ব্ণস্থল মাড়োয়ার

স্বীপারাবত

»₹ ভিন্দুপ্যান শ্প্রিপ্টাজ” ৯৮২

প্রথম প্রকাশ £ অগ্রহায়ণ, ১৩৬১

প্রকাশক £ মুদ্রাকর £

কমল মুখোপাধ।য়

হিন্দুস্থান প্রিপ্টার্স

৫২বি, রাজা দীনেন্দর স্ত্রী, কলিকাতা-৯» |

প্রচ্ছদপট পরিকল্পনা 2 স্থবোধ গুপ্ত

ব্রক নিশ্মাতা £ নিটি আর্ট প্রোডা কসন

শ্রীযুক্ত শৈবলিনী দেবী শ্দ্ধাম্পদাস্থ_

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস

ঝড থামবে আহীর ?ভরে। আমি সিরাজের বেগম যে জীবন দ.ন স্বর্ণালী সন্ধা? মমআজ-দুহিত। জাহানারা এম এল্- পম্পা মহাপ্রেম লাডার্প লেন আমি আজ নায়িক! শ্যামল দশে ক্র্য ওঠে কিতাগড় হুর্জষ ছুর্গ বিনোদিনী ,আরাবল্লী থেকে আগ্রা , রাজপুত নন্দিনী রাণাদিল্‌ সিংহদ্বার পঙবূপে শতবায় বাহাছুর শাহ জনমে জনমে নিঞ্নতা নেই সেফ ল্যাপ্ডং চিহ্োোরগড় “হারিয়ে যাবার নেই মানা (কিশোর উপন্তাস ) , এর! (তনজন (0 " ব্হন্যময় গিরকন্দর (প্রকাশের পথে ) ছুংসাহসিক (৮ 9)

ফে স্বর্ণীল, মমতাজ- চা. "লুল, 4. মহাপ্রেম লাভার লেন আমি আজ নায়িক শ্যামল দশে স্তর্য ওকে কিতাগন্ , ছুর্জাষ তুর্গ ,বিনোদনী আরাবলী থেকে আগ্রা রাজপুত নন্দিনী রাঁণাদিল্‌ সিংহদ্বার পতবকপে শতবায় বাহাছুর শাহ জনমে জনমে নির্জনতা নেই ০েফ লাযা্ডিং চিতোরগড় “হারিয়ে যানাঁর নেই যানা (কিশে . এরা তনজন ( . ব্রহশ্যময় গিরিকন্দর (প্রকাশের পা ছুঃসাহুসিক ৮)

মাঝখানে আরাবল্ী। ওপারে মেবার। এপাশে মাভোয়ার রাজধানী যোধপুর সেই কবে থেকে দিল্লীর বাদশাহ আওরউজেব কবজা করে রেখেছেন এনায়েৎ খায়ের ওপর মাড়োয়ারের কর্তৃত্বি- ভার। যশোবন্ত সিংএর পুত্র অজিত সিংকে বার ছুর্গাদাস অনেক বছর আগে বাঁদশাহের কবল থেকে কৌশলে, শুধু কৌশলে কেন, অসাধারণ বীরত্বের সঙ্গে ছিনিয়ে এনে পরৰতে লুকিয়ে রেখেছেন মুঘলদের সাধা নেই তাকে খুজে বার করে। অজিত সিং সাবালক হয়ে উঠছেন আবু পাহাড়ের এক গহন অরণো একজন নকল অজিত সিংকে খাড়। করেছিলেন দিল্লীর বাদশাহ তাকে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত করে নাম দিয়েছিলেন মুহম্মদী রাজ দিল্লীর হারেমে রেখেছিলেন তাকে কিন্তু রাঠোরদের চোখে ধুলে। দিতে পারেন নি। পরে সেই নকল অজিত সিং এর মৃত্যুও হলো!

তুর্গাদাস জীবিত অবস্থাতেই হয়ে উঠলেন প্রবাদ পুরুষ চারণ কবিদের মুখে মুখে তীর কীরত্ব-গাঁথা। পথে-ঘাঁটে, মরুতে-পর্বতে, স্থুরের বঙ্কার তুলে অহরহ ধ্বনিত হচ্ছে সেই সব গাঁথা রাঠোরদের বুকের রক্তে তরঙ্গোচ্ছাস - গর্বের, দেশপ্রেমের ! পুত্রদের প্রতি রাঠোর রমণীদের শিক্ষায় সেই একই আদর্শ প্রতিফলিত। ফলে মাঁড়োয়ার হয়ে উঠেছে শত সহস্র ছূর্গাদাঁসের পবিভ্র বিচরণ ক্ষেত্র

তাদেরই একজন পুর্ধী সিং। এই পূর্থী সিং ইতিহাস-প্রসিদ্ধ কোন পুরুষ নয়। নিজেকে দিয়ে ইতিহাস স্থষ্টি করার মত স্বার্থপর সচেতনতাও ছিল তার কল্পনার বাইরে। কিন্তু পাল্লার একদিকে তুর্গীদাস অন্যদিকে পূর্থী সিংকে চাপালে হয়ত কোনদিকেই পাল্লা নেমে

শীপারাবত

যাবে না। কারণ পোষাক পরি্ছদের আধিক্য বর্জন করে যেমন পাল্লায় চাপা সমীচীন তেমনি নিজের পদমর্ধাদ।, অর্থগৌরব, লোকবল ইত্যাদি সব কিছুকে বাদ দিয়েই আসল' মানুষটির বিচার

যৌধপুর আর আরাবলীর মাঝামাঝি একটি গ্রামে তরুণ পূর্থী সিং- এর বাস। যোধপুর থেকে সোজাতি, তারপরে নাদোল। সোজাত আর যোধপুরের মাঝামাঝি একটি স্থানে এই গ্রামখানি। গ্রামের অদূরে একটি পাহাড় পাহাড়ে রয়েছে বর্ণা। সেই ঝর্ণা গিয়ে মিশেছে কাছাকা1ছ বান্দি নদীতে জায়গাটির কোন গুরুত্ব নেই সামরিক দিক দিয়ে। কারণ এখান থেকে কোন ভাল রাস্ত। নেই যার ফলে মুঘলদের যাতায়াত অকিঞ্চিংকর অথচ কিছুটা দূরে সোজ! রাস্তায় তাদের চলাচলের বিরাম নেই তবু এখানকার মানুষ দেশপ্রেমিক তারা রাঠোর ছূর্গাদাসের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রেরিত

এই কাহিনীর পটভূমিকা ইতিহাস ভিত্তিক ইতিহাসকে এখানে বিকৃত কর! হয় নি। নায়ক পৃর্থী সিং এখানে সেই যুগের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসাবে এঁতিহাসিক চরিত্র অপেক্ষাও সত্য স্বাধীনতার জন্য অবিরত সংগ্রাং-রত একটি জাতির তরুণ হয়েও বর্মের উধধের্ব মানবতাবোধই তার চরিত্রের মূল ভিত্তি। এমন চরিত্র সেই যুগের রাজপুত আর।মুঘলদের মধো মোটেও দুর্লভ ছিল না।

গ্রাম ছেড়ে অনেকটা দূরে এই ছোট্ট ঝরণ!! ছু পাশে পাহাড়। গাছপাল। অনেক সচরাচর বড় একটা কেউ আসে ন৷ এদিকে তবে জলের এখানে অনেক দাম বিশেষত যব গম তিল কিংব। যুগের ক্ষেত যখন শুকিয়ে যেতে থাকে তখন গ্রামের লোকের! দল বেঁধে হাঁড়ভাঙা পরিশ্রম করে এই ঝরণ। থেকে বাকে করে জল নিয়ে যায়। নইলে ফসল বাঁচে না। কিন্তু কয়েক বছর সে-সব পাট

১০

নেই। দুরের ক্ষেতগুলে৷ পড়ে রয়েছে অনাবাদী চাষ করে লাভ নেই। মুঘলদের কবলে যাবে শক্ত সামর্থ পুরুষ দেখলেও ওদের সন্দেহ ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার ওদের ধারণ! এইভাবে অতাচার চালালে কোন একদিন কারও মুখ থেকে অজিত (সং-এর শখ্োঁজ মিলে যাবে তবু চাষ যে একেবারে হয় না তা নয়। নইলে বাচবে কি করে? কিন্তু তাতে ঝরণার অল বয়ে নেবার প্রয়োজন হয় না। তাই পাহাড়ে ওঠার পায়ে চলার পথ বীরে বীরে মিলিয়ে গিয়েছে পথের মাঝে মাথ। চাড়। দিয়ে উঠেছে নতুন ঝোপ-ঝাড়।

পূর্থী সিং কিন্তু এখানে আসে প্রায় প্রতিদিনই আজ যেমন এসেছে এই ঝরনার সঙ্গে তার নাড়ীর টান। একবার দেশে দেখ। দিয়েছিল দারুণ দুভিক্ষ। পর পর ছুবছর অনাবৃষ্টি। গায়ের জলের উৎস নিঃশেষিত। শুকৃনো হয়েছিল কুপগুলো মেয়েরাও সেই বছর এই ঝরণায় আসত জল নিতে সেই রকম এক ছুদিনে মেয়েদের সঙ্গে পূর্থীর ম। দল বেঁধে এসেছিল জল নিতে ! কিন্ত ঘরে ফেরার সময় আর এক ফিরে যায় নি। কোলে করে নিয়ে গিয়েছিল নবজাত পূর্থীকে ! এই ঝরণার বারে ওই প্রকাণ্ড একখণ্ড চ্যাপ্টা পাথরই হল পূর্থীর জন্মস্থান তা সে ঝাঁরণার নাম দিয়েছে 'বহিন?

সে বুঝতে পারে “বহিনেরণ কল্কল্‌ কথা কত কথাই না৷ বলে চলে বহিন আপন মনে। তাকে অহরহ শোনায়, আবার স্বমহিমায় ঘোধপুরের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত হবেন যশৌবস্ত-পুত্র অজিত সিং। মাড়োয়ার আবার হবে স্বাধীন। বহিন মিথ্যা! কথ! বলে না। কিন্তু একথ। বলতে পারে ন। সে সবাইকে ভাবালুতাকে পছন্দ করেন৷ তার জাতি একমাত্র রূঢ় বাস্তবকেই সত্য বলে মানে তারা৷ কিন্তু কেন যেন পূর্থীর মনে হয়, স্বপ্ন দেখারও প্রয়োজন রয়েছে ছর্গাদাসের চোখের দিকে চেয়ে সে অনুভব করেছে, সেই চোখ স্বপ্নও দেখতে 'জানে। স্বপ্ন না দেখলে কল্পনার স্যত্টি হবে কেমন করে.? আর

৭০

কল্পনাহীন মানুষ নতুন প্রেরণার অভাঁবে একই বৃত্তের মধ্যে ঘুরপাক খায়।

ঝরণার জলের মধ্যে নেমে পূথ্থী স্নান করে। গ্রাম থেকে সারাটা পথ সে দৌভতে দৌড়তে আসে তারপর কিছুক্ষণ বৈঠক দিয়ে একটু বিশ্রাম করে জলে নেমে পড়ে এট! তার অভ্যাসে দীঁড়িয়েছে। তার পোশাক আর অস্ত্র ওই চাপ্ট। পাথরের ওপর রেখে দেয় - বাইশ বছর আগে এক গ্রীষ্মের অপরান্থে যেখানে সে প্রথম পৃথিবীর আলো দেখেছিল !

তার একটি অশ্ব রয়েছে নাম নন্দিনী কিন্তু সব সময় বাবহার করা যায় না তাকে দিবালোকে তাকে নিয়ে বার হলে মুঘল সেনাদের নজরে পড়ে যাবার সম্ভাবন।। অশ্বের ওপরে ওদের বড় লোভ। তাহ এই পাহাড়ের পাশে এক পাঁরতঃত্ত কুটিরে তাকে লুঁকয়ে রাখে পুরী মাঝে মাঝে রাতের বেলায় সেটির দরকার হয় _যখন দুরের কোন অজ্ঞাত পাহাড় থেকে আদেশ আপে অঙ্গ অনেকেরই রয়েছে, [কন্ত পথেঘাটে সেগুলোর দেখ। পাওয়। যায় না৷

স্নান করতে করতে চমকে ওঠে পূর্থী। একটা পাথর ওপর থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে ঝরণার জলের মধ্যে এসে পড়ে সে ওপর দিকে তাকায়। তারপর জল থেকে উঠে ছুটে গিয়ে পাথরের ওপর থেকে হাতে তুলে নেয় তার তলোয়ার এই পাহাড়ে বাঘও আছে, ভালুকও আছে। বাঘ মানুষ খায় ন। বটে, কিন্ত মেজীজী ভালুক প্রায়ই সোজ। এসে আব্রমণ করে বসে।

কিছুক্ষণ কাউকে দেখতে ন। পেয়ে পূথ্থী পোষাক পরে ফেলে তারপর আওয়াজ শুনে ওপর দিকে চেয়ে সে হেসে ফেলে বলে- কিরে ভুলগুয়া জল খাবি নাকি?

একটা ভালুক ছুটতে ছুটতে আসে পূর্থীর দিকে। পূর্থী তলোয়ার খাঁন! রেখে দিয়ে পাথরে হেলান দিয়ে ঈীড়ায়।

ভালুকটি দৌড়ে এসে তাকে ধাক! দেয়।

-এই আস্তে পড়েষাব। তোর ধাকায় চোট পেলে যে আসল কাজই হবে না। কোথায় গিয়েছিলি? মৌচাক পেলি ?

ভালুকটিকে আদর করতে থাকে পুর্থী' তারপর ঝরণ! থেকে জীজল। ভরে জল নিয়ে তার দিকে ছিটিয়ে দিতেই সে দৌড়ে দূরে সবে গিয়ে দাড়ায়

- কিরে ভুলুয়া। এখনো এত ভয় তোর জলে ? সেই কৰে বাচ্চা বয়েসে ডুবে গিয়েছিলি, এখনে ভুলিস নি। তোর নাম তুলুয়। রাঁখাই ভূল হয়েছে নাম হওয়া! উচিত ছিল মনুয়া।

ভালুকটি আবার এক পা! দুপা করে তার দিকে এগিয়ে আসে পূর্থী ওর রকম-রকম দেখে হে। হো করে হেসে ওঠে।

সে বলে-ভয় নেই। জল দেবে। না চল্‌ ওপরে যাই

ওপর দিকে উঠতে উঠতে সে বলে - হারে ভুলুয়া, সেই তিনবছর আগে জল থেকে তোকে তুলেছিলাম এখনো ভূলিস নি। মানুষ হলে কিন্তু ভুলে বসে থাকত। বলতে পারিস মানুষ এমন কৃতজ্ঞ হয় কিনা?

_ নিশ্চয় হয়।

থমকে দঁড়য়ে পড়ে পৃর্থী সিং। ভূলুয় রাগে ফু সতে থাঁকে সে আক্রমণ করতে উদ্ভত হয়।

পাহাড়ী পথের পাশে একট! উচু জায়গায় দীড়িয়ে রয়েছেন একজন সন্যাসী। মুখে তার মৃছ হাসি।

-তোমার ভুলুয়। আমাকে আক্রমণ করবে দেখছি। ওকে' সামলাও নইলে ও-ই মরবে

ভুলুয়ার ঘাড়ের লোম চেপে ধরে পৃথী প্রশ্ন করে, কে আপনি !

_সন্ন্যাসী !

-সে তো দেখতেই পাচ্ছি - বেশ যখন সন্নাসীর কেন এসেছেন এখানে ?

- তোমার ডূলুয়া শাস্ত হয়েছে?

১৩

হ্যা

_ এগিয়ে যেতে পারি ?

-আস্মন।

সন্নাসী নেমে এসেহ তাড়াতাড়ি ভুলুয়ার গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন,-আর ভয় নেই জীবনে আমাকে আক্রমণ করবে না

_মন্ত্রশক্তি ? পৃ্থীর প্রশ্বে সামান্য বিদ্রপের আভাষ

-যদিবল হা?

-তাহলে বলি, এসব ছোট খাটে! বাপারে শক্তির অপচয় ন। করে দেশের স্বাধীনতার জন্যে সঞ্চিত রাখুন ;

_বাঃ, বেশ বলেছ তে।? অন্তত একটু ভাবনা-চিন্তা কর বলে মনে হচ্ছে। তবে আমিও বলি, একজন মানুষের মন্ত্রশক্তিতে দেশোদ্ধারের মত বৃহৎ কাজ সম্ভব নয়। প্র।তটি মানুষের সেই শক্তি অর্জন কর। দরকার আর সে শান্ত হলো দেশপ্রেম

পূ্থী সিং হালক! হাঁসি হেসে বলে. - দিল্লীর বাদশাহ বুঝি সেই শাত্ততে বলীয়ান ?

সন্নাসীর চোখ তীক্ষ হয়ে ওঠে, _ দিল্লীর বাদশাহকে তুমি স্বচক্ষে দেখেছ কখনো :

-লা।

-আমি দেখেছি। অবাক হয়েছি দেখে ওর অসাধারণ মানসিক শক্তি! তবে তোমাদেরও দুর্গাদাস আছে! পৃথিবীতে ঈশ্বর কোন কোন মানুষকে বিশেষ কোন কাজে পাঠান সেই সব মানুষের এক এক জনের মনে এক এক রকমের অনুপ্রেরণার আগুন প্রজ্জলিত থাকে তার ঈশ্বরের বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করতে আসেন। কী সেই উদ্দেশ্য নিজেরাও তার! জানেন ন।। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে একট। আদর্শ থাক। দরকার

আমি ওসব গাল-ভর কথার মানে বুঝি ন7া। আমি সামনের

১$

টুকুই শুধু দেখতে পাই।

-জানি। তাই তোমাকে প্রথমেই বলেছিলাম, মানুষ ঘদি প্রকৃত মানুষ হয় তাহলে তাঁর মধো কৃতজ্ঞতাবোধ থাকে

_- আম।র প্রশ্ন হলো, প্রকৃত মানুষ কয়জন ?

সন্নাপী হেসে বলেন,-তুমি তে! মাত্র সামনেরটুকু দেখতে পাও বলাছলে। আমি আরও অনেকটা বেশী দেখি তোমাঁকে তাই বলে রাখ, খুব শিগগির “তামার জীবনে একজন মানুষের সাক্ষাৎ মিলবে যে তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার জন্যে তোমাকে প্রাণ হারাতে হবে না।

_ক সব বলছেন ?

_-আমি মিথা। বলিন।। সে তোমার শক্র- ঘোরতম শক্র। ভীবনে তার সঙ্গে তোমার কয়েকবার দেখ! হবে

আবিশ্বাসের হাস হেসে পূর্থী বলে,_ শেষবারে আমাকে ।নশ্চয় সে [মরে ফেলবে ?

গম্ভতীরসবে সন্নাসী বলেন- আমি নীচে গিয়ে টপাঁসন। করৰ্‌। তু এখন আসতে পার পরে দেখা হবে

পূর্থী |সং ভুলুয়াকে নিয়ে ওপরে উঠে যায়। একটু পরেই ত্য ডুববে একবার নন্দিনীকে গিয়ে দেখে আসতে হবে সারাদিন সে খুর ঠকে ঠকে কুটিরের মেঝেতে গর্ত করে ফেলেছে কী অস্থির ! চুপচাপ থাকতেই পারে না। সব সময় পৃর্থীকে পিঠে নিয়ে ছুটতে চায়।

_যা ভুলুয়া

সঙ্গে সঙ্গে ভালুকটি বে। করে ঘুরে ছুটতে ছুটতে অদৃশ্য হয়ে যায় বনের মধো

সন্নাসীর কথা চলতে চলতে ভাবে পৃর্থী। মানুষটির চেহার৷ দেখলে শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছ! হয়। কিন্তু কথার মধ্যে কেমন একটা! দন্ত ভবিষ্তংকে যেন চোখের সামনে দেখতে পায়! এমন মানুষ আছে

নাকি পৃথিবীতে ? এটা তো সত্যযুগ নয়।

সুর্য যৌধপুরকে বাঁয়ের দিকে ফেলে অস্ত যায়। পুর্থী সিং কুটিরের সামনে এসে উপস্থিত হয়। তার উপস্থিতি রোজই কীভাবে যেন টের পায় নন্দিনী ডেকে ওঠে অসহিফুভাবে কোন মুঘল সেনা এপথ দিয়ে যায় না। গেলে, ওই ডাক শুনে ধরে নিয়ে যেত। এমন ফাঁকা কুঁড়ে ঘর মাড়োয়ারে অনেক দেখা যায় আজকাল বাসিন্দারা পালিয়েছে পর্বতে তাদের গ্রামখানাই সবচেয়ে বেশী পরিতান্ত। কবে কোন ঘরে যুঘলরা আগ্তন লাগাবে ঠিক নেই অজিত সিংকে পাবার জন্য ওর মরিয়া ওদের বাদশাহের সম্মান নির্ভর করছে এর ওপর। বাদশাহ স্বয়ং তাই দাক্ষিণাতা ছেড়ে আজমীটে এসে শিবির স্থাপন করেছেন। চিতোরে রেখেছেন এক পুত্র আজিমকে। আর মাড়োয়ারের ভার সম্প্রতি দিয়েছেন সব চাইতে প্রিয় পুত্র আকবরের ওপর মা-মরা পুত্র আকবরকে নাকি তিনি শৈশব থেকে নিজের মনের মতো। করে মানুষ করেছেন

_ নন্দিনী

অশ্ব-তনয়া ডেকে ওঠে

দরজ| খুলে পুর্থী নন্দিনীকে বাইরে বার করে। আজকে নন্দিনীকে নিয়ে বাইরে যাবার ইচ্ছে ছিল না। কিন্ত বেচারির মুখের দিকে চেয়ে মন টলে যায়।

_ ঘরের ভেতরটা একেবারে নরককুণ্ড করে রেখেছিদ্‌ হতভাগী। দাড়। আগে পরিক্ষার করি। জলের পাত্র উল্টে দিলি কিভাবে? ঠিক আছে, ভিস্তি করে তোর পিঠেই জল বয়ে আনব। একটু সভ্য হয়ে থাকতে শেখ তুই না মেয়ে? ভুলুয়া ছেলে হয়েও কত সভা জানিস? ওর মুখের লোমে মাঝে মাঝে শুধু আট-দশটা মৌমাছি আটকে থাকে ওকে কামড়াতে পেরে আমাকে কামড়ে দেয়

-চি-হি-হি-হি-

-ঠিক আছে বাবা তৃই খুব সভ্য

১৬

সব ঠিকঠাক করে নন্দিনীকে নিয়ে সে যখন রওন। হয় তখন চারদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে ছেলেবেলায় এই সময় সে দেখতে পেত কত কুটিরের প্রদীপের আলে। দূর থেকে চোখে পড়ত এখন অনেক কুটিরই জনশূন্ত এখন কদাচিৎ দেখ। যায় দরের পাহাড়ের দাবানল অথব। কখনে। দেখা যায় রাতের নির্মল আকাশের কোন একদিক সহস। রক্তিম হয়ে উঠেছে বৃঝতে অন্ুবিধ! হয়না কৌন গ্রামের ঘর পুড়ছে সেই সঙ্গে কছু রক্তপাঁতও। প্রতিরোধ যেখানে প্রবল, রক্তপাত সেখানে অবশ্যন্তাবী

যোধপুর থেকে একশোজনের একদল মুঘল অশ্ব(রোহী দলপতি করিমবক্সের নেতৃত্বাধীনে এগয়ে যাচ্ছিল দক্ষিণে ঝালোরের দিকে তাদের গন্তবাস্থল ঝালোর নয় যদিও। যোধপুরে খাগ্যাভাব দেখা দিয়েছে ক্ষেতে ফসল নেই চাষবাস বন্ধ অথচ ভাজমীঢ কিংব। দক্ষিণে চিতোর থেকে যে সমস্ত খাগ্াসস্তার পাঠানে। হয় সেগুলো রাঁঠোররা লুঠ করে নেয়। প্রথমে ফৌজদার অতটা গুরুত্ব দেয়নি কিন্ত এখন তার টনক নড়েছে। সে জানতে পেরেছে পরিকল্পিত- ভাবেই এই সব আক্রমণ চালানে। হচ্ছে এবং এর পেছনে রয়েছেন স্বয়ং ছুর্গাদাস। |

করিমবক্স এগিয়ে চলেছে হুর্গম গিরিসঙ্কটের পাশ ঘেঁষে উদ্দেশ্য হলো, যে সমস্ত মুঘল চৌকি রয়েছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা খবর এসেছে সেই সমস্ত চৌকির অনেকগুলোর অস্তিত্বই নেই। ছূর্গাদাসের দল আচমক। ঝটিকা আক্রমণে কোথাও এদের ধ্বংস করেছে কোথাও পশ্চাদ্ধাবন করে তাড়িয়ে দিয়েছে করিমবক্সের লক্ষা যোবপুর থেকে ঝাঁলোরের পথের মাঝামাঝি একটি ছর্গ |. সেই দুর্গে পৌছে, সেখান থেকে আবার যোধপুর প্রতাবর্তন।

রাত শেষ না হতেই রওনা হয়েছিল তারা সূর্য যখন মব্য গগনে তখন একটি খাঁড়া পাহাড়ের সরু রাস্তা ধরে তারা এগিয়ে

১৭

চলেছে অশ্বারোহীদের সবার মনে অস্বস্তি। তারা ভালভাবে জানে, এই পাহাড়ী রাস্তার মারাত্মক বাঁকে ছূর্গাদাসের দল ওৎ পেতে থাকে তাদের আচমক। আক্রমণে কত অশ্বীরোহী ঘোড়। নিয়ে গভীর খাদের মধো চিরতরে অদৃশ্য হয়েছে তাই তাদের বুকে মৃদু কম্পন। কিন্তু করমবক্স নর্ভয়। আত্মবিশ্বীসে ভরপুর এই তরুণ। তাছাড়। জীবন মৃতু/র মাঝে যে বিরাট বাবধান কল্পন। করে সাধারণ মানুষ মৃত্যুকে বিভীষিক। বলে ভাবে, করিমবক্সের মানসিক অবস্থা তেমন হবার সুযোগ পাঁয় নি। তার মনে উচ্চাশ। রয়েছে যথেষ্ট, কিন্তু উচ্চাশার মধো কোন উন্মাদন! নেই -যে উন্মাদন। মানুষকে কুটিল করে, নীচ হতে প্রবৃত্ত করে সে বিশ্বস্ত মুঘল, সে অসাধারণ যোদ্ধা, আস চালনায় তার জড় মেলা খুব সহজ নয় তবু তার মুখের দিকে চাইলেই বোঝা! ঘায় একট নিবিকারত্ব মুখখানির ওপর ছায়। ফেলেছে শৈশবে তার মুখ দেখতে খুবহ ।মষ্টি ছিল কিন্তু এখন সেই মিষ্টত্বের বিন্দুমীত্রও অবশিষ্ট নেই এমনকি প্রখর ন্ু্ধ- তাপেও সেই মুখ রক্তিম হয়ে ওঠে না এই বলিষ্ঠ চেহারায় অমন অপেক্ষকিত ফাকাশে মুখ বড় একট। চোখে পড়ে না ওর দলের লোকেরা আড়ালে বলাবলি করে, জ্যান্ত মানুষের দেহে মৃত নবাবের মুখ বসিয়ে দেয়া হয়েছে নবাবের মুখ এই জন্যেই বলে, কারণ করিমবক্সের মুখের গড়ন প্রায় নিখুত তবু সেখানে যেন প্রাণ- স্পন্দনের অভাব কিন্তু সারা মুখে তার চোখ-ছুটি ব্যতিক্রম সেই চোখে তীব্রতা আছে, সেই চাহনিতে রয়েছে গভীরতা তার এই পঁচিশ বছরের জীবনের মধ্যেই একটা বড় রকমের আঘাত তাকে এমন করেছে

আরও একটু এগিয়ে গেলেই পাহাড় শেষ তারপর ছোট্ট একটি নদী। দুরের কোন পাহাড়ের ঝরণার জল এই নদীর স্থষ্টি করেছে। নদীতে জল নেই বিশেষ, কিন্তু গভীর খাদ অতীতে কোন একসময় হয়ত্ত এটি জলপূর্ণ থাকত। তখন রাজস্থান এমন মরুময় ছিল

১৮

কিনা কে জানে

এই নদী পার হতে গিয়ে বন্থবার মুঘলর! আক্রান্ত হয়েছে। তাই করিমবক্প ঘোড়ার মুখ ঘৃরিয়ে তার দলের লোকদের প্রস্তুত হতে আদেশ দেয়! কিন্ত তার কণ্ঠস্বর মিলিয়ে ঘেতে না ঘেতেই ওপর থেকে বড় বড পাথর গড়িয়ে পড়তে থাকে অশ্বারোহীর। ভীত বিহ্বল করিমবন্স কণ্ঠস্বরকে উচ্চগ্রামে তুলে তার সক্ষে এগিয়ে যেতে বলে। কিছুদর ছুটে পেছনে অশ্বপদশব্দ ন। শুনতে পেয়ে ফিরে দেখে একজনও অন্ুসরপ করেনি তাকে সে নিঃসঙ্গ জীবনে এই প্রথম এমন অপমানজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হলো! তাকে এই সম্পূর্ণ অপরিচিত দলের নেতৃত্ব নিতে গোড়। থেকেই তার সায় ছিল না অথচ এনায়ে« খাঁয়ের কড়া হুকুম ন! মেনে উপায়ও ছিল না কোন এই দলটি (কছু'দন আগে আজমীঢ় থেকে এসেছিল একেবারে স্থনাম নেই এদের এদের প্রথম দলপতি এই রকমই কোন এক ঘটনায় নিহত হয় নাদোলে। আজ সম্ভবত তার পাল।

অশ্বটিকে কিছুক্ষণ দাড় করায় করিমবক্স। পাহাড়ের ওপরে শত্রু সামনের দিকে এগিয়ে গেলেও নিশ্চয় শক্রর মুখে পড়তে হবে। কারণ দলটিকে বিচ্ছিন্ন করে একে একে সবাইকে তার নিশ্চিহ্ন করতে চাঁয়। ওপর থেকে এখনো পাথর পড়ে চলেছে। তাকে পেছনে যেতেই হবে। দলের কাউকে তখন হয়ত আর পাওয়া যাবে না ভবু ফিরতে হবে তাঁকে।

ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে সে ছোটে একটু গিয়েই দেখে তার দলের পাঁচ ছয় জন লৌক আহত অবস্থায় তারত্বরে চিৎকার করছে। ছুটে! ঘোড়াও আহত হয়ে পড়েছে। একটু অন্ুকম্পা হয় তার। কিন্ত থামার উপায় নেই সে ছুটে চলে হঠাৎ তার অশ্ব অস্বাভাবিক একটা লাফ দেয়। মনে হয় পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে সঙ্গে সঙ্গে সে ছিটকে পড়ে পাহাড়ের গায়ে। বা পায়ে তীব্র যন্ত্রণা! অনুভব করে। তাড়াতাড়ি একট! গাছের শিকড় ধরে ফেলে সে। নইলে

১৪)

গড়িয়ে যেত অনেক নীচে

শত্রুপক্ষের হৈ-চৈ করিমবক্পসের কানে আসে সে খুব সাবণানে পাহাড়ের গ! বেয়ে পাথরের ফাটলে পা রেখে আর গাছের ডালপাল' ধরে নামতে থাকে অনেক নীচে একটা রাস্তা দেখ যাচ্ছে €ঈ রাস্তা ধরেই তাঁরা ওপরে উঠেছে কিন্তু পাহাড় খাড়া হাত ফম্‌্কে গেলে উপায় নেই এরই মধে। সে ভাবতে চেষ্ট। করে তার ঘোড়া ওভাবে ল।ফিয়ে উঠল কেন? সে কি আহত হয়েছে ? কোথায় চোট পেল ? দেহে ন। পায়ে ?

কোমরে হাত দিয়ে করিমবক্প দেখে তার তলোয়ার অক্ষতই আছে। ছিটকে পড়ে গেলেও সেটি অশ্বারোহীদের মত তাকে ফেলে পালায় নি। কিছুটা নিশ্চিন্ত হয় সে। আত্মরক্ষার জন্য এটির প্রয়োজন হতে পারে বা পা বড় বেশী টন টন্‌ করছে হাড় ভাঙল কিনা কে জানে।

ধীরে ধীরে নীচে নামতে যথেষ্ট পরিশ্রম দৈবাৎ হাতি ফসকে যাবার সম্ভাবন। যখন-তখন তাছাড়া শত্রুপক্ষের দৃষ্টিগোচর হবার আশঙ্কা রয়েছে তবু এরই মধ্যে অজ্ঞাতে তার মুখে ক্ষীণ হাসির রেখ। ফুটে ওঠে এই ধরণের ন। হলেও বিপদ তার জীবনে নতুন কিছু নয়। |কন্ত অদূর অতীতেও বিপদের মধো একট! রোমাঞ্চ থাকত তার চোখের সামনে ভেসে উঠত একটি মেয়ের মুখ; আর তখনি সে বাড়তি প্রেরণা পেত, বাচতেই হবে তাকে ফতেমার জন্যে নইলে ফতেমার বুক ভেঙে যাঁবে। কথাট। ভেবে একটু জোবেই হেসে ওঠে করিমবক্স সেই ফতেমার বিশ্বস্ততা, তার প্রেম. এক বছরের অদর্শনেই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল আজমীঢ় থেকে দিল্লী ফিরে গিয়ে দেখতে পেল সে, ফতেম। এক আমীর-পুত্রের বেগম হয়ে তার ঘর আলে। করে রয়েছে অথচ কথা দিয়েছিল সে। বলেছিল আর কারও সঙ্গে সাদীর কথা কল্পনাও করতে পারে না সে। করিমবক্স ভাবে তারই ভূল হয়েছিল। নিজের মাকে জেনেও সেই

হ্ 9

মাতুজাতির আর একজনকে বিশ্বাস কর। তাঁর অজ্ঞতা আর অদুরদ্সিতার ফল তার বাবা যুদ্ধক্ষেত্রে শক্রর বিরুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন দেয় নি, একথা এখন আর দিল্লীর কারও অজান। নয়। যে হতা? করেছিল তার বাবাকে, ম। এখন তারই ঘর করছে মা চেয়েছল এশ্বর্ধ-_পেয়েছে, যথেষ্ট পেয়েছে বাবার অত এশ্বর্য ছিল না। ফতেমাঁও তাই চেয়েছে সে তৃপ্রি পাক। কিন্তু তাই বলে ম। তার আপন গর্ভের সন্তানকে ওভাবে যন্ত্রণা দিত কেন % ম। কি তাকেও হন্ভা! করতে চেয়েছিল ? প্রশ্নের জবাব কারমবক্স আজও পায় নি। মা তাকে পরিতাগ করে নতুন স্বামীর ঘরে গিয়েছিল। তারপর মা আবার নতুন করে মা হলে। সে অবাক হয়ে দূর থেকে লু(কয়ে লু'কয়ে দেখেছে, সেই সন্তানকে মা কেমন আদর করছে কত দরদ সেই সন্তানের ওপর! যখন বুঝতে না, তখন কতবার মাকে দেখার জন্য ছুটে ছুটে গিয়েছে ৪৯ অদ্রালিকার প্রধান ফটকের কাছে। তারপর সম্কোচে আচ্ছন্ন হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে মায়ের নতুন স্বামী সম্ভবত অন্ুকম্পাবশত তাকে নিয়ে গিয়েছে ভেতরে তখনে। কী সাংঘাতিক ব্যবহার ভয়ে ভয়ে পালিয়ে আসত করিমবক্স

রাস্তার একেবারে কাছে নেমে আসে সে। হাত প্রায় অবশ হয়ে এসেছে বাথায়। এতট। পথ ঝুলতে ঝুলতে নাম, বলতে গেলে অসম্ভব গায়ে অনেক জায়গায় আচড় লেগেছে পায়ের বাথ! বেড়েছে ঘোড়াট। থাকলে বেশ হতো! বছর ছু-এর সাথী ছিল এটি স্থন্দর, ক্ষিপ্রগতি মনের কথ। বুঝতে পারত

রাস্তায় নেমে খৌড়ীতে খোৌঁড়াতে চলে সে। বাপ বেশ ফুলেছে। হুপাশে দেখে কেউ কোথাও নেই এভাবে কতদূর যাবে সে? গায়ে. তার মুঘল সেনার পরিচ্ছদ কোন্‌ গ্রামে আশ্রয় মিলবে? এ-দেশে একজন বিশ্বাসঘাতক মানুষের সন্ধান পাওয়া! বড়ই কঠিন

পেছনে কোন অশ্বারোহী আসছে শব শোন! যায়। করিমবক্স একটি পিপুল গাছের আড়ালে তাড়াতাড়ি লুকিয়ে পড়ে। অশ্বারোহী

২৯

আরও এগিয়ে আসছে তারই দলের কেউ কি? একবার ভাবে, উকি দিয়ে দেখবে কিন্তু সেভাবে দেখাটা নিরাপদ নাও হতে পারে সে নিঃশকে ঈাড়িয়ে থাকে অশ্বারোহী আসতে আসতে পিপুল গাছের কাছে 'দীড়িয়ে পড়ে। বিশ্মিত হয় করিমবক্স ' সত্তাকে দেখতে পেয়েছে নাকি ?

অশ্বীরোহীর শান্ত কথন্বর শোন। যায়-সামনে এসে।। আমি তোমাকে দেখেছি

মুখল নয়। একক কোন রাজপুত পেছনে ওর দলের আর কেউ আসছে নাকি? যদি না আসে তাহলে ওর সম্মুখীন হওয়া যেতে পারে পরাস্ত কর! এমন কিছু অস্থুবিধা হবে না; তবে মাটিতে দাড়িয়ে লড়তে হবে তার ওপর পায়ে চোট আছে।

-সামনে এসো আমি একা মুঘলর কি একজন মান্ষের সামনে আসতেও ভয় পায় ?

করিষবক্স আড়াল থেকে সামনে এসে বলে,- তোমার অশ্ব রয়েছে

-বেশ তে।। অশ্ব থেকে নামছি।

করিমবক্স দেখে রাজপুতটি বয়সে নবীন। তার চেয়েও তিন চার বছরের ছোট হবে। মুখের কমনীয়তা এখনো একেবারে অদৃশ্য হয়নি। কিন্তু উচ্চতায় তার মাথা ছাঁড়িয়ে যায়। চেহারা বাঁলষ্ঠ

রাজপুত এক লাফে মাটিতে নামে। হাতে কোষমুক্ত অসি বলে, -তুমি কি যুদ্ধ করতে চাও ?

_-তবে কি ভাবছ, এমনিতে প্রাণট1 দেব ?

_-ইচ্ছে করলে বন্দী হতে পার

_ রাঁজপুতের কাছে? ইজ্জত নেই আমার? তাছাড়া বন্দী তোমাকেও করতে পারি।

রাজপুত হেসে বলে,__বন্দী করে কোথায় নিয়ে যাবে ? তোমাকে সাহায্য করার জন্য একজন মুঘলও নেই। যারা বেঁচেছিল সব

স্‌

পালিয়েছে।

করিমবক্স ভাবে, এই রাঁজপুতকে আহত কিংব। নিহত কর! তার পক্ষে খুব একট কষ্টসাধ্য ব্যাপার নয়। কারণ অসিষুদ্ধে তার দক্ষত। অশীম। তবে তার পায়ের আঘাত তার ক্ষিপ্রতাকে কিছুটা কমিয়ে দেবে। কিন্তু তাতেও খুব এসে যাবে না আর একে নিক্ষিয় করতে পারলে অশ্বটি পাওয়া যাবে যোবপুরে ফিরে যেতে তখন ততটা অস্থুবিধা হবে না। রাজপুতটি হয়ত ঈশ্বর প্রেরিত। তিনি চানন! করিমবক্স নামে মুঘল সেনানায়ক এত তাড়াতাড় পূ্থেবী থেকে বিদায় নিক। এই আকর্ষণ-হীন ধরিত্রীতে আরও পাদান্নাত বোধহয় তার প্রাপ্য তাতে জীবনে স্থখ আসবে না বটে, কিন্ত তৃপ্তি মিলবে

সে রাজপুতকে বলে, কথায় কাজ কি; অসি চালাতে শিখেছ ?

তেমনি নিবিকার কণ্ঠে রাজপুত বলে,_শিখেছি।

করিমবক্স তাকে আক্রমণ করে। একটু পরেই করিমবক্স অনুভব করে, তাকে আত্মরক্ষা করতে হচ্ছে সে অনায়াস ভঙ্গত রাঁজপুতের আক্রমণ কাটায় কয়েকবার তারপর বুঝতে পাঁরে সয়সে তরুণ হয়েও অস্ত্র বিগ্ভায় খুবই পারদর্শা রাজপুতটি কোন কৌশলেই তাঁকে আয়ত্বে আন! সম্ভব হচ্ছে মা। এদিকে পায়ের আঘাত তাকে রীতিমত অস্্রবিধায় ফেলছে

রাজপুত হঠাৎ পেছিয়ে গিয়ে বলে, -তুমি দেখছি আহত তোমার পায়ে কিছু হয়েছে তোমার সঙ্গে লড়ে কি লাভ?

করিমবক্স অপমানে গরম হয়ে ওঠে সে ছুটে গিয়ে আক্রমণ করে। কিন্তু একটু পরেই তার শ্লথ গতির জন্য হাতের অসি ভেঙ্গে যাঁয়। হাঁতিলটি শুধু হাতের মুঠোয় ধর! থাকে সে অপেক্ষা করে মৃত্যুর জন্য তার সবাঙ্গ ঘর্মাক্ত

রাজপুত বলে, - এবার চল।

-কেন? এখানেই তে। ৰধ করতে পার আমাকে অস্থুবিধ!

সঙ

কোথায় ?

- নিরস্ত্রকে ?

করিমবক্স থমকে যায়। তারপর বলে,-তবে কি বন্দী করতে চাও আমাকে ?

- আপাতত তা কিন্তু তুম চলবে কি করে?

_আঁমি কোথাও যেতে চাই ন।। বন্দী হওয়া আমার কাম্য নয়

_তুমি ভীষণ সাহসী কী সুন্দর অসিবিদ্া জান। তোমার পায়ে আঘাত ন। থাকলে অনেকক্ষণ লড়া যেত। আমার খুব আনন্দ হত।

- শোন রাজপুত আমাকে বন্দী করার চেষ্টা করো না আমি পছন্দ করি না। তোমাদের [দন শেষ হয়ে আসছে। তোমাদের হূর্গাণীন খুব বেশী দিন বেচে থাকতে পারবে না। তুমিও নও মাচায়ারের যেসমস্ত মূর্খ ছূর্গাদাসের সঙ্দে এতদিন একজোট হয়েছে তার। সবাহ মরবে স্থতরাং আমাকে যেতে দাগ

রা'জপুতটি হেসে বলে, অত ভাঁবস্যৎ-বাণীতে কাজ কি? পরে কিহবে সে কথা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কাজ নেই। আমি সামনের টুকু শুধু দেখতে পাই আমি দেখছি তোমাকে ছেড়ে দিলে তোমার মৃত অবধারিত তোমার এই পোষাক রাজপুতদের মনে আগুন ধরাবে। তার! দেখতে যাবে ন।, তুমি নিরন্ত্র কন! তাই আপাতত আমার সঙ্গে চল

-আরম বন্দী?

_ এই মুহুর্তে তো তাই। তোমার পায়ের অবস্থা! খুব খারাপ দেখছি যাবে কি করে; এক কাজ করো আমার নন্দিনীতে তুমি ওঠো

করিমবক্স খুবই বিশ্মিত হয়। তরুণটিকে স্থষ্টিছাঁড়া বলে মনে হয় তার কাছে। আজ যদি তরুণটি পরাস্ত হতে৷ তাহলে তাকে হত্য। করতে এক মুহূর্ত দ্বিধা! করত না সে।

২৪

সে বলে- কিন্ত তুমি! তুমি কীভাবে যাবে ?

_- আমি ঘোড়ার রাশ হাতে নিয়ে তোমার আগে আগে চলব

-এত যত্বে আমাকে নিয়ে চলেছ হুর্গাদাসের হাতে সমর্পণের জন্য তো ?

_তাঁড়াতাড়ি উঠে পড়। মাঁড়োয়ারের আর কেউ দেখলে ,তীমাকে বাঁচতে দেবে না।

করিমবক্সু কৌতুহল নিয়ে ঘোড়ার পিঠে চেপে বসে। এই প্রথম তরুণটির জন্য তার হৃদয়ে একটু সহানুভূতির উদ্রেক হল।

সেবলে- তোমার এই তশ্বটি চমৎকার। কি নাম বললে? নন্দিনী ?

_হ্টা। ভাল না?

_খুব ভাল। তবে আমর! অন্য ধরণের নাম রাখি

-জানি। তোমরা যে মুঘল

- তোমার নীম কি? _পূর্থী পিং। তোমার ? -কাঁরমবক্স

_ তুমি অসাধারণ যোদ্ধা ধ্যভাঁবে কয়েকবার কাটালে, আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম শুধু অনুশীলনে এতট। হয়না তুমি জাত যোদ্ধা

করিমবক্স মনে মনে বলে, তুমিও তাই পায়ে চোট না থাকলেও খুব বেশী সুবিধা হতো না। কারণ অন্ত সব বিষয়ে সমান সমাঁন হলেও রাজপুতটির উচ্চতা আর বলিষ্ঠতা তার চেয়ে বেশী

_তুমি কি করে বুঝলে আমি পিপুল গাছের আড়ালে আছি?

_তুমি ঘোড়া থেকে ছিটকে পড়ার পর থেকেই আমি নজর রেখেছি তুমি নেমেছ পাহাড় বেয়ে, আমি অন্য পথে এসেছি। পিপুল গাছটি ছাড়া আশেপাশে আর ফোন বড় গাছ নেই। তাছাড়। নন্দিনী ওখানে গিয়েই থেমে পড়ল সব বুঝতে পারে।

জীপায়াবত ২৫

- তোমরা বন্দীদের নিয়ে গিয়ে কি কর?

বন্দী বড় একট। কেউ হয় না। এখন আমাদের নিজেদেরই থাকার জায়গ। নেই

-আমাকে নয়ে গিয়ে করবে ?

পৃ্থী সিং কোন জবাব দেয় না তাকে চিন্তিত দেখায় মনে হয়, এই মুহুতে সে-ও জানে না! করিমবক্সকে নিয়ে গিয়ে কি করবে

চলতে চলতে পূর্থী গুন্গুন্‌ করে গান গাইতে শুরু করে এই পাহাড়ী পথে চলতে তাকে এতটুকু পরিশ্রাস্ত বলে মনে হয় না গান গাইবার মত অজস্র গাথা রয়েছে -চারণ কবি রচিত পুর্থী সিং গাইছিল দুর্গাদাসকে নিয়ে রচিত গাথ! |

করিমবক্স চুপচাপ শোনে কারণ গুন্গুন্‌ করতে করতে পূর্থী জোরে জোরেই এক সময় গাইতে শুরু করেছিল

করিমবক্সের মনে জবাীল। ধরে সে বলে ওঠেতোমার গল। খাস! কিন্তু ছুর্গাদাঁসকে নিয়ে বড বাড়াবা।ড় করছ

_ তুমি আমাদের মনোভাব কি করে বুঝবে ?

- তোমাদের এইট বাঁড়াবাড়ি ছর্গাদীসের দস্ত আকাশচুম্বী করে তুলবে ফলে অজিত সিং আর মাঁড়োয়ারের অধিপতি হতে পারবে ন। কোনদিনও « হুর্গাদাসই সিংহাসন দখল করবে তারপর তার ছেলে

পৃথী সিং থেমে পড়ে। তীব্র দৃষ্টিতে কারমবক্সের দিকে চায়। তারপর ধীরে ধীরে সংযত কণ্ঠে বলে -মুঘলদের ব্যাপার-স্তাপার আমর! বুঝিনা তোমরা হলে হয়ত তাই করতে কিন্ত রাজ- পুতদের তুমি দেখছি চিনতে পারে৷ নি। যদি চিনতে, তাহলে আজ দলবল নিয়ে এই অসহায় অবস্থায় তোমাকে পড়তে হতো ন।।

জ্বলে ওঠে করিমবক্স। বলে-যুদ্ধের সঙ্গে তোমাদের চিনতে ন। পারার সম্পর্ক কোথায়?

"আছে বৈকি ছূর্গাদাস তোমাদের নিজেব হাতের পাঁচ

১৬১০

আঙ্গুলের মত চেনেন। যাঁর কলে সামান্য সামর্থ্য নিয়েও তোমাদের নাজেহাল করে ছাড়ছেন শেষ পর্যস্ত তোমরাই পরাস্ত হবে

করিমবক্স হেসে ওঠে সেই হাঁসি অট্রহাসি ন। হলেও তাতে যথেষ্ট ধার ছিল। সে বলে-তোমাদের হুর্গাদীসের দিন শেষ হয়ে আসছে

_ দেখা যাক।

অনেকট। পথ অতিক্রম করে পূর্থী সিং তাদের গ্রামের প্রান্তে এসে হাজির হয়। আর কিছুট। অগ্রসর হয়ে সে একটি কুটিরের সামনে আসে কুটিরটি তাদের গ্রামের ঠিক বাইরে এটিও পরিত্যক্ত এর মালিক স্থজয় সিং গতবছর শিবানার কাছে এক যুদ্ধে নিহত হলে, তার বিধব। পত্রী একমাত্র কন্যাকে গিয়ে পিতৃগৃহে চলে গিয়েছে এখন এটি পৃর্থী সিং প্রায়ই রাতের বেলায় বাবহার করে কখনো গ্রামের অন্য যুবক যার! উপস্থিত থাকে মাঝে মাঝে তারাও এসে জোটে এখানে বসে অনেক আলোচনা হয়, অনেক পরিকল্পনার সুতকাগার এটি তাছাড়া তাদের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও বটে এখন অমর সিং ছাঁড়। গ্রামের অন্যান্য যুবকের। অনুপস্থিত

কুটিবের সামনে পুর্থীর কগ্নামত কাঁরমবক্স নন্দিনীর পৃষ্ঠদেশ থেকে অবতরণ করতে গিয়ে যন্ত্রণায় মুখ বিকৃত করে সে বুঝতে পারে তার শরীরের উত্তাপ যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে বেশ শীত করছে।

পূ্থী সিং তার মুখের দিকে চেয়ে বলে -তোমার পায়ে ব্যথা জানি। কিন্তু মুখের চেহার। এমন কেন? কি হয়েছে?

-কিছু না। এবারে কি করবে আমাকে নিয়ে ?

- এই কুটিরে আমি রাতের বেলায় এসে থাকি মাঝে মাঝে শষ্য বলতে খড়ের গাদা তোমাকে এখানেই থাকতে হবে কষ্ট করে। এর চেয়ে আরামের ব্যবস্থা করা আমার অসাধ্য

করিমবক্স কোনরকমে ঘরের ভেতরে ঢুকে যায়। সে পাছ্‌ক৷ খুলে ফেলে এখন শুধু একটু বিশ্রাম চায়। চারদিকে একবার চেয়ে

২৭

দেখে নেয় ঘরখানি কতট। মজবুত কারণ বাইরে থেকে |নশ্চয় দরজা বন্ধ করে দেবে পূর্থী (সং।

পৃ্থী পিং ওর মনোভাব বুঝতে পারে বলে- দরজ। তুমিই বন্ধ করে দণ্ড ভেতর থেকে তোমার বাইরে যাবা প্রয়োজন হতে পারে। দরজ। খুলে রেখোন। রাতে মাঝে মাঝে ভালুক আসে। আর পালাবার চেষ্ট। করে খুব ল।ভ নেই একটিও ঘোঁড়। জুটবে ন! সারা গায়ে। আমারটি অনেক দূরে রাখি

আর কিছু শোনার ইচ্ছ। হয় না করিমবক্সের সে খড়ের গাদাঁর ওপর বসে পড়ে

_তুমি দরজা বন্ধ করে দাও করিমবক্স আমি তোমার জন্যে খাবার জোগাড় করতে চললাম

_খাবার আনে। আর ন। আনে।, একটু পানি দিও যদি পারো।

পৃর্মী সিং দরজ! ভেজিয়ে দিয়ে গ্রামের পথ ধরে। নন্দিনীকে বলে-তোর বড় পরিশ্রম গেল আজ চল্‌ আগে তোকে রেখে আসি কালকের জল আর দান। মজুত আছে খেয়েদেয়ে প্রস্তুত থাকবি যখন-তখন দরকার হতে পারে করিমবক্স খুব জবরদস্ত লোক কিন্তু। ওর দলের যার! পালিয়েছে, তার। যোধপুরে পৌছোলে, মুঘলরা চুপচাপ বসে থাঁকবে না

নন্দিনী ঘোৎ করে অদ্ভুত শব্দ করে। শুনে মনে হয় পুরীর এইসব আদিখ্যেতা তার ভাল লাগছে না

দূর থেকে নন্দিনীর কুটিরের দিকে চেয়ে পৃ্থীর ভ্রকুঞ্চিত হয়ে ওঠে চারিদিকে ভালরকম অন্ধকার হয়ে এসেছে সেই অন্ধকারে কুটিরের সামনে কে যেন আগুন জ্বালিয়েছে। ওখানে কে আসতে পারে? পরাজিত মুঘলদের কেউ কি? ছিটকে এসে ওখানে আশ্রয় নিয়েছে? তাহলে অমন প্রকাশ্টে আগুনই বা জ্বালাবে কেন? পুর্বী চিন্তিত হয়। সাবধানে এগোতে থাকে সে।

২৮

নন্বিনীকে একটু দূরে একটা গাছের সঙ্গে বেধে রেখে সে কুটিরের দিকে যায়। ঘরের দাওয়ার ওপর আগুন জ্বালিয়ে কেউ নিশ্চিন্তে চাপাটি তৈরী করছে। আধার হয়ে আসায় বুঝতে পার! যায় ন! সে মুঘল কিন।। আরও হুশিয়ার হয়ে সে এগিয়ে যায়।

সেই সন্ন্যাসী মাত্র কয়েকদিন আগে ঝবণার পারে দেখেছিল যাকে একেবারে কাছে গিয়ে দাড়ায় পূথী

সন্নাসী বলেন _ তোমার ভূলুয়। কোথায় ?

_-সে থাকে পাহাড়ে আপনি এখানে কেন ?

_ অস্তরবিধা আছে ?

- এই ঘরে আমার অশ্বটি থাকে

-ঢসে তো৷ দেখতেই পেলাম তাই বাইরে এসে বসেছি। ঘরের ভেতরে যা করে রেখেছে ঘোডাটি কোথায় রেখে এলে £

_নিয়ে আসছি

নন্দিনীকে নিয়ে ফিরে তাকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইবে এসে সন্নাসীকে বলে - আপনি শোবেন কোথায় ?

_ শুলে, এখানেই শুয়ে পড়ব

_ভানুক আসতে পান্দে। ভুলুয়। ছাড়া আরও ভালুক আছে। সবার গায়ে আপ!ন হাত বুলিয়ে দেন নি।

-আম্মক। আমার জন্যে তোমাকে ভাবতে হবে না। বসো

- আজকে বসতে পারব না আপন থাকবেন এখানে ?

-বলতে পারি না। বসো, একটু গল্প-সল্প করি। তোমার জন্যেও কয়েকট। চাঁপাটি বানিয়ে ফেলি।

-না। আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে আমি এক খেলে চলবে না। আর একজনের জন্তেও কিছু খাবার নিতে হবে

-কার জন্তে খাবার নিতে হবে?

- একজন বড় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সে আহতও বটে।

২৫১

সন্ন্যাসী হেসে বলেন - তাহলে এর মধোই তার সঙ্গে দেখ! হয়ে গেল তোমার ?

- কার সঙ্গে ?

-মনে নেই? তোমায় বলেছিলাম, সে হবে তোমার শক্র। নিশ্চয় কোন মুঘল ?

চমকে ওঠে পৃরথ্থী সিং। সন্নাসীকে মুঘল সেনার কথ। বল! কি ঠিক হবে; তাতে কথাট। পাঁচ কান হবে করিমবন্সের ক্ষতি হতে বাধ, তার এই অবস্থায় কোন ক্ষতি হোক, পূথী চায় ন।।

সে বলে-মুঘল কিন। জানিনা আরমযাই। .

তাড়াতাড়ি স্থান তাগ করে সে। সন্নাসীর কথ! বারবার মনের মধে। ঘুরপাক খেতে থাকে বলেছিলেন বটে সন্যাসী, এক জনে সঙ্গে দেখা হবে গুরুত্ব দেয়ান কোন অমন অনেক কথ। অনেকে বলে নিজেকে জাহির করার জন্য সন্নাসীর কথ। মিলে গিয়েছে কাকতালীয়: দেখ। যাক্‌, কতদূর গড়ায় যদি সতাই হয়, তাহলে আরও কয়েকবার কারমবক্সের সঙ্গে দেখ। হবে তার এবং কারমবক্স একবার তার প্রাণরক্ষা করবে

পৃ্থী সিং হেসে ফেলে গেরুয়া পরলেই মানুষ ভাবে এম্বরিক কোন ক্ষমতা পেয়ে বসে রয়েছে সন্নাঁপী যেমন ভুলুয়ার গায়ে হাত রেখে বলে উঠলেন, আর তাকে আক্রমণ করবে ন!। পরিশ্রম আর সংসারের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে, সন্নাসীর বেশ ধরে অনেকে পালিয়ে বেড়ায়। অথচ সংসারের মোহে লোকালয়ে আশেপাশে ঘুরঘুর করে। নইলে খাগ্চ জোটে না কিংবা নিজের সন্যাসীত্ব দেখানো যায় না পাঁচজনকে তা৷ না দেখাতে পারলে রুটি জুটবে কি করে ?

স্ুচীভেছ্য অন্ধকার আকাশে অজত্র তারা- তাদের মধ্যে বেশীর ভাগই মিট্‌মিট করছে এর! কী জীবন্ত? ওদের মধ্যে ওই উত্তর দরকেরটা। ধ্রুবতারা শৈশবে ম। তাকে চিনিয়ে দিয়েছিল

৬৩

মায়ের মুখেই সে শুনেছে ঞ্রুবর কাহিনী মনেপ্রাণ বিশ্বাস করে যশোবস্ত সিং-এর পুত্র অজিত সিং-এর মত ঞ্রুবও ছিলেন এক রাজার সম্তান। তখনকার দিনেও যুদ্ধ হত।

দ্রুতপায়ে ফিরছিল পূর্থী। হঠাৎ তার মনে একটা সন্দেহের উদ্রেক হয় সন্াসীকে বিশ্বাস করা যায় তো? নন্দিনীকে ওখানে ফেলে আসাটা কি ঠিক হলো! মন ভরে ওঠে অস্বস্তিতে অনেকটা দর চলে এসেছে, গ্রামের একেবারে কাছে। একদিকে নন্দিনী, অপর দিকে করিমবক্স। নন্দিনীর দানাপাঁনি আছে, করিমবক্সের কিছুই নেই। তার ওপর সে অন্তুস্থ। মন ছট্ফটু করলেও আগে তার কাছেই যেতে হবে সন্যাসীর মুখ দেখে তাকে খারাপ লোক বলে মনে হয় না। মুখ দেখে অনেক সময় ঠকে গেলেও, মানুষকে বিচার করতে গেলে তার মুখের দিকেই চাইতে হয়। সেই মুখ যদি অভিনয়ে পারদশী হয়, তাহলে অন্য কথা। কারণ এই অভিনয় বুঝতে আরও ছু-তিন দিন লাগে।

একট! কুটিরের বাতায়নে ছোট্ট প্রদীপ জ্বলছিল। পুর্থী সিং-এর মুখে হাসি ফোটে রুক্সিণী বসে রয়েছে ওখানে কোন মুঘল যদি দৈবাৎ দেখে ফেলে ওর রূপ তাহলে ওর প্রায়ান্ধ বৃদ্ধ বাবা ঠেকাতে পারবে ন।। ঈশ্বরের কৃপাঁয় এ-পথে মুঘলরা আসে ন! ছুর্গীদাসের ভয়ে। রুক্সিণীকে মান। করে লাভ নেই। পূর্থীকে ফিরতে না৷ দেখলে সারারাতই ওইভাবে বসে থাকবে বাঁড়ি ফেরার এটাই পুর্থীর মসোজ। পথ

রুক্সিণীর প্রদীপ দপ্‌. করে নিভে যাঁয়। নিজেকে লুকোতে চায় সে। বুঝতে পেরেছে পূর্থী আসছে।

পৃর্থী বাতায়নের কাছে দাড়িয়ে বলে-যার যুদ্ধ করে, তারা রোজই বাড়ি ফেরে !

রুক্সিণী বলে-না। কোনদিনই হয়ত ফেরেন কেউ তবু বসে থাকে কত মেয়ে।

৩১

_ জানো এতে ভীষণ ক্ষতি হয় ?

_-কী ক্ষতি?

_ধর, যুদ্ধ করতে করতে কারও মনে হতে পারে একজন রাত জেগে অপেক্ষ।! করছে। তাতে কর্তবো শিথিলতা আসতে পারে। কিংবা! অসতর্ক হবার ফলে প্রাণ যেতে পারে

-না। তা কেন? সে তার কাজ করবে কখনো তার ভাবা উচিত নয়, একজন রুক্সিণী বসে রয়েছে তার জন্তে। তাহলে সে কাপুরুষ _ সে কখনো দেশপ্রেমিক নয়।

_ বুঝেছি কিন্তু বিয়ের আগেই যদি এতো, পরে কি হাবে *

-আগে-পরের তফীৎ কোথায় ? সবই সমান অবশ্য আমার কাছে। তোমাদের কথ! কি করে জানব ?

-সতা?

-সতাই তো। পেতামরা পুকষ। তোমাদের মনে কী ধরণের চিন্তা হয়, মেয়ে হয়ে কি বলতে পারি ?

_ তবু, একটু অনুমান করে বল।

রুঝ্সিণী হেসে বলে - এখন কি অত সময় আছে ?

পূর্থী সচেতন হয়ে বলে-না। সত্যি নেই। আমি চলি রুক্সিণী। এখুনি এক জায়গায় যেতে হবে।

-এই রাতে? নন্দিনী কোথায়?

-তাকে রেখে এসেছি খুব কাছেই যাব। একট পরেই ফিরব ' তুমি শুয়ে পড়।

_ তোমার খাওয়। হয়নি ?

_-না। বাড়ি গিয়ে খেয়ে নেব।

- কোথায় যাবে £

_ কাছেই পরে বলব।

পূর্থী বাড়ি গিয়ে খেয়ে নিয়ে কিছু খাবার একটি বড় জলের পাত্র নিয়ে তাড়াতাড়ি বার হয়ে পড়ে। রুক্সিণীর ঘরের প্রদীপ ন।

৩২

জ্বললেও সে নিশ্চয় দাঁড়িয়ে ছিল। জানে, পরে সবকিছুই জানতে পারবে

দ্রুত করিমবক্সের কুঠিরের সামনে গিয়ে দেখে দরজ হাট করে খোলা তবে কি রাতের আধারে পালিয়ে গেল? ওই পানিয়ে কীভাবে যাবে ? তাছাড়া রাঁঠোররা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে যোধপুরের রাস্তা সারারাত ধরে পাহারা দেয়। ধরা পড়ে যাবে। আর ধর! পড়লে অন্থুস্থ বলে ছেড়ে দেবেনা কেউ।

ধীরে ধীরে ঘরে ঢোকে পুরী ঘরের ভেতরট। আরও বেশী অন্ধকার

একট! প্রদীপ রয়েছে ঘরে মাঝে মাঝে রাত কাটাতে হয় বলে পুর্থী সেটি রেখে দিয়েছে কিন্তু সেটি জ্বালাবার আগে সে এক পা! এক পা! করে খড়ের শয্যার দিকে যায় ইতিমধ্যে করিমবক্স পালিয়ে গেলে প্রদীপ জ্বেলে লাভ নেই তার কাছে কোন অস্ত্র নেই। তবু পুর্থী প্রস্তুত হয়েই ঘরে ঢুকেছে খাবার জলের পাত্র বাইরে রেখেছে।

শযাঁর কাছে যেতেই একটা কাতরোক্তি কানে যায়। পালায়নি করিমবক্স। সে সতাই অন্নস্থ তাড়াতাড়ি প্রদীপটি নিয়ে জালায় সে। দেখে ছটফট করছে করিম চোখে আলো পড়তে সে চোখ খোলে -আরক্ত চোখ

_-পানি। একটু পানি দেবে?

-হা দেব। খাবারও এনেছি কিছু খেয়ে নাও।

_ নাঃ, ইচ্ছে নেই

_ তবু খাও একটু

- রেখে দাও পরেখাব।

পূথী জল এনে দিলে করিমবক্স অনেকট! পান করে তৃপ্তিতে চোখ বন্ধা করে।

-তোমার পায়ের যন্ত্রণা কি খুব বেড়েছে?

-পায়ের যন্ত্রণা বুঝতে পারছি ন। ততট1। সারা গায়ে যন্ত্রণা অনেকদিন আগে একবার হয়েছিল ছুতিনদিন ছিল এর তুলনায়

৩৩

পায়ের যন্ত্রণ। কিছুই নয়

-আঁমি থাকব এখানে ?

-তুমি+ থাকবে ?

-হাটা। তোমার ঘদি দরকার হয় ?

-ন। না। কোন দরকার নেই যথেষ্ট করেছ তৃমি

কোন অশ্বারোহী সেই সময় কুটিরের দিকে আসছে মনে হল পর্থী ফু দিয়ে প্রদীপ নিভিয়ে দেয়

একটু পরেই বাইরে থেকে একজন চেঁচিয়ে ওঠে আলো নিভিয়ে ফেললি কেন পূর্ী ! তোর কাছে এলাম গল্প করতে

করিমবক্সের কানে কানে পৃর্থী বলে - একটুও শব্দ করে! না।

সে দরজার সামনে এগিয়ে গিয়ে বলে- আজ সারাদিন খাটুনি গিয়েচে। আজকে আর গল্প করব না অঅর। আজ বাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ব

_ যাও, এখুনি ঘুমৌবি কি? চল্‌, ভেতরে চল্‌

- না, আজ বাড়িতে যাব এক্ষুনি চল্‌।

_ বুঝেছি

_কিবুঝলি ?

-_ নিশ্চয় রু'ঝ্সণী জেগে বসে আছে

রুল্সিণীকে নিয়ে কোন রসিকতা! পৃর্থী খুব অপছন্দ করে। কিন্তু এখন কাষ্ঠহাসি হেসে বলে -যা বলেছিস ওর পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়! সতাই হয়ত দেখা যাবে তাকে

_চল্‌ তবে।

_ তুই কোথায় গিয়েছিলি ?

-জানিস না? মুঘলদের পেছনে তাড়া করে যোধপুরের আধ্যেক পথ পার করে দিয়ে এলাম সামান্য কয়েকজন ছিল কী ছোটাই ছুটল ওরা

-তুই গীয়ে ছিলি না? তোর তো গাঁয়ে থাকার কথা

_হ্যা। আমি পাহাড়ে যাইনি রাস্তার ধারে দাড়িয়ে ছিলাম সেই সময় দেখলাম ওদের ভাড়া করে নিয়ে আসছে আমাদের লোক আমিও ছুটে গেলাম

- অন্যায় করেছিস ভাবে যান্‌ ন।। .

-জানি। আমি ইচ্ছে করে গিয়েছি নাক? হঠাৎ হয়ে গেল। কিন্ত ওদের আসল লোকটাকে খুঁজে পাওয়া গেল না ঘোড; থেকে ছিটকে পড়ে একেবারে নাকি হাওয়ায় মিলিয়ে গয়েছে | তুই কোনদিকে ছিলি ?

_ একেবাঁবে পেছনে

(তোর দেখা উচিত ছি

-দখতে পাইনি

_আমার মনে হয় লোকটা পাহাড়ের গায়ে কোথাপ্ত আটকে জাছ5। ভাল করে খুজে দেখ। দরকার

শপে না গেলে যাবে কোথায় 7; ধর। পড়ে যাবে

পুর্থী মনে মনে ভাবে, সে কি বিশ্বাসঘাতকত। করছে মুঘলর। তাদের চরম শক্ত তারা মাড়োয়ারকে করে রেখেছে পদানত তার! দিনের পর দিন অমানুষিক অত্র চালিয়ে যাচ্ছে কত নিরীহ লোক প্রাণ দিচ্ছে কত নারী নিরধাতন সইছে তবু তাদের এক দলপতিকে সে হতা। ন| করে লুকিয়ে রেখেছে গ্রামের লোক, দেশের লোক জেনে ফেললে কেন ভাববে না যে সে বিশ্বাসহস্ত। ! কেন তাকে দ্বণ। করবে ন। £ [কন্ত ছুর্গীদাস + তিনিও কি ওপর-ওপর বিচার করবেন ? মুঘলর! যত বড় শক্রুই হোক ন।, মানুষ হিসাবে মানুষের ওপর তো একট। কর্তব্য রয়েছে আহত কিংব। নিরস্ত্র কাউকে সে শত চেষ্টাতেও হতা করতে পারবে না। এট! হয়ত তার দুর্বলতা তবু একজন মানুষকে আহত দেখে সে পাহাড়ের গায়ে ছেড়ে দিয়ে আসতে পারবে না।

ছর্গীদাসের সাক্ষাৎ পেলে সে তাকে জিজ্ঞাসা করত নিশ্চয়

৩৫

বলেও দিত করিমবক্সের কথা কিন্তু অন্যদের ওপর নির্ভর কর। যায় না। ক্ষেপে আছে সবাই ক্ষিপ্ত মানুষের বিচার বুদ্ধির স্থিরতা থাকে ন|।

চলতে চলতে অমর সিং প্রশ্ন করে - কী অত ভাবছিস্‌ রে পূ্থী সেই থেকে % মুখখাঁন। এত গম্ভীর হয়ে আছে কেন ?

-ভাঁবছি সেই মুঘল দলনায়কের কথাঁ। ধর্‌সে আহত হয়ে পড়ে রয়েছে, কিংবা ধর সে আহত অবস্থায় এই গীয়ের দিকেই এগিয়ে আসছে তুই দেখতে পেলে কি করবি ?

অমর সিং হো। হো করে হেসে ওঠে বলে - এটা আবার সমস্য! * নাকি + মুডট। (ছট্‌কে ফেলে দেব দ্রেহ থেকে

_-সেষদিনিরস্ত্রথাকে? যদি সেতস্ুস্থ হয়?

-শক্রর আবার বাছবিচার আছে নাকি? তুই সাধু হয়ে গেলি নাকি? তোকে নিরক্ত্র দেখলে কি করবে ?

-জানি না' হয়ত মেরে ফেলবে আবার নাও মারতে পারে মানুষকে কি সহজে চেন। যায় ?

_যা বাবা! তুই তলোয়ার ছেড়ে চারণ কৰি হয়ে যা

-আচ্ছ। ধর, লোকট। কোথাও দীড়িয়ে আছে। তুই পেছন দিক দিয়ে ছোর। বসিয়ে দিতে পারবি তার পিঠে ?

-এমন একটা উচু দরের মুঘল সেনা হলে নিশ্চয় পারব জানিস, লোকটা নাকি অসাধারণ যোদ্ধা