 1200816 6179109-এর এবং প্রায় একই 21০6 অবলম্বনে উপযুপরি ছইখানি নাটক রচনা করিলেন কেন 1 যদিও শকুত্তলারচনাঁর ৪6519 হইতে বুঝা যায় তাহার কবিশক্তি তখনও পূর্ণ- সতেজ সম্পর্কে ভাহার সমসাময়িক একটি এতিহাপসিক ঘটনার কথা মনে হয়।

গুপ্তবংশীয় রাজাদের সকল লিপিতে রাজার নামের সঙ্গে সর্বদ! তাহাদের মাতার নামও উল্লিখিত হইত, কিন্ধ কুমারগুণ্ডের পুত্র স্বন্দগুপ্ডের মাতার নাম কুত্রাপি উল্লিখিত হয় নাই। ইহাতে অনুমান হয় স্বন্দগুপ্ত-জননী রাজবংশীয়া বা বিশেষ সন্ত্রান্তকুলজাতা ছিলেন না, অথব! কুমারগুপ্তের জীবিতকালে তিনি পট্টমহিষীরূপে গৃহীতা বা পরিচিত1 ছিলেন না, কিম্বা তাহার পষ্টমহিষীত্ব- অবস্থায় স্কন্বগুপ্তের জন্ম হয় নাই। ইহার কারণ এবধপ হইতে পারে যে, কুমারগুপ্তের যৌবনে কোনও অজ্ঞাতকুলণীলা, সামান্ত অবস্থার সম্ভবতঃ পরম! সুশ্বরীর সঙ্গে গোপনপ্রণয়ের ফলে (গোপন বা পগান্ধব” বিবাহ হইয়া থাকুক ব! ন! থাকুক ) স্কন্দগুপ্তের জন্ম হয় এবং লোকলজ্জাভয়ে বা অন্ত যে কারণেই হউক এই নারীকে বহুকাল কুমারগুপ্ত পত্বীরূপে গ্রহণ করেন নাই, বা তাহাকে পদ্গিত্যাগ করিয়াছিলেন অথবা বিস্বত হইয়াছিলেন। অথবা হয়তে। তিনি এই নারীর সঙ্গে বরাবরই গোপনসংযোগ রাখিয়াঁছিলেন কিন্ত রাজপ্রাসাদে তাহাকে আনেন নাই এবং সেই অবস্থায়, নারীর অন্তর বাসকালে, কুমারগুপ্ডের জ্ঞাতসারেই (যদিও দেখান হইয়াছে যেন তাহার অজ্ঞাতে ) স্কন্গুপ্তের জন্ম হয় এবং স্কন্দগুপ্ত অগ্থাত্রই পরিবধিত হন। পরে ্বন্দগুপ্তের রাজপুর্রত্ব ্বীকৃত হয় (যদিও নাটকছয়ে দেখাইবার প্রচেষ্টা হইয়াছে ইহা! যেন কোনও আকমশ্মিক ঘটনাফলে ঘটে ) এবং তিনি নবযৌবনেই যৌব* রাজ্যে বৃত হন। কিন্তু ফলে তাহার মাতাও কুমারগুপ্তের পট্টমতিষীত্বে বোধ হয় বৃতা হন নাই, হয়তে! কুমারগুণ্ধের পত্বীবর্গের বা উপপত্বীবর্গের মধ্যে

২৬ অভিজ্ঞান-শকুস্তল

অন্তমারূপে মাত্র স্বীকৃত1 হুইয়াছিলেন এবং অন্তাত্রই থাকিতেন--স্বম্দগুপ্ত- মাতার নাম অঙ্গুল্লেখে ইহাই অন্মাঁন হয়, যদিও নাটকে বিষয়টিকে বেশ স্ুশোভান্িত করিয়া! দেখান হইয়াছে জনসাধারণের মধ্যে বিষয়টি লইয়া যে কত আলোচনা হইত তাহা! সহজেই অনুমান করা যায়। 7১০১৪ 2:07087709 সম্বন্ধে লোকের আগ্রহ স্বাভাবিক, বিশেষতঃ যদি তাহাতে কিছু অবৈধত' থাকে-_এ সম্পর্কে ইংলগ্ডের ভূন্তপূর্ব রাজা1৮ম এডওয়ার্ডের প্রণয়ব্যাপারে শুধু