হবক্হান্ষন্বি ্বাতন্ষেভ

মধ্জাদন দত্রের গরন্থাবনী

(কাব্য নাটক )

স্বাইন্কেভল বগ্ুলুহ্া্ুল দত্ত ওল্রলীভ

পপর পরা সপ পপর

_ উপেন্্রনাথ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত ন্রস্ুক্বভী-স্লাহছিত্য-স্মলিজিল্র বহু ইত্ভ শ্রীসতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রকাশিত

&০০. [সি £/ $/ ৬৯ ₹.৭ 7 1৮2 19, ৩9/445: সূচিপত্র ১৮. টড বিষয় পত্রান্ক ১। ভূমিক! ( কবিবর হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধায় ) /০ ২। মাইকেল মধুহদনের জীবনবৃত্তান্ত

( প্রপন্নকুমার ঘোষ ) 1%০ ৩। মধুহদনের কবিত্ব (শ্রীযুত হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ) ১/০

প্ররথক্ষম আহ স্প__ গা

| যেঘনাদব্ধ কাব্য |] বীরাঙ্গনা কাব্য ৯৩ ৬। তিলোত্ৃমাসম্ভব কাব্য ১২১ | ব্রজাঙ্গলা কাব্য ১৫৫ ৮। চতুদ্দিশপদী কবিতাবলী ১৬৫ ৯। অ-পূর্ব-প্রকাঁশিত কবিভাবলী ১৮৮ ভিিতীল্প আহু»প- ন্নাটন্ক-__ ১৯০। ক্ষ্ণকুমারী নাটক ১৯৫ ১১। পল্লাবতী নাটক ২৩৩ ১২। শম্মিষ্ঠা নাটক ২৭৩

হতনা শসস্প-_ -প্রহত্নন্ন_-

১৩। বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রে ৩০৭ ১৪ | একেই কি বলে সভ্যতা ? ৩৭১

রজার

(মঘনাদবধ কাব্য ১নভীক্ষ_ও্রক্খলম ভ্ভিভীন্্ এত

মাইকেল মধুমূদন দত্ত

উত্সেগপন্র

বন্দনীয় শ্রীযুক্ত দ্রিগন্ঘর মিত্র মহাশয়, বন্দনীয়বরেষু।

আর্ধ্য,আপনি শৈশবকালাবধি আমার প্রতি যেরূপ অকুত্রিম শ্নেহভাব প্রকাশ করিয়া আসিতেছেন, এবং স্দেশীয় সাহিতাশান্ত্রের অন্নশীলন-বিময়ে আমাকে যেরূপ উৎসাহ প্রদান করিয়া থাকেন, বোধ হয়, অভিনব কাব্যকুস্থম তাহাঁর যখোপবুক্ত উপহার নহে তবুও আমি আপনার উদারতা অমায়িকতার প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া সাহসপূর্ববক ইহাকে আপনার শ্রীচরণে সমর্পণ করিতেছি স্লেহের চক্ষে কোন বস্তুই সৌন্দধ্যবিহীন দেখায় না।

যখন আমি “তিলোত্তমাসম্ভব” নামক কাব্য প্রথম গ্রচার করি, তখন আমার এমন প্রত্যাশা ছিল না যে, অমিত্রাক্ষর ছন্দ দেশে ত্বরায় আদরণীয় হইয়া উঠিবেক ; কিন্তু এখন সে বিষয়ে আমার আর কোন সংশয়ই নাই। বীজ অবসরকালেই সৎক্ষেত্রে ২ংরোপিত হইয়াছে ; বীর- কেশরী মেঘনাদ, সুরত্ন্দরী তিলোত্তমার স্তায় পর্ডিতমণ্ডলীর মধো সমাদৃত হইলে, আমি পরিশ্রম সফল বোধ করিব__ইতি।

দস শ্রীমাইকেল মধুসূদন দত্বঃ।

ক্ৃম্সিক্কা। বৃত্রসংহা র-প্রণেতা শ্রীযুক্ত বাবু হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মহাশয় কর্তৃক লিখিত ( লেখক-মহোদয় কর্তৃক সংশোধিত )

মেঘনাদ-বধ-কাব্য-রচয়িতা মাইকেল যধুছদন দত্তের আজ কি আনন্দ! এবং কোন্‌ সহদয় ব্যক্তি তাহার সেই আনন্দে আনন্দিত না হইবেন? অমিত্রচ্ছন্দে কাব্য রচনা করিয়া কেহ যে এত অন্নকালের মধ্যে এই পয়ার-প্লাবিত দেশে এরূপ যশোলাত করিবেন, কথা কাহার মনে ছিল? কিন্তু বোধ হয়, এক্ষণে সকলে স্বীকার করিবেন যে, মাইকেল মধুস্দনের নাম সেই দুর্লভ যশঃপ্রভায় বঙ্গমণ্ডলীতে প্রদীপ্ত হইয়াছে

প্রথমে কত লোক কতই বলিয়াছিল, কতই ভয় দেখাইয়াছিল__-কতই নিন্দা করিয়াছিল ; অমিত্র- চ্ছনে কাব্য রচনা করা বাতুলের কারধ্্য_-বঙ্গভাষায় যাহা হইবার নয়, তাহা ঘটাইবার চেষ্টা করা বুথা যন্ত্--পয়ারাদি ছন্দে লিখিলে গ্রস্থখানি সুমধুর হইত। এক্ষণে সকল কথা আর তত শুনা যায় না) এবং ধাহারা পূর্ধে কোন ভাষায় কখন অমিজ্রচ্ছন্দ পাঠ করেন নাই, তাহাদের মধ্যেও অনেকে এই কাব্যখানিকে যথেষ্ট সমাদর করিতে আরম্ভ করিয়াছেন

ইহার কারণ কি? বাগৃ্দেবীর বীণা-যন্তের নৃতন ধ্বনি বলিয়া কি লোকে ইহার এত আদর করেন, না সুমধুর কবিতারস-পানে মত্ত হইয়া ছন্দাছন্দের বিচার করেন না? কথার মীমাংসা করিবার পূর্বে কবিতা কি এবং কেনই বা কাব্য- পাঠে লোকের মনোরঞ্জন হয়, ইহা স্থির করা আবশ্বুক। সামান্ততঃ ভাষামাত্রেই গদ্য এবং পঞ্চ ছুই প্রকার রচনার প্রথা প্রচলিত আছে। নির্দিষ্ট মাত্রা এবং ওজনবিশিষ্ট শব্দবিন্তাসের নাম পদ্ঘ, আর যাহাতে মাত্র! ওজনের নিয়ম নাই, তাহাকে গগ্ কহে এবং পদ্ঠ-রচনার নিয়মও কোন কোন তাষায় ছুই প্রকার অর্থাৎ মিলিত এবং অমিলিত- পদ-সংযুক্ত পদ্।

কিন্তু যে প্রণালীতেই পদ্ রচনা হউক, কবিতার

প্ররূত লক্ষণাক্রাস্ত না হইলে কোন গ্রস্থই কাব্যের শ্রেণীতে পরিগণিত অথবা লোকের মনোরম হয় না। ফলত: ছন্দ এবং পদ কবিতার পরিচ্ছদ এবং অলঙ্কীর-স্বরাপ ; কারণ, গছ্ভ-রচনার স্থানে স্থানেও সম্পূর্ণ কবিতালক্ষণ দৃষ্ট এবং কবিতারসাস্বাদনের সম্যক্‌ স্থখ অনুভূত হয়। ইহার দৃষ্টাত্তস্থল কাদস্বরী। স্বতরাং অমিলিতপদ-বিশিষ্ট বলিবাই উপস্থিত কাবাখানির এত গৌরব সমাদর হওয়া সম্ভাবিত নহে। হছার অন্য কোন কারণ আছে। সে কারণ কি?

ভিন্ন ভিন্ন প্রকার রসের উদ্দীপন করাই কাব্য- রচনার মুখ্য উদ্দেষ্ত ;_-ভয়, ক্রোধ, আহ্লাদ, করুণা, খেদ, ভক্তি, সাহস, শাস্তি প্রভৃতি ভাবের উদ্রেক এবং উত্কর্ষণ করাই কবিদিগের চেষ্টা যে গ্রন্থ এই সকল কিংবা ইছার মধ ফোন বিশেষ রসে পরিপূর্ণ থাকে, তাহাকে কাব্য কছে, এবং তাহাতে কবিতা- রূপ পীযূষ পান করিয়াই লোকের চিত্তাকর্ষণ মনোরঞ্জন হয়। বর্তমান গ্রস্থখানিতে সেই শুধার প্রাচ্য থাকাতেই এত প্রতিষ্টিত হ্ইয়াছে। এই ্রস্থখানিতে গ্রন্থকর্তী যে অসামান্য কবিত্ব-শক্তির পরিচয় দিয়াছেন, তদ্ষ্টে বিন্বয়াপন্ন এবং চমৎ্কৃত হইতে হয়। সমস্ত বিবেচনা করিয়া দেখিলে বঙ্গ- তাষায় ইহার তুল্য দ্বিতীয় কাব্য দেখিতে পাওয়া যায় না। কৃত্তিবাঁস কাশীদাস-সঙ্কলিত রামায়ণ এবং মহাভারতের অন্নবাদ ছাড় একত্র এত রসের সমাবেশ অন্ত কোন বাঙ্গালা পুস্তকেই নাই। ইতাশ্রে যত কিছু পুস্তক প্রচার হইয়াছে, তৎ- সমুদ্রায়ই করুণ কিংবা আদিরসে পরিপূর্ণ বীর অথবা রৌদ্ররসের লেশমাত্রও পাওয়া ম্থুকঠিন ; কিন্তু নিবিষ্টচিত্তে যিনি মেঘনাদবধের শঙ্খধ্বনি শ্রবণ করিয়াছেন, তিনিই বুঝিয়াছেন যে, বাঙ্গালা ভাষার কতদূর শক্তি এবং মাইকেল মধুন্ুদন দত্ত কি অন্তুত ক্ষমতাপন্ন কৰি।

৬০

ইন্দ্রজিদ্বধ এবং লক্ষণের শক্তিশেল উপাখ্যান বারংবার পাঠ শ্রবণ না করিয়াছেন, বোধ করি, বঙ্গবাসী হিন্দুসস্তানের মধ্যে এমত কে ; কিন্ত আমি মুক্তকণ্ঠে কহিতে পারি যে, অভিনবকায় সেই উপাখ্যানটিকে এই গ্রন্থে পাঠ করিতে করিতে চমতকৃত এবং রোমাঞ্চিত না হন, দেশে এমন হিন্দুসস্তানও কেহ নাই।

সত্য বটে, কবিগুরু বাল্মীকির পদচিহ্ন লক্ষ্য করিয়া নানা-দেশীয় মহাঁকবিদিগের কাব্যোস্যান হইতে পুষ্পচয়ন পূর্বক এই গ্রন্থথানি বিরচিত হইয়াছে, কিন্ত সেই সমস্ত কু্মরাজিতে যে অপূর্ব মাল্য গ্রথিত হইয়াছে, তাহা বঙ্গবাসীরা চিরকাল যত সহকারে কণ্ঠে ধারণ করিবেন

যে গ্রন্থে স্বর্ণ, মর্ত্য, পাতাল ত্রিভৃবনের রমণীয় এবং ভয়াবহ প্রাণী পদার্থ-সমূহ সম্মিলিত করিয়া পাঠকের দর্শনেক্্িয়-লক্ষা চিত্রফলকের ন্তায় চিত্রিত হইয়াছে,_-যৈ গ্রন্থ পাঠ করিতে করিতে ভূতকাল, বর্তমান এবং অদৃশ্ট বিদ্যমানের হ্যায় জ্ঞান হয় যাহাতে দেব-দানব-মানবমণ্ডলীর বীর্যযশীলী, প্রতাপ- শালী, সৌন্দর্য্যশালী জীবগণের অদ্ভুত কার্যকলাপ দর্শনে মোহিত এবং রোমাঞ্চিত হইতে হয়-__যে গ্রন্থ পাঠ করিতে করিতে কখন বা বিস্ময়, কখন বা ক্রোধ এবং কখন বা! করুণরলে আরজ হইতে হয় এবং বাম্পাকুললোচনে যে গ্রন্থের পাঠ সমাপ্ত করিতে হয়, তাহা যে বঙ্গবাসীরা চিরকাল বক্ষঃস্থলে ধারণ করিবেন, ইহার বিচিত্রতা কি?

অতুযুক্তি জ্ঞানে কথায় যদি কাহারও অনাস্থা অশ্রদ্ধা হয়, তবে তিনি অনুগ্রহ করিয়া একবার গরন্থখীনি আগ্ভোপান্ত পর্যালোচনা করিবেন, তখন বুঝিতে পারিবেন, মাইকেল মধুস্ুদনের কি কুহকিনী শক্তি! তাছার কাব্যোগ্যানে কল্পনাদেবীর কিরূপ লীলাতরঙ্গ কখনও তিনি ধীরে ধীরে বৃদ্ধব্রাক্ষণ ৰাজ্সীকির পদতল হইতে পুষ্পাহরণ করিতেছেন এবং কখনও বা নবীনকুঞ্জ স্থজন করিয়া অতিনব কুস্থমীবলী বিস্তৃত করিতেছেন। ইন্দ্রজিৎ-জায়া প্রমীলার লক্কা-প্রবেশ, শ্রীরামচন্দ্রের যমপুরী-দর্শন, পঞ্চবট স্মরণ করিয়া সরমার নিকট সীতার আক্ষেপ, লক্ষণের শক্তিশেল এবং প্রমীলার সহমরণ কিরূপ আশ্চর্য্য, কতই চমৎকার, বর্ণনা করা৷ ছুঃসাধ্য। আমরা এতদিন কবিকুলের চক্রবর্তী ভাবিয়া ভারত- চন্ত্রকে মাল্যচন্দনদানে পূজা! করিয়া আলিয়াছি, কিন্ত বোধ হয়, এত দিন পরে রাজ! কৃষ্ঠচন্জের

প্রিয় কবিকে সিংহাসন্চ্যুত হইতে হইল। কথায় পাঠক মহীশয়ের| মনে করিবেন না যে, আমি তারতচন্দ্রের কবিত্ব-শক্তি অস্বীকার করিতেছি। তিনি যে প্রকৃত কবি ছিলেন, তৎপক্ষে কিছুমাত্র সংশয় নাই। কিন্তু কবিদ্রিগের মধ্যেও প্রধান অপ্রধান আছেন। কেহ বা ভাবের চমৎ্কারিত্বে, কেহ বা লেখার চমৎকারিত্বে লোকের চিত্তহরণ করেন ) তারতচন্দ্র যে শেষোক্ত প্রকার কবিদিগের অগ্রগণ্য, তৎসম্বন্ধে ্বিরুক্তি করিবার কাহারও সাধ্য নাই। পরিপাটা সর্বাঞ্ধস্ন্দর শব্বিন্তাস করিয়া কর্ণকুহরে অমৃতবর্ষণ করিবার দক্ষতা তিনি যেরূপ দেখাইয়| গিয়াছেন, বঙ্গকবিকুলের মধ্যে তেমন আর কেহই পারেন নাই ; এবং সেই গুণেই বিদ্া- ন্বন্দর এত দিন সজীব রহিয়াছে, কিন্ত গুণিগণ যে সমস্ত গুণকে কবিকৌলীন্তের শ্রেষ্ঠ লক্ষণ গণন! করেন, তারতচন্দ্রের সে সকল গুণ অতি সামান্ত ছিল। বিষ্ান্তুন্দর এবং অন্নদামঙ্গল ভারতচন্ত্ররচিত সর্তবোৎকৃষ্ট কাব্য, কিন্তু যাহাতে অন্তর্দাহ হয়,

হৃৎকম্প হয়, শরীর রোমাঞ্চিত হয়, বাহেন্িয় স্তব্ধ

হয়, তাদৃশ ভাব তাহাতে কৈ? কল্পনারূপ সমুদ্রের উচ্ছ্বসিত তরঙ্গবেগ কৈ? বিদ্যুচ্ছটাকুতি বিশ্বোজ্জল বর্ণনাচ্ছটা কোথায়? তাহার কবিতাজোতঃ কুঞ্জ- বনমধ্যস্থিত অপ্রশস্ত মুছুগতি প্রবাহের স্তায়;-_বেগ নাই, গভীরতা নাই, তরঙ্গ-তর্জন নাই ; মৃদুস্বরে ধীরে ধীরে গমন করিতেছে, অথচ ন্য়ন-শ্রবণ- তৃপ্তিকর |

মালিনীর প্রতি বিগ্ভার লাঞ্চনা-উক্তি, বকুল-তল- বিহারী স্ুন্দরদর্শনে নাগরীয় কামিনীগণের রসালাপ, বিদ্যান্থন্দরের প্রথম মিলন, কোটালের প্রতি মালি- নীর তত্পনাঁর ন্যায় সরল স্থুকোমল বাকালহরী মেঘনাদবধে নাই) কিন্তু উহার শব্দপ্রতিঘাতে ছুন্দুভিনিনাদ এবং ঘনঘটা গর্জনের গম্ভীর প্রতিধ্বনি শ্রবণগোচর হয়। বোধ হয়, কথায় পাঠক মহাঁশয়দিগের মধ্যে অনেকে বিরক্ত হইবেন এবং আমাকে মাইকেল মধুহুদনের স্তাবক জ্ঞান করিবেন। তীহাদিগের ক্রোধশাস্তির নিমিত্ত আমার এইমাত্র বক্তব্য যে, পূর্ব্বে আমারও তীহাদিগের সায় সংস্কার ছিল যে, মেঘনাদবধের শবাবিস্যাস অতিশয় কুটিল কদর্য এবং সে কথা ব্যক্ত করিতেও পুর্বে আমি ক্ষান্ত হই নাই। কিন্তু এই ্রন্থখানি বারংবার আলোচন! করিয়া আমার সেই স্কার দূর হইয়াছে এবং সম্পূর্ণ প্রতীতি

জন্মিয়াছে যে, বিদ্যান্তুন্দরের শববাবলীতে মেঘনাদ- বধ বিরচিত হইলে অতিশয় জঘন্ত হইত। মুদ্গ এবং তবলার বাছ্যে নটাদিগেরই নৃত্য হয়, কিন্ত রণতরঙ্গবিলাসী প্রমত্ত যোধগণের উৎ্সাহবর্ধন জন্য তুরী, ভেরী এবং ছুন্দুতির ধ্বনি আবশ্তাক 7 ধনুষ্টক্কারের সঙ্গে শঙ্খনাদ ব্যতিরেকে স্ুশ্রাব্য হয় না। পাঠক মহাশয়ের] ইহাতে মনে করিবেন ন' যে, মাইকেলের রচনাকে আমি নির্দোষ ব্যাখ্যা করিতেছি তাহার রচনার কতকগুলি দৌষ আছে, কিন্তু সে সমস্ত দোষ শব্ষের অশ্রাব্যতা বা কর্কশতাজনিত দোষ নহে। বাক্যের জটিলতা- দোষই তীহার রচনার প্রধান দোষ অর্থাৎ যে বাক্যের সহিত যাহার অন্বয়, বিশেষ্য, বিশেষণ, সংজ্ঞা, সর্বনাম এবং কর্তীক্রিয়া-সম্বন্ধ-_তৎ- পরম্পরের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান; স্থৃুতরাং অনেক স্থলে অল্পষ্টার্থদোষ জন্মিয়াছেঅনেক পরিশ্রম না! করিলে, ভাবার্থ উপলব্ধি হয় না। দ্বিতীয়তঃ, তিনি উপধুর্ণপরি রাশি রাশি উপমা একত্র করিয়া স্ত,পাকার করিয়া থাকেন এবং সর্বত্র উপমাগুলি উপমিত বিষয়ের উপযোগী হয় না তৃতীয় দোষ-_প্রথা-বহিভূতি নিয়মে ক্রিয়াপদ নিষ্পাদন ব্যবহার করা যথা-_স্তৃতিলা,” দশীস্তিলা,” “্ধবনিলা,” “মশ্খরিছে,” প্ছন্দিয়া,” প্জুবণি” ইত্যাদি। চতুর্থতঃ__বিরাম-যতি-সংস্থাপনের দোষে স্থানে স্থানে শ্রুতিদুষ্ট হইয়াছে; যথা “কাদেন রাঘব-বাঞ্ছ আধার কুটারে নীরবে” «“নাচিছে নর্তকী-বুন্দ, গাইছে স্ুতানে গায়ক 3" “হেন কালে হনু সহ উত্তরিলা দূতী শিবিরে 1” “রক্ষোবধূ মাগে রণ, দেহ রণ তারে, বীরেন্ত্র !-__” “দেবদত্ত অস্ত্র-পুঞ্জ শোভে পিঠোপরি, রঞ্জিত রঞজনরাগে কুম্ম-অগ্রলি-_ আর্ত এই সকল স্থলে “গায়ক,” “শিবিরে,” “বীরেন্দ্র,” “আবৃত” শব্দের পর বাক্য সমাপ্ত হওয়ায় পদাবলীর শ্রোতোতঙ্গহেতু শ্রবণ-কঠোর হুইয়াছে। সমস্ত দোষ না থাকিলে মেঘনাদবধ গ্রন্থথানি সর্বাঙ্গ-সুন্দর হইত, কিন্তু এপ দৌধাশ্রিত হইয়াও

কাব্যথানি এত উৎকৃষ্ট হইয়াছে যে, বঙ্গভাষায় ইহার তুল্য দ্বিতীয় কাব্য দৃষ্টিগোচর হয় না। ফলতঃ__ প্গাথিব নূতন মাঁলা,__ রচিব মধুচত্র, গৌড়জন যাহে আনন্দে করিবে পান সুধা নিরবধি |” বলিয়! গ্রন্থকার যে সদর্প উক্তি করিয়াছিলেন, তাহার সম্পূর্ণ সফলতা হইয়াছে এবং এই “নূতন মালা, চিরকালের জন্য যে তাহার ক্ঠদেশে শৌভা- সম্পাদন করিবে, ইহার আর সন্দেহ নাই। অতঃপর ছন্দঃপ্রণালী সম্বন্ধে গুটিকতক কথা বলা আবশ্তাক | | ভাষার প্রকৃতি অনুসারে পগ্ঠ-রচনা ভিন্ন ভিন্ন প্রণালীতে হইয়া থাকে সংস্কৃত ভাষায় হুত্ব দীর্ঘ বর্ণ এবং ইংরেজি ভাষায় লঘু গুরু উচ্চারণ আশ্রয় করিয়া পদ বিরচিত হয়) কিন্তু বাঙ্গালা তাষার প্রকৃতি সেরূপ নয়। ইহাতে যদিও ত্স্ব দীর্ঘ ব্ণ ব্যবহার করার নিয়ম প্রচলিত আছে সত্য, কিন্তু উচ্চারণকালে তাহার ভেদাতেদ থাকে না ম্থতরাং সংস্কৃত এবং ইংরেজী ভাষার প্রথাহ্থসারে বঙ্গভাষায় পচ্ঠরচনা করার নিয়ম প্রচলিত নাই। তাহার প্রণালী স্বতন্ত্র; অর্থাৎ মাত্রা গণনা করিয়া তৃতীয় চতুর্থ, বষ্ট, অষ্টম, একাদশ, দ্বাদশ এবং চতুর্দশ অক্ষরের পর বিরাম যতি থাকে ; এবং আবৃত্তির সময় সেই সেই স্থানে ছন্দ অনুসারে শ্বাসপতন করিতে হয় এবং যে সকল স্থানে শবের মিল থাকে, আপাততঃ বোধ হয়, যেন শব্দের মিলনই প্রণালীর প্রধান অঙ্গ; কিন্তু কিঞ্চিৎ অনুধাবন! করিলেই বুঝা যায় যে, শব্দের মিল ইহার আনুষঙ্গিক এবং শ্বাস- নিক্ষেপের নিয়মই প্রধান কৌশল। বিষয়ের দৃষ্টান্ত অমিলিতশবপূর্ণ পদ্যাবলীতেও পাওয়া যায়, যথা 3-- “দেখিলাম সরোবরে কমলিশী বান্ধিয়াছে করী”--১ “আর কি কাদে, লো নদি! তোর তীরে বসি মথুরার পানে চেয়ে ব্রজের হ্ন্বরী ?”__২ “কি কাজ বাজায়ে বীণা, কি কাজ জাগায়ে ন্থমধুর প্রতিধ্বনি কাব্যের কাননে 1”--৩ “শুনি গুন্‌ গুন্‌ ধ্বনি, তোর কাননে, মধুকর ! পরাণ কাদে রে বিষাদে 1”--৪ “এসো সখি ! তুমি আমি বসি বিরলে, ছুজনের মনোজালা জুড়াই ছুজনে” )-৫ ইত্যাদি।

মাইকেলের অমিত্রচ্ছন্দ-রচনারও এই প্রণালী।

অতএব অমিত্রচ্ছন্দ বলিয়া! কাহারও কাহারও তৎ- প্রণীত গ্রন্থের গ্রতি এত বিরাগের কারণ কি এবং সেই বিষয় লইয়া এতই বা বাগৃবিতগ্াঁর আড়গ্বর কেন, বুঝিতে পারি না। তিনি কিছু রচনা বিষয়ে কোন নূতন প্রণালী অবলম্বন করেন নাই, প্রচলিত নিয়মান্ুসারেই লিখিয়াছেন। কারণ, বিরামযতি অনুসারে পদবিন্তাস করা ত্াহারও রচনার নিয়ম। কেবল এইমাত্র প্রভেদ যে, পয়ারাদিচ্ছন্দে যেমন শবের মিল থাকে এবং পয়ার, ত্রিপদী, চতুষ্পদী প্রভৃতি যখন যে ছন আরম্ত হয়, তাহার শেষ পর্য্যন্ত সমসংখ্যক মাত্রার পরে সর্বত্রই একরূপ বিরামযতি থাকে; মাই- কেলের অমিত্রচ্ছন্দে তদ্রপ না হুইয়া সকল ছন্দ ভাঙ্গিয়া সকলের বিরামযতির নিয়ম একত্র নিহিত এবং গ্রথিত হইয়াছে এবং যতিস্থলে শব্ের মিল নাই। সুতরাং কোনও পংক্তিতে পয়ার-ছন্দের নিয়মে আট এবং চতুর্দশ মাত্রার পরে, কোনটিতে ত্রিপদী ছন্দের স্তায় ছয় এবং আট এবং কখনও বা এক পংক্তিতেই ছুই তিন প্রকার ছনের যতিবিভাগ নিয়ম গৃহীত হইয়াছে। নিম্বোদ্ধত উদাহরণ দুষ্টে প্রতিপন্ন হইবে, যথা__

যথা যবে পরন্তপ পার্থ মহাঁরথী,-১ যজ্ঞের তুরলগ সঙ্গে আসি, উতরিলা__ নারীদেশে) দেবদত্ত শঙ্খনাদে রষি_-৩ রণরঙ্গে বীরাঙ্গনা সাজিল কৌতুকে,_৪ উথলিল চারিদিকে ছুন্দুভির ধবনি,_-৫ বাহিরিল্‌ বামাদল বীরমদে মাতি ১৬ উলঙ্গিয়া অসিরাশি, কার্ধুক টক্কারি,_- আক্ফীলি ফলক-পুঞ্জে ! ঝক্‌-ঝক্‌ ঝকি--৮ কাঞ্চন-কঞ্চুক-বিভা৷ উজলিল পুরী 1-__৯ মন্দ্ররায় হেষে অশ্ব, উদ্ধকর্ণে শুনি--১০ নূপুরের ঝনঝনি, কিন্ধিণীর বোলী,-১১ ডমরুর রবে যথা নাচে কালফণী।-_-১২ বারিমাঝে নাদে গজ শ্রবণ বিদরি,_-১৩ গম্ভীর-নির্ধোষে যথা ঘোষে ঘনপতি--১৪

//০

দুরে ! রঙ্গে গিরিশৃঙ্গে। কাননে, কন্দরে।_-১৫

নিদ্র৷ ত্যজি প্রতিধ্বনি জাগিলা অমনি ১_-১৬

সহসা পুরিল দেশ ঘোর কোলাহুলে |_-১?

উদ্ধত পদাবলী পাঠে বিদিত হুইবে যে, ১, ৪, ৫) ৬; ৭) ৯১ ১০) ১১) ১২) ১৩) ১৪) ১৬) ১৭ পংক্তির পদবিস্তাস পয়ারের ন্তায় এবং বিরামস্থল আট চতুর্দশ মাত্রার পর, ২য় এবং ৩য় পংক্তিতে “আসি,” “উতরিলা” প্নারীদেশে” এবং “রুষি” শবের পর দশম অথবা! চতুর্থ মাত্রার পর, এবং ১৫শ পংক্তিতে “দুরে,” “শৃঙ্গে” “কন্দরে” শব্দের পর বিশ্রাম-যতি স্থাপিত হইয়াছে।

পাঠক-মহাশয়েরা ইহা দ্বারাই মাইকেলপ্রণীত অমিত্রচ্ছন্দ-রচনার সন্ধান বুঝিতে পারিবেন এবং & সমস্ত বিরামস্থলে শ্বাসপতন করাই এই ছন্দ আবৃত্তি করার কৌশল

প্রকারান্তরে অমিত্রচ্ছন্দ বিরচিত হইতে পারে কিনা,সে একটি স্বতন্ত্র কথা; কিন্তু বঙ্গতাষার যেরূপ প্ররুতি এবং অগ্ভাবধি তাহাতে যে নিয়মে পদ্য রচনা হইয়া আসিয়াছে, তদৃষ্টে বোধ হয় যে, এই প্রণালী অতি সহজ প্রশ্তদ্ধ প্রণালী হৃস্ব দীর্ঘ উচ্চারণ অন্ুুসারেও বঙ্গভাষায় ছন্দ রচনা হইতে পারে এবং ভূবনচন্ত্র রায় চৌধুরী প্রণীত ছন্দকুন্থমগ্রস্থেও সেই প্রণালী অবলম্বন করা হইয়াছে; কিন্তু বোধ হয় যে, যত দিন সচরাচর কথোপকথনে আমাদের দেশে বর্ণ অনুসারে হৃস্ব দীর্ঘ উচ্চারণের প্রথা প্রচলিত না হয়, তত দিন সে প্রণালীতে পদ্য রচনা কর! পণগুশ্রম মাত্র, ইহা ছন্দকুস্থম গ্রন্থখানি পাঠ করিলেই পাঠক-মহাশয়- দিগের হৃদয়ঙ্গম হুইবে। পরন্ত যদি কখনও বঙ্গ- তাষার প্রকৃতির তত দূর বৈলক্ষণ্য ঘটে এবং লোকে সামান্ত কথোপকথনে হৃম্ব দীর্ঘ উচ্চারণের অন্থবর্তী হন, তবে সে প্রণালী যে উৎ্কষ্টতর এবং তাহাতেই পদ্ধ বিরচিত হওয়া বাঞ্চনীয়, তৎপক্ষে সংশয় নাই। *

এইটি মেঘনাদবধকাব্যের ২য় মুন্রাঙ্থণকালে লেখক মহোদয় কর্তৃক সংশোধিত হইয়াছিল

গুপ্তের

মাইকেল মধুসুদন দত্তের

শনংক্ষিগ্ু জীহনব্রত্তাস্ভ

কুসুমকলিকা-প্রণেতা শ্রীযুক্ত বাবু প্রসন্নকুমার ঘোষ মহাশয় কর্তৃক লিখিত

১৮২৮ খ্রীষ্টাব্দে জেলা যশোহরের অন্তঃপাতী কপোতাক্ষ-নদতীরব্তী সাগরধাড়ী গ্রামে মধুস্থদন দত্ত জন্মগ্রহণ করেন। তীহার পিতা ৬রাজ- নারায়ণ দত্ত কলিকাত! সদর দেওয়ানী আদালতের এক জন বিখ্যাত উকীল ছিলেন এবং তাহার মাতা জাহ্নবী দাসী জেলা যশোহরের অন্তগ্ত কাটি- পাড়ার জমীদার ৬গোৌরীচরণ ঘোষের দুহিতা | রাজনারায়ণ দত্তের তিন পুন্রঃ তন্মধ্যে মধুসুদশ সর্বজোষ্ঠ। অপর ছুই জন শৈশবেই কালগ্রাসে পতিত হয়েন। দেশীয় রীত্যন্থসারে কবিবরকে প্রথমে গ্রাম্য পাঠশালায় গুরুমহাশয়ের নিকট পড়িতে হইয়াছিল। পরে উপযুক্ত সময়ে তিনি হিন্দুকলেজে বিষ্তাশিক্ষার্থ কলিকাতায় আনীত হয়েন। এইখানে তিনি ইংরেজী পারল্ত তাষা শিক্ষা করেন। ১৬1১৭ বৎসর বয়সে তিনি শ্রষ্ট- ধর্ম অবলম্বন করেন। ইহারই পর বিজাতীয় মাইকেল" নাম তাহার নামের 'শ্রীহানি করিয়া দেয়। মধুহদন ধন্মীন্তর আশ্রয় করিলেও (তিনি তাঁহার পিতার একমাত্র পুন্র বলিয়া ) তাহার পিতা শ্নেহবশতঃ তাহাকে একেবারে পরিত্যাগ করিতে পারেন নাই। ধর্শ-পরিবর্তন করিবার পর চারি বৎসর শিবপুরস্থ বিশগ্ম কলেজে অধ্যয়ন করিতে তাহার যে ব্যয় হইয়াছিল, তাহার পিতাই সেই সমস্ত নির্বাহ করিয়াছিলেন। বিশগ্ম কলেজে গ্রীক লাটান ভাষা শিক্ষা করিয়া তিনি মান্দ্রীজে গমন করেন। সেখানে সর্বদা ইংরেজী সংবাদ- পত্রে প্রবন্ধ লিখিয়া তিনি এক জন উত্তম ইংরেজী- লেখক বলিয়া গণ্য হইয়াছিলেন। এই সময়ে মান্্রীজ কলেজের প্রধান শিক্ষকের কন্তা৷ মধুস্দনের আন্তরিক গুণে মোহিত হইয়া তাহাকে বিবাহ

করেন।

অনুমান ২৩ বত্সর বয়/ক্রমকালে তিনি এক- খানি ক্ষুদ্রকলেবর ইংরেজী পপ্-গরন্থ প্রণয়ন করেন। ইহা মিত্রাক্ষরচ্ছনে লিখিত। “ক্যাপৃটিব লেডী” নামক একটি উপাখ্যান-কাব্য এবং অমিত্রাক্ষরচ্ছন্দে রচিত “ভিসান্স অব দি পাষ্ট” নামক আর একটি খণ্ডকাব্য আছে। ভারতবর্ষের অনৈতিহাসিক বিবরণের অংশ-বিশেষ অবলম্বন করিয়া প্রথমোক্ত কবিতাটি লিখিত হুইয়াছিল। পাঠকগণের কৌতু- হল-নিবারণার্থ & কবিতার কিয়দংশ নিয়ে উদ্ধৃত করিলাম_- €]18112700 1100% [10805 0057 500115 1710) 1151005 006 1011075 01 0015 1516) ডু/1)5:6) 110 10116 ০91361565 61100519121) 021 5 0086 2050 820 1019 116-- ঢিহা হি0োথ (116 5067169) 11616 011 0109 018৮৩ ড1]| 10600 11166) 2101 ! ০৫৪. 619৬০-- 81 [1011] 11)6 5067)63) 11519 16513 82) ৬/1]] 01856 006 02/0106990 02165 82) --

[21 [10] 006 50609 %/1)615 1091061) 91151

111 80681] 10115) 8 19]1 0110101)6 [761 10561%5 1005 ৪110 17007100197, ঠ10 11009 ৬165/18$১ 50111 51002 [6:06 1580])5 00 162. 210 ঠ0%%1, [.0৮6+5 101660--200 01021) 9৮111) 1৪06) /800 %%10181) 11006 911 ৪100 91)906 1 “ক্যাপৃটিব লেডী” হইতে আর একটি অংশ উদ্ধত না করিয়া থাকিতে পারা যায় না। পূর্ধোন্ধত অংশে এই অংশে বিলক্ষণ প্রতেদ দেখিতে পাওয়া যায়। পাঠকগণ, অনায়াসেই বুবিতে পারিবেন যে, এই সময়েই

৬/,

কবির হৃদয়ে ব্রজাঙ্গনা কাব্যের অস্কুর উঠিল; কৰি গাহিলেন__

4১110 211 2:০0100 610০ 0922190 676,

1160 502065 01 29751 15৮০1116

[01 17612 0615801) 006 061100)+0 9178.06) [5 90109 701101)6 9110601) 2. ৮1101105 00506) [11056 1952 870 111 59206201001), 11780109100 89 16 017 19110 70019,

90101)6 07510610501 25 00092 ৪১০৬৪-- 52118--501619--101 005 58175 01 10৮6 3 [10৬ 10001 10 07০ 0100101161009/

২1191) 10111015100 08055 ৮10) 502 200 1011 ০০] 10151708107 1)15 00510505191 [২০৩+ 109৮০এ১19 2170 90:০0 ঢ916--

007) 00 079 0100১ 17015 5062]

ড/1)515 51%1-1101)0 02109 00 51507) 2100 01622, [10] 1)15 11517051100 0080 5060 81010,

15 5010 1550 015201)50 076 58536 50105, ৬1)101) 5৬11116000০ 8001 5৬52]

01 006 10106 10151)1-5171055 511)--5০ ৫০০0--- 17050 15515100506 91161526716 16117 [,05925 ০০৪5 17)-0)017 21 50০11 1

কবি “ক্যাপ্টিব লেডী”র আরম্তে তাহার সহধল্সিণীকে সাঁদর-সম্ভাৰণ করিয়া যে কবিতাটি লিখিয়াছেন, তাহার কিয়দংশ নিম্নে উদ্ধত করা গেল__

0181 ০০৪৪৫] 25 10501180100) ৬1021] 5106 ঠি113 01) 7009969 101583--1061 (817 51)71706, ৬৬০০ 10৮ 10910901005 ৬/০0181)19 ! স্ম€100106 (111) ! 2100 0015 079 10076 01 ৬৬206) ] 069: 1:51)11)6 : 286 0000 006 00516) 6,920. 6000১ & [011961958 (61) 20 1017) ? [0606 10260 19 019%085 (0 106880 108 900116) /8100 50104115106 00: 165 0559103 301 00565 09 0076 8016৩: 2) 15 80015--01 01050 66 5106510-

প1)80 1,0৬০-৮0080 500015 1,059 : 200 100 0 179 4 0086 5566 0168%00) [010৩ 01) | 10 2170 158110)7, ]110021) 01007 105 015 501)0 ০01 005 1216 01 279 9000018 /100510 901106) 15180 1006 00%/ 3 ঢ01: ] 20) 89 2, 066) 11761) 50006 9৮৮66 5215 [0900 56560 ৪7 0176 9016 16255 [200 ৩৪০1) 100051), 4100. 98105 ছি" 0751060 01)217789 €০ £০-80011) 19 0:01,

প্রাচীন জাতির হৃদয় ভিন্ন অন্যত্র যে প্রেমের অস্তিত্ব কল্পনা কর! যায় না, উপরি-উদ্ধত পঞ্চদশ পংক্তিতে সেই প্রেমের তরঙ্গ খেলিতেছে। পাঠক- গণ এখন অনায়াসেই বুঝিতে পারিবেন যে, বিলাত- সম্ভব! গৌরাঙ্গী আত্মকুল-ত্যাগ করিয়া কোন গ্বামাঙ্গ বাঙ্গালী ঘুবাকে আত্মদান করিয়াছিলেন ;-- অনায়াসেই বুঝিতে পারিবেন যে, বিলাতের আইবী ( [৬ ) লতা! কেন বঙ্গের বটবুক্ষ অবলম্বন করিয়াছিল। ভরসা করি, কোনও পাঠককে কথা বুঝাইবার জন্য বলিতে হইবে না

“অবাপ্যতে বা কথমস্তথা দ্বয়ং তথাবিধং প্রেম পতিশ্চ তাদৃশঃ |”

কৰি “ভিলান্স অব দি পাষ্ট”এর প্রারস্তেই যে চতুর্দশপদী কবিতাটি লিখিয়াছেন, পাঠকগণ তাহার কবিত্ব সৌন্দর্য দেখুন-_

“90109 100 & 91)1109, 8100 10020 & 5051178 8596 ৪5 0) ৮101510625১ ০০0৪1+4

[.00%700 !

ড/10101) 101] 009 629 011511703) 1061

্‌ 1115 507) 96525 10 ৮105 006205 £6177-1169 5851

008179)

[715 0150619 10200 16 5001৫) (৩0 31120

8721))

[1017 0০ 016 00100 01 191861+8 101 ০৪, ০: 5০110 10 69681 59100100211)

910

12০1১010109 9810050 51910108756 180 0171 7175 01199] 5008 01 1561 (10৩ 5000096 0610 ; 1 ৮০০৮1170000 0 ৮0:10 1 ১7 | 181106-810)1]6 [7900 ০০১০ 106 11010 006 (0000, $/1)056 ৮78519 20 10 0628060) /10101) 0911 0620) ছা1]] 09261 060 £ 1 ৬৩1৮1 01916810006 ০9009 50021) 1715 50769155 1019290--9170 10010 10৮5 10111075061”

“ভিসাম্স অব দি পাষ্৮” নামক কবিতাটি পাঠ করিলে, বায়রণের “ড়িম' শীর্ষক কবিতাটি স্মরণ হয়। যাহা হউক, ইহার কিয়দংশ নিয়ে উদ্ধত করিয়া পাঠকগণকে উপহার দেওয়া গেল-_

“] 1004+0) 10 0806 0080 [015500 ৮1510 0021) রর £& 0956 ০01 1181)6 00 ৪, 01901 56৪ ! 400 85 20 02070) ()6 517900/7 0051005) %/1101) (10100) £00 10006 2100100 0086 0০0৮৮ 1061101059) 11106 001509 ০0705105, 160 5099০0-%/112%0 2100 1951. 745 00515 00108812100 0176 ৪010) 012109) 36106201) 076 70111870500 17151) 2101.50 510806 01 50706 [01000 13817 010-- 51010101005 1)90101 210 00০01-. 15010 10 1010010 2,0067003 108006 009 20018 (9001050 00616 10) 170077-010 15 ৪100 5016 [6[038) [69৮5 (1) 06216101706 &00 090]. ঢ)এ00670 1081 01101007006 1078] ৮8110679101 009 ড/00905 ! 21755 160--01)90 0211:90106 0:0৮, 800 25 0167 260

1 5৪৭ 0790 ০০%+7 01 0520%)--)06 100৭ :0158105+0-- [0 01806+0 2189 ! 17010 01109] 106117659 ! £১5 11 50015 0595013.0100-51520755 185 1750 ৮7108+0 10 01101610256 16 091] 081861 0৮9:15 ছিঢ 052000--51015705 ৪1]! 30 1701৩ 615 0067) 0৩ 06006 91005 210 917) [ 756 0911610 71001 019 10105101700 10051) 206 10. 6801) 001)51+5 8105 10 10210707165 2 21০07০02761] 82 0০0 9000 [৮ 09011 010৬ 12011050--895 ৯1101) 002 08 (6 ৪1:211948 716107 016৩ ৫811. 29৮৩--9 0106 01007 [00019 [০০১ [10 17010016116 165001606102) 06 79816 51806 01 ৮1180 9৪3 0005 2901+0 8110 9920001101) 30005 1 (1১০ [100815195 01119%-- 5112011) 1306 29 0106) 9০৬ 0196 2110 1510) 01121)0 10৩7 ৩011: 2০116 0810100৪168 0০৩. 1 ৪9০00 89 010 27067870060) 070 51011 না)0 5801096 ১1010196010 056] ৪180 081]. 09115100.৮

মধুহ্দন দত্ত মান্ত্রাজে “এখীনিয়ম' নামক এক- খানি ইংরেজী সংবাদপত্রের সহকারী সম্পাদক হইয়া এমন সুচারুরূপে কার্য নির্বাহ করিয়াছিলেন যে, সম্পাদক স্বদেশগমনকালে তাহারই হস্তে সংবাদ- পত্রখাণির সম্পাদনভার অর্পণ করিয়া যান। কবিবর দক্ষতার সহিত এই গুরুকাধ্য সম্পাদন করিয়া» যশোলাভ করিয়াছিলেন। কিছুদিন মান্দ্রাজ বিশ্ব- বিস্বালয়ের শিক্ষকতা করিয়া ১৮৫৬ খ্রীষ্টান মধুস্থদন দত্ত সন্ত্রীক বঙ্গদেশে প্রত্যাগমন করেন

মধুহ্দশ দত্ত বঙ্গদেশে প্রত্যাগমন করিয়া কলি- কাতার তদানীন্তন পুলিস-ম্যাজিষ্টেট কিশোরীচাদ মিত্রের অধীনে কেরাণী নিযুক্ত এবং কিছুকাল পরে তত্রত্য ইণ্টরপ্রিটরের পদে উন্নীত হন। ১৮৫৮ সালে

॥/০

তিনি পাইকপাড়ার রাজা প্রতাপচন্ত্র সিংহ ঈশ্বরচন্দ্র সিংহ মহছাঁশয়দ্বয়ের অনুরোধে রত্বাবলী নাটকের ইংরেজী অনুবাদ করেন। একাল পর্য্স্ত তিনি বাঙ্গালা ভাষায় কোন গ্রন্থ প্রণয়ন করেন নাই। পরম্পরায় শুনা গিয়াছে যে, তিনি বাল্যাবধি মাতৃভাষাকে দ্বণা করিতেন চতুর্দাশপদী কবিতাবলীর উপক্রমণিক1 পাঠ করিলে, কথা সম্পূর্ণ সত্য বলিয়াই বোধ হয়। যাহা হউক, রত্বাবলী নাটকের অনুবাদের পর হইতেই মাহ্‌- তাষার প্রতি তাহার সেই আশৈশব-পোঁধিত দ্বণা দুর হুইয়া বরং তত্প্রতি বিশেষ অস্থরাগ লক্ষিত হয় এবং সেই সময়ে ন্যুনাধ্িক তিন বৎসরমধ্যে তিনি যথাক্রমে শর্দিষ্ঠা নাটক,পন্মাবতী নাঁটক,তিলোত্মা- সম্ভব কাব্য, একেই কি বলে সভ্যতা? বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রৌ, মেঘনাদবধ কাব্য, ব্রজাঙ্গন। কাব্য, কষ্ণকুমারী নাটক এবং বীরাঙ্গনা কাব্য এই ন্য়খানি বাঙ্গীল। গ্রন্থ প্রণয়ন প্রকাশ করেন।

মীন্ীজ হইতে প্রত্যাগমন করিয়া মধুন্থদন দত্ত বঙ্গদেশে যে কয় বৎসর অতিবাহিত করিয়াছিলেন, সে কয় বসর তিনি শান্তিভৌগ করিতে পারেন নাই তখন তিনি “110” ০০5 076 170106 ড/%00, 1 06257150105” বলিয়া সংসারের প্রতি ভ্রকুটি করিতে সমর্থ হন নাই। তখন তিনি সংসারী, ছুঃখের সংঙ্গারে সংসারী, সংসারমরুতে আশা-মরীচিকা-্রান্ত পথিক আত্মবিলাপশীর্ষক তাহার যে একটি কবিতা ১৮৬১ সালের আশ্বিন- মাসের 'তত্ত্বরবোধিনী' পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়া- ছিল, সেইটি পাঠে পাঠকগণ তাহার তদানীন্তন মনোতাঁব অবগত হুইবেন বলিয়া সেই কবিতাটি নিম্নে উদ্ধত করিয়া দিলাম-_-

আত্মবিলাপ

“আশার ছলনে ভুলি কি ফল লভিচ্ছু, হায়, তাই ভাবি মনে ?

জীবন-প্রবাহ বহি কাঁলসিদ্ধু পানে যায় ফিরাব কেমনে ?

দিন দ্রিন আমুহীন, হীনবল দিন দিন।_

তবু আশীর নেশা ছুটিল না? একিদায়!

রে প্রমত্ত মন মম! কবে পোহাইবে রাতি ? জাগিবি রে কবে?

জীবন-উদ্ভানে তোর যৌবন-কু্ুমতাতি কত দিন রবে?

নীরবিদ্দু দূর্বাদলে, নিত্য কি রে ঝলঝলে?

কে না জানে অন্ববিষ্ব অনুমুখে সগ্ভঃপাতি ?

৬)

নিশার স্বপন-স্থখে সুখী যে কিস্ত্খ তার? জাগে সে কাদিতে !

ক্ষণপ্রভ1 প্রতাঁদানে বাড়ায় মাত্র আধার পথিকে ধাধিতে !

মরীচিকা মরুদেশে, নাশে প্রাণ তৃষাক্কেশে )

তিনের ছলসম ছল রে কু-আশার।

প্রেমের নিগড় গড়ি পরিলি চরণে সাঁধে ) কি ফল লভিলি ?

জলন্ত পাবকশিখা-লোভে তুই কাল-ফাদে

উদ্ডিয়! পড়িলি ? পতঙ্গ যে রঙ্ষে ধায়, ধাইলি, অবৌধ, হায় ! না দেখিলি, না শুনিলি, এবে রে পরাণ কাদে

বাকি কি রাখিলি তুই বৃথা অর্থ অদ্বেষণে, সে সাধ সাধিতে ?

ক্ষত মাত্র হাত তোর মুণীল-কণ্টকগণে, কমল তুলিতে!

নাঁরিলি হরিতে মণি, দংশিল কেবল ফণী !

বিষম বিষ-জ্বাল! ভূলিবি, মন, ফেমনে ?

যশোলাভ-লোভে আয়ু কত যে ব্যয়িলি, হায় কব তা কাহারে ? স্থগন্ধ কুম্থমগন্ধে অন্ধকীট যথা ধায়, কাটিতে তাহারে 7 মাৎসর্ধয-বিষদশন, কামড়ে রে অন্ুক্ষণ ! এই কি লতিলি লাভ অনাহারে, অনিদ্রায়? মুকুতাফলের লোতে ডুষে রে অতল জলে যতনে ধীবর, . শতমুক্তীধিক আয়ু কালসিদ্ু-জল-তঙ্গে ফেলিস্‌ পামর ! ফিরি দিবে হারাঁধন, কে তোরে, অবোধ মন, হায় রে ভূলিবি কত আশার কুহকছলে !”

॥%০

১৮৬২ সালের শেষভাগে দানশীল মহাম্ৃতব পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিষ্যাসাগরের অর্থসাহায্যে মধুস্ছদন দত্ত আইন-শিক্ষার্থ ইংলণ্ডে গমন করেন। স্বদেশ ত্যাগ করিবার পূর্বে তিনি মাতৃভূমির নিকট বিদায় লইয়া যে কয় পংক্তি কবিতা লিখিয়াছিলেন, তাহা নিয়ে উদ্ধত করা গেল।

বঙ্গভূমির প্রতি

সোনাই, ১২৬৯ | “15 905518100 00০0 18161” 13910,

“রেখে! মা, দাসেরে মনে, মিনতি করি পদে। সাঁধিতে মনের সাধ, ঘটে যদি পরমাদ,__ মধুহ্ীন করো না গো তব মনঃ-কোকনদে ! প্রবাসে দৈবের বশে জীবতারা যদি খসে দেহ-আকাশ হ'তে নাহি খেদ তাছে। জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে, চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নাদে ? কিন্তু যদি রাখ মনে, নাহি মা, ভরি শমনে__ মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমতহদে সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যাবে নাহি ভুলে, মনের মন্দিরে নিত্য সেবে সর্বজন | কিন কোন্‌ গুণ আছে, যাচিব যে তব কাছে, হেন অমরতা আমি, কহ গো শ্ামা জন্মদে তবে যদি দয়া কর, ভুল দৌষ, গুণ ধর, অমর করিয়া বর দেহ দাসে, স্থুবরদে ! ফুটি যেন স্থৃতি-জলে, মানসে, মা, যথা ফলে মধুময় তামরস--কি বস্ত, কি শরদে ।” ইউরোপে থাকিয়াও মধুহ্দনের মাতৃভূমি মাতৃতাার প্রতি অন্রাগের হ্রাস হয় নাই, দুবিভ্তীর্ণ সাগর-ব্যবহিত, বিজাতীয্নগণে পরিবৃত,

_হুস্তর কার্ধ্যক্ষেত্রে ব্যাপৃত থাকিয়াও তিনি মাভৃ-

তাষার অন্থশীলনে ক্ষান্ত থাকিতে পারেন নাই। ইউরোপখণ্ডে তিনি চতুর্দীশপদী কবিতাবলী প্রণয়ন করেন। তিনিই বঙ্গভামায় এই শ্রেণীর কবিতা- রচনার পথপ্রদর্শক |

কবিবর বারিষ্টরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হুইয়! উপযুক্ত সময়ে কলিকাতায় প্রত্যাগমন এবং কলিকাতার হাইকোর্টে বারিষ্টরের ব্যবসায় আর্ত করেন। চন্ত্রগ্রহের স্তায় ব্যবহারশাস্ত্রেরও একদিকে আলোক এবং অপরদিকে অন্ধকাঁর সঞ্চিত থাকে দূর হইতে ব্যবহারশাস্ত্রের উদ্জল আলোক- দর্শনে মোহিত হইয়া ছুরাশামত্ত কবিগণ উহায় দিকে ধাবমান হয়েন এবং অবশেষে নিকটবস্তী হইয়া সকলেই প্রায় উহার অন্ধকারময় অংশ দর্শন করিয়া থাকেন | গেটে, শিলার, ডেন্হাম, স্কট, মূর, কুপার প্রভৃতি ইউরোপীয় কৰিগণ এই জটিল নিয়মের অধীন হইয়াছিলেন। আমাদিগের মাইকেল মধুসদন সম্বন্ধেও এই নিয়মের ব্যভিচার লক্ষিত হয় নাই। তিনি প্রতিভাবলে সাহিত্য- সংসার উজ্জ্বল করিয়াছিলেন, নিজীব বঙ্গভামাকে জীবন্ত করিয়াছিলেন, কিন্ক বারিষ্টরের অগ্রগণা হইতে পারেন নাই। যাহা হউক, কতিপয় কারণ বশতঃ আমর! এই সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তাস্ত- মধ্যে তীছ!র জীবনের এই অধ্যায়ের বিশেষ বিবরণ দিতে বিরত হইলাম। স্থুলতঃ এইমাত্র বলা যাইতে পারে যে, তিনি জীবনের শেষভাগ অবধি বারি্টরের ব্যবসায়ে প্রবৃত্ত থাকিয়া অবসরক্রমে হেকরবধ নামক একখানি গদ্া-গ্রন্থ প্রণয়ন করিয়াছিলেন পত্বী-বিয়োগ-যস্ত্রণা ভোগ করিয়। ৯৮৭৩ খুষ্টাব্দের ২৯শে জুন রবিবার বেলা প্রীয় দুইটার সময় আলিপুর দাতব্য-চিকিৎসালয়ে কবিবর মাইকেল মধুস্ছদন দত্ত মানবলীলা সংবরণ করিয়াছেন বিপুল পরিশ্রমে, অমোঘ অধ্যবসায়, প্রদীপ্ত প্রতিভাবলে বঙ্গ-সাহিত্য-সংসারে অক্ষয় কীর্তিত্তস্ত স্থাপন করিয়া শ্রীমধুন্ুদন বিশ্রামদিনে বিশ্রাম লাল করিয়াছেন। ইংলভীয় মহাকবি মিল্টনও বিশ্রামদিনে বিশ্রাম লাভ করিয়াছিলেন

মধুহদনের মুত্যুপলক্ষে প্রকৃত গ্ণগ্রাহী তেজন্বী লেখক শ্রীযুক্ত বাবু বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয় তৎসম্পাদিত বঙ্গদর্শনে যে কয় পংক্তি লিখিয়াছিলেন, তাহা! পাঠ করিলে বঙ্গবাসিগণ বুবিতে পারিবেন ঘে, মধুহদনের নিকট বঙ্গভাঁষ। কি পরিমাণে খণী এবং

বঙ্গকবিগণের মধ্যে তিনি কোন্‌ আসন পাইবার অধিকারী সেই কয় পংক্তির অধিকাংশ নিয়ে উদ্ধৃত করিয়৷ পাঠকবর্গকে উপহার দিলাম | *

“আজি বঙ্গভূমির উন্নতি সম্বন্ধে আর আমরা সংশয় করি না। এই ভূমগুলে বাঙ্গালীজাতির গৌরব হইবে | কেন না, বঙ্গদেশ রোদন করিতে শিখিয়াছে -অকপটে বাঙ্গালী বাঙ্গালী কবির জন্য রোদন করিতেছে

“যে দেশে এক জন স্ুকবি জন্মে, সে দেশের সৌভাগ্য যে দেশে জুকবি যশঃ প্রাপ্ত হয়, সে দেশের আরও সৌভাগ্য ! যশঃ মৃতের পুরস্কার জীবিতের যথাযোগ্য যশঃ কোথায়? প্রায় দেখা যায়, যিনি যশের পাত্র, তিনি জীবিতকাঁলে যশস্বী নহেন; যিনি যশের অপাত্র, তিনি জীবিতকালে যশস্বী। সক্রেতিস্‌ এবং যীশ্ুত্রষ্টের দেশীয়েরা তাহা- দিগকে অপমান করিয়া! প্রাণদণ্ড করিয়াছিল কোপরনিকস, গেলিলীয়, দাস্তে প্রভৃতির দুঃখ কে না জানে? আবার হেলি, সিওয়ার্ড প্রন্থৃতি মহাকবি বলিয়া খ্যাত হইয়াছিলেন। দেশে আজিও দাশরথি রায়ের একটু যশঃ আছে। যে দেশের শেষ্ঠ কবি যশম্বী হইয়া জীবন সমাপন করেন, সে দেশ প্রকৃত উন্নতির পথে দীড়াইয়াছে। মাইকেল মধুস্থদন দত্ত যে যশস্বী হইয়া মরিয়াছেন, ইহাতে বুঝ! যায় যে, বাঙ্গালাদেশ উন্নতির পথে দাড়াইয়াছে

“বাঙ্গাল প্রাচীন দেশ। ধাহারা ভূতক্ববেত্তা- দিগের মুখে শুনেন যে, বাঙ্গালা নদীমুখনীত কদ্দমে সম্প্রতি রচিত, তাহারা যেন না মনে করেন যে, কালি পরশ্ব হিমাচল-পদতলে সাগরোর্মি প্রহত হইত | সেরূপ অন্ুমান-শক্তি কেবল হুইলর সাহেবের ন্তায় পণ্ডিতেরই শোভা পায়। কিন্তু এই প্রাচীন দেশে, দুই সহম্র বৎসরমধ্যে কবি একা জয়দেব গোস্বামী | শ্রীহর্ষের কথা বিবাদের স্থল--নিশ্চয়স্থল হইলেও শ্রীহ্র্য বাঙ্গালী নছেন। জয়দেব গোস্বামীর পর শ্রীমধুস্দন |

প্যদি কোনও আধুনিক শ্ব্ধ্য-গর্ব্িত ইউরোপীয় আমাদিগকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের আবার

ভরসা কি? বাঙ্গালীর মধ্যে মনুষ্য জন্মিয়াছে কে?

* কৃতজ্ঞতার সহিত স্বীকার করিতেছি যে, বঙ্কিমবাবু অন্থুগ্রহ করিয়া এই জীবনবৃত্তাস্তমধ্যে তাহার লিখিত কয়টি পংক্তি উদ্ধত করিতে আমাকে অনুমতি দিয়াছেন ।__ প্রসন্ন |

॥৩/০

আমর] বলিব, ধর্মোপদেশকের মধ্যে শ্রীচৈতন্যাদেব, দার্শনিকের মধ্যে রঘুনাথ, কবির মধ্যে শ্রীজয়দেব শ্রীমধুহ্দন।

"্মরণীয় বাঙ্গালীর অভাব নাই। কুলুকভ, রঘুনন্দন, জগন্নাথ, গদাঁধর, জগদীশ, বিষ্ভাপতি, চণ্ডি- দাস গোবিন্দদাস, মুকুন্দরাম, ভারতচন্দ্র, রামমোহন রায় প্রভৃতি অনেক নাম করিতে পারি। অবনতা- বস্থায়ও বঙ্গমাতা রত্-প্রসবিনী এই সকল নামের সঙ্গে মধুস্ছদন নামও বঙ্গদেশে ধন্ত হইল। কেবলই কি বঙ্গদেশে ?

“আমাদের ভরসা! আছে। আমর! স্বয়ং নিগুপ হইলেও রত্ব-প্রসবিনীর সন্তান, সকলে সেই কথা মনে করিয়া জগতীতলে আপনার যোগ্য আসন গ্রহণ করিতে যত্বকর। আমরা কিসে অপটু ?__ রণে? রণ কি উন্নতির উপায়? আর কি উন্নতির উপায় নাই? বক্তস্ব্রোতে জাতীয় তরণী না ভাসাইলে কি সুখের পারে যাওয়া যায় না? চিরকালই কি বাহবলই একমাত্র বল বলিয়া স্বীকার করিতে হইবে? মন্তুষ্যের জ্ঞানোন্নতি কি বুথায় হইতেছে ? দেশতেদে কাঁলভেদে কি উপায়াস্তর হইবে না?

“ভিন্ন ভিন্ন দেশে জাতীয় উন্নতির ভিন্ন ভিন্ন সোপান বিগ্ভালোচনার কারণেই প্রাচীন ভারত উন্নত হইয়াছিল, সেই পথে আবার চল, আবার উন্নত হইবে কাল প্রসন্ন, ইউরোপ সহায়, স্ুপবন বহিতেছে দেখিয়া, জাতীয় পতাকা উড়াইয়া দাও, তাহাতে নাম লেখ, 'শ্রীমধুদন 1

“বদেশ, বঙ্গকবির জন্য রোদন করিতেছে বঙ্গকবিগণ মিলিয়! বঙ্গীয় কবিকুলভূষণের জন্য রোদন করিতেছেন কবি নহিলে কবির জন্য রোদনে কাহার অধিকার ?”

বর্তমান বঙ্গ-কবিকুল-চুড়ামণি শ্রীযুক্ত বাবু হেম- চক্র বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় মধুহদনের মৃত্যুপলক্ষে যে সুন্দর কবিতাটি লিখিয়াছিলেন, তাহ চিরকাল স্বগীয় কবির সমাধিস্তম্ভের বক্ষঃস্থ মণিময়-ফলক বলিয়া পরিগণিত হইবে কল্পনার লীলাতরঙ্গময়ী সেই কবিতাটি আমর! নিম্নে উদ্ধৃত না করিয়া ক্ষাস্ত থাকিতে পারিলাম না কষ

....-__ পপ শ্পশা্পাীট শি শা টাটা লতি পিসী পিসি শীত স্পা পাদ শাপলা পা শিপ লা পাপ জর

* কৃতজ্ঞতার সহিত স্বীকার করিতেছি যে, হেমধাবু অঙ্থগ্রহ করিয়া এই জীবনবৃত্তান্তমধ্যে তাহার লিখিত কবিতাটি সন্নিবেশিত করিতে আমাকে অচ্ছমতি দিয়াছেন ।__ প্রসন্ন

স্বর্গারোহণ

ঠা

“খোল খোল দ্বার খোল ভ্রতগতি হিরগয় জ্যোতি: যার, বলিল। কৃতাস্ত ডাকি অন্ুচরে মুখেতে প্রীতির ভার; 'সংবরি সংসার লীলা আপনার শ্রীমধুস্ছদন আসে, সম্ভাষি আদরে লও রে তাহারে বাণী-পুল্রগণ-পাশে 3 কবি-কুঞ্জধাম পবিত্র কানন অমর-ভবনে যাহা, নিরজন স্থান সদা মধুময়

দেখাও উহারে তাহা; যাও দ্রতগতি যাও যাও সবে নখে বংশীধ্বনি কর, কুস্থমে গীখিয়! স্থদর মালিক মন্তক-উপরে ধর 3 ভুঙ্জি বু হুঃখ সংসার-কারাতে শ্রীমধু ছুঃখেতে আসে, ত্বরা করি যাও, যশোগীতি গাও, লও কবিকুঞ্জ-বাসে।'

খুলিল ত্বরিতে উত্তর-তোরণ সঙ্গাত ঝঙ্কারে ধায়, দিগজনাগণ দেবদূত সঙ্গে রঙ্গে যশোগাত গায় ;- এসো এসো স্থুখে বাণী-বরপুক্র বঙ্গের উজ্জল মণি, স্বভাবের শিশু স্বধাতে পালিত কল্পনা-হীরার খনি বাশ্মীকি-হোমর সুমন্ধে দীক্ষিত মধুর জুতন্ত্রীধানী, অকাল কোকিল মরুতল-তরু অনীর দেশের বারি; এসো ভাগ্যবান কবিকুঞ্জ-ধামে চির-স্থখে কাল হর,

৮০

চিরজীবী হয়ে চির-আকাক্ষ্ষিত জয়-মাল্য শিচুর পর 3 বলিতে বলিতে ঘেরিয়া সকলে মণ্ডলী করিয়া আসি, দিগঙ্গনা দল কুক্ছমের দামে শীর্ষ সাজাইল হাসি।

সথীগণ চলে কবি-কুঞ্জবনে কলকগ ঝরে সুরে, কুদ্তম-বাসিত স্থগন্ধ বিতরে দূরে ঘন কুভ্ধ্বনি, শ্তামার সুন্দর তাঁন, বেখু-বীণা-ক্রুত অস্ফুট কাকলী পুলকিত করে প্রীণ; ভুলে মত্ত্য-শোক মধুষত্ত কবি মধুসে আস্বাদ পায়) অতুল আনন্দে নয়ন বিস্ফারি কবি-কুঞ্জপানে চাঁয়। চাঁলি পাশে বাম কলক্-স্বরে মধুর কীর্তন করে, আকাশে পবন ্রাণে স্ুবালিত মধুর সঙ্গীত ঝরে ) যবে উত্তরিলা কবিকুঞ্জধামে শরীরে রোমাঞ্চ ধরি £__ কিবি ধন্ত তুমি শ্রীমধুস্যদন' ধ্বনিল কানন তরি

স্থমন্ন মলয়

ভ্রমর-বঙ্কার

6

কবিকুঞ্জ সেই সুমিষ্ট সকলি তায়, স্বভাবের গুণে সকলি নুন্দর ক্ষণে দূপভেদ পায় ;₹_ এই ইন্দ্রধচ্ তন্থ মনোহর গগন উজ্জ্বল করে, ঝলকে ঝলকে ক্ষণ পরে এই বিজলী সুহান্ত ধরে; সতত ম্ন্দর শরতের শশী সুনীল অন্বরে ভাসে, সতত স্কুন্দর কুন্থমের রাশি তরু-কোলে কোলে হাসে;

সদা মধুময়

স্বভাবের গুণে সরসীর নীর ক্ষীর সম শৌভ। পায়,

নদী-নদ-বারি অমৃত সঞ্চারি প্রবাহ ঢালিয়া যায়;

মধুময় যত নিখিল জগতে সকলি সেখানে ফলে,

অতাঁপ অনল অশোক বাসনা গিরি গরু বায়ু জলে

লীল! সাঙ্গ করি হ'লে অবসর অহে বঙ্গ-কুলরবি !

যত দিন ভবে থাকিব বাচিয়া ভাবিৰ তোমার ছবি

আকর্ণ-পুরিত সেই নেত্রদ্য় স্বহৃত্রঞ্জন ভাগ,

মধুচক্র-সম মধুর ভাণ্ডার সরল কোমল প্রাণ;

আনন্গলহরী ভাষার নির্বরি শোভিত আশার ফুলে,

উতৎ্সাহ-ভাঁসিত বদনমণ্ডল পঙ্কজ বান্ধব-কুলে ;

বীর অবয়ব বীরভাষা-প্রিয় গউড়-সম্ততি সার,

প্রিয়ংবদ সখা প্রণয়ের তরু কামিনী-কণ্ঠের হার,

সাহিত্য-কুদ্ছমে প্রমত্ত মধুপ বঙ্গের উজ্জ্বল রবি,

তোমার অভাবে দেশ অন্ধকার শ্রীমধুস্দন কবি !

গেল চলি মধু কীদায়ে অকালে পাইয়া বহুল ক্রেশ,

ক্ষিপ্ত-গ্রহ-প্রায় ধরাতে আসিয়া জলিয়া হইল! শেষ;

ছিলে উদাসীন গেলে উদাসীন জয়মাল্য শিরে পরি,

অনাথ-ছুটিরে কাঁর কাছে বল

গেলে সমর্পণ করি ?

ভেবেছিলা জানি তুমি গত যবে গউড়বাসীরা সবে

%/০

অনাথ-পাঁলক তোঁমার বালক অস্কেতে তুলিয়া লবে ;

হবে কি সে দিন গউড়-মাঝে পৃরিবে তোমার আশা,

বুবিবে কি ধন দিয়াছ ভাগারে উজ্জ্বল করিয়া ভাঁষা !

হায়, মা, ভারতি, চিরদিন তোর কেন কুখ্যাতি ভবে ?

যে জন সেবিবে পদধুগল, সেই সে দরিদ্র হবে!”

মধুন্ছদনের মৃত্যু-সংবাদে স্থকবি শ্রীযুক্ত বাবু

নবীনচন্দ্র সেন মহাশয়ের হৃদয়ের ভাব গৈরিক- নিঃআাবের স্টায় নিয়লিখিত কবিতায় ম্বতঃ উচ্ছ্বসিত হইয়াছিল | *

“হা অদৃষ্ট !_-কবিবর !

মধুস্দনের, হায় !

দিয়াছিল যেই রত্ব

রাজ্য বিনিময়ে আহা,

কিংবা কণ্টকিত হায় !

সে বিধি পাঁষাণমনে

এই কি তোমার ছিল হে কপালে? ( শুনে বুক ফেটে যায়, ) এই পরিণাম বিধি লিখেছিল ভালে ?

ভারতী তোমায় অপািব ধন 3 কেহ নাহি পায় তাহা, দাতব্য চিকিৎসালয়ে তোমার মরণ !

যে বিধি করিল

গোলাপ কমল; দহিতে সুকবিগণে কবিত্ব-অমৃতে দিল দারিদ্র্য-অনল। ,

বহু ঘুদ্ধে না পারিয়া করিতে নির্বাণ এই হুতাশন ; প্রাণপত্বী-করে ধরি নরলীলা পরিহরি

পশিলে, মধুহ্ুদন, অমর জীবন

* কৃতজ্ঞতার সহিত স্বীকার করিতেছি যে, নবীন বাবু

অনুগ্রহ করিয়া এই জীবনবৃত্তাস্তমধ্যে তাহার লিখিত হাদয়- গ্রাহী কবিতাটি সম্গিবেশিত্ত করিতে আমাকে অন্ত্রমতি দিয়াছেন ।-__ প্রসন্্

কতন্ন মা বঙ্গভূমি ! এত দিন তব কবিত্ব-কানন, যেই পিকবর-কল উছলে যমুনাজল উছলিত ব্রজে শ্টাম-বাশরী যেমন )--

সে মধু-সথারে আজি পাষাণ-পরাণে (কি বলিব হায়!) অযত্বে মা অনাদরে বঙ্গ-কবি-কুলেশ্বরে ভিক্ষুকের বেশে মাতা দিয়াছ বিদায় ! মধুর কোকিল-কণে__অমৃত-লহরী-__ কে আর এখন, দেশদেশাস্তরে থাকি কে "শ্যামা জন্মদে' ডাকি নূতন নৃতন তানে মোহিবে শ্রবণ ? তোমার মানসখনি করিয়া বিদ্গার, কাল ছুরাঁচার, হরিল যে রত্বহায়! কত দিনে পুনরায় ফলিবৰে এমন রত্ব! ফলিবে কি আর? ৪১

শৃহ্য হ'ল আজি বঙ্গকবি-সিংহাসন ! মুদিল নয়ন বঙ্গের অনন্ত-কবি কল্পনা-সরোজরবি

বঙ্গের কবিতামধু হরিল শমন।

০০০ ৯০

বঙ্গের কবিতে ! আজি অনাথা হইলে মধুর বিনে, ম্াজন্ম শৃঙ্খলতরে দীন] ক্ষীণা কলেবরে বেড়াইতে বঙ্গালয়ে বিরস-বদনে ৯৯ কল্পনার বলে সেই চরণ-শৃঙ্খল কাটিয়া যে জনে, মধুর অমিক্রাক্ষরে তুলিয়া স্বরগোপ'রে দেখাইল তিলোল্তম। 'মুকুতা যৌবনে,' ১২ রত্বসৌধ-কিরীটিনী স্বর্ণ-লঙ্কাপুরে তোমারে,

মৈথিলী অশোৌকবনে প্রমীল। সঞ্জিত রে প্রবেশিতে লঙ্কাপুরে বীয় অহস্কারে,

৯৩) দেখাইল ;--বেড়াইল কল্পনার বক্ষে লইয়া তোমারে,

্বর-মর্ত্য-ধরাতলে প্রচণ্ড জলধিতলে শুনাইল মেঘনাদ গভীর বঙ্কারে ;

১৪ ব্রজাঙ্গন।, বীরাঙ্গনা নয়নের জলে-_ প্রেমবিগলিত ;

সাজায়ে ম্ুন্দর ভালা গাধিয়া নৃতন মালা আদরে তোমার অঙ্গ করিল ভূষিত ;

৯৬ পুণ্যথণ্ড ইউরোপে বসিয়া বিরলে সেই দিন, হায়! গাথিয়া কল্পনা-করে পরাহইল শ্রদ্ধাভরে রত্বমর 'চতুর্দশ' লহরী গলায়। ৯৭ কুষ্ণকুমারীর ছুঃখে কাদাইয়া, হায়! বঙ্গবাসিগণ, বঙ্গনাট্য-রঙ্গাঙ্গনে মোহিত দর্শকগণে পল্মাবতী শশ্মিষ্ঠীরে করিয়া স্জন + ৯৮ বঙ্গতাষা ম্থললিত কুম্মম-কাননে কত লীলা করি, কাদাইয়া গৌঁড়জন সে কৰি মধুস্থদন চলিল--বঙ্গের মধু বঙ্গ পরিহরি। ৯৪

যাও তবে, কবিবর ! কীন্তিরথে চড়ি বঙ্গ আধারিয়া

যথায় বাল্সমীকি, ব্যাস, কৃত্তিবাস, কালিদাস

রচিয়াছে সিংহাসন তোমার লাগিয়া ঘে অনস্ত মধুচক্র রেখেছ রচিয়া কবিতা-ভাগ্ডারে ;

অনন্ত কালের তরে গৌড় যন-যধুকরে

পান করি, করিবেক যশস্ী তোমারে 1”

মধুহদনের কাব্যসমূছের দোঁষ-গুণ-সম্বন্ধে হেম- বাবু মেঘনাদবধ কাব্যের ভূমিকায় যাহা লিখিয়াছেন, ভাছা আমাদিগের সম্পূর্ণ অনুমোদিত না হইলেও এই ক্ষুদ্র জীবনবৃত্তান্তমধ্যে আমরা সে সম্বন্ধে কোঁনও মত প্রকাশ করিব না। প্রস্তাবাস্তরে সবিস্তারে সে বিষয়ের আলোচন! করিবার বাসন! রহিল।

এক্ষণে কবিবরের চরিত্র ইহা সম্বন্ধে আমর! হা-না-আচ্ছা প্রণালী অবলম্বন করিয়া ছুই এক কথায় স্বমত প্রকাশ করিতে অধিকারী নহি; তাহা করিলে, সেই পরলোকগত মহাত্মার প্রতি ঘোর অত্যাচার করা হয়। কেবল কার্ধ্য দেখিয়া লোকের চরিত্রের দোষ-গুণ নির্ণয় করা যায় না। একই কার্ধা অবস্থাতেদে দোষের বা গুণের হুইয়া থাকে অবস্থা-বিবেচনায় কর্তব্যপরায়ণ পুক্রহত্তা ব্রটস্‌কে দেবতার ্ঠায় তক্তি করিতে হয়, আবার অবস্থা- বিবেচনায় প্রজারঞ্জক রামচন্দ্রের পত্ীবিসর্নকে কাপুরুষের কার্ধা বলিয়া ঘ্বণ! করিতে হয়। ফলতঃ, অমুক বাক্তি কোন্‌ অবস্থায় কি কার্য করিয়াছেন, না জানিতে পারিলে তাহার চরিত্রের দোৌষ-গুণ স্থির করা যায় না। তবে মাইকেল সম্বন্ধে আমরা নিয়মের ব্যভিচার ঘটিতে দিব কেন? তিনি কোন্‌ অবস্থায় পতিত হইয়া কোন্‌ কার্য করিয়া- ছিলেন, তাহার বিচার না করিয়া, তাহার চরিত্র সম্বন্ধে নিজমত প্রকাশ করিয়া, তাহার প্রতি ঘোর অত্যাচার করি কেন? যখন এই ক্ষুদ্র জীবনবৃত্তান্ত- মধ্যে সেরূপ বিচার করিবার স্থান নাই দেখিতেছি, তখন তাহার চরিত্রের দোব-গুণ-নির্দেশে উদাসীন থাকাই উচিত। অতএব স্থলে আমরা সে বিষয়ে উদ্দাসীন থাকিলাম। তবে সমাজ-দর্গণ নামক সংবাদপত্রের সম্পাদক মাইকেলের চরিত্র সম্বন্ধে যে ছুই চারিটি কথা লিখিয়াছেন, তাহা আমাদিগের অনুমোদিত হউক বা না হউক, তাহার সারাংশ নিষ্মে উদ্ধত করিয়া আমরা আপাততঃ পাঠকবর্গের নিকট বিদায় গ্রহণ করিলাম।

পঅগ্মির কণা শরীরে পতিত হইবামাজ্রই চমকিয়! উঠিতে হয়। যদি পরী অগ্নি প্রবলবেগে হৃদয়দেশে প্রবেশ করে মনে করা যায়, তবে নিশ্চয় বুঝিতে হইবে যে, মানুষ কখনই স্থির হইয়া থাকিতে পারে না; সে একবার গঙ্গায়, একবার যমুনায়, একবার মহাসমুদ্রের তরঙ্গে নিপতিত হইতে যায়, তথাপি তাহার হদয়ানল নির্বাপিত হইতে পারে না। এ্রশিক অনল হৃদয়াদেশে আবিভূততি হইলেও

৬০

মানুষের কখন কখন এই দশা ঘটিয়া থাকে আমাদের মাইকেল মধুস্থদন দত্তেরও এই দশা ঘটিয়াছিল। তিনি জীবনের মধ্যে এক দিনও স্থিরতাবে থাকিতে পারেন নাই। আজি হিন্দু, কালি ক্রিশ্চিয়ান ; আজি ইংলগ্ডে, কালি ফ্রান্গে) আজি ধনবান্‌, কালি নির্ধন, এইরূপ হইয়া! তিনি সংসারে যাবজ্জীবন কষ্ট পাইয়। গিয়াছেন।

"মাইকেল যথেচ্ছাচার ছিলেন, তিনি কখনও কাহারও কথা শুনিতেন না, কাহারও পরামর্শ গ্রান্থ করিতেন না, যাহাতে স্ুখবোধ হইত, সর্বজন- বিনিন্দিত হইলেও তাহা! সর্ধ-সমক্ষে অবলম্বন করিতেন কিন্তু তাহার একটি মহান্‌ গুণ দেখিতে পাওয়া ধায়। মাইকেল অসাধারণ বিদ্বান ছিলেন। ইংরেজী ভাষায় তাহার অসামান্য অধিকার থাকিলে তিনি বাঙ্গালা ভাষায় অন্গুকুলতা প্রদর্শন করিতেন তিনি কবিগণের বা গুণিগুণের অবমানন! করিতেন না। ** অসাধারণ উন্নতমনা ম!ইকেল মধুস্দন দত্ত আপনার চতুর্দশপদ্রী কবিতায় আপনার অলোকসামান্ঠ মাহাত্ম্য প্রদর্শন করিয়া গিয়াছেন। তাহার অন্থগতেরা ত্বাহাকে ভারতের অপেক্ষা মহান্‌ বলিতেন, * * অথচ তিনি আপন চতুদ্দশপদী কবিতায় ভাঁরত বিদ্যাসাগর গ্রভৃতি গুণীদিগকে অন্তরের সহিত স্তব-স্ততি করিয়া গিয়াছেন। % * পুরুষের হৃদয় তো এইরূপ হওয়াই উচিত বটে, চারিদিকে যখঃসৌরভ নিঃসারিত হইতেছে অথচ অভিমান নাই, কেবল গোলাপ. ফুলের মত আপনার মনে আপনি হাসিতেছে। |

“মাইকেল অসাধারণ মুক্তহত্ত ছিলেন। তিনি কখন কখন স্পষ্টই বলিতেন যে, ৪০,০০০ চস্লিশ হাজার টাকা বৎসর না হইলে ভদ্রলোকের কিরূপে চলিতে পারে? আমরা ভাবিয়া! দেখিয়াছি, মাইকেলের অনেকটা ধরণ গোল্ডশ্মিথের সহিত এক হয় গোল্ডশ্মিথ কখনই শাস্তিভোগ করিতে পারেন নাই। আমোদপ্রিয়তাবিষয়ে মাইকেল তাহার অপেক্ষাও অতিরিক্ত বলিয়! বোধ হয়। গোল্ডস্মিথ উলঙ্গ হইয়া অর্থীকে সর্বস্ব দান করিতেন, আমাদের মাইকেলও এইরূপ ছিলেন ঘরে খাবার নেই, স্ত্রীপরিবারের ভরণপোষণ নির্ব্বা- হিত হওয়াই ক্লেশকর, অথচ মাইকেলের দানশক্তি কমে না।

ফলতঃ 'হেসে খেল্লে নাও রে যাছু মনের ম্থখে, এই যে একটি কথা আছে, মাইকেল তাহার

গা ৯:

মার্ঘকড়া করিতে চাহিতেন। * * আমরা স্থলে ইছাও বলি যে, মাইকেল গোন্ডস্বিথের অপেক্ষ উন্নতমনা ছিলেন। যে জন্মন্‌ তাহার এত উপকার করিতেন, গোন্ডক্ষিথ তাহারই ঈর্ধা নিন্া না করিয়া! থাকিতে পারিতেন না| আমাদের মাইকেল বিঘ্ভামাগর মহাশয়ের নিকট