উভ্ব্লিপি

লীহালবরগও্গন ওগু

ঞাক্গ্িস্ছফক্ষ হ্স্যকাণাভ্ন ওশলক্তাশাজট ১৭, শ্াক্সাবাশাাল রীতি, শটে বাট বই

এর প্রকাশ 2 তিসেহ্বর 5 ১৯৫৮৮

প্রকাশক £ সমকাজ প্রকাশনী ৮/২৪, গোয্সাম্পট্রত্পি জেন কন্সিকা ত1-৭০ * » ১৩

এপ্রচজ্ছদ 2

জয্মম্ত চৌধুরী

সুক্র্ষ 2

দালাল পাল

ক্কি. এশু পি- শ্প্রিশ্টার ৬৩৭ সং বিভডন স্টীট,

কন্পিকা তা-৭ * * ০৩৬

এক।

ঘুমটা ভেঙে গেল সুন্দর |

কলিং বেনটা! একটানা বেজে চলেছে যতই বেল বান্ুক, বাকী সারাটা রাভ ধরে বেল বাজুক-__হুনন্দ জানে বাহাদুরের ঘুম ভাঙবে না। বাহাদুর নয়, ষেন রায়বাহাছুর।

ধরনের ছোটখাট এবং তুচ্ছ ব্যাপারে কোনদিনই রাত্রের নিদ্রার ব্যাঘাত হয় না শ্রীমান বাহাদুরের |

সে কারণে কম গালাগালি করে নি স্থুনন্দ বাহাদুবকে | কিন্ত শ্রীমান বাহাদুরের হচ্ছে সেই পলিসি, যত খুশি বলে যাও-_কানে আমি শুনলে তো।

কানমলা খেলেও হাসবে, তাডিয়ে দিলেও হাসবে, যেন স্বতঃসিদ্ধ ভাবেই জেনে বসে আছে। সুন্দর গৃহে তার স্থিতিটা চিবন্বত্ে কায়েমী হয়ে গিয়েছে।

মৌরসী মোকররী শ্বত্ব। সেস্থায়ীত্ব থেকে তাকে নভাবে এমন সাধা নেই কারো। তাছাড। স্নন্দর গুহে কাবো বলতেও তো সে-ই একা একমেবাদ্বিতীয়ম--চাকর বাকর ইত্য।দিবা বাদে

বাশচিলার মানুষ ইন্সপেক্টর স্থুনন্দ রায়

একটি উধকলবানী পাচক, একটি বুড়ী ঝি সারদা ভৃত্য বাহাঁদুর। কিন্ত না, বেলটা থামার নাম নেই, থেকে থেকে বেজেই চলেছে

শীতের রাত্রে আরামদায়ক শয্যা ছেডে, লেপের ভিতব থেকে উঠতে কি সহজে মন চায়।

কিন্তু না উঠে উপায়ই বা কি, কে জানে কেউ কোন জক্করী সংবাদ নিয়ে এসেছে কি না।

শয্য থেকে উঠে ফ্লানেলের গরম ড্রেসিং গাউনটা খাটের পাঁশ থেকে টেনে গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে আপতেই হলো! সুনন্দ রায়কে

কলিং বেলটা তখনো থেকে থেকে বাজছে। গ্রিপড়ি দিয়ে নীচে নেমে এসে প্যাসেজের আলোটা জেলে দিল সুনন্দ এবং এগিয়ে গিয়ে সদর দরজাটা খুলে দিল।

উত্তর লিপি--১

কে? রক্ষকষ্ঠেই কতকটা ষেন আগন্তকের মুখের পরে তাকে না দেখেই প্রশ্নটা ছ'ড়ে দেয়।

কিন্ত পরমূহূর্তেই তাকে যেন থমকে দাড়াতে হলো

থে রুক্ষ বিরক্তির ন্রটা তার কে মুহূর্ত পূর্বে প্রকাশ পেয়েছিল সেটা যেন একটা ঢোক গিলেই সামলে নেয় স্রনন্দ

দরজার সামনে পাড়িয়ে অবগু্নবতী এক মহিলা

রাস্তার মোড়ের গ্যাস-পোষ্টের আলোর খানিকটা আগন্তক অবগুঠনবতী মহিলার গায়ের এক দিকে অবগুঠনের ওপর এসে পড়েছে।

কে?

অবগুঠন উন্মোচিত হলে! না, কিন্ত মু নারীক্ শোনা গেল, তুমিই কি ইন্স্পেক্টর স্নন্দ রায়?

ঠ্যা, কিন্ত আপনি কে? কিঁচান ?

প্রথমেই একজন অপরিচিতার মুখে তুমি সম্বোধনে একটু বিশ্ময় লেগেছিল ষেন ওর।

তোমার সঙ্গে আমার একটু দরকার ছিল। আগন্তক মহিলা আবার বললেন

কি দরকার?

বিশেষ দায়ে পড়েই এই অসময়ে, এত রাত্রে তোমাকে বিরক্ত করতে হলো। কিন্তু উপায় ছিল না বলেই-_ _.. শীতের মধ্য রাত্রির কনকনে হাওয়ায় চোখমুখে যেন ছু'চ ফোটাচ্ছিল। বাইরের দাড়িয়ে থাকা একপ্রকার অপলভ্ভব।

সুনন্দ তাই বলে, ভিতরে আন্বন-__

ছিতভীয় আর কোন বাক্যব্যয় না করে স্ুনন্দর আহ্বানে আগন্তক মহিলা দ্রজাপথে ভিতরে প্রবেশ করলেন।

বৈঠকখানার মধ্যে প্রবেশ করে আলোটা জেলে দিয়ে আগন্তক মহিলাকে সুননা বললে, আহ্থন---

ঘরটি ছোট হলেও রুচিলম্মত আসবাব-পত্রে পরিচ্ছন্রভাবে সাজানো মেঝেতে ' পুক কার্পেট বিস্তৃত। চারিদিককার জানলার পাল্লা বন্ধ থাকায় ঘরটার মধ্যে বেশ একট৷ উঞ্ণ ভাবই ছিল।

আগন্তক মহিলার, দিকে এতক্ষণে ভাল করে তাকাল স্থনন্ন।

মুখটা নীচু করেই ছিলেন মহিলা বেশ লম্বা! ও,দোহার! চেহারা পরিধানে

সরু কাল্াপাড় ধুি। পায়ে চ্জল আছে আবিশ্বি, কিন্তু দামী ঘাসের শৌধীন চ্জল। এঁ চগ্জল পায়ে কেউ কখনো ঘরের বাইরে ধায় না। বাড়ির মধ্যে তো [বটেই- _সাধারণতঃ বেডরুমে চগ্পল ব্যবহৃত হয়। চ্সলের সঙ্গে আরে! দেখ! চবাচ্ছিল বন্দর গৌরবর্ণ ছুধানি পায়ের সামান্ত একটুধানি।

গৌরব্ণ ভারী সুন্দর ছুটি বাহ মণিবন্ধে একটি করে সর সোনার রুলি।

আর কোন অলঙ্কারই নেই। পরিধেয় বস্ত্রের ওপর দামী সাদ একটি সূরু »পাড় কাশ্মিরী শাল। সমস্ত চেহারায়, বেশ-ভুষায়, এমন কি বসবার ভঙ্গিিতে পর্যন্ত ষেন.একটা আভিজাত্য সুস্পষ্টভাবে ফুটে বেরুচ্ছিল |

আগন্তক মহিলার মুখের দিকে তাকালেই কেমন যেন আপন! হতেই অন্থায় ₹মাথাটা নুয়ে আসে।

চেয়ে চেয়ে দেখে সুনন্দ এবং বেশ কিছুক্ষণ পরে সে প্র করে

আপনি কে? আপনাকে তো আমি চিনতে পারছি না

যেমন প্রথম থেকে মুখ নীচু করে ছিলেন মুখ নীচু করেই বললেন আগন্ধক মহিলা, পরিচয় দিলেও তো! তুমি আমাকে চিনতে পারবে ন|।

এতক্ষণে আগন্তক মহিল! হাত তুলে তার গন খানিকট। উন্মোচন করলেন এবং পূর্র্ৎ মুখখানা নীচু করেই বললেন, তুমি আমার ছেলের বয়সী, তাই তুমি বলেই কথ বলছি, কিছু মনে করছ না তে?

না, না-_

কিন্ত পলকহীন দৃষ্টি তখন এঁ উন্মোচিত-গু&ন মুখখানির দিকে তাকিয়ে থাকে ইন্সপেক্টর সথনন্দ রায় বয়স হয়েছে মহিলার নিঃসন্দেহে, বয়সের ছাপও কপালে, চোথে-নুগ্ে এবং সি'খির দুধারের চুলে আকা! সি'ছুরহীন সি"খি কপালের “মধ্যস্থল।

কিন্তু বয়স হলে কি হবে, অমন ন্নেহ-চলঢল টানাঁটান। দুটি চক্ষু সুন্দর ছোট্র কপাল, ইতিপূর্বে বড় একটা যেন চোখে পড়ে নি ন্থনন্দর জীবনে

গলায় একগাছি সরু সোনার হার চিক্চিক করছে।

কে আপনি?

বললাম তো, পরিচন্ দিলেও তুমি চিনবে না। তবে যে কথ বললে চিপে পারবে, সেটুক্ব পরিচয়, অবস্ই দেবো আর দবেবে। বলেই খন এসেছি---

কোমল হলেও ব্যক্তিতবপূর্ণ কঠন্বর মহিলার

একটু থেমে বললেন মহিলা, গৃভ ২৪শে অক্টোবর যাকে তুমি ব্যারাবপুরের "গঙ্গার ধারে মণিপ্নিবাসে ধরেছ-.

১১

কে! কার কথা বলছেন? যেত চমকে ওঠে সুনন্দ রায়, মঙ্গল মঙ্গলের, ক্ষবা বলছেন?

হ্যাঁ

কিন্ত আর সঙ্গে আপনার কি? আপনাকে দেখে তো! মনে হচ্ছে বাঙ্গালী আপনি- কিন্ত মল, সে তো ইউ. পি.র লোক

না। সে ইউ, পি.র লোক নয়।

কি বলছেন আপনি ! ত্ত্স্ত করে তার ষে পরিচয় পাওয়া গিয়েছে-_-পুলিস- রেকডে “তার যে পরিচয় আছে-_

যাই থাক না কেন, সত্যি নয়। তার সে পরিচয় সত্যি নয়।

সত্যি নয়!

না। ওর আসল নাম মঙ্গলও নয় আর, সব কথা তুমি একদিন জানতে পারবে বলেই বলছি-_

জানি, মঙ্গলও নয়-_ আসল নাম ওর যমুনাপ্রসাদ। আবার বলে নন্দ |

না। সেটাও আসল নাম নয় ওব। বাঙ্গালী। আসল নাম ওর হীরক চৌধুরী বহুমানী এক জমিদার বংশের সম্তান।

ও। তা আমি--। অতঃপর কি যে বলবে স্থনন্দ বুঝে পায় না।

সংবাদটা স্থনন্দর কাছে শুধু অচিন্তনীয়ই নয় আকম্মিকও বটে

দুরধ্য ক্রিমিগ্যাল মঙ্গল সিংসে ইউ. পির লোক নয়! তার নাম বমুনাপ্রসাদও নয়! আসলে সে লোকট! একজন বাঙ্গালী। এতকাল তাহলে পুলিস ক্রিমিন্তাল মঙ্গল সিংয়ের যে পরিচয় জেনে এসেছে তা মিথ্যা

লোকটা বাঙ্গালীই শুধু বাঙ্গালীই নয়-_এক অভিজাত জমিদার বংশে সম্তান। জমিদার বংশের সন্তান আজ ক্রিমিন্যাল। কেমন যেন সব গোলম|ল হয়ে যায় সুন্দর | ফ্যালফ্যাল করে চেয়েছিল স্ুনন্ন আগন্তক মহ্ছিলার মুখের দিকে

আরো! একটা কথা-_ | মহিলা পূর্ববৎ মুখ নীচু করেই কথা বলে চলেছেন £

বর্তমানে ওর যে চেহারা, সেও ওর আদি অরুত্রিম চেহারা নয়

তবে?

তোমরা জান কিনা জানি না, আজ থেকে চার বছর আগে একটা ম্মাগলিংয়ের ব্যাপারে গোলমালে আ্যাসিভ বাল্ব, ফেটে গিয়ে ওর এক সহকারীর মৃত্যু হয় আব, ওর ভান দিককার মুখটা ভান হাতটা পুড়ে ঘায়।

তারপর ?

অবাক বিস্ময়ে ষেন শুনতে থাকে সুনন্দ রায় ভদ্রমহিলার কথাগুল।।

১৭

তদ্বমহিল! আবার বলতে শুরু করেন, সকলেই জানল সেই দুর্ঘটনায় হমূনাপ্রলাদ মারা গিয়েছে-_

জানি, মারা যেষায় নি তা আমরা আটমাস বার্দে জানতে পেরেছিলাম। স্থনন্দ বলে

হ্যা, ভদ্রমহিল! বলেন, সে যাই হোক, চারমাস পরে ঘধন সে আবার স্বস্থ হয়ে উঠলো, মুখের চেহারাটা ওর সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে তখন। বমুনাপ্রপাদকে তখন আর চেমবার উপায় নেই। তারপরই চলে যায় লক্ষৌতে-_-এবারে ওর নাম হলো মঙ্গল

কিন্ত আপনি এসব কথা জানলেন কি করে? আপনি কি ওকে আগে খাকতেই চিনতেন ?

তার সৰ কথাই ঘে আমি জানি

জানেন”

ঠ্যা।

কিন্ত কেমন করে?

কেমন করে জানলাম ওর সব কথা, তাই না?

হ্যা।

ভদ্রমহিলা মাথাটা নীচু করলেন।

স্বনন্দ ম্পষ্টঈ বুঝতে পারে কি একটা ভিতরে ভিতরে যেন চাপবার চেষ্টা করছেন উনি।

সূনন্দ চেয়ে থাকে ভর্রমহিলার মুখের দিকে নিংশবে

বেশ কিছুক্ষণ পরে যখন ভদ্রমহিল! মুখখানা তুললেন, স্থনন্দ স্পষ্ট দেখতে পেল ছটি চোখ তার উদ্গত অশ্রুতে ষেন টলমল করছে

যান বিধা কণ্ঠে এবার ভর্গমহিলা! বললেন, আ-_-আমি তার মা।

কি? কি বললেন? চমকে ওঠে যেন ভূত দেখার মতই ইন্স্পেক্টর হুনন্দ রায়। বলে, না, না,--এ--এ আপনি কি বলছেন ?

দুর্ভাগ্য আমার, কথাটা মিথা। নয়, নিষুর সত্য, সতাই আমি তার মা। তাকে গর্ভে ধরেছিলাম একফিন-_

কথাটা বলতে বলতে হুতভাগিনী জননীর ছু চোখের কোণ বেয়ে দু ফোটা অশ্রু “গড়িয়ে পড়ল।

তদ্রমছিলা আবার বলতে লাগলেন, যেদিন এক মধ্যরাত্রে পৌঁড়! মুখ নিয়ে বাড়িতে এসে ঢুকল, সেইদিনই প্রথম নিঃসংশয়ে জানতে পেরেছিজ্মষ কোন সর্বন/শ।

' চিজ

ছুষ্কতির পাকের মধ্যে সত্যিই সে ডুবে গিয়েছে এবং সেইদিনই বুঝতে: পেরে- ছিলাম, বুঝি অবস্ঠস্ভাবী তার পিতৃরক্তের খণ সন্তানকে শোধ করতেই হয়। নচেৎ কোন কিছুর অভাবই তো! ছিল না তার। স্ুস্ব ভদ্র জীবন-যাপন করবার মত তো! সব কিছুই ছিল তার, তবু সর্বনাশা পথেই বা কেন সে ডুবে গেল।

বলতে বলতে ভদ্রমহিল৷ আবার থামলেন

সুনন্দ বুঝতে পারে, কষ্ট হচ্ছে কথাগুলে৷ বলতে ভদ্রমহিলার।

ভর্ঘমহিলা ধেন একটু থেমে আবার বলতে লাগলেন, এই ভাবে মাঝারাে . তোমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে এনে তোমাকে বিরক্তই করছি। কিন্ত--

না, না--আপনি কি বলছিলেন বলুন__

স্থনন্দ বলে কথাটা, কারণ ইতিমধ্যে ঘুম ভাঙিয়ে তোলার যে বিরক্ত ভাবট' তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, সেটা আর তখন ছিল না বরং একটা কৌতুহল যেন তার মনের মধ্যে উকি-ঝু"কি দিচ্ছিল

সমাজের বুকে ধনী অর্থবান মানুষদের বুকের মধো গত কয় বছর ধরে যে মা্গষটা একট! ভয়াবহ ত্রাসের সঞ্চার করেছিল, এবং যে আইনের সর্বপ্রকার কড়া- কড়ি সত্বেও আইন পুলিসের কর্তাদেব বুডে। আঙুল দেখিয়ে সমস্ত ধরা-ছোয়াব ৰাইরে, সকলের চোখের সামনেই বলতে গেলে এতকাল নিতরে বিচরণ করছিল-_ সেই মঙ্গল, দৃ্থ্য মঙ্গল, ওরফে যমুনাপ্রসাধ, ওরফে হীরক চৌধুরা, কুৎসিত ভয়ঙ্কর লৌকটার মা কিনা অপূর্ব সুন্দরী মহিল]

এও কি সম্ভব, এই মহিলারই সন্তান জঘন্য চরিত্রের মানুষটা ধাকে আজ কিছুদিন হলে! জেলের মধ্যে বিচারাধীন সর্বদা সতর্ক প্রহরী-বেষ্টিত করে রাখ! হয়েছে! যে লোকটার বিরুদ্ধে চার্জের অন্ত নেই !

জাল, রাহাজানী, লু স্মাগলিং__হেন কুকাজ নেই যা সেই লোকটা করে নি গত কয়বছর ধরে।

যাঁকে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করে সরকার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে এতদিনে

সেই জথঘন্ নরপশ্ুটার ম৷ তার সামনে সোফার পরে উপবিষ্ট !

কেমন যেন একটু অগ্তমনস্ক হয়েই গিয়েছিল ইন্স্পেক্টর স্ুনন্দ রাঁয়।

তারপরই এক সময় হঠাৎ ঘেন সেই আশ্টর্য স্বপ্লুটার কথাই ভদ্রমহিলার মুখেব পানে চেয়ে থাকতে থাকতে মনে পড়ে সথনন্দর

বিডি এক স্বপ্ন | ' যেস্ববপ্র সেই শৈশব থেকে আজো! পর্যন্ত মধ্যে যধো তাকে ঘুমের ধোরে হানা দেকস।

বিচিত্র ছুর্বার ভয়াবহ এক জলনোত। কালো কালির মত অন্ধকারে বিশ্বরাচন লুপ্ত আর সেই অন্ধকারে পারাবারহীন অতল জল।

জল, জল আর জল

তার মধ্যে একখানি মুখ যে মুখখানি কেবলই মনে করিয়ে দিয়েছে তার অজ্ঞাত-_-অপরিচিত মৃতা জননীর কথা। মায়ের কথা

মা! তার কল্পনার জননী, হ্বপ্নের জননী তার যা!

যাকে সে বার বার ম্বপ্রের ঘোরেই শ্বধিয়েছে, তুমিই কি আমার মা? কিন্তু কোন জবাব মেলে নি।

বপ্লের সে মৃত্তি যেন কুয়াশার মত স্ব প্রর রাজ্যেই এক সময় মিলিয়ে গিয়েছে।

ঘুম ভেঙে গিয়েছে এবং মনে মনে ভেবেছে প্রতিবারই জাগ্রতাবস্থায়, এমন অদ্ভূত স্বপ্ন সে দেখে কেন? স্বপ্নের কি অর্থ?

কিন্ত কোন জবাব খু'জে পায় নি।

প্রচণ্ড জলন্বোত। ভয়াবহ গর্দন। তারই মধ্যে থেকে এক নারী যেন তার সামনে এসে দীড়িয়েছেন স্বপ্রর মধো ক্ষণেকের জন্য, তারপরই আবার মিলিয়ে গিয়েছেন, হারিয়ে গিয়েছেন।

সত্যিই কোন অর্থই তার খুঁজে পায় নি স্নন্দ।

বাবাকেও সে শুধিয়েছে, স্বপ্লটা কেন সে প্রারই দেখে

বাব! বলেছেন, স্বপ্ন স্বপ্রই-_

মন যেন মেনে নিতে চায় নি বাবার কগাটা। তাই আবার শুধিয়েছে, বাবা, আমার মা কেমন দেখতে ছিলেন ?

কালীপ্রসন্ন যেন কেমন একটু বিব্রত বোধ করে ছন ছে'লর প্রশ্নে বলেছেন, ফটা কখনো তোলা হয় নি ধ্ণশািতে।মার মার তিনি ফটে। তোলা পছন্দ করতেন না।

মনটা কিন্ত স্থনন্দর তবু শান্ত হয় নি।

প্রত্যেকের বাঁড়িতই তাদের মায়ের ফটো আছে, কেবল তাদের বাড়িতেই তার মায়ের কোন ফটো নেই। কিন্তু কেন?

১৫

দুই

সামনের আগন্তক মহিলার মুখখানা দেখার পর যেন হবনন্দর মনের মধ্যে বনতবারের স্বপ্নে দেখা সেই মুখখান! মনের পাতায় উ*কিঝু”কি দিতে থাকে

হঠাৎ আবার স্থনন্দর মহিলার দিকে যেন নজর পড়লো, মহিলাটি চুপচাপ বসে আছেন পূর্ববৎ মাথা নীচু করে।

থামলেন কেন, বলুন কি বলছিলেন ?

স্থনন্দর মনে হলে! ভদ্রমহিল| যেন কি ভাবছিলেন, হঠাৎ যেন স্বনন্দর প্রশ্নে একটু চমকে উঠলেন। কিন্তু এবারও মুখ তুললেন না।

মুধখানি নীচু করেই পূর্ব মৃদু শাস্তকঠ্ঠে বললেন, আমার ছেলে হলেও জানি তো৷ তার অপরাধের সীম! নেই। আর এও জানি সমাজে আইনভঙ্গকারী দুক্কাতি- কারীকে শাস্তি পেতেই হবে। তবু তো৷ কই শেষ পর্যন্ত তোমার কাছে ছুটে না এসে পারলাম না। সৎ আবার একটু চুপ করে থেকে মহিলা বললেন, আচ্ছা, ওর কি মুক্তির কোন আশাই নেই?

আপনার প্রশ্রের জবাব তো! আমি দিতে পারব না আইন দেবে, বিচারক দেবেন।

জানি বৈকি ওষা অপরাধ করেছে তার জন্য নিশ্চয়ই ওকে গরু দণ্ড নিভে হবে।

কথাটা বলে মহিলা হুনন্দর মুখের দিকে তাকালেন

তাই তো মনে হয়।

ফাসীও হতে পারে ?

সে কথা একমাত্র বিচারকই বলতে পারেন তবে-_

জানি। ফাসীই হয়তো! তার হবে।

যর্দিচ স্বনন্দ তার স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধিতে জানে মঙ্গলের ফাসী না হলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তো! হবেই, তবু কেন যেন কথাটা শপষ্টাপট্টি শুকে মুখের ওপরে বলতে পারে না।

বলতে গিয়েও যেন ভিতর থেকে কে তার কঠ' টিপে ধরে বলে শুধু, কেউ কি সে কধ! বলতে পারে এখনই ! হয়তো! বিচারে মুকিও হতে পারে।

১৬

মুক্তি! নাঁ_আমি কি বুঝতে পারছি ন! তুমি আমাকে মিথ্যা স্তে!ক দিচ্ছ ! সে আমার একমাত্র সন্তান হলেও, আমি তার মা হলেও আমি কি জানি না কি দবণ্য অপরাধে সে অপরাধী ? মা হয়েও মনে মনে কতবার কি আমিই প্রার্থনা বরিনি সে ধরা পড়ুক, তার সমস্ত অপরাধের দণ্ড নিয়ে সে তার সমস্ত পাপের, সমস্ত অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত ককক। কিন্ত তার নিরপরাধিনী স্ত্রী, আমার সতীলক্ষ্বী বৌমা-_সে তো কোন অপরাধ করে নি। তার নিষ্পাপ শিশুপুত্রটি--সে তো কোন অপরাধ করে নি, তবে তার্দের কেন তাদের স্বামীর, বাপের পাপের, অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে? তোমার্দের আইন কি একটিবারও সে কথাটা ভাববে না ?

একটু থেমে আবার বলতে লাগলেন মহিলা, আজও সে ছেলেমানুষ, জানে না তার বাপের সত্য পরিচয়টা কিন্তু বড় হয়ে যখন একদিন সব শুনবে সেদিন সে কোথায় দরীডাবে। আর, সেদিন সমাজের বিষুষ্টিতে ষর্দি অভিমান করে তার বাপেরই পথ অনুসরণ করে-_না, না-_-বলতে বলতে হঠাৎ ষেন শিউরে উঠলেন মহিল]।

স্বনন্দ ভদ্রমহিলার কথার কি জবাব দেবে ভেবে পায়ু না। আর জবাব দেবেই বা কি, জবাব দেবার মতে! আছেই বা কি!

সুনন্দা স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে।

ভদ্রমহিলাও কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন, তারপর আবার বলতে লাগলেন, অথচ কি চেষ্টাটাই না আমি করেছি ধাতে এই পথে না আসে। চৌধুরী বংশের সম্ভানকে পাপের অনিবার্য পরিক্রমণ থেকে বীচাঁতে কি চেষ্টাটাই না আমি করেছি। কিন্ত কি হলো, কিছুই হলো না।

স্থনন্দ বিস্ময়ে চেয়ে থাকে ভদ্রমহিলার মুখের দ্রিকে। ভদ্রমহিলা তখনে! বলছেন, সব চেষ্টাই আমার ব্যর্থ হলেো। আমার ম্বামী নেশার ঘোরে যে পথে সারাজীবন ধরে ছুটেছিলেন_ হীরকও সেই পথেই গেল মৃত্যুর মুখোমুখি দাড়িয়ে বুঝতে পেরেছিলেন তার ভুল। মৃত্যু-ুহূর্তে অন্থতাপের গ্লানিতে যখন তিনি আমার হাত ছুটি ধরে বলেছিলেন, মহাশ্বেতা, মৃত্যুর মুখোমুখি দাড়িয়ে আজ বুঝতে পারছি--ভুল, তল করেছি। অন্ধকার এই পথে শুধু আছে অভিশাপ আর কলঙ্ক, বাথ আর মর্দাহ। হীরক__আমার হীরককে তুমি রক্ষা করো। চৌধুরীবংশের রক্তকে এই পাপ-পরিক্রমণ থেকে রক্ষা! করো। হীরক যেন কোনদিন না জানতে পারে, তার বাপের শ্তিমাত্রও ঘ্বণার এবং দুঃসহ লজ্জার বলতে বলতে আবার খামলেন মহাশ্বেতা দেবী তাঁর দুই চক্ষর কোণ বেয়ে ছু ফোটা অশ্রু গড়িয়ে "পড়লো ১৭

ন্ত্ুগ্ধর মতই যেন শুনতে থাকে মহাস্থেতার কাহিনী হুনন্দ রায়

মহাশ্বেতা আবার বলতে লাগলেন, কলকাতায় কলেজে পড়তে। হীরক তখন, কলেজের সেরা ছেলে, লেখায়-পড়ায়, খেলায়-ধূলায় তার হুড়ি নেই- একটা পি'পড়েকে পর্যন্ত সে হত্যা! করতে পারত না। সেই ছেলে আমার--স্বামীর মৃত্যুর পর তিনটি বছরও গেল না-_ভয়াবহ, ত্ব্য একটা শয়তানে রূপান্তরিত হলো কিন্ত আজও বাবলু জানে না তার বাপের সত্য পরিচয়

এতক্ষণে কথা! বলে সুনন্দ, বাপের সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ হয় না?

না। আজও দেখা হয়নি।

বাড়িতে থাকে না সে?

থাকে, কিন্তু হীরককে তো বাঁড়িতে আর সে রাত্রের পর ঢুকতে দিই নি। সে-- আর আসে নি।

কত বয়স তার?

পাচ বছর বয়স। কিন্তু একদিন সে তো বড় হবে, একদিন তো! সব কিছুই জানাব এবং ঘে পাপের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই, সেই পাপের অভিশাপই তাকে সমস্তটা জীবন ধরে তাড়া করে বেড়াবে তাই, তাই আমি তোমার কাছে এসে- ছিলাম কোন পথই কি নেই নিপ্পাপ শিশুকে তার বাপের অভিশাপ থেকে রক্ষা করবার, কোন উপায়ই কি তুমি করতে পার না?

আমি! আমি ক্ষেত্রে কি করতে পারি ? সবিস্ময়ে তাকায় সুনন্দ মহাশ্বেতা দেবীর মুখের দিকে প্রশ্নটা করে

তুমিই তো তাকে ধরেছ।

হ্যা, ধরেছি বটে, কিস্ক বিচারক তো আমি নই। সরকারের আর্দালতে তার বিচার হবে। তাছাড়া মে অপরাধী অপরাধীর ষদি দণ্ড না হয় তাহলে ন্যায়, ধর্ম বলে আর রইলো! কি?

স্থনন্দর শেষ কথায় মহাশ্বেতা েন আর কোন জবাব দিতে পারেন না কয়েকটা মূহুর্ত চুপ করে বসে রইলেন

তারপর অত্যন্ত মৃদ্ুকঠে বললেন, হ্যা, ঠিকই বলেছ তুমি অপরাধীর দণ্ড হবে বৈকি।

কথাটা ধলতে বলতে কতকটা ষেন আচ্ছন্ের মতই উঠে দাড়ালেন মহাশ্বেতা, আমি যাই-সত্যিই তো! অপরাধীর দণ্ড হুবে বৈকি | সে থে অপরাধী--

ধীরে ধীরে ঘরের খোল৷ দ্বারপথে বের হয়ে গেলেন মহাশ্বেতা

১৫১৮

সুনন্দ রায় নিঃশবে। শুধু দেখলো! মহাশ্েতা ঘৰ থেকে বেব হয়ে গেলেন। তার পায়ের শবটা ঘরের বাইরে মিলিয়ে গেল।

অনেকক্ষণ তারপরও সোফাটার পরে ঝিম দিয়ে বসে থাকে সুনন্দ।

তার কেবলই ষেন মনে হতে থাকে, এঁ ভদ্রমহিলা ষে কথাগুলো তাকে বলে| গেলেন, সে কথাগুলোই সব নয়। শুধু এটুকু বলবার জন্যই তিনি আসেন নি। আরে! যেন তার কি বলবার ছিল, ঘা তিনি বলতে পারলেন না৷ শেষ পর্যস্ত।

কিছু কি সত্যিই তিনি বলতে এসেছিলেন তাকে, আর কিই বা বলতে এসেছিলেন এবং কেনই বা বলতে এসেছিলেন / আরো একটা ব্যাপার স্থনন্দ লক্ষ্য করেছে, অতক্ষণ ধরে মহাশ্বেতা! তাব সঙ্গে বসে কথা বললেন, কিন্তু একটিবারের জন্তও মূখ তুলে তাকালেন না।*

কিন্তু কি বলতে এসেছিলেন তিনি সুনন্দর কাছে?

হঠাৎ যেন একটা কথা মনে হতেই চমকে ওঠে স্ুুনন্শ। তবে কি, তবে কি তিনি যমুনাপ্রসাদ-_হীরক চৌধুরী-_তার ছেলেকে ছেডে দেওয়া হোক, ধরণেরই একটা কিছু অনুরোধ প্রকারান্তরে জানাতে এসেছিলেন তার কাছে?

না, না পাগল ! তা কেন হতে য|বে, মা'য়র প্রাণ কিনা, তাই হয়তো কি অনুরোধ করতে এসেছিলেন চিন্তাও করতে পারেন নি

তাছাডা, সে আজ সরকারের জেলখানায়, তাকে ছেভে দেবার তারই বা সাধ্য কোথায়? এই সহজ কথাট। বুঝতে পারবেন না তিনি তাই বা কি করে সম্ভব?

আবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, না, না--তা নয়। তাছাড়া ছেলে ষে তার অপরাধী, সে তো৷ নিজের মুখেই স্বীকাব বরে গেলেন।

কিন্ত আশ্চর্য! মুহূর্তে বিচিত্র এক চিন্তা এসে তাকে আচ্ছন্ন করে, তার মনে হয়, মুর্দি আজ তার যমুনাপ্রসাদকে ছেডে দেবার কোন ক্ষমতা থাকতো, সে হয়তো ছেড়ে দিতেও পারত।

চুপিচুপি এই রাত্রে জেলে গিয়ে গারদ-ঘরের তালাটা খুলে দিয়ে বলতো, পানাও শিগগির পালাও

যমুনাপ্রসাদ তার কথায় অবাক হয়ে যেত বৈকি যে সুনন্দ রায় তাকে কয়েক বছর ধরে ধরবার, জীবিত বা মুত, আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, সেই সুনন্দ রায়ই তাকে ধরবার পর আজ আবার ছেড়ে দিচ্ছে__আশ্চ্য সে হতো বৈকি

এবং কথাটা জানাজানি হলে সরকার তাকে তার এঁ অপরাধের জস্ত হয়তো গুরুতর শাভিও দিত তবু তার হুয়তে। ছুঃখ থাকতো না।

৯৪৮

প্লে দেখ! তার মা! যে ক্ষণপূর্বের আগন্তক এঁ ভদ্রমহিলার চেহারার মধ্যে তার সামনে সত্য হয়ে এসে জাগরণের মধ্যে ধাড়িয়েছিল, যে স্বপন মুহূর্তের জন্য হলেও সত্য হয়ে উঠেছিল , সে মনে করতো ঘা কিছু করেছে, তার পেই মা-র জন্তই যে করেছে_ যে ম| ওর মধ্যে সত্য হয়ে উঠেছিল

হ্যা, হ্যা-_কোন দুঃখ, কোন লঙ্জাই তার থাকতো না।

সে তো আর কারে। জন্য কিছু করে নি।

সে ষা করেছে সব তার মা-র জন্যই করেছে

মা। তারমা! ষেমাকে সে জীবনে কোনদিনও দেখল ন! !

ঘে মাকে সে শুধু স্বপ্রের মধ্যেই হাঁতিড়ে ফিরেছে, সেই মা-র কথাই বা কেন মনে হল গুকে দেখে আশ্র্য। আর কখনে। কাউকে দেখে তো কথাটা তার মনে হয় নি। আজই বা মনে হলে৷ কেন ওঁকে দেখে ?

হঠাৎ যেন স্থুনন্দ রায়ের চিন্তাস্ুত্রটা ছিন্ন হয়ে গেল।

দোতলায় তার শোবার ঘরে টেলিফোনটা একটানা বেজে চলেছে

উঠে দাড়ায় তাভাতা'ড়ি স্থুনন্দ। এই ভোররাত্রে কে আবার ফোন করছে

সিড়ি বেয়ে পরে উঠে সোজ। শোবার ঘরে এসে ঢুকল স্থনন্দ। হাত বাড়িয়ে ফোনটা তুলে নিল।

হালো?

ডি. এস. পি. মিঃ মুখাজি কথা বলছি

বলুন শ্তার !

এইমাত্র সেপ্টটাল জেল থেকে মিঃ ভট্টাচার্য ফোন করে জানালেন, মঙ্গন-_

কি? কি হয়েছে?

জেল থেকে সে কেমন কবে পালিয়েছে

মেকি!

হা। সন্ধ্যা থেকেই পেটের ব্যথায় সে নাকি ছটপট করছিল---তারপর মেট তাঁকে খবর দেওয়ায় তিনি ডাক্তারকে জানান। ভাক্তারবাবু গিয়ে পরীক্ষা! করে বলেন, আযাকিউট আযাপেনভিসাইটিস। এবং ভক্ষুনি তাঁকে অ্যাম্বলে্সে সতর্ক প্রহরায় হাসপাতালে রিমুভ করা হয়; কিন্তু হাসপাতালে এসে সে গৌছাবার পর "দেখা গেল, সে মঙ্গল নয়, অন্য কয়েদী |

তার মানে?

জানি না। ওই তোত্তনছি।

ভাল করে জেল খুজে দেখা হয়েছে?

৮০ ৬,

হয়েছে সেখানে সে নেই।

হাসপাতালে যাকে রিমুভ করা হয়েছে সে কে?

১১১ নং কয়েদী-_ব্রিজনন্দন

ব্িজনন্দনই তাহলে এখন হাসপাতালে 7

হ্যা--তাকে অপারেশন টেবিলে রিমূভ করা হয়েছে। ব্যাপারটা মাথামৃ্ কিছুই বুঝতে পারছি না আমি বায়। তুমি একবার এক্ষুনি জেলে এসে, আমিও যাচ্ছি!

আমি এখুনি যাচ্ছি শ্তার।

নন্দ ফোনটা নামিয়ে রেখে দিল ধীরে ধীবে।

তিন

মঙ্গল, যমুনাপ্রসাদ-_অর্থাৎ হী চৌধুধী জেল থেকে সতর্ক প্রহরীবেষ্টিও থক সত্বেও পলাতক

ব্যাপারটা যা! ভি. এস, পি.-র মুখে ফোনে শোনা গেল, শুধু অবিশ্বাস্ত নয়, রীতিমত দুর্বোধ্য।

হঠাৎ মনে পড়ে সুন্দর একটু আগে মহাশ্বেতা দেবীব কথা৷

মনে মনে কি একটু আগে তহি কামনা! বরছিল না স্থনন্দ? মনে মনে কিসে ভাবছিল না, ক্ষমতা তার হাতে থাবলে মহাশ্বেতাৰ ছেলেকে সে ভয়ঙ্কর অপরাধী জান! সত্বেও ছেড়ে দিতে কৃষ্ঠিত হতো না।

স্থনন্দ এগিয়ে এসে একটা আরাম-কেদারায় গা ঢেলে দিল

হীরক চৌধুরী পালিয়েছে জেল থেকে ঘাক সে পালিয়ে। তগবান মহাশ্থেতার করুণ আবেদন শুনেছেন

কিন্ত পালালেই কি সে সবকারের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবে? ধর! আবার তাকে পড়তেই হবে। স্থনন্দ না ধকক-_-অন্য কেউ তাকে ধববেই তারপর ধবা পড়লে তার স্থুনিশ্চিত কঠোর দণ্ড হবে।

কিন্তু মহাশ্বেতা দেবী-_এঁ হীরক চৌধুরীর মা, তার নিরপরাধিনী স্ত্রী, তার নিরপরাধ শিশুসস্তান__তার| তে। কোন দোষে দোষী নয়। তবু তাদের প্রত্যেককে পুত্রের, শ্বামীর এবং পিতার ছুরপনেয় কলঙ্ক মাথা পেতে নিতে হবে।

মহাশ্বেতা দেবী বলছিলেন, বাপের রক্তের খণ তার ছেলেকে শোধ করতে

১.

হচ্ছে। কে ছিল দন্ত ক্রিমিগ্ঠাল হীরক চৌধুরীর বাপ? কি তাদের পরিচয়?

ঢং ঢং করে দেওয়াল-ঘড়িতে পাচটা বাজল

কখন জেল থেকে পালিয়েছে হীরক কে জানে? কিন্তু আর তো সময়ক্ষেপ কর! চলে না। মি: মুখাজি তার জন্ত অপেক্ষা করবেন।

উঠে দাড়াল হুনন্দ। পাশের ঘরে গিয়ে ইউনিফর্ম পরে নিল। ঘর থেকে বেরুতে যাবে, বুড়ি ঝি সারদা! এসে দরজার সামনে দীড়ান। সারদার হাতে প্রভাতী চা।

কি- বেরুচ্ছ নাকি? সারদ1 চায়ের কাপট৷ শ্ুনন্দর দিকে এগিয়ে দিতে " দিতে প্রশ্ন করে।

হ্যা। হ্যারে, বাহাছর উঠেছে?

না।

তাহলে তুই চল, নীচে গিয়ে দূরজাট] বন্ধ করে দিবি

আমি নীচেই আছি, ডেকো, দরজ। বন্ধ করে দেবোখন। সারদা চলে গেল ধঘরূথেকে।

সৃনম্দ রাস্তায় এসে নামল এবং শ্লথ মন্থর গতিতে হাটতে শুর করল।

যাবার যেন ইচ্ছাই করছে না আদৌ তবু যেতে হবে বলেই যাওয়া সত্যিই বিচিন্ অনুভূতি যেন একট!

থে দুর্দান্ত ক্রিমিগ্যাল যমুনাপ্রসাদকে ধরবার জন্য গত কয় বছর তার নাওয়। খাওয়৷ পর্যন্ত সময়মত ছিল না।

একবার কলকাতা, একবার ইউ. পি., একবার বিহার দৌড়াদৌড়ি করে বেড়িয়েছে, যাকে অতি কষ্টে ধরে গারদ-ঘরে পুরেছিল, সেই লোকটা গারদ-ঘর থেকে পালিয়েছে, অথচ তার মধ্যে কোন হতাশা! বা চাঞ্চল্যই সে বোধ করছে ন1!

এমন কেন হয়? আর কি করেই বা! হয়?

কে মহাশ্বেতা দেবী তার? কোন পরিচয়ই তে। তার সঙ্গে তার নেই। কোন সম্পর্ক নেই।

একটিবার মাত্র জীবনে ধাকে দেখেছে-_তাও যে পরিচয়-__সেটাও হচ্ছে একজন দুর্দান্ত ক্রিমিন্তালের মা রূপে কোন সহাম্ুভৃতিই সেখানে জাগতে পারে না।

কিন্তু তবু তিনি ঘখন মাথাটি নীচু করে ধর ছেড়ে চলে গেলেন, কি একটা! ব্যথায় বুকের ভিতরটা তার টনটন করে উঠেছিল।

সহ

মনে হয়েছিল ক্ষমতা থাকলে আর তাকে সে হাহাকার নিয়ে ফিরে যেতে দিত না।

ম। বলে ডেকে তার বুঝি পায়ের ধুলে৷ নিতে পারলে যে তৃপ্তিতে বুক ভার ভরে যেতো, সে তৃপ্তির বুঝি তুলন৷ নেই

হাটতে হাটতে শ্ুনন্দ ট্রাম-রাম্তায় এসে দাড়ায় একটা ট্রাম আসছে চং ঢং ঘর্টি বাজিয়ে তাড়াতাডির কি এমন আছে। যাক না ট্রামটা চলে।

সতি সত্যিই ট্রামটা ছেড়ে দিল সুনন্দ। এবং তার পরেরটাও। তৃতীয় ্রীমটায় উঠে বসলো

জেলখানাতে স্থনন্দ ঘখন এসে পৌঁছিল, তধন সেখানে রীতিমত একটা উত্তেজনা চলেছে সব্বন্র।

কয়েদীদের প্যারেড নেওয়া হচ্ছে। শ্বয়ং কমিশনার থেকে শুক করে পুলিসের সমস্ত বড বড কর্মচারীরাই উপস্থিত।

মঙ্গল যেজেল থেকে সতর্ত প্রহ্রীদ্দের চোখে ধুলে! দিয়ে কখন কোন পথে পালাল তাঁরই আলোচন] সবাই করছেন।

রীতিমত যাকে বলে অবিশ্বান্ত ব্যাপার

স্বনন্দকে দেখে জেলের সাহেব ভট্টাচার্য এগিয়ে এলেন শুকনো মুখে সমস্ত দ্বায়িত্ব তে! তার পরেই ছিল। অনুযোগ শুনতে হবে ভাকেই বেশি

শুনেছেন বোধহয় সব সথনন্দবাবু?

শুনেছি।

কিছুই বুঝতে পারছি না মশাই। যেন সত্যি সত্যি একটা ভৌতিক ব্যাপার।

ভি. এস. পি. মিঃ মুখাজি এগিয়ে এলেন, সর্বত্র ওয়ারলেস্‌ সিগন্তাল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, তুমিও একবার ভ্যান বা জীপ নিয়ে বের হয়ে পড়ো সুনন্দ।

কিন্ত আমি--

হ্যা, তুমি। তোমাকেই কাজের ভারটা নিতে হবে স্থুনন্দ

ক'দিন থেকে আমার শরীরটা বড় থারাপ। ভাবছিলাম, মাসখানেকের ছুটি নেবো”

কিন্তু সময়-_

চক্রবর্তাকে বলুন।

হত

চক্রবর্তী অবস্থি আগেই বের হুয়ে গিয়েছে একটা জীপ নিয়ে কিন্তু সময় তুমি ছুটি চাইছ-_

আপনি ভাবছেন কেন স্তার, যাবে কোথায় সে! ধরা তাকে পড়তেই হবে, সুনন্দ যেন মি: মুখাজিকে সাস্বনা দেবার চেষ্টা করে।

হ্যা, ধরবো! তো৷ তাকে নিশ্চয়ই আমর]।

হ্যা, কতদূর আর এর মধ্য যেতে পারে, আশে-পাশেই হয়তো কোথায় পাওয়া যাবে।

তোমার তাই ধারণ। রায়

তাছাড়া কি?

আচ্ছা রায়, ওর কোন ডিটেলস্‌ জোগাড় করতে পেরেছিলে? ওর আসল বাড়ি কোথায়! মা বাপ, কি জাত-_পূর্ব কোন ইতিহাস ?

না। পুলিস-রেবর্ডে আমার্দের যেটুক্ আছে, তার বেশি কিছুই আমি জানতে পারি নি।

পুনিস-রেকর্ডে তো আছে লক্ষ্ষৌর কাছে প্রতাপগড়ে ওর বাডি। কিস্ক আমার মনে হয় ঠিক নয় বথাটা

কেন?

সেখানেও ধরা পড়বার পর অনেক অনুসন্ধান করেছিলাম, কিন্ত মঙ্গল বলে কোন লোকের কথা কেউ বলতে পারল না। তবে একটা কাজ করা হয় নি-_

কি? একটু ফেন চমকেই ডি.এপ. পি.-র মুখের দিকে তাকায় সুনন্দ।

এই কলকাতা শহরে আযাভিম্তাতে একটা ফ্র্যাট-বাড়িতে রত্বা নামে একটা মেয়ে থাকে। রত্বার কাছে মধ্যে মধো আসতো মঙ্গল শোন। গেছে__

রত্বাকে ক্রস্‌ করা হয় নি?

না। যেদিন মঙ্গল ব্যারাকপুরে ধর! পড়ে, তার কদিন আগে থেকেই রত্ব. নাকি কলকাতার খাইরে চন্দননগরে ছিল। সে যাক্‌__-তোমার কি সত্যিই এখন ছুটির প্রয়োজন আছে স্ুনন্দ ?

সত্যিই শরীরটা আমার ভাল যাচ্ছে না স্যার

বেশ। তবে আর কি বলবো, তুমি না-হয় দিন কতক বিশ্রামই নাও।

এত সহজে যে স্থনন্দ নিষ্কৃতি পাবে, সত্যিই ভাবতে পারে নি।

ছুটিটা পেয়ে যেন নন্দ একটা স্বস্তির নিশ্বাস নেয়। কেন এবং কিসের যে বস্তি, সেটা কিন্তু বুঝতে পারে না! ঠিক। হীরক চৌধুরীকে খোঁজ করে বেড়াতে হল

না, তাই কি? -

কিন্ত হীরকের মত একট! ক্রিগিগ্তাল আইনের হাত থেকে যে পালিয়ে বেড়াবে তাই বা কোন্‌ যুক্তি।

কিন্ত, আবার মনে হয় স্থনন্দর, হীরক ধরা পড়ল কি না তাতেই বা কি এসে গেল তার। হীরক তার কে?

একট! দুর্ধর্ষ ক্রিমিন্তাল, কত হত্যার রক্তে রঞ্জিত হয়তো হাত ছুটো৷ তার কতজনের চরম সর্বনাশ করেছে সমাজের একট। অভিশপ, ব্যাধি

আর সে? আইনের একজন প্রতিভূ

সরকার বিশ্বাস করে তার হাতে ক্ষমতা দিয়েছে। অপরাধীকে ধরবার জন্যাই তার চাকরি আর সে কিনা ভাবছে হীরক যাতে না ধর। পড়ে।

চমকে ওঠে যেন কথাট] ভাবতে গিয়েও সুনন্দ

সতি।ই বি. তাই পে ভাবছ!

সত্যিই কি পে চায় মহাশ্বেতার সন্তান হীরক চোধুী যাতে ধরা না পড়ে !

না, না__ত| কেন?

পড়ক ধরাসে। আইনের বিচারে তার য| দণ্ড হওয়া উচিত হোক

কিন্ধ সেই ভদ্রমহিল। ?

তার নীরব সেই কাকৃতি £

তার ছুটি চোখের পেই সপ্নের মঙ্গল কামনায় নিবিড় মহ?

আবার ষেন কেন সব গোলমাল হর যায়

এধিনই সন্ধ্যার দিকে হ্থনন্দ নিজের ঘরে আরাম-কেদারাটার 'পরে গা একে দিয়ে পড়ে ছিল।

সি'ড়িতে যেন কার পায়ের শব শোনা যায়

তার বাবার পায়ের শব বলে মনে হচ্ছে।

বাবা হঠাৎ কোন চিঠি-পত্র না দিয়ে কাশী থেকে চলে এলেন !

স্থনন্দর অনুমান ভূল নয়। কালীপ্রসন্নই এসে ঘরে ঢুকলেন।

বাবা! এগিয়ে গিয়ে পায়ের ধুলো নেয় সুনন্ন।

হঠাৎ কাশী থেকে চলে এলেন, কোন কাজ ছিল কি?

চেয়ারে বসতে বদতে বললেন কালীপ্রসন্ন, হ্যা, একটু বিশেষ প্রয়োজনে আসতে হলো |

সারদাকে হাত-মুখ ধোয়ার জল দি:ত বলি?

হবে'খন? ব্যস্ত হয়ে। না। বোস তুমি, তোমার সঙ্গে কিছু কথা আছে।

উত্তর লিপি---২ ২৫

একটু ধেন বিশ্থিত হয়েই বাপের মুখের দিকে তাকাল হুনন্দ।

চিরদিন রাশভারী গন্তীর প্রকৃতির লোক কালীপ্রসন্ন রায়। এবং অত্যন্ত মিতবাক। গত পাচ বছর কাশীবাসী |

স্থনন্দ বি. এসসি. পাস করে চাকরি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাশীতে গিয়ে বসবাস করছেন।

স্থনন্দর অবিশ্ঠি ইচ্ছা ছিল না। সে বলেছিল, কেন যাবেন বাবা কাশীতে-. এখানে কি আপনার কোন কষ্ট হচ্ছে ?

না। কষ্ট নয় কিছু। তোমাকে মানুষ করাই ছিল আমার প্রধান কর্তব্য ; মান্থষ হয়েছ তুমি, এবারে আমার ছুটি; আর সংসারে থাকতে ইচ্ছে নেই। বলে- ছিলেন কালীপ্রসন্ন জবাবে

দিতীয় আর কোন কথা বলতে বাপকে সাহস হয় নি সুন্দর |

চেয়ারটার পরে বেশ কিছুক্ষণ যেন কেমন স্তব্ধ হয়ে বসে রইলেন কা ঈীপ্রদন্ন।

মনের মধ্যে তধনো যেন একটা! দ্বিধা কথাটা বলবেন ছেলের কাছে, না, বলবেন না? কিন্ত কথাটা তো আজ আর ন| বললেও নয়। আজযে সব বথ। স্ুনন্দকে তার বলা একান্তই প্রয়েজন। আর সেইজন্ই ঝি তিনি ছুটে আসেন নি এখানে ?

ই্দান।ং কিছুর্দিন ধরেই শরীরট। খারাপ যাচ্ছিল, তাই কথাটা! যে আজ সুনন্দকে বলা প্রয়োজন সেটা যেন বেশি করেই তার মনে হচ্ছিল।

না। বলতেই হবে।

মনের সমস্ত সংকোচ ঝেড়ে ফেলে অদূরে মুখোমুখি উপবিষ্ট নুনন্দর মুখের দিকে তাকালেন।

সুনন্দ !

বাবা !

আজ তোমার একট। প্রশ্রের জবাব দেবো আমি, যে প্রশ্ন বহুবার তুমি আমাকে

করেছ কিন্ত জবাব দিই নি-_মানে, ইচ্ছে করেই জবাব দিই নি।

বাপের মুখের দিকে নিঃশবে সপ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে হ্থনন্দ।

অবিস্তি কথাটা! তোমাকে আগে বলার আমার কোন প্রয়োজন হয় নি। কিন্ত আজ সময় এসেছে কথাটা বলবার, এবং কথাট! তোমার জান! প্রয়োজন। তারপর একটু থেমে বললেন, সংবাদপত্র আমি বড় একট! পড়ি না। কিন্ত হঠাৎ দেদিন,

৮৬১

“মানে, পরশুদিন পুরোনো এক সংবাদপত্রে একটা নিউজ দেখলাম-হূ্ণান্ত ক্রিমিনাল মঙ্গল ধরা পড়েছে, আর তুমিই তাকে ধরেছ।

হা, কিন্তু আপনি ঠিক কি যে বলতে চাইছেন, আমি তে। বুঝতে পারছি না বাবা!

এঁ মঙ্গলকে আমি চিনি-_-ওর আসল নাম মঙ্গল নয়, যমুনাপ্রসাদও নয়, ওর আসল নাম হীরক চৌধুরী

ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে যেন স্থনন্দ বাপের মুখের দিকে

পূর্ববঙ্গের এক ধনী জমিদার-বংশের সন্তান ও। শুধু জমিদারই নয়__কলকাতায় তার বিরাট কাঠের কারবারও ছিল। ওর বাপের নাম মৃগাঙ্কমোহন চৌধুরী

আপনি- আপনি এসব কি করে জানলেন ?

আমি মুগাঙ্কমোহনকে চিনতাম চিনতাম বললে ভুল হবে--সে ছিল আমার এক সময় অভিনয় বন্ধু-_-এবং আমার কারবারের অংশীদার |

মগাঙ্কমোহনের স্ত্রীর নামই কি তাহলে মহাশ্বেতা দেবী ?

কালীপ্রসন্ন যেন কথাটা শুনে হঠাৎ চমকে উঠলেন। বললেন, তুমি-তুমি নাম জানলে কি করে?

তিনি গত রাত্রে এখানে এসেছিলেন।

কি? কি বলল? মহাশ্বেতা এখানে এপেছিলেন? তোমার কাছে?

হ্যা। তাঁর মুখ থেকেই প্রথম গত রাত্রে আমি শুনি মঙ্গলের আসল নাম হীরক গৌধুরী-__-এবং দে তার ছেলে-_

আর? আর কিছু তিনি তোমাকে বলেছেন ?

হ্যা__

কি? কি বলেছেন আর?

তার স্বামীর পাপের রক্তের খণই নাকি শোধ করছে এঁ মঙ্গন-__

বলেছেন, বলেছেন যহাশ্থেতা৷ সে কথা ?

হ্যা।

চার ॥।

কালীপ্রসঙ্ন অতঃপর কিছুক্ষণ যেন পাথরের মত স্তব্ধ হয়ে বসে রইলেন তারপর একসময় মৃছুকে কতকটা আত্মগতভাবেই বললেন, হ্যা, মিথ্ী নয়, পাঁপের খণই বটে। বাপের পাপের খণ শোধ.করেছে আজ তার এঁ হতভাগ্য ছেলে

হীরক। অভিশাপ- কিন্তু তারপরই জনান্ধিকে বললেন, কিন্তু কেন এসেছিলেন: মহাশ্বেতা তোমার কাছে?

মনে হয়, কিছু যেন বলতে এসেছিলেন।

বলতে? কি বলতে?

সম্ভবতঃ তার ছেলে হীরক সম্পর্কে মুখ ঘুটে দিও কিছু বলেন নি-_-তবু মাঝ প্রাণ তো ! তাই ছেলের জন্য মনে হল কিছু যেন বলতে এসেছিলেন

নিয়তির নির্মম পরিহাস। নচেৎ এমনটাই বা! হবে কেন। কথাটা বলংুত বলতে কালীপ্রসন্ন কেমন যেন অন্তমনস্ক হয়ে যান।

বাবা?

এ'যা? কিছু ঝলছিলে ?

গর! কি কলবা তাতেই থাকেন?

ন। শ্রীরামপুরে মৃগাঙ্কমোহন শ্ররামপুরে গঙ্গার ধারে মস্ত বড বাড়ি কিনেছিলেন “মণিমঞ্জিল সব কথাই তোমাক আজ বলবে! বলেই এসেছি আমি স্থনন্দ। সব বথাহ তোমার আজ জানা প্রয়োজন। মৃগাঙ্কমোহন, মহাশ্বেতা হীরক এবং তোমার সমস্ত কথা

আমার কথা? আমি তো] কিছুই বুঝতে পারছি না বাবা, তাদের সঙ্গে আমার কি সম্পর্ক?

সেই বথাই জাজ বলবো, অচ্ছেগ্য বাধনে বাধা তোমরা পরস্পরের সঙ্গে পরম্প্র --একই রক্ত প্রবাহিত তোমার হীরকের শরীরে

না, নাঁ-এ আপনি কি বলছেন? স্থনন্দর সমস্ত শরীর তখন কাপছে। সে কাপতে কাপতে উঠে দীড়ায়।

বোস, উত্তেজিত হয়ে! না।

কিন্ত বাবা-_

আমি তোমার বাব৷ নই স্থনন্দ

কি বললেন! একটা অর্ধন্কুট চিৎকার ববে ওঠে যেন সুনদদ, কি বললেন? আপনি আমার বাধা নন?

না।

তবেকে? কে আমি? কি আমার পরিচয়! আকুল উৎকগ্ঠায় ষেন ভেঙে পড়ে জনন

হীরক আর তুমি সহোদর ভাই।

হীরক-_হীরক আমার ভাই?

হা। একই রক্ত তোমাদের উভয়ের দেহে প্রবাহিত। মৃগাইমোহনই তোমার বাপ, আর মহাশ্বেতা তোমার মা

না, না--এ যে আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পাবহি না।

অবিশ্বাস্ত মনে হলেও কথাটা নি?ব সত্য--এবং আর ছু'দিন পরে আদালতে যখন হীরকেন বিচার শুক হবে, সব কথাই প্রকাশ হথে পড়. বুঝেই এতকাল ষে কথা তোমাকে কোনদিন প্রকাশ করি নি, সেই কগাটাই বলার প্রয়োজননাবে এখানে আমি ছুটে এসেছি-_নগেখ ভেবেছিলাম আমার মৃত্যুর পরই তুমি জেনে

হীরকের ভাই আমি” হীরক আমার ভাই-_

এসব কি শুনছে স্থনন্দ ' সে জেগে না ঘুমিয়ে স্বর দেখছে

দদীস্ত ক্রিমিন্তাল হীরক--তার আপন সহোর্দর ভাই! তার এবং হীরকের শবীরে একই রক্ধ প্রবাহিত !

না, নাসমস্ত ফেমন যেন সুন্দর গোলমাল হয়ে যাচ্ছে, তার এতদদিনকার জানা'শানা জগংটা! সব মিথ্যা! কালীপ্রনন্ন তার কেউ নয়! সে কালীপ্রসন্নর ছেলে নয় !

একটা ছুনিবার লজ্জা, অপমান অর হাহাকার যেন তাকে গ্রাস করেছে।

আর্ত করুণ কগে বলে ওঠে স্ুনন্দ, না,না_বাবা_এ যে আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না

স্থির শান্ত কঠে বললেন কালীপ্রপন্ন, বিশ্বাস না করত পারলেও তাই সত্য হুনন্দ।

সতা

হ্যা

হীরক--হীরকের ভাই আমি '

হ--

ত'রপর কিছুক্ষণ আবার স্তব্ধতা।

এবং সেই স্তব্ধত। ভঞ্গ ক'র কালীপ্রপন্ন ভাকেন, স্থুনন্দ__

কেমন যেন সর্বহারার দুষ্টিতে তাক।ল স্থনন্দ কালীপ্রপন্নব মুখের দিকে

জানি হুনন্দ, তুমি অত্যন্ত 90০০০ হয়েছো, কিন্ধ-__

না, বাবা 8১০০1,5৫ নয়, আমি-_-মামি ঠিক কি করবো বুঝতে পারছি না--

নন্দ !

“পল্লুন।

থ্

অবাক লাগছে, মহাশ্থেতাও কি তোমাকে চিনতে পারলেন না !

কিন্ত একথা কেন আপনি আমাকে বললেন? আমি তো জানতে চাই নি-- না জানলেও তো কোনদিন কিছু এসে যেতে না আমার-_স্থুনন্দ ঘেন আর্তনাদ করে ওঠে।

যেতো স্থুনন্দ, যেতা। তাছাড়া আমাব নিজেরও যে পাপ ছিল-_

আপনার পাপ?

হ্যা, আমা"-_আমারও পাপ ছিল। প্রতিহিংসায় অন্ধ হয়ে সেদিন আমি-- আমিও তার্দের সকলকে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিলাম-__্্যা, একসঙ্গে পন্মাব ক্ষ সব নিমূ্ল কবে ধিতে চেয়েছিলাম_

আমাকে-_-আমাকে সব খুলে বলুন

বলবো। কিন্ত সেকথা--সম্ভানের মত তোমাকে পালন করেছি, পুত্রাধিক তুমি -€তোমার সামনে বসে বলতে তে৷ পারবো না সব কথা আমি লিখে রেখেছি এই খাতাটায়-_

বলতে বলতে একট! মোটা বাঁধানো নীল রংয়ের ান্ত। বের করলেন কাগজেব মোড়ক খুলে কালীপ্রসন্ন এবং খাতাটা! সুন্দর সামনে ধরে বললেন, এই থাতাতেই লব --সব লেখা আছে। কিছু আমি গোপন করি নি। অকপটে সব স্বীকার করেছি। ইযা--এই থাতাট! পড়লেই সব তুমি জানতে পারবে শ্লনন্দ, তারপর তুমি আমাকে প্রত! করতে হয় করো, শ্বণা করতে হয় করো।

খাতাটা রাখলেন কালীগ্রসন্গ সামনের গোল টেবিলটার *পরে।

ছ্যা, কারণ তোমার কাছেও যে আমি অপরাধী সে অপরাধের ক্ষমাও আমাকে চেয়ে নিতেই হবে। জানি না, তুমি আমাকে ক্ষম। করতে পারবে কি না। তবে জেনো ক্ষমা না করতে পারলেও কোন অভিযোগই আমার থাকবে না কথাটা বলতে বতে কালীপ্রস্ন চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালেন, আমি- আমি তাহলে চলি স্থুনন্দ-_-আর জীবনে তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে কি না জানি ন! সুনন্দা, কিন্তু মহাশ্বেতা, তোমার মা-র সঙ্গে দেখা হলে তাকে বোলো অন্তায় আমি করেছিলাম সত্য কিন্তু সে অস্তায়ের প্রায়শ্চিতও আমি করেছি, তোমাকে মানুষ করে- আজ আবার আমি তার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে গেলাম। বোলো তাকে_ চৌধুরী বংশের অভিশাপ থেকে তুমি আবার একদিন তাদের মুক্ত করবে। তোমার পুণ/তেই. ভাদের সমস্ত হুঃখ, সমস্ত পাপ, সমস্ত কলঙ্ক হতে মুক্তি-দান হবে।

স্থুনন্দ ঘেন পাথবের মতই বসে রইলে!

কালীপ্রসন্ন ধীর পদে ঘর থেকে-বের হয়ে গেলেন

বসেই রইলো স্থুনন্দ যেমন বসেছিল সোফাটার পরে

ভ্তব, অনড়, অচল।

আশ্চর্য! মহাশ্বেতা তার মা! তার গর্ভধারিনী জননী ! ক্রিমিন্থাল হীরক চৌধুরী, জেল-পলাতক হীরক চৌধুরী--মঙ্গন-_মুনাপ্রদাদদ তার ভাই! আপন সহোদর ভাই !

একই রক্ত তাদের উভয়ের শবীরের ধমনীতে ধমনীতে প্রবাহিত ! একই বাপের গঁরসে, একই মায়ের গর্ভে জন্ম তাদের! একটু আগে কালীপ্রসন্ন মুখে স্বপ্ধের ঘোরে কোন স্বপ্নকাহিনী সে শুনছিল না তো!

না, না-ই তো সামনেই টেবিলের উপবে পড়ে আনে সেই নীল খাতাটা। কালীপ্রসন্ন তো বলে গেলেন, তার জন্ম-বৃত্বান্ত সব, তার সব পরিচয়, ইতিহাস লেখা আছে খাতায়

হাত বাড়িয়ে ধীরে ধীরে ঘেন সম্মোহিতের মতই টেবিলের 'পর থেকে ধাতাটা তুলে নিল হুনন্দ।

তার জন্ম-বৃত্তান্ত, তার পরিচয় যে জন্ম-বৃত্তান্ত, যে পরিচগ্ন এতকাল তার অজ্ঞাত ছিল, সেই অজ্জাত জন্ম-বৃত্বান্ত পরিচয় ছাব্বিশ বছরের এক অন্ধকার স্রোত পার হয়ে যেন আলোর বতিকা হাতে তার লামনে এসে আজ দীড়াল।

ছাব্বিশ বছর ধরে যে জন্ম-বৃত্তান্ত পরিচয় তার অজ্ঞাতই ছিল, না-হয় তা বাকী জীবন অজ্ঞাতেই থাকতো। কিছুই তো৷ এসে যেতো না।

কালীপ্রসন্নর মিথ্যা পুত্র পরিচয়েই ঘদ্দি গত ছাব্বিশ বছরের মত বাকী জীবনটাও বেঁচে থাকতো, এই পৃথিবীর কার কতটুকু কি তাতে করে এসে যেতো?

না, না সে জানতে চায় না জন্ম-বৃত্তংস্ত, তার পরিচয়

পাগলের মতই যেন ছ৷ মেরে সামনের টেবিলের পর থেকে বাধানে৷ মোটা নীল ধাতাটা তুলে নেয়, তারপর ছুটে যায় পাশের ঘরে

দিয়াশলাই জালায়। পুড়িয়ে ফেলবে সে এঁ খাতা কোন প্রয়োজন নেই তার। সে হীরকের ভাই নয়৷

মহাশ্বেতা, ম্বগাঙ্কমোহনের সন্তান নয়। স্বীকার করে নাসে। স্বীকার করে না। সে কালীপ্রসন্নের সম্তান

খাতার একটা পাত! ধরে জলন্ত দিয়াশলাইয়ের কাঠিটার শিধায়।

আগুন ধরে ওঠে

কিন্ত সঙ্গে সঙ্গে ধেন সেই দুটি চোখ মনের পাতায় ভেসে ওঠে।

মা! তার মা--.

৩১

পৌডান আর হলো না খাতাটা সথনন্দব | নিভিয়ে দিল আগ্তনটা | একটা বিশ্রী কাগজ পোডা গন্ধে বাতাঁসট! ভারী হয়ে ওঠে

নাল থাতাটা খুলে পডা৷ শুক করে স্ুনন্দ।

শুকতেই ক্ষমা চেয় নিই স্থুনদ তোমার কাছে। কারণ, পুত্রন্েহে এই ছুটি হাত স্োমায় পালন করলেও এবধিন আমাঁব এই ছুট হাতই তোমাবে হত্যা করতে চেয়েছিল। হ্যা অধ্ীকার করবো না।

হত্যাই তোমাদের সকলকে আমি করতে চেয়েছিলাম চৌধুরীবংশকে একেবারে নিশ্চ্ি করে দিতে চেয়েছিলাম পৃথিবী গ্পেকে।

যে আমার সুখের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, তার ঘরও আমি নিশ্চিহ্ন করে দিতেই চেয়েছিলাম, কিন্তু বিধাতার বুঝি ছিল অন্য ইচ্ছা, তাই সব যেন গলোট- পালোট হয়ে গেল।

সব কথাই আজ তোমাকে জানাব অকপটে।

মুগাঙ্কমোহন আর আমি ছিলাম অভিন্নহদয় বন্ধু

একসঙ্গে ছুজনে কাঠের ব্যবসায় নেমেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচয়ে 'তখনে! জানতে পারি নি, মুগাঙ্কমোহন মানুষের বেশে কতবড় একটা শয়তান। কি জঘন্য চরিত্র তার।

অকৃপণ হাতে বিধাতা তাকে রূপ দিয়েছিলেন, কিন্ত সে পের তলায় ছিল জঘন্ত একটা পিশাচ

বিদ্ধ সেদিন বদি ঘৃণাক্ষরেও চিনতে পারতাম ভিতরের সেই মানুষটা?

যাক, যেকথা বলতে বসেছি বলি।

বি, এ. পাস কবে চাকরির ধান্ধায় ঘুর বেডাচ্ছি তখন কলবাতা৷ শহরে। এমন সময় দৈবাৎ রাস্তায় বাল্যবন্ধু মুগাঙ্কমোহনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে গেল এক ছিগ্রহরে

ক।লী ন1?

হ্যা-_আরে মৃগাঙ্ক-_

তারপর তোর খবর কি বল?

খবর আর কি, বেকার জীবন যাপন করছি। ম্লান হাঁসি হেসে বলে কালী- গ্রসম |

৩২

কিছু একটা জুটিয়ে নিতে পারলি না?

না।

কিন্ক এই এ*দে] পাড়ায় ঘূরছিলি কেন রে?

এখানেই যে থাকি কালীপ্রসন্ন বলে

এখানে থাকিস মানে? এই বস্তিতে?

হা। কি করবো, তোর মত চব-মিলানো চার-ম্হল বাভিতে থাকবো এমন ভাগা তো করে আসি নি-_

নে, নে-__হয়েছে। চল, ঘুরে যাই তোর বাড়ি।

দুজনে এগুতে থাকে একটা সরু গলির মধা দিয়ে দিনের বেলাতেও সেখানে আলোর অভাব ছম্ছমে অন্ধকার

হারে বালী, বিয়ে করেছিল ? চলতে চলতেই একসময় প্রশ্ন করে মৃগাঙ্কামাহন।

হাঁ একটা ব্রাগ্ডার করে বসে আছি পিতৃআজ্ঞা পালন করতে গিয়ে সত্যযুগের স্থবোধ রামচন্দ্রের মত। বাবা শুনলেন না কিছুতেই কথাটা জোর করে ঘাড়ে গছিয়ে দিয়ে গেলেন হিমানীকে-_

হিমানী বুঝি তোর স্ত্রীর নাম? বেশ নামটা তো !

বেশই বাট প্রায় জনেই জমে এলাম | হ্যা, বাবা তো একবছর ন! যেতেই চোখ বুজলেন, এখন আমাদের চোখে ঘুম নেই। এই যে এসে পড়েছি-_বলতে বলতে একট! বন্ধ দরজার সামনে দীড়িয়ে কড়াটা নাড়াতে নাড়াতে ভাকে লী প্রসন্ন, হিমানী দরজাটা খোল দেখ, কে এপেছে-_

হিমানী এসে দরজাটা খু'ল দিতেই তাঁর দিকে তাকিয়ে মুগাঙ্ক যেন যযৌন শ্বৌ হয়ে দাড়িয়ে পড়ল।

কি রে, দাড়ালি কেন, চল। ত।গিদ দেয় কালীপ্রসন্ন।

₹া হ্যা--চল।

কি কুক্ষণেই যে ডেকে নিয়ে গিংয়ছিলাম মুগাঙ্কমোহনকে আমার বাসায় ভাগারন্ধে যেন নিজে সাক্ষাৎ শনিকে আমি প্রবেশ করালাম

কিন্ক আজ সেইসঙ্গে আবার মনে হয় মৃগাঙ্কমোহনেরই বা দোষ দিই কেন আর হিম:নী--আমার স্ত্রীরই বা দোষ দিই কেন?

আমারই নির্মম নিয়তি হয়ত পেপদিন আমাকে আহ্বান করিয়েছিল সবগাঙ্কমোহনকে আমার গৃহে নিয়তিকে তো আজ পর্যন্ত কেউ এড়াতে পানে নি।

শু

ইন্দ্রাণীর মত রূপ নিয়ে হিমানী আমার কুঁড়েবরে বাস করার জন্য জগ্মায় নি। তার ভাগ্যই আমার ভাগ ঘরে মৃগান্ককে টেনে এনেছিল।

সে রূপের ছিল দুর্বার আকর্ষণ

মুগাঙ্কমোহন সে আকর্ষণকে এড়াতে পারল না।

যাই হোক, দেরাত্রে কিছুক্ষণ আমাব বাভি'ত কাটিয়ে মৃগাঙ্কমোহন বিদায় নিল বটে, কিন্ক পরেব দিনই দ্রিপ্রহবে সে আবার এসে হাজির হলো

বাড়িতে ছিলাম না সে সময় আমি। বোজকাব মতই একটা কাজের ধান্ধায় বের হয়েছিলাম ফিবে এস দেখি মৃগাঙ্কমোহন আর হিমানী ঘরের মধ্যে বলে গল্প করছে।

পাচ

কতক্ষণ হে মৃগাঙ্ক ?

অনেবক্ষণ। তোমার জন্যই বসে অপেক্ষা করছি।

আমার জন্য অপেক্ষা করছ? কিব্যাপার বল তো? একটু যেন বিস্মিত হয়েঞগ্রশ্ন করে কালীপ্রসন

গড়িয়াহাটায় আমার একটা! ছোটোধাটে। কাঠের ব্যবসা আছে। ব্যবসাটা দেখবার অভাবে নষ্ট হতে বসেছে তুমি যদি আমাকে একটু সাহাধ্য কর-_

কিরকম?

সেই কথা বলবার জন্তই তখন থেকে তোমার জন্ত অপেক্ষা করছি

বল কি, যে রীতিমত সুসংবাদ হে।

মৃগাহকমোহছন