পঞ্চ সবক )

গজেজ্দ্রকুমান্ন সিত্র

বয় খাছ পাবশলশাল” এরি রি জি জিতে ৯০ খয়জাড়াল দে প্রি, কাঁলিসাতঃ ৯.7

প্রথম প্রকাশ, ১৩৬৪

যত ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ চিত, ১৯ হ্টামাচরণ দে স্রাট, কলিকাতা ৭৩ হইতে এস, এম, রায় কর্তৃক প্রকাশিত ঞীসারদ! প্রেস, ৬« কফেশবচন্্র সেন স্ট্রীট, ফঙলিকাত » হইতে পি, কে, পাল কর্তৃক যুস্রিত

উতত্ারথ ' আমার শ্রাণের মাসধ, রবী লঙ্ীতের জাদুকর শিল্পী জ্ীহেমস্ত মুখোপাধ্যানের

করকমলে

সগুদীপত্র

চিত্ত চিত্র ১। অভিজাত ১২। কৃতকর্ম ২। সত্যোপলব্ধি ১০ ১৩। আত্মহত্যা ৩) মণি-মামীমা ২৩ ১৪ | বন্ধুর-পন্থ! ৪। আশঙ্কা ৩২ ১৫। পরিণতি | সংস্কার ৫১ ১৬। বোনাস্‌ ৬। অন্রাস্ত ৬৩ ১৭। স্মরণীয় ৭। সুখে থাকা ৭৬ ১৮। জবানবন্দী ৮। কুচি অরুচি ৯৫ ১৯। উধা থেকে সন্ধ্যায় ৯। দৌোজবরে ১০৮ ২০। পূর্বপরিচয় ১০। কঠিন মায় ১১৮ ২১। নীড় ১১। একটি মেয়ের ইতিহাস ১৩৫ ২২। বিজ্ঞান বাস্তব ২৩। বাদশাই মেজাজ ২৭৮ এঁভিহাদ্দিক ২৪। রক্তকমল ২৯৬

২৫ সাম়ান্ধ ক'খানি কুটি ৩০৩ ২৬। তাতিয়া টোপীর ফাসী ৩১১

২৭ শপথের মুল্য ৩১৭ ২৮। এক রাক্রি ৩২৭ অলৌকিক প্রসম্ম মধুর ২৯। উপস্থিতি ৩৪২ ৩২। বিপক্ন ৩*। অতৃথ ৩৫৩ ৩৩। ব্রদ্বের তিন কপ ৩১। রুহু্ ৩৬৬ ৩৪। আন্‌কোরা

এই গল্প-্রন্থমালায় প্রথম স্তবকে তেি্শটি, দ্বিতীয় স্তবকে আটব্রিশটি, তৃতীয় স্তবকে সীইত্রিশটি, এবং চতুথ সতবকে পরজিশটি ক'রে বিভিন্ন কসর গল্প সংকঙলিত,হদেছে। প্রথম বব ২৭. ভিতীয় তব ২০২৪

তৃতীয় ত্বক ২২২ চতুর্থ ঘকের মুলা ৎ৪. টাক1।

১৫৩ ১৬২ ১৭৪ ১৯৩ হও২ ১৫ ২৩৬ ৩৭ ৪৮৮ ৫৭ ২৬৯

অভিজাত

সে অনেক দিনের কথা হয়ে গেল। অন্তত ছেচল্লিশ বছর আগের কথা, ঠিক বছরট। আঙ্গ আর মনে ক'রে বলতে পারব না তখন স্কুলে স্কুলে ঘুরে বেড়াই, পাঠ্যবই ধরানোর কাঙ্জ, মানে যাতে হেডমাস্টার মশাইর। পাঠ্য তালিকায় আমার কোম্পানির কোন কোন বইয়ের নাম ছেপে দেন এই আশায়; আর অপাঠ্য বই বিক্রীর ধান্দ'য়-__লাইব্রেী আছে, প্রাইজ আছে। এট! মাইনের বাইরে-যদি কেউ একটু আন্ুকুপ্য করেন মেট বই বিক্রীর ওপর কিছু কমিশন পাই। সে আর কতই বা, রাহাখরচ খাইখরচ সবই আমার, কমিশন থেকে বাদ যাবে।

সে এক অবিশ্বান্ত যুগ ছিল। আপনারা এখন চেষ্টা করলেও বুঝবেন না। মফস্বলের বেশ নাম-করা স্কুলেরও লাইব্রেরী খাতে বরাদ্দ ছিল বছরে ষাট টাক। অর্থাৎ মাসে পাঁচ টাকা তার মধ্যে পুরনে। বই বাধাতেই মানিক ছু” টাকার মতো খরচ হয়ে যেন্ধ। প্রাইজের বরাদ্দ কোথাও একশো, কোথাও আশি, কোথাও ব। পঞ্চাশ এবং বল৷ বাহুল্য, আমি একমাত্র ক্যান্ভাসার নই। অন্তরাও কিছু বই বেচে বৈকি।

তবে আয়ও যেমন কম ছিল, ব্যয়ও তেমনি; এত অশান্তি ছিল ন1! এখনকার মতো! সে যাক গে, আমার আসল কথায় ফিরে আনি

বছরটাও যেমন মনে নেই, ঠিক জায়গাটাও না। প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের কথা, স্তি আর তেমন মজবুত নেই আগের মতো৷। মোটাখুটি অবস্থানটা মনে আছে, যুশিদাবাদ জেলার সুতী-আওরঙ্গাবাদ অঞ্চল, একটা রেল স্টেশন থেকে অনেক দূরে একটি গ্রাম।

না, সেখানে স্কুলের কোন কাজে যাই নি। তবে ব্যাপারটা স্কুলেরই বটে। নিমতিতা স্কুলের হেডমাস্টার মশাই আমাকে বড় স্নেহ করতেন। দশাসই মানুষ ছিলেন, যেমন লম্বা তেমনি স্বাস্থাবান, রঙটা শ্যামল কিন্তু মুখ চোখ কাটা-কাটা। অত বড় চোখ পুরুষের খুব কমই দেখা যায়। তাকে দেখলেই

মহাদেবের কথা মনে আনত, তাই নামট। ভাববার চেষ্টা করলে মহাদেববাবু

কথ কল্পনা কাহিনী-ঃষ---১

বলেই মনে হয়। কিন্তু তা যে নয়, এট! মনে আছে। তবে, নামটা না হয় মহাদেববাবুই ধরা! যাক না এখনও এমন অনেক লোক আছেন ধারা তাকে চিনতেন, কাহিনী তাদের কারও চোখে পড়লে দয়া করে নামটা জানিয়ে দেবেন। পদবাট। মিশ্র এট। মনে আছে।

স্বাস্থ্যবান তা আগেই বলেছি কিন্ত হঠাৎ একবার গিয়ে লক্ষ্য করলুম বড্ড যেন শুকিয়ে গেছেন। কাবণ জানতে চাইলে বললেন_ণক জানি, ক'মাস ধরে এক্‌জিমায় বড় কষ্ট পাচ্ছি, ছু" পায়েই ছেয়ে গেছে একেবারে

বললুন, “একুদিমার জন্যে শরীর খাবাপ, না শরীর খারাপ বলে একৃজিম। ? শুনেছি জীবনীশক্তি অর্থাৎ ভাইটালটি কমে এলে সব অন্ুখ হয়|?

উনি তেমনি শুকনে] মুখে উত্তর দিলেন, “তা তো জানি না, ডাক্তারও তো! দেখাচ্ছি, কোন ফলই তো হচ্ছে না।,

আমি আব কি বলব, শুধু বলে এলাম, বরং আপনি কলকাতায় গিয়ে কোন ডাক্তাব দেখিয়ে আন্রন।”

“আমারও তাই ইচ্ছে মাছে, বললেন মহাদেববাবু, ইউনিভ।সিটির খাতা নিতে যাব ম্যাট্রিকেব, ভাখছি সেই সময়ই কাউকে-_

তারপর এই আলা আনার

স্ক.ংল পৌছে শুনলাম মহাদেববাবু নেই, তিনি দেশে গেছেন খুব অনুষ্থ, ক্লাড সুগার খুব বেশি পণীক্ষায় ধর! পড়েছে, তাতেই প্রায় শয্যাশায়ী হয়ে আছেন গত মাস ছুই অ'রও শুনলুম, তিনি নাকি আমার খুব নাম করেন। দেশে যাবার দিনেও মাস্টা্মশাইদের বলে গেছেন, "উনি এলেন না, আসবার কথা ছিল, ভেবেছলুম দেখা হবে, অনেক দিন দেখি নি ভদ্রলোককে, খুব দেখতে ইচ্ছে করে। ওঁ কথাই বড় ডাক্তার দেখিয়েছিলুম, নইলে সব ধরা পড়ত না। শুনে মণ্টা খাবাপ হয়ে গেল। কে জানে, আর ফিরবেন কি না, কখনও দেখা হবে কি না আবাব। যা! পাজী রোগ

বেশ খানিকক্ষণ প্রশ্রট। মনে মনে তোলাপাড়া করে শেষ পর্যন্ত মন স্থির করেই ফেললাম যা থাকে কপালে, দেশট! ঘুরেই যাই একবার। থার্ড মাস্টারমশাই ওর গ্রামের কাছাকাছি থাকেন। তিনি অভয় দিলেন, একটু পরেই যে ট্রেনটা ধুল্যেন যাবে, তাড়াতাড়ি খাওয়াদাওয়া সেরে বদ্ধি ধরতে

গ্রারেন, বেলা চারটে নাগাদ ওদিকের স্টেশনে নামতে পারবেন দেখবেন মামনেই সার সার গো-গাণ্ড় দাড়িয়ে আছে। গুদের বাড়ি পর্যন্ত এক টাকা ভাড়া, রেট বাধাই আছে, শ্রেফ উঠে পড়লেই হল ঘণ্টা তিনেক লাগার কথা গুর বাড়ি পৌছতে, ন! হয় চার ঘণ্টাই হল এখন গরমের দিন, বেলা বড়, ঝিকি'মিকি বেল। থাকতে থাকতে পৌছে যাবেন রাত হলেও কেন চিন্ত। নেই, আকাশ পরিক্ষার, ওদের পথ দেখতে কোন অন্থুবিধা হবে না আর যখনই যান, মহাদেববাবু ঠো৷ আজ রাণে ছাড়বেন না আপনাকে রাতটা থেকে কাল সকাল সকাল চাটটি ডাল-ভাত খেয়ে রওন। দেবেন, ট্রেন সেই বেলা চারটেয়। এথানেই আপ-ডাউন ক্রস করে।

সেই মতোই হুর্গ। বলে রওন! দ্িলুম। সেইখানে নামলুমও সময় মতো, গো- গাড়ি মিলতেগ কোন অন্থবিধে হ'ল না। গাড়োয়ান যুধষ্ঠির ঘোষ লোক ভাল, একট। সিগারেট দিতে গলেই গেল একেবারে সুখ ছুঃখের গল্প করতে করতে মনের মুখে ধলদের ল্যাজ মোচড়াতে লাগল গাড়িও চলতে লাগল হু-হু করে, অবিশ্যি বলদের পক্ষে যতট। জোরে যাওয়া সম্ভব

তবে থার্ড মাস্টারের সেই ঝিকিনিকি বেল। থাকতে থাকতে পৌহানে গেগ না। গোগাড়ি যত জোরেই যাক আর গাড়োয়ান যঙই টেঁচাক “ছেই-হেই শালায় গরুরে 1 বলদের পক্ষে ইঞ্জিন কেন, সাইকেলের বেগেও দৌড়নো সম্ভব নয়। পথও দেখলাম অনেকট।। ফলে আধরাস্তার কিছু বেশি (যেটা পরের দিন বুঝেছিলাম ) যেতেই বেশ অন্ধকার হয়ে এলে চারিদ্িক। বেশির ভাগই মাঠ ধরে যাওয়া, তবু নজর চলার অবস্থাও আর রইল না। আন্দাজে অ'ন্দাঙজে যাওয়া, আর তাই যেতে গিয়েই পথের ধারে একট! গর্তে পড়ে গাড়র একটা চাক। ভেঙে গেল সেদিকের বলদটাও জখম হ'ল বেশ খানিকটা আনমও চোট খেলাম, তবে মে বেশি কিছু নয় আমলে পথের ধারে ছুটে। কি গাছ হয়েছিল, সেই দিনই বোধ হয় কেউ কেটে নিয়ে গেছে, গোড়াট। কাটতে পারে নি, তাতেই চাক। আটকে ধাকা খেয়েছিল, সে বেগ গরু সামলাতে পারে নি। গর্তটাও মনে হল নতুন, বড় মাপের আলোতে দেখে বুঝলুম পরের দিন কেউ এই রাস্তায় গর্ত বোজাতেই এখান থেকে মাটি কেটে নিয়েছে।

তা তো হ'ল, এখন উপায়?

তখন অত টর্চ নেওয়ার রেওয়াজ ছিল না। পকেটে একট! দেশলাই ছিল, হাতে সেদিনের খবরের কাগজ, তাই জ্বেলেই যেটুকু দেখা গেল, চাক। মেরামত করতে গেলে ভাল মিষ্ত্রী চাই। গরুটাকে টানাটানি করে যুধিষ্টিরই তুলল, হয়তো সে ঘণ্টাকতক পরে আবার চলতে পারবে, কিন্তু চাক ?

“এ কোথায় এলুম বলতে পারো! যুধিষ্টির, কাছাকাছি গ্রাম আছে, যেখানে মিল্ত্রী মিলবে ? মহাদেববাবুর বাড়িই ব। কত দূর আর ?

'আজ্জঞে সি এখনও ধরুন তিন কোঁশ হবে | তবে গেরাম একটা আছে হুই একট] বাতি লঙ্গরে পড়ছে না? চেরাগ জ্বলছে, লয় তো কেউ রন্তু করছে মনে লিচ্ছেন আজ্ছে উট রুদ্দ-বপুর | তা যদি হয় ওখানে এক নবাবসাহেব আছেন, বড়মিয়া বললে অঞ্চলের সবাই চিনবে, এক ডাকে | তুমি বঃং এখানে থাক একটু, আমি একটন দেখে আসি যদি তাই হয় আতটার মতো আচ্ছুয় একট! মিলবেন। ঢাল! হুকুম বড়মিয়ার, দ্িগরে যেখানেই অরতিথ ফকির আন্মুক না কেন ওর ঘরে নিয়ে যেতে হবে!,

“তা বেশ তো, চল আমিও তোমার সঙ্গে যাই, এখেনে অন্ধকারে একল। বসে থেকে আর লাভ কি!

“আজ্ঞা, তা লয় গোরু ছুটে একল! থাকবেন, সেই ভয়, অঞ্চলে গো- বাঘার উপদ্দরব খুব 1,

* তাই আমাকে বাঘের মুখে ফেলে চলে যেতে চাইছ। যায় আমার ওপর দিয়ে যাবে, গরু ছুটে। বাচবে তোমার ! বেশ ভাই, বেশ!" আমি একটু তিরস্কারের স্থরেই বলি।

“আজ্ঞ তা নয়। তুমি কী বলছেন। গোবাঘ! কি মানুষ খেতে পারে ! মানুষ দেখলে ভয়ে পালাবেন তেনারা তা চলেন আজ্ঞা, আমার সঙ্গেই চলেন,

শালার গরুর কপালে যা আছেন তাই হবে। একট দেখে পা ফেলতে পারে না বেইমান গরু |,

চেরাগ ব৷ চুলো যাই হোক আলোটা যত কাছে মনে হচ্ছিল হাটতে গুরু করে দেখ। গেল তত কাছে নয়। বেশ খানিকটা? দূর, যুধিষ্ঠিরের ভাষায় একপো, আমার হিসেবে পাক হু-মাইল।

৮০০

তবু সব পথেরই শেষ হয় একলময় পৌছে গেলাম যুধিষ্টির ভুটে আগে খবর দিতে গেল কলকাতা থেকে অতিথ এয়েছেন। কিন্তু নবাবের প্রাসাদের দিকে চেয়ে দমে গেলাম আমি পুরনো হলেও একট পাকা ধাড়ি দেখব আশা। করে'ছিলাম। যে নবাবের দ্বার সবদা অগণন অতিথ-ফকিরের জন্যে অবারিত, ভার বাড়ির কি হাল!

পাক! বাড়ি তো নয়ই, অঞ্চলে যেমন মাটির দোতল। হয় তেমনি, কিন্তু তার অবস্থাও শোচনীয় একট। কেরোসিনের কুপি জ্বলছে আর একট। চিমনি- ভাঙা হ্যারিকেন আলে বলতে এই, তবু সেই সামান্য মালোতেহ ওপর.দকে চেয়ে দেখলাম চালে বিশেষ কিছু আর নেই, খড় পচে গলে পড়ে গেছে, অনেক জায়গায় বাশ-বাঁখারির চালাট। পরধস্ত বেরিয়ে পড়েছে

নবাব সাহেব বেরিয়ে এসেছিলেন একট! ছেড়া লুঙ্গী আর শতহছিন্ন গেঞ্জি পরে- এখন ফর্স। জামা-কাপড় পর! মেহমান আসতে দেখে তাড়াতাড়ি বাশের আলন। থেকে একটা পাঞ্জাবি টেনে গায়ে দিলেন। পাঞ্জাবিট! অপেক্ষাকৃত ফরসা, কিন্তু তার পিঠের দিকে যে বড় তালিটা-_ সেটা! বোধ হয় পুরনো ময়ল। কাপড় কেটে দেওয়া হয়েছে, তাতে দাড়িয়েছে হরগৌরী অবস্থা |

তা হোক. তিনি দাওয়া থেকে নেমে এসে বেশ আত্তুমিনত হয়ে তসলীম জানিয়ে দু'হাত ধরে নিয়ে গিয়ে দাওয়ায় বসালেন। চাটাই 'একট। পাতা ছিল, তার ওপর তৈলাক্ত বালিশ, বোধ হয় ওখানেই বুদ্ধ নবাব সাহেব গড়াচ্ছিলেন। তবে সেখানে আমাকে বসাতে ভরসা হ'ল না, নড়বড়ে কাঠের চেয়ার একখানা ছিল একপাশে, নিজের লুঙ্গি দিয়ে সেট। ঝেড়ে এগিয়ে দিলেন ।4-দয়া ক'রে এর ওপরই কোনমতে তশরীফ রাখুন, গরিবের ঘরে খুব তকলিফ হবে আপনার আপনাদের বাবুভাইদের যোগ্য সমাদর করব খোদ সে অবস্থা রাখেন নি। কি আর কর! যাবে, তাঁর মেহেরবাঁনি, যেমন রাখবেন তেমনি থাকতে হবে তে।। নবাব বটে, নামে নই আসল নবাব, তবে আজ দশজনকে খেতে দেবারও সামধ্য নেই !” বলে একট! দীর্থনিশ্বাস ফেললেন

ভাল ক'রে চেয়ে দেখলাম এবার খুবই বুদ্ধ হয়ে পড়েছেন, অন্তত তাই দেখাচ্ছে তবে এককালে যে সুপুরুষ ছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। বেশ লম্বা গঠন, হয়তে। সেইজন্েই সামনের দিকে একটু ঝুঁকে পড়েছেন। কাধ

বট

দেখে মনে হয় শুধু লম্বা নয়, চওড়াতেও যথেষ্ট বড় ছিলেন। শুজ পাক! দাঁড়ি, চুল মায় ভুরু পর্যস্ত পাক1। কিন্তু ভাবে ভঙ্গীতে কথায় চলনে, নবাবের আদঙ্গ বুধতে অন্ুবিধ। হয় না।

প্রশ্ন করলুম, “আপনারা কোথাকার নবাব ছিলেন ?

“কোথাকার কি, সবে বাংলা বিহার উদ্ভিস্যা, সবই আমাদের ছিল এককালে আমরা মুগ্িদকুলি খার বংশধর। তার বৈমাত্র ভাই থেকে সিধা নবম পুরুষ আমি ।” এই বলে বৃদ্ধ বুক ফুলিয়ে সোজা হলেন একবার

আমি তৎক্ষণাৎ চেয়ার থেকে নেমে চাটাইয়ের ওপর তার পাশে বসে বললাম, “আপনি নিচে বসে আছেন, আমি কুরমিতে বসব, এত আম্পদ্দা আমার নেই। গোস্তাকী প্রকাশ পায় এতে

জবাব দিতে গিয়ে গলাট]1 কেঁপে গেল নবাব সাহেবের, আবারও ছুটো হাত চেপে ধরে বললেন, “আপনি বাবুসাহেব বড় ঘরের ছেলে, তাই কথাট। বললেন, মানীর মান রাখতে হ'লে নিজেরও মানী হওয়া! দরকার

অস্তঃপুরে ফিস্ফাস্‌, কিছু চাঞ্চল্য এসে পর্ধস্তুই শুনছিলাম একজন কিষাণ একট বাটি হাতে ক'রে কোথায় দৌড়ল তাও লক্ষ্য করেছি। আমার এই অনভিপ্রেত আগমনই যে চাঞ্চল্যের কারণ তা পরিবেশের এই দৈ্য দেখে বুঝতে বাকী ছিল নাঁ। সেজন্য লঙ্জাও বোধ করছিলাম একটু কিন্তু উপায়ই বাকি। একে টাক দেব বলাও ধৃষ্টতা !

কিছু পরে একটা ভাঙা ডিশে ছুটে গ্রাম্য রসগোল্লা আর কলাইয়ের কাপে চা এসে পৌঁছল একটি শ্ামাঙগী কিশোরী মেয়ে এসে নীরবে সামনে নামিয়ে রেখে চলে যাচ্ছিল, নবাব সাহেব প্রচণ্ড এক ধমক দিয়ে উঠলেন নিজেই ছুটে গিয়ে ঘর থেকে একখান! রুমাল এনে পেতে দিলেন চাটাইয়ের ওপর-_ তার ওপর চা মিটি রেখে অব্যাহতি পেল মেয়েটি নবাব সাহেব বললেন, “আমার নাতনী, রৌশন আখতার-__বডড বুনে হয়ে যাচ্ছে দিন দিন, খাদদানী ঘরের আদব কায়দা শেখাতে পারছি না কিছুতে আর শিখবেই বা কোথা থেকে, কোথাও তো! তেমন ঘরে যাওয়া আস! নেই !."নিন, একটু গোসজ ক'রে নিন দয়া ক'রে'।” রর

চেয়ে দেখি ততক্ষণে সেই কিষাণটি এক গাড়, জল আর একখানা ছেঁড়া ( তবে ফরসা ) তোয়ালে এনে দাড়িয়েছে ।:**

নবাব সাহেব হাঁকডাক করে লেক পাঠিয়ে একজন মিস্ত্রী আনালেন। সে সব শুনে কথা দিল--খুব ভোরে গিয়ে সে চাক! মেরামত করে দেবে, আমাদের কোন চিন্তা নেই নবাব সাহেব যখন হুকুম করেছেন তখন আমরা যেন ধরেই নিই, কাজ শুরু হয়ে গেছে ।""'

রাত্রে আহারের ব্যবস্থাও হয়ে গেল ওরা খুৎ খুৎ করতে লাগলেন, কিন্তু আমার কোন অনুবিধা লাগে নি মুগের দাল, পিয়াজের ডালনা, শাঁক ভাজা, একটু অন্থল। যুধিষ্টির খাওয়! সেরে তার বলদ আগলাতে ফিরে গেল। একটু তেল আর পিদীম চেয়ে নিয়ে গেল এবার যদ্দিও মাঠের মধ্যে বাতাসে কেমন ক'রে পিদীম জ্বালাবে ভেবে পেলাম ন।।

রাত্রে সেই অদ্বিতীয় চাটাইয়ের ওপরই শোবার ব্যবস্থা বোধ হয় পাতার মতো৷ তেমন ফর্সা চাদর কি জাঙজ্জিম নেই, রৌশন একখানা দামী শাল পেতে দিয়ে গেল। পুরনো শাল, কিন্তু তখনও কলকাতার বাজারে নিয়ে গেলে মোট? দাম মিলত

আমি কোন প্রতিবাদ করলুম না, অনর্থক জেনে সেই বালিশটির ওপরে একখান তোয়ালে পেতে দিয়ে গিয়েছিল রৌশন, সে চলে যেতে আমি সম্ত্পণে শালট। সরিয়ে তুর্গা বলে চাটাইভেই শুয়ে পড়ঙ্পাম। গায়ে গেঞ্জি আছে, তেল ময়ল। ধুলে। নিয়ে মাথ। ঘামাবার প্রয়োজন নেই।

ভোরে আবার সেই রসগোল্লা আর চ1। ূ্‌

সম্ভবত গত রাত্রে সেই কীসার বাটিটি কোথাও বাধ! দিয়েই সব ব্যবস্থা করতে হয়েছে অবস্থ। ভেবে রসগোল্লা যেন গলায় আটকাচ্ছিল, কিন্তু উপায় কি! এদের এই নিয়ম।

বিদায় দিতে বৃদ্ধ বেশ কিছুদূর পর্যন্ত সঙ্গে এলেন। সঙ্গে রৌশন। নবাব বাহাহুর বললেন, 'বাবুজী, কিছু মনে করবেন না, মেহৃমানকে গাড়ি পর্যন্ত পৌছে দিয়ে আসাই দস্তর, কিন্তু এদান্তে হাটুর ব্যথা বড্ড বেড়েছে, উচু-নিচু জমিন কি আলের ওপর দিয়ে হাটতে পারি নে। আমার নাতনী সঙ্গে যাচ্ছে, ওই তুলে

দিয়ে আসবে

আমি হাঁহা৷ ক'রে উঠি, “না না, কোন দরকার নেই তো দূরে গাছট? দেখ। যাচ্ছে, সিধে পথ বেশ চলে যেতে পারব ছেলেমানুষ-_ঃ

“না মেহেরবান, দরকার আমাদের আদাদের নিয়ম মানতেই হবে, অস্তুত যত দিন আমি আছি। আর দেরি নেই, বংশ শেষ হয়ে গেল, তিন মাসের মধ্যে ছুই বেটা, এক ভাঁতিজাকে টেনে নিলেন আল্লা, বংশ বলতে এই নাতনী বাড়িতে লোক য৷ দেখলেন কতকগুলো বিধবা শুধু আর নৌকর। চাষ আবাদের কাজ পর্যস্ত এই মেয়েটাকেই দেখতে হয় ।-**যাক আপনার সঙ্গে, আপনি বাধা দেবেন না, তাতে ওরও দুঃখ হবে আর রাস্তা যত সিধে দেখছেন তত সিধে নয়। সব মাঠে দিক ঠিক পাওয়া শক্ত ।"

তিনি আবারও যতট। সম্ভব নত হয়ে তসলিমাৎ জানিয়ে বিদায় নিলেন, ঝুঁকে পড়ে নিজের হাটু ছুটে! ছু'হাতে ধরে খোড়াতে খোড়াতে ফিরে গেলেন। রৌশন আমাদের আগে আগে যাচ্ছিল নীরবে, সে দাড়ালও না ফিরেও চাইল না, তেমনি চলতে লাগল

আমি এতক্ষণ সাহস সঞ্চয় করছিলাম, এবার একটু দ্রুত এগিয়ে মেয়েটার কাছে এসে বললাম, “আমার একট কথ! রাখবে রৌশান ?

বলুন ।' সংক্ষেপে উত্তর দিল নবাবজাদী

দাড়াল না, তবে গতিট। কমিয়ে দিল একটু

“তো-তোমাকে মানে মিষ্টি খাবার জন্যে যদি পাঁচটা ্টাক। দিই, আমার গোস্তাকী ভাববে না তো ?

“ভাবব বৈকি | বেশ প্রশান্ত কণ্ঠেই উত্তর দিল তারপর কেমন এক রকম সোজা হয়ে দাড়িয়ে, মনে হ'ল যে দ্রাড়াবার ভঙ্গীতে অনেকটা উঁচু হয়ে গেল- বললে, 'আমাদের দেবার কথা শুধু সাহেব, নেবার কথা নয়। আমাদের বংশে কারও কাছ থেকে হাত পেতে কিছু নিতে নেই। তাতে বাপ-দাদার ইজ্জৎ নষ্ট হয়। গুনাহ, হয় আমাদের |,

আমি অপরাধীর ভঙ্গীতে মাথা নীচু করে বলি, “ত। এটাকে কেন নজরান! বলে ভাবো না।

'নজরানা তো! আমার নেবার কা! নয় হুজুর, নজরাঁন। দিতে হ'লে নবাধ

ফাঁহেবকে দিতে হবে। আর কারও নেবার অধিকার নেই

“তা এখানে তে! তিনি নেই, তার হয়ে-__+

“না, তা হবার জে! নেই তাঁকেই দিতে হবে আমরা কেউ তার হয়ে নিতে পারব না

হাতের পাশা আর মুখের ভাষা, একবার পড়ে গেলে আর ফেরানো যায় না| অগত্যা বলতে হল, “তাহলে চল যাই, তাকেই দিয়ে আসি।,

তাতেও কোন বাধ! দিল না মেয়েটি, আপত্তি জানাল না। নিঃ ফিরে ধাডিয়ে আবার বাড়ির পথ ধরল।

যোতে যেতে প্রশ্ন করলাম, “তা তোমার বিয়ের কথা হচ্ছে না! এত বয়নে তো তোমাদের বিয়ে হয়ে যাবার কথা ।,

“আমার শাদী হওয়। শক্ত বাবুজী, যে ঘরে আমাদের শাদী হতে পারে, তেমনি ঘরে কাছাকখাছ কোন ভাল ছেলে নেই বেশির ভাগই লেখাপড়া শেখে নি, অলপ বয়সে ভাঁড় গাজ। খেতে শিখেছে নান। বলে, তাদের হাতে দেবার আগে নিজের হাতে ওকে কেটে ফেলব আর নবাব বাদশাদের ঘরে আইবুড়ো থাকায় কোন নিন্দে নেই বাদশাজাদীদেরও তো! অনেকের বিয়ে হয় নি, কেতাবে পড়েছি ।,

'তুমি বই-টই পড়?

“যা পাই দ্ু-চারখানা”, এবার যেন একটু নরম স্বাভাবিক হয়ে এলো মেয়েটা, বললে, আমার বাপজানের খুব শখ ছিল, অনেক বই যোগাড় ক'রে এনেছিলেন, 'সেইগুলোই নাড়াচাড়া করি, গাঁয়ে আর বই পাব,কোথায় ?

ততক্ষণে আমর! আবার ধ্প্রাসাদে' পৌছে গেছি।

মেয়েট! বাড়ির ভেতরে ঢোকার আগে চুপিচুপি বলে দিল, “টাক। মানে নজরান। বা দেবার একট। রুমালে রেখে নানার সামনে ধরবেন, হাতে হাতে দেবার দস্ভুর নেই ।?

তারপর ভেতরে ঢুকে বলল, “িড়মিয়াজান, হুজুর আপনার নজরানা দিতে ভূলে গিয়েছিলেন, তাই আবার ফিরে এলেন__+

“আরে, আরে, আবার তকঙীফ ওঠাতে গেলেন কেন ? বলতে বলতে সাগ্রহেই দাওয়। থেকে নেমে এলেন। আমিও আমার ধূলিমলিন ক্ষমালখান!

খুলে সেই পাঁচ টাকার নোটখানি রেখে হু'হাতে মেলে ধরলাম এর বেশি দেবার সাধ্য ছিল না, এতেই যথেষ্ট কষ্ট হবে ফিরতে, বন কষ্টের উপার্জন তবু এট। সছ্যায়ে যাচ্ছে_-এই য৷ সান্ত্বনা

বৃদ্ধ হ'হাত তুলে যেন দোয়া মাগার তঙ্গী করলেন একটা, তারপর নোট- খানি তুলে নিয়ে একটু সন্পেহ মু তিরস্কারই করলেন, “আপনি ছেলেমানুষ বাবুজী, কিছুই জানেন না, তাই দোষ নিলাম না| তবে শিখে রাখুন, নজরান। দিতে হয় আগেই, শেষে দেয় বকশিশ

তারপর হঠাৎই কেঁদে ফেললেন একেবারে, “কিন্তু বাবুসাহেব, কি লজ্জায় যে ফেললেন ! আমারও কিছু খেলাং দেওয়ার কথা, কিন্তু বাড়িতে এক টুকরে। নতুন কাপড় কি একট। আস্ত রুমাল পরধন্ত নেই ! এই য৷ দিলেন, ছু'মন চাল হবে, এক মাস খেয়ে বাঁচবে বেওয়াগুলো ।,

রৌশন আমার জামার হাতায় মৃদ্ধ টান দিয়ে বলল, “চলুন বাবুজী, দেরি হয়ে যাচ্ছে

সত্যোপলব্ছি।

আমাদের লোকনাথবাবু এক পুরুষেই পয়সা করেছেন। প্রথম যখন চেয়ে চিন্তে ধার ক'রে এই ছোট্ট কারখানাটি করেন তখন কেউ ভাবে নি যে এটা কোঁন- দিন দাড়াবে কিন্তু পোকনাথবাবু অক্লান্ত পরিশ্রম করে শুধু যে কারখানাটা দাড় করালেন তাই নয়, ফুলিয়ে ফীপিয়ে চার গুণ করে ফেললেন বছর কুড়ির মধ্যে

আমার সঙ্গে অনেক দিনের আলাপ উনি যখন দিন-রাত পরিশ্রম করছেন, তখন আমিও ঘুরছি এটা-ওট1 ব্যবসার ধান্দায়। এখন আমি সে সব মতলব ছেড়ে একট! ইন্কুগগ করে থিতু হয়েছি--ওরও শ্রীবৃদ্ধি হবার ফলে মনে প্রশান্তি এসেছে তাই এখনও মধ্যে মধ্যে- ছুটিছাট। পেলে ওঁর ওখানে যাই আড্ড! দিতে, এখন নিজন্ব বসবার ঘর হয়েছে, তার মেঝেয় কার্পেট পাতা, কলিং বেল বাজিয়ে চ-খাবার ফরমাশ করেন-_-এবং ঘোরানো চেয়ারে ওদিক ঘুরতে ঘুরতে নানাবিধ বাণী দেন।

একটা কথা উনি প্রায়ই বলতেন, “না মশাই, যতই বলুন-_নিজে যেমনই: ছই-_বে করার সময় লেখাপড়া জানা মেয়ে নেওয়া দরকার আমি যা বে: করেছি--অবিশ্যি তখন আমার ভাত রাধার লোকেরই দরকার ছিল- লেখা জানে না, পড়া জানে না, বিজনেসের কিছু বোঝে না, কারও সঙ্গে ছুটে। সমানে, সমানে কথা বলতে পারে না, জানে শুধু প্যান প্যান ক'রে কাদতে ছোঃ !- আমার স্ত্রী ষদি একটু লেখাপড।-জানা ম্মার্ট মেয়ে হ'ত, তাহলে আমায় পায় কেআজ।

লোকনাথবাবুর অনেক সাফল্যের মধো এই একটি অভাববোধও আর রইল: না ভগবান যেন স্থানে থেকে কানে শুনলেন ওর খেদোক্তিতাট!।

অবিশ্যি সবট। আমার দেখা ঘটন। নয়__বেশির ভাগই শোনা_-তবে অনেকে এই রকমই বলেছে, তাতে ধরে নিতে পারি এর অনেকখানিই সত্যি

নিজেই এসেছিল মেয়েটি হঠাংই একদিন দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ে ছিল। সুশ্রী তরুনী, চলাফেরা! কথাবার্তায় সত্যিই স্মার্ট হাতে ছ"গাছি মাত্র: চুড়ি, সাধারণ একট! তাঁতের শাড়ি পরনে-_তবু যখন সে কাউকে কিছু না বলে সটান ( বোধ হয় আন্নাজেই ) বড়সাহেবের ঘরের দরজা ঠেলে ভিতরে, ঢুকল-_-তখন কেউ বাধা দিতে, এমন কি “কী দরকার জিজ্ঞাসা করতেও সাহস করল না।

কাঁজ চায় অসীমা, বি. এ. পাস, মা ৰাপ নেই | কখনও দাদা, কখনও- দিদির বাড়ি থাকে, বিয়ে হবার কোন সম্ভাবনা নেই কারণ তার নিজন্ব কিছু. টাকা নেই কোথাও, সুতরাং নিজের একট জীবিক! নিজেকেই ক'রে নিতে হবে।

অল্প দু-চার কথায় খুব স্পষ্ট ভাষায় নিজের কথা বলে একট! চিঠির কাগজের প্যাড টেনে নিয়ে খন খস ক'রে একট! চাকরির দরখাস্ত লিখল-_ বলল, “এট! লিখলুম হাতের লেখা! দেখাব বলে। বাংলাও ভাল লিখি চিঠি পত্র সব লিখতে পারব--যাকে করেসপনডেন্স বলে__। টাইপ এককালে শিখে- ছিলুম, অনেক দিন অভ্যাস নেই, তবে আবার ছ-চার দিন প্র্যাকটিস করলেই স্পপীড এসে যাবে ।”

লোকনাথবাবু তো অভিভূত সেই মুহুর্তে চাকরিতে বহাল

৯৬.

করলেন অসামাকে”। মাইনে স্থির করলেন একেবারেই আড়াইশো ভীক।, নিজের ঘরের এক কোণেই একটা চেয়ার আর ছোট ডেস্ক দেবার ব্যবস্থা করলেন। অসীমা. অতঃপর সেক্রেটারীরূপে অধিষ্ঠিত হল। বল। বাহুল্য -ফ্কার্মে সেক্রেটারী রাখার কল্পনা আগের দিনও লোকনাথবাবু করতে পারেন নি। বেশ কিছুদিন, মানে মাস তুই কাঞ্জ করার পর-_-তার উপস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন লোক নাথবাবু, একটু নেশাও লেগেছে__হঠাং পুরো ছুটে দিন অসামা এলো না। শ্চিন্তায় প্রায় পাগল হতে বসেছেন লোক নাথবাবু, অকম্মাংই, একেবারে উন্কার মতো! এসে আবিভুতি হ'ল আবার কিন্তু তার অবস্থাও কতকটা লোক- নাথবাবুর মতোই, যেন ঝড়ে-পড়ে-যাওয়া ফুলগাছ একটি ( লোকনাথবাবুর অন্তত তাই মনন হ'ল--উপমাট। মনে মনে নিজেই তারিফ করলেন খুব )। “এসে এপো, কী ব্যাপার? অন্থথ করেছিল বুঝি? কা অবস্থা-_খাও নি বুঝি কাল, ওরে এই জনার্দন, যা যা, তাড়াতাড়ি গোট] চারেক সিঙাড়া 'আর ছুটে। রার্জভোগ নিয়ে আয়--: উদ্বেগে উত্তেজনায় লৌকনাথবাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালেন একেবারে, অপীম। যে তারই কর্মচারী তাও মনে রহল না| আর বাস্তবিক, ব্যস্ত তো হতেই পারেন। চুল রুক্ষ, অবিন্স্ত- চক্ষু কোটরগত, সেদিন যে শাড়ি পর! ছিল আজও তা! ছাড়। হর নি, আধ-ময়ল। নয়-_ময়লাই হয়ে উঠেছে বেশ শান্ত অবসন্ন অসীম! বসে পড়ে য। বলল তার নির্গলিতার্থ এই, দাদার কাছে থাক। তার অসম্ভব হয়ে উঠেছিল, কারণ সে যে স্বাধীনভাবে ভদ্র জীবন যাপন করে, সেট! বৌদির পছন্দ নয়। তিনি চেয়েছিলেন ওকে ভাড়া খাটাতে আত্মরক্ষার জন্তেই প্রায় এক কাপড়ে বেরিয়ে দিদির বাড়ি এসে উঠেছিল। কিন্তু গোড়ায় অত বোঝে নি--এখন দেখছে, ডাঙায় বাঘ জঙ্গে কুমীর। জামাইবাবুর আপিসের মালিক ছুপুর বেল! ক'রে দিদির কাছে আসেন। দিদি জামাইবাবুর হীন প্রবৃত্তি আর ওর সহা হচ্ছে না। সে তাই ছর্দিন আঁখানে না এসে পাগলের মতো একট! ঘর খুঁজে বেড়াচ্ছে কিন্তু মুশকিল

-&₹

হয়েছে এই-_-এক। যুবতী মেয়েছেলে, কোন বাড়িওলাই ঘর দিতে চাইছেন: না। হাতে পায়ে ধরে, বেশি ভাড়া কবুল ক'রেও কাউকে রাজী করাতে পারে নি সে। লোকনাথবাবু কি একট সাহায্য করতে পারেন না ব্যাপারে ? নইলে আর কোথাও ঠাই না পেলে সে মা গঙ্গার জরে ঠাই নেবে, তবু বাড়িতে এঁ জামাইবাবুর সংসর্গে সে আর থাকবে না।

তাকে চা-জলখাবার খাইয়ে লোকনাথবাবু তার অস্টিন গাড়ি বার ক'রে অসীমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন ঘরের সন্ধানে অসীম! যে সব ঘর ,দেখেছিল তার একটাও লোকনাথবাবুর পছন্দ হল না। শেষে ও'র এক মক্কেলের এক ফ্ল্যাটবাড়ির কোণের একটি এক-কামরা ফ্ল্যাট ঠিক করলেন, ভখডাও গর জন্তেই নামমাত্র নিতে রাজী হলেন তারা--মালে সওয়া শো।

অসীমা ব্যাকুল হয়ে বলল, “কিন্ত এত ভাড়া আমি দেব কোথা থেকে-_ মাসে একশে। পচিশ টাক। বেরিয়ে গেলে আমার খাওয়। পরা চলবে কি ক'রে 1

লোকনাথবাবু সন্সেহে হেসে ওর হাতের পিছনে মুছু একটি চাপড় মেরে বললেন, “সে হবে হবে, তুমি ব্যস্ত হচ্ছ কেন! আমি যখন ভাড়ায় রাজী হয়েছি তখন কি আর কথাটা ভেবে দেখি নি!”

তখনই পকেট থেকে আগাম এক মাসের ভাড়া ডিপজিট--মোঁট আড়াই শে। টাকা বার করে দিয়ে বললেন, “আমি আজ থেকেই পজেশান নিলাম--।

এবার অসীমার মালপত্র আনার কথ কিন্তু সে প্রস্তাবের উত্তরে অসীমা ঘা বলল, তার জন্য লোকনাথবাবুও প্রস্তুত ছিলেন না। সে বলল, “মালপত্র আর কি আনব। কিছুই তো৷ আমার নয়--বিছানাটি ছাড় সবই তো দিদির। ছুটে! কাপড় জামা শুধু-_তাঁর জন্যে আমি নরককুণ্ডে আর যেতে রাজী নই। আপনি যান, আমি একট! শাড়ি'আর একখানা গামছা একটু সাবানটাবান কিনে আনি আর কিছু লাগবে না, আঁষি মেঝেতেই বেশ শুতে পাঁরব-+

অসীম! যত সহঙ্তে বলল, লোকনাথবাবু কিন্তু তত সহজে একটা অল্প- বয়মী মেয়েকে অমন ভাসিয়ে দিতে পারেন না। অগত্যা তখনই বাজার দোকান কাঠের. গোলা গুভৃতি ্বুরে, একটা চৌকী, একগ্রস্থ বিছানা, একটা চেয়ার, ছোট টেবিল, আজনা, কাঁগড় জামা, প্রসাধন ভ্রব্য, রাম্মার সরঞ্জাম-

১০

বাড়ি বাসন উদ্ুন চাল ভাল তেল মশল। কিনে মোটামুটি ঘর সাজিয়ে দিলেন।

অতঃপর অনীম। যে সুখে শাস্তিতে সু প্রতিষ্ঠিত হ'ল, তা বলাই বাহুল্য মাইনে ছু" মাসেই বাড়ানো যায় না, তাহলে অন্য কর্মচারীর! ঝাঁ-বী। করে উঠবে, সকলেই বেশি মাইনের ধুয়ো৷ তুলবে-__ন্ৃতরাং লোকনাথবাবু নিজের পকেট 'থেকেই সম্পূর্ণ খরচা টানতে লাগলেন আর, একট! অল্পবয়সী মেয়ে এক। 'থাকে--অভিভাবকহীন অবস্থায়_-একটু দেখাশুনে। কর! দরকার বৈকি, সে কাজট।ও লোকনাথবাবুকে করতে হয়। আসা-যাওয়াট। সময় থেকে অসময়ে পৌছবে এও স্বাভাবিক, বিশেষ আপিসের পর সন্ধ্যায় যে খবর নিতে আসেন তার অবস্থনকাল দীর্ঘতর হতে থাকে ক্রমশ, সেট! উনি লক্ষ্য না করলেও অপরে করে অসীমা তো করেই

ন্ুতরাং এই ব্যাপার নিয়ে “নিন্দুকে'র রসনা কর্মব্যস্ত হয়ে উঠবে-__এতেও বিশ্মিত হবাপ কিছু নেই নানা জনে নানা কথা বলে, কর্মচারীরা তো! বলবেই তাদের বলার আরও সুবিধা, ইদানীং অসীমার আপিমে আসার কোন নিদিষ্ট সময় থাকে না, প্রতিদিন নিয়মিত আমেও না অথচ তার মাইনে কাট। হয় ন। এক পয়সাও

এসব কানাঘুষো লোকনাথবাবুর কানেও যে ন৷ পৌছেছিল তা৷ নয়। অথচ এই নিভৃত সাহচর্ষট! তাকে নেশার মতো পেয়ে বসেছে, যাওয়া আসা বন্ধ করতেও পারেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একই দিনে ছুদিক থেকে দুটি আঘাত এল-__ছুরকমের। সকালে লেখাপড়া-না-জানা প্রথমা স্ত্রী প্রমীলা! খুব আস্তে বললেন, গ্যাখো, ব্যাপারটা বড় দৃষ্টিকটু হয়ে উঠেছে, আমি আর ফান পাততে “পারছি না

লোকনাথবাবু বিবর্ণ মুখে শুকনো! ঠোঁটে জিভ,বুলিয়ে নিয়ে বললেন, “আমি-__মানে-_হুমি কি বলছ ঠিক-_

' মে কথার কোন উত্তর ন! দিয়ে__যেন এই শ্যাকামিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা ক'রেই প্রমীলা তেমনি শান্ত কণ্ঠে বলে চললেন, “ছেলেমেয়েরা বড় হচ্ছে_ ভাঁদের কানেও এসব কথা উঠছে তো, বড় ছোট হয়ে যাচ্ছ তুমি সকলের কাছে তার চেয়ে ওকে বিয়ে ক'রে ফ্যালো-_কেউ কিছু বলতে পারবে না।,

“১৪

কিন্ত এখন তো-- ছুটে! বিয়ে, মানে--” তৃতিয়ে তৃতিয়ে বললেন

'লোকনাথবাবু।

প্রমীল। বললেন, “হিন্দুমতে পুরুত ডেকে বিয়ে করো--তাহলে আর আইনের প্রশ্ন উঠবে না। আর মামল। করবে কে, আমি তো--? আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, এই পা! ছুয়ে বলছি আমি নিয়ে কোন বাধ! দেব না, কি কোন অশাস্তি করব না।

লোকনাথ সেদিন আর তখনই কারখানায় গেছেন না, বাড়ি থেকে বেরিয়ে অপীমার ফ্র্যাটেই গেলেন আগে দোরে বেল টিপতে অসীমাই দরজ। খুলে দিল কিন্তু তার অবস্থা দেখে একেবারে চমকে উঠলেন লোকনাথবাবু। বেশভৃষা আলুথালু, চোখে মুখে কান্নার চিহ্ন, বোধহয় মেঝেতে মাথাও কুটেছে, কেন না কপালের ঠিক মাঝখানে খানিকট। জায়গায় ধুলে। লেগে

“এ কী ব্যাপার! যনযা-? লোকনাথবাবু নিরতিশয় উদ্দিগ্র হয়ে প্রশ্ন করলেন

“আমি নাকি খারাপ মেয়ে। আমারসঙ্গে আপনার সম্পর্কটা নাকি নোংরা! কথা শুনতে শুনতে তো৷ আমার দুই কান পচে গেছে__আপনার কারখানায় কোন লোক বাদ নেই আমাকে ধরনের কুকথা৷ শোনাতে আজ বাড়িউলী বলে গেলেন, আমি যদি আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে ফ্ল্যাট না ছাড়ি-_তিনি পুলিসে জানাবেন যে আমি এখানে বসে বেআইনী নোংরা ব্যাপার চালাচ্ছি ।»

বলেই আবার আছড়ে পড়ল সে।

এর পর আর বিয়ে না! করার কোন উপায় রইল লা অবশ্ট কারণও ছিল না, ইচ্ছা তে ছিলই। প্রমীলাই তো স্থুরিধা ক'রে দিয়েছে।

পুরোহিতও একজন প্রমীলাই ঠিক ক'রে দিল, যোগাড়যন্ত্রের লোকেরও অভাব হ'ল না। ছুজন পুরনে৷ কর্মচারী ন্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এসে সে ভার নিল, তাদের মেয়েরা এসে এয়োর কাজ সারল।

এর পরে ছুটে সংসার পুরোপুরি ঘাড়ে এসে পড়ল লোকনাথবাবুর। অবশ্য অসীমাঁর খরচ তো টানতে হচ্ছি্পই কিন্তু স্ত্রী হবার পর সেস্ত্রীর পুর্ণ মর্যাদা দাবী করবে তে। জানা কথাই খাট আলমারী কার্পেট ড্রেনিং টেবিল, তার লঙ্গে রাত-দিনের একটি বিও। ফলে লোকনাথবাবুকে নিজের শখ-সৌখীনত!

আনেক কমাতে হয়। কারখানার নতুন বাড়ির কাজও টিলে পড়ে-_-কারণ ওর যা কারখানা! তাতে এত টাক হয় না। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা ধার করবেন--যতটা; টাক ওর দরকার-_ব্যাঙ্ক ততটা দিতে রাজী হয় না, ওর নাকি য়্যাসেট সে পরিমাণ নেই

শুধু তাই নয়-_কোথায় কতক্ষণ কাটাচ্ছেন, মান-অভিমান জবাবাদহি__- আজকাল প্রায় নিত্যকারের অশান্তি হয়ে উঠেছে প্রমীল। তত নয়_-যত অপীম!। প্রমীলা গোড়ার দিকে একবার বলেছিল শুধু, “ওখানে কি রাতট।, রোজ না কাটালেই নয়? ছেলেমেয়েরা বড় হচ্ছে, ওরা জিজ্ঞেস করে বাব! কোথায় গিছলেন মা কাল ?--আমি কোন জবাব দিতে পারি না।

আবার এদ্িকে--অসীমা অত ধৈর্ষের সঙ্গে মিট্রি ক'রে বলার মেয়ে নয়। সে রণরঙ্গিনী মৃতি ধরেই আছে বলে, “কেন, কিসের জন্যে আমি দাসা-বাদীর অতে। এক! পড়ে থাকব। আমাকে সঙ্গে নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যেতে হবে, বন্ধু-বান্ধবদের নেমন্তয্ে সঙ্গে নিতে হবে__এই সাফ বলে দিলুম। নইলে তুলকালাম কাণ্ড করব।

লোকনাথবাবু দুঃখের কথা জানাতে গিয়ে দস্তরমতো। ঘেমে ওঠেন-- পাখার নিচে বসেও বলেন, “ও দুটে1 বিয়ে করার কি ঝকমারি | না মিত্তির- ৰাবু, আপনাকে সাবধান করছি, আমাকে দেখে শিখুন কোনদিন পথে পা বাড়াবেন না পয়লা যত্তই হোক, শ্যাল-কুকুরের বে দিয়ে খরচ করবেন সেও ভাল-_নিজে কখনও ছুটে সংসার ফাদতে যাবেন না।,

রাঁধীকে আনল প্রমীলাই | বলল, “তোমার খুব শখ আপিসে মেয়েছেলে ঝাঁখার_এই মেফেটিকে রাখবে? আমার দুর সম্পর্কের বোন, মানে বাবার আাম'তে। ভাইয়ের ভাগ্নী। এর! নাগপুরে থাকত, মা মারা গেছেন, বাবার' পক্ষাঘাত হয়েছে, একট] ছেলেমানুষ ভাই, সে পুরো সংসার টানতে পারছে বা। আর তেমন কেউ নেই, কোথায় যাবে--তোমার নাম শুনে এখানে এ্ীসেছে, যদ্দি কিছু হিল্লে হয়।,

মেয়েটিকে দেখলেন লোকনাথবাবু, সুন্দরী নয়--হবে শ্রীময়ী। এমন চমৎকার একটি লাবশ্য আছে--যষাতে ওর দিকে চোখ পড়ে আর রূপের কথ?

খুদি

মনেই আসে না। চোখ জুড়িয়ে গেল ঠিকই, মেয়ে কাছে থাকলে মনট। খুশী থাকবে তাতেও সন্দেহ নেই তবু, একবার অসীমার কথাট। মনে পড়ে শিউরেও ওঠেন। নিচু গলায় বলেন, “আবার ! একবারে তোমার শিক্ষা হ'ল না? আবার যদি এই ফাদে জড়িয়ে পড়ি।

প্রমীলা বলে, “কেন, একবারে শিক্ষা হয় নি? ন্যাড়া বেলতলায় ক'বার যায়? তোমার কাছে আর ভয় নেই বলেই ওকে দিতে চাইছি টিকে নিলে আর কালর! বসন্ত হয় না--আমি তো! ভেবেছি অসীমাকে দিয়েই তোমার টিকের কাজ হয়ে গেছে |

'তা কতদূর লেখাপড়া করেছে ? লোকনাথ প্রশ্ন করেন। |

“সে এমন কিছু নয়। ওখানের ইঙ্কুলের পড়। শেষ করেছে-__-কলেজে পড়া হয়ে ওঠে নি, তার আগেই নাকি ওর বাবার পক্ষাঘাত হয়েছিল ওখানে-_ মানে ওরা থাকে শহরের বাইরে একটু গায়ের দিকে, টাইপ করাটরাও কিছু শিখতে পারে নি। বলে কারখানায় কাজ শিখবে

“এ রাজ্যের পুরুষ-মিস্ত্রীর সঙ্গে? সে কি ভাল হবে?

“সে কথা৷ তো। বলছি। রাখী বলে তোমার কোন ভাবনা নেই, আমি নিজেকে ঠিক বাঁচাতে পারব তোমাদের কোন হাঙ্গামা হবে না, দেখে নিও।"..।

লোকনাথবাবু রাজী হয়ে গেলেন- পরের দিন কারখানায় নিয়ে গিয়ে হেডমিস্তিরী--উনি বলেন ফোরম্যান_-পরাশর সাধুর্থার জিম্মা ক'রে দিয়ে বললেন, “এ আমার আত্মীয়, ওর খুব ইচ্ছে কারখানায় কাজ শেখে ।*."তুমি ছাড়া কেউ পারবে না, একটু যত্বু ক'রে শিখিও, আর--কাচা বয়েস বুঝতেই পারছ---একটু নজরও রেখো |

এই আত্মীয় বলাটাই ভুল হ'ল বোধ হয়। কারখানার সাতাশ আটাশ জন শ্রমিক বা মজছুর-__সঙ্গে সঙ্গে বিছিই হয়ে উঠল সকলেরই এক কথা, “বাবু আমাদের বিশ্বাস করেন না--গোয়েন্দ। বসিয়েছেন নজর রাখার জন্ঘযে ।৮, এমন মেয়ে এই মিক্ত্রীর কাজ শিখতে আনবে কেউই বিশ্বাস করল ন!।

শেষে এমন অবস্থা দাড়াল যে, কারখানায় আর রাখা গেল না। অথচ এই মিঠ্রি মেয়েটিকে ভাড়িয়ে দিতেও কষ্ট বোধ হ'ল তার। তিনি অসামার

কখ। কল্পনা! কাহিনী-৫ম---২

চেয়ার টেবিল ওকে দিয়ে নিজের ঘরেই বসালেন ংল! হাতের লেখ খারাপ, ইংরেজাটা চলনসই-_ছু-একট! চিঠিপত্র নকল

কর ছাড়া কোন কাজ নেই৷ তবু বসেই থাকে সে। লোকনাথবাবু প্রমীলার কাছে উচ্চাঙ্গের হান্ত করেন, “হয়েছে ভাল। এও এক রকম ফানিচার আর কি, আপিস সাজানে। বলি সেক্রেটারী-_কিস্তু কেউ যদি সত্যি সত্যিই তাই মনে ক'রে কথ। কইতে যায়, তা হলেই ব্যাভমের শেষ থাকবে ন।।,

কথাটা? অলীমার কানেও উঠল তুলল কারখানার লোকরাই গিয়ে বৌদিদি সম্বন্ধে যথেষ্ট আত্মীয়তা প্রকাশ ক'রে, তার স্বাস্থ্যের জন্য উৎকণা দেখিয়ে_-শেষে এই খবরটি দিল।

অসীম একেবারে দপ ক'রে জ্বলে উঠল। রাগারাগি ঝগড়াঝাটি, মাথ। খোড়াখুড়ি-যত রকম “সীন” করার কথা জান। আছে কোনটাই বাদ গেল না।

শেষে বলল, “ওকে আজই তাড়াও-_-যদি ভাল চাও তো1।,

লোকনাথবাবু অনেকদিন ধরেই উত্যক্ত হয়ে উঠেছিলেন, শিক্ষিতা ম্মার্ট মেয়েতে তার অরুচি হয়ে গেছে বনুদিনই, প্রমীলা তবু সেবাযত্তের ত্রুটি করে --এ তো! একেবারেই রাঙা মূলো বিশেষ এর এই কলহতিক্ত মুখের পাশে রাখীর মিষ্টি মুখখানা কল্পনা ক'রে তিনি মন স্থির ক'রে ফেললেন মুখ গৌঁজ ক'রে বললেন, “আমার আপিসে কাকে রাখব না রাখব সে আমি বুঝব__- তোমার কথা শুনে আমি ব্যবসা চালাব না।”

অসীম বললে, গ্যাখো ভাল হবে না বলে দিলুম।”

“ারাপটাই হোক দেখি। ভাল তো অনেক দেখলুম ।' লোকনাথবাবু বেরিয়ে এলেন

প্রথম মনে হয়েছিল অসীম! বোধ. হয় আত্মহত্যাই করবে। কিন্তু সে ধার দিয়েই সে গেল না য। করল তা হচ্ছে পরের দিন সকালে মাথায় ঘোমটা টেনে গিয়ে কারখানার দোরের কাছাকাছি একট। গলির মোড়ে দাড়িয়ে রইল একটু পরেই বাবুর সঙ্গে বাবুর গাড়িতেই এসে নামল রাখী

অসীম ভাল ক'রে দেখে নিয়ে নিঃলন্দেহ হল-_তারপর বাঁর দর্পে কর্তার আপিসের ঠেলা-দোর ঠেলে ভেতরে ঢুকে বলল, “অ, ইনিই বুঝি তোমার নতুন

৮:

সেক্রেটারী, তোমার প্রথম পক্ষের আত্মীয় ? ত৷ বেশ, তবে এও শুনে রাখো, এই ঠাকরুনটিকে বইখাতা। হাতে নিয়ে কলেজ-গার্প এই ঠাটে খদ্দের ধরবার জন্তে লিগুসে গ্রী অঞ্চলে রাত্রে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। হয় না হয় ওকেই জিজ্ঞাসা করো-_-আমার সামনে ন! বলুক, সাধ্য থাকে তে11,

'গাট আপ! লোকনাথবাবু গর্জন করে উঠলেন, “তোমাকে এখানে আসতে কে বলেছে! এট। আমার আপিন, হিংসের কাদ! ছিটিয়ে ডার্টি ঝগড়া করার জায়গা এট। নয়। তুমি বেরিয়ে যাও এখুনি বলছি, নইলে আমি চুড়াস্ত অপমান করতে বাধ্য হবে |” ]

“করে না_ক্ষমতা থাকে তো৷। দেখি কার ঘাড়ে কট। মাথা! আছে আমার গায়ে হাত দেয় ।* সদস্তে উত্তর দেয় অসীমা, গলাটা আর এক পর্দা চড়িয়ে, “বলি কী গো-_ঠাকরুন, বলো না, তোমাকে ঠিক চিনেছি কিনা ।,

এবার লোকনাথবাবুকে স্তম্ভিত হতভম্ব ক'রে দিয়ে রাখী প্রশান্ত কণ্ঠে উত্তর দেয়, “কেন চিনবে না, ছুজনেই পাড়ায় ঘুরেছি কত দিন, রাত দশটা এগারোট। পর্বন্ত-_চেনার তো! কোনে। অন্নুবিধে নেই এই প্যাচটা তোমার মাথায় আসতে য। দু-তিন বছরের ছাড়াছাড়ি তাতে কি আর এতদিনের চেনা- মুখ ভূল হয়ে যাবে! বুদ্ধি ষে তোমার খুব তা মানতেই হবে আর ওরই মধ্যে একটু ইংরিজী জানে। তাতেই মিথ্যে ঠাট্ট। বজায় দেওয়া সোজ। হয়েছে,

অনাবশ্টক বোধেই কথাটা শেষ করে না রাখী লোকনাথবাবুর দিকে ফিরে বলে, "নমস্কার ! দিদিকে বলবেন, তার কাজ আমি হাসিল করে দিয়েছি একদিন ধীরে সুস্থে গিয়ে বাকী টাকাট। নিয়ে আসব ।৮

ধাক্কাটা একটু একটু ক'রে সামলে উঠলেন বৈকি চরম আঘাত বোকা প্রতিপন্ন হবারই অসীমা কাপড় গয়না নিয়ে, কিছু আসবাব বেচে সরে পড়েছে, ভালই হয়েছে এত সহজে ঘাড় থেকে নামবে লোকনাথবাবু ভাবেন নি। এজন্যে তিনি প্রমীলার কাছে কৃতজ্ঞ। কেবল রাখী মেয়েটার জন্টে এখনও তার মন-কেমন করে। অত মিষ্টি যার মুখ সে এত বদ হতে পারে না। নেহাৎ বোধ হয় নিরুপায় হয়েই--সংসার চালাবার জন্তেই--হয়ত অনেক ভাইবোন কে জানে!

১8”

এখন দেখা হলে একটাই বাদী দেন লোকনাথবাবু। “মেয়েছেলে জাতটাই ছ্যাচড়া_-যা বলব মিত্বিরবাবু। সব সমান, আগে ভাবতুম পাড়াগেঁয়ে অশিক্ষিত মেয়ের! বুঝি বোকাসোকা', ভাল মানুষ বাপু! শহরের মেয়েরা যদি যায় ডালে ডালে ওরা যায় পাতায় পাঁতায়। বে করাটাই বোকামি যারা করে না, তাদের আমি নমস্কার করি

মণি-সামীজা

মণি-মামীমাকে নিশ্চয়ই চেনেন ? অন্তত তাকে দেখেছেন অনেকবারই, একটু বর্ণনা দিলেই চিনতে পারবেন শ্যামবর্ণ, মোটাসোটা, জণদরেল গেছের চেহারা _বেশ শক্ত-সমর্থ-_এককালে হয়তো সুশ্রীই ছিলেন, এখন ধাকে দেখলেই মনে হয় যে আর সামান্ত একটু ঢ্যাঙা হ'লে কিংবা! মেদট। কিছু কম থাকলে এখনও সুশ্রী ঝলে চালানো যেত; ভাল ভাল দেশী তাতের শাড়ি পরনে (রঙ্গীন ডুরেতেও আপত্তি নেই ); গলায়, কানে হাতে অতি আধুনিক ডিজাইনের গহনা (প্যাটান ঘন ঘন পাপ্টে আধুনিকত। বজায় রাখ। হয় )-_ আর কোথাও গহনা পরেন না তিনি, তাতে নাকি জবরজং দেখায় ; ঘাড়ের উপর এলো খোপাটি এলিয়েই থাকে সর্বদা, মুখটি থাকে তান্বুল-রদসিক্ত-_ দেখেছেন নৈকি' বন্বারই দেখেছেন।

কোথায় দেখেছেন ?

কোথায় দেখেন নি জিজ্ঞাসা করলে বোধ হয় বলা সহজ হ'ত। তাকে দেখেছেন, ধরুন মণ্টমদার গানের আসরে, কলেজ স্কোয়ারের পাঠ-মন্দিরে, মাঘোৎসবের প্রার্থনা সভায়, বাগবাজারী কীর্তন দলের পিছু পিছু, ভবানীপুর সাহিত্য-সম্মেলনে, বামপন্থী ফেডারেশনের কার্ধকরী সমিতির অধিবেশনে, বিলিতি কোন কোম্পানির অফিনের রনীন্দ্-জয়ন্তী অনুষ্ঠানে _-এ ছাড়া যে- কোন নামকরা লোকের বাড়ি, বিবাহ থেকে শ্রাদ্ধ__যে কোন ক্রিয়াকলাপে !

কেমন ক'রে সর্বত্রই তিনি নিমন্ত্রণ সংগ্রহ করতেন--এ রহস্য আজও অনাবিষ্কৃত রয়ে গেল। অথচ গত কুড়ি বছর ধরে তো। একই রকম দেখে আনছি!

কে আছে তার?

২.

কেউই নাকি নেই। অবশ্য তার বা ছাতে লোহা এবং সি'খিতে সিছুর আছে। যদিচ তার স্বামীকে তিনি ছাড়া! ফেউই দেখে নি বস্থকাল। কিন্তু সে প্রসঙ্গ যদি তোলেন, তাহ'লে আর রক্ষা! নেই কেমন ক'রে তের বছর বয়সে সার সঙ্গে আটাশ বছর বয়সের এক জোয়ানের বিয়ে হয়েছিল, তাও সে ছিল বেশ্টাসক্ত ; তিনি বয়সেই কেমন তেজন্বী মেয়ে ছিলেন, তিনি করেছিলেন স্বামীর আচরণের প্রতিবাদ ; ফলে স্বামী আর বিধবা ননদ তার ওপর কি পৈশাচিক নির্ধাতন করেছিল ( বলতে বলতেই তিনি বাম বাহুমূল খুলে একটা পোড়া-সাদ1 দাগ দেখিয়ে দেবেন ); তারপর কেমন ক'রে তিনি পালিয়ে আসেন 7 মা মারা গেলে বোনের বাড়ি আশ্রয় নিয়ে কী ভাবে উদয়াস্ত ক্রীত- দাসীর মতো! খেটে তাদের খুশী রাখতে চেষ্টা করেছিলেন__তবু তাদের মন পান নি, উল্টে ভগ্নিপত্তি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে জীঁধষিত হয়ে তার বোন কী ভাবে সারাদিন একটা আলমারির মধ্যে পুরে রেখে মারতে বসেছিল ; সেখান থেকে বেরিয়ে কেমন ক'রে নিজের চেষ্টায় তিনি লেখা পড। শিখেছিলেন, এবং এখনও আত্মসম্মান বজায় রেখে কেমন ক'রে তিনি জীবিকা-নির্বাহ করছেন-_- (সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ নিঃশ্বাসের সঙ্গে জানাবেন, ওরই-মধ্যে-একটু-ন্ুশ্রী মেয়ের কী কষ্ট একা এক! সম্ভ্রম বজায় রেখে চল। ! ) এর দীর্ঘ এবং ক্লাস্তিকর কাহিনী আপনাকে শুনতে হবে বসে বসে।

যদি প্রশ্ন ক'রে বসেন, এখন আপনার চলে কিসে--তো। দেখবেন ভার ঈশ্বর-বিশ্বাসও কারুর চেয়ে কম নেই। তিনি অর্ধ-নিমীলিত চোখের দৃষ্টি আর একটু চোখের পাতার মধ্যে ঢেকে বলবেন-_-উনি চালান আমাদের আর কতটুকু ক্ষমতা বলো ভাই !,

এরপর আর কোন প্রশ্নই করা চলে ন1। ভবানীপুরের কোন বিখ্যত বড় রাস্তার ওপর এক বিরাট বাড়িতে তিন তলার ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি, ঝি আছে; ঠাকুর আছে-_বেশভৃষা তো আপনারা দেখছেনই-_স্থৃতরাং চলে কিসে” এটা বড় প্রশ্ন হয়ত বার বার আপনার গলার কাছে নান প্রশ্ন ঠেলে উঠবেও, তবু সন্কোচে আপনি আর কথাট। তুলতে পারবেন না।

মানব-মনের- বিশেষত: শিক্ষিত ভঙ্বরে মনের এই রহস্যটা! মণি-মামীমাও জানেন, তাই তিনি অত নিশ্চিন্ত

মণি-মামীমা প্রায়ই আমাদের বাড় আসেন। এমনি আরও অনেক বাড়িতেই কিছু কিছু চাঁদা তুলতে আসেন, সেই সঙ্গে আসেন মেয়েদের হাতের কাজ বেচতে পাড়ার অনেক বিধবা এবং অনাথ স্ত্রীলোকের নাকি তিনি অভিভাবিক1। ক্রুশে বোন! খুঞ্চেপোশই বেশির ভাগ-_এ ছাড়া ফুল- তোল! অথব! নামের আগ্যক্ষর লেখ! রুমাল, এই ধরনের নিতান্ত অকিঞ্চিংকর জিনিস বাঁজারের তিন গুণ দামে বেচে যান তিনি কিনতেই হয়, নইলে সম্ভ্রম থাকে না। তিনি তো আর যে-সে বাড়িতে যান না, বিশিষ্ট ভদ্রলোকদের বাড়িতেই আসেন। বিশেষতঃ যখনই আসেন, হয় কারুর বাড়ির গাড়ি ধার ক'রে, নয়ত ট্যাক্সিতে। তারপর আর তাকে ফিরিয়ে দেওয়। যায় না।

নান। রকম গল্প করেন মণি-মামীমা তার সবগুলিরই মূল সুর-_-সাধারণের উপকার ক'রে করে তিনি ক্লাস্ত। অথচ কী যে পোড়া দেশের লোক তাকে পেয়ে বসেছে ! তিনি ছাড় যেন মানুষ নেই দেশে!

একদিন আমার দিদিম' প্রশ্ন করেছিলেন, “হা! বৌমা, তা আমাদের ছেলেকে দেখ নি কতকাল? এখনও তো নোয়া-সি হুর খোল নি দেখছি

“না মা_-এই তো দশ বছর আগেও। এক-একদিন হঠাৎ খুঁজে খুঁজে এসে হাজির হন। খেতে পাচ্ছি না, চিকিৎসা হচ্ছে না, ছেলেমেয়ের অন্ুখ-_- অমুক তমুক-_খুব খানিকট। নাকে কাদবেন-_-আসল কথা টাক। চাই কিছু। য! থাকে হাতে সব বাগিয়ে নিয়ে চলে যান। না--উপকার আর কিছুই নেই। এঁ যা মাছ-ভাতট। খাচ্ছি__,

কিন্ত সে-ও অনেকদিনের কথা মণি-মামীমা ধরে রেখেছেন-_-ভদ্রলোকের এক কথ। যখনই প্রশ্ন করবেন শুনবেন-__দশ বছর আগে একবার স্বামী এসে- ছিলেন তার। তবে একটা সুবিধা, বর্তমান যুগের শিক্ষিত মানুষ অনেকেই অশোভন বা অস্বস্তিকর কৌতৃহল মনে চেপে রাখতে পারে

তবে দিদিমা! সেকেলে লোক, তাছাড়! তিনি তর শ্বশুরবাড়ির সবাইকেই একসময় চিনতেন। কী নাকি একট! কুটুন্বিতাও ছিল। সেই ন্ুুবাদেই আমাদের মামীমা-এখন তো এপাড়া। সুদ্ধ সকলকারই দিদিমা! বলতেন, “সোয়ামীটা ওর লেখাপড়া জান! নয় বটে, কিন্তু ওরকম বদও নয়।

১৬

সব্বনেশে বোয়ের জ্বালাতেই তো ওর! দেশাস্তরী হয়েছে। কার সঙ্গে কী করে যেন বেরিয়ে এসেছিল, সেই ঘেন্নাতে তারা৷ এখানকার বাস উঠিয়ে পশ্চিমে চলে যায় সেখানে আবার বিয়ে-থাও নাকি করেছিল কিন্তু শুনেছি তো সে প্লেগে মারা গিয়েছে "সে ভূত হয়ে এখনও ওর কাছে টাক! নিতে আনে নাকি ?.-মুখে আগুন অমন মেয়েছেলের। ওর ছায়া! মাড়ালে পাপ হয়." তোদের যেমন, নষ্ট মেয়েমানুষটাকে আবার চা পান খেতে দিয়ে গল্প করিস। তোদের ঠকিয়ে রাশ রাশ টাক। নিয়ে যায়, তোর! বুঝতে পারিস না 1... "

আমরা জানতুম মণি-মামীমার কেউ নেই, হঠাৎ একদিন আমার মায়ের সঙ্গে গল্প করতে করতে বললেন, “ছেলেটা এবার ওদের ক্লাসে ফাস্ট” হয়ে উঠেছে ভাই এমনি বরাবর চালাতে পারে তবে তো বুঝি 1

ছেলে? সে আবার কি?"".ছেলে আছে নাকি ওর?**'কে যেন সোজান্জি প্রশ্নই করল।

মুখে একট। পান পুরতে পুরতে সহজ কণ্ঠে বললেন, “না, আমার বোনের ছেলে তা ওর মা তো ওকে প্রসব করেই চোখ বুজল, সেই এক দিনের ছেলে থেকেই মানুষ করছি আমার ছেলেরও বাড়। |,

মাসিম! প্রশ্ন করেছিলেন, “কোন্‌ বোন আপনার ? আপনার তে। এক বোনই শুনেছি, সে-ই আপনাকে আলমারিতে পুরে-?

না না। হা, আমার আপনার বোন একটিই বটে। বলছি আমার মাসতুতে। বোনের কথা আমার নিজের মাসতৃতো €বান

ম্ণি-মামীমা চলে গেলে-__ আড়াল থেকে শুনলুম-_-দিদিম! মুখ বাঁকিয়ে বললেন, “মুখে আগুন মুখপোড়। মাগীর মরণও হয় না। দিন রাত ঝুড়ি ঝুড়ি মিছে কথা |'"ওর যারা আপনার লোক আছে তারা কেউ ওর মুখ দেখে নাকি? যার সঙ্গে বেরিয়ে এসেছিল সে যখন ফেলে চলে গেল, রোগে রোগে আধমরা, খেতে পাচ্ছে না দেখে ওর দিদ্দি নিয়ে গিয়ে বাড়িতে পুরলে। ওম। একটু যেমন ভাল হয়ে উঠল, তারই কপালে নুড়ে। জ্বাললে !.**মারতে যাবে না তে কী। বেশ করেছিল আলমারিতে পুরে রেখেছিল ।'

মাসিম। প্রশ্ব করলেন, “এ তবে কার ছেলে?

_ কার ছেলে বুঝে গ্ভাথ তোরা হঠাৎ একদিন শুনলুম ওর কোন্‌ .বোনের অসুখ, তার খেজমত করতে যাচ্ছে। তিন মান পরে ফিরে এল ছেজ্গে নিয়ে কী সমাচার, না-__বোন পোয়াতি অবস্থায় রোগে ভূগছিল, প্রসব করেই মারা গেছে। সেখানে দেখবার কেউ নেই ঝলে নিয়ে এসেছে ।-..তা তে এলি, তা তোর অমন পোড়ার দশ! কেন ? রোগা, সাদা হয়ে গেছজ একেবারে, চুলটুল উঠে___মড়ার আকার ! :.আর যদি তার বাপই থাকবে--কই সে তো! একবারও দেখতে এল না !,

মুখখানা বিকৃত করেন দিদিম |

ইদানীং আরও একট] কানা-ঘুষে। শুনছিলাম

কতকগুলি মেয়েও নাকি ওর আছে, পুধ্তি মেয়ে। তাদের সব ইতিহানও তৈরী। কার সমস্ত আত্মীয় স্বজন একদিনে কলেরাতে মারা গিয়েছিল, কাকে শিয়ালদ] ইস্টিশানে কুড়িয়ে পেয়েছেন, কোন্‌ বাঁপ-মা-মরা মেয়ের মামা ভাকে কোন বিহারী মুদীর কাছে সওয়া-শ" টাকায় বেচতে যাচ্ছিল, পাড়ার ছেলেরা উদ্ধার ক'রে তার হাতে দিয়েছে__-এমনি সব বিচিত্র চমকপ্রদ বিবরণ পীচ- ছয় থেকে শুরু ক'রে আট দশ বছরের মেয়ে প্রায় গুটি ছয়েক এসে জড়ো হয়েছিল নাকি তার কাছে তারা এখন সকলেই প্রায় তরঃণী |

তাদের জন্য কে করতেও হয়েছে অনেক শহরতলি অঞ্চলে একটি স্বতন্ত্র বাড়ি ভাড়া করতে হয়েছে, শিক্ষয়িত্রী রাখতে হয়েছে একজন, লেখাপড়া ছাড়! কিছু কিছু শিল্প-শিক্ষার ব্যবস্থাও করেছেন ছুটি মেয়ে নাকি প্রাইভেটে ম্যাট্রিকও দিয়েছে-_-এখন কলেজের পড়া পড়ছে না-_ মেয়েদের উনি ইস্কুলে দেবার পক্ষপাতী নন। তাতে--মাঁপ করবেন আপনারা, আপনাদের কথা আলাদ, আপনারা মেয়েদের ওপর কড়া নজর রাখেন-_কিস্তু তিনি তো৷ একা মানুষ, নানান তালে ঘুরে বেড়াতে হয়_-এ অবস্থায় ওদের ইস্কুলে দেওয়। মানে স্বভাৰ- চরিত্রটি বিগড়ে দেওয়া, সর্বনাশের পথেই ঠেলে দেওয়া