মসনত৫ ০মাবল

এতিহাসিক নাটক

শ্রীঅমল সরকার এম্‌

কসর বেতের শর্ত ওটি চা িনিন্বেকাত্হচা »

প্রথম সংস্করণ £ ৩১শে জুলাই ১৯৫৭

মূল্য £ ছুই টাকা

নাট্যকারের £কফিয়ৎ

বন্ধুর! আশা করেছিলেন “অবতার শ্রীরামকৃষ্ণ”, “বিপ্লবী বিবেকা- নন্দ”্র পর হবে “সেবিকা নিবেদিতা ।” কিন্ত তার পরিবর্তে লেখা হল এতিহাসিক নাটক-_“মসনর্দে মোঘল”__কেন? ঠিক এমনি প্রশ্নেরই উত্তর দিতে হয়েছিল বাংপাব সর্বশ্রে্ঠ এতিহাসিক নাট্যকার ৮ডি, এল, রায়কে তিনি যখন একেব পথ এক “পবজাহান”, “ছুগাদীস”, “সাজাহান", “মেবার পতন” লিখে চলেছেন তথন তাব এক অন্তরঙ্গ বন্ধু বললেন-_বায়সাহেব, অনেক গোস কুটি কাবাব খাওয়ালেন, এইবার একট পরমান্ন পরিবেশন করুণ তাবই ফল-_“চগ্দ্র8”। আমার বেলায় কিন্ত ঠিক বিপরীত। মহাপুরুধদেব জীবন বাণী নিয়ে যখন ৰচনা করবাব চেষ্টা চশছে ঠিক তখনই মনে হল একট এঁতিহাসিক নাটক লিখে মুখ বাহাত বদলে নিশে কেমন হয়। অবশ্য বহুকাল পূর্বো একখানা এতিহাসিক ণাটক “তিষ্যরক্ষিতা” পিখেছিপায তারপর গত ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে ছুটি নিয়ে দিল্লী, '্মাগ্রা, ফতেপুবসিক্রি, পাণি- পাত কুরুক্ষেত্র ঘুবে এলাম এঁতিহাসিক নাটক লেখবার বাসন। আরও প্রবল হপ। একেখ পর এক সমাধিক্ষেত্র দেখেছি আপ্র মোঘপ- সাম্বাজো বিভব, এতিহ্ব, সংস্কৃতি, শিল্প সৌন্দরধ্যবোধ মনের পর্দায় তেসে এসেছে মোঘলযুগকে সন্ধিযুগ বললে বোধহয় ভুল হবে না। একাধারে শিল্প, কাব্য, সংস্কৃতি যেমন উন্নতি উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল তেমনি ন্যদ্িকে হানাহানি, চক্রান্ত, ষভযন্ত্র_-পিতার বিরুদ্ধে পুত্র, ভায়ের বিরুদ্ধে ভাই, স্বামীর বিরুদ্ধে স্বী-_এ যেন নিত্যনৈমিত্তিক কার্ধা। সেই মোঘলের গৌরবন্ূর্ধ্য অন্তমিত হয়ে আসে উরংজীবের মৃত্যুর পরই একেকজন বিলাসী মগ্যপায়ী লম্পট সম্রাট সিংহাসনে বসেন আর ছায়াছবির মতই মিলিয়ে যান। এই পতনের মাঝে যে দুজন সগ্্রাট কিছুটা বৈশিষ্ট্য নিম্নে তক্তে তাউসে আসীন হুন-_-তীরা হলেন- জাহান্দার শা তীর ভ্রাতুম্পুত্র ফারুকসিয়র জাহান্দার শাকে

৮৮৩

নিয়ে নাটক লিখেছেন শ্রীপ্রেমাস্থুর আতর্থা এবং সেটা অভিনীত হয় ৬নাট্যাচাধ্য শিশিরকুমার ভাদুড়ীর প্রচেষ্টায় কিন্তু ছুঃখের বিষয় সেই নাটক দেখবার ব৷ পড়বার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তাই জাহান্দার শাকে ছেডে ফাকুকসিয়র সৈয়দভ্রাতাদদের কীতিকলাপ নিয়েই এই নাটক লেখবার প্রয়াস।

ংস্কত নাটকে বা আগেকার যুগের ইংরেজী নাটকে দেখা যায় ষে নাটকের বিষয়-বস্তর একটা আভাস প্রথমেই দিয়ে দেওয়া হয়। সংস্কৃত নাটকে তাই প্রয়োজন হয় স্থত্রধরের। এমন কি গিরিশচন্দ্রও এর প্রভাব হতে মুক্ত হতে পারেন নি। “জনা” নাটকে প্রথম দৃশ্টেই অগ্নির কাছে সকলে বর প্রার্থনা করছেন এবং প্রত্যেকটি প্রার্থনার মধ্যেই নাটকের ভাবী আখ্যানবস্ত প্রকট হয়ে উঠেছে। সেক্সপীয়বের ভবিধ্যদ্বাণী-__ বারনানের অবণ্তৃূমি এগিয়ে এলে মাতৃগভঞজাত নয় এমন একজন পুরুষের হাতেই হবে ম্যাকবেথের মৃত্যু নানাঘটনার মধ্যে শেখকালে দেখা যায় এই ভবিষ্তদ্বাণীর সফলতা এবার আরও আগে গ্রীক যুগে যাওয়া যাক সফক্রিসের নাটক “ইডিপাস্‌।” রধ্যমন্দিরে হল ধৈববাণী _নবজাত পুত্র একদিন পিতাকে হত্যা করে মাতাকে করবে বিবাহু। এই অদ্ভূত ভবিস্তদ্বাণীও নাটকের শেষে পায় পরিণতি কিন্তু এখন পরিবপ্তিত হয়েছে যুগ। এখন আর সব কথ প্রথমে বলে দ্দিলে রসিক দর্শকের তুধি হয় না-কারণ আমর! ভাবতে শিখেছি নাটকের মাঝে 'লাসপেন্স' না থাকলে তাকে নাটক বলা যায় না। এঁতিহাসিক নাটকে যতটুকু “সাসপেন্স” রাখা সম্ভবপর ততটুক্‌ রাখবার চেষ্টা কর! হয়েছে। তবুও একথা স্বীকার করতে লজ্জা নেই যে প্রাষ্টীন প্রভাব একেবারে মুক্ত হওয়া আমার পক্ষেও সম্ভবপর হয়নি। তার প্রমাণ প্রথম অন্ধের শেষে ফারুকসিক়রকে লালকুমারীর অভিশাপ জাহান্দার শার মৃত্যুর পর লালকুমারী সম্বন্ধে ইতিহাস নীরব কিন্ধ দ্বাজকের ফুগে জভি-

56/০

শাপকে সার্থক কবতে হুলে দৈব ঘটনার আশ্রয় নিলে চলে না। তাকে প্রতিশোধ নেবার জন্য নানা ছলনা কোৌশলেব আশ্রয় নিতে হয়। জানি না এর ফলে লালকুমারীর চরিত্র ঠিকমত পবিস্ফুট হয়েছে কি ন1।

সাধারণতঃ এতিহামিক নাটকে দেখতে পাওয়া যায় দেশাত্মবোধ, যুদ্ধ, বভযন্ত্র চক্রাস্ত, হাম্তরম এবং সর্ধোপবি প্রতিদ্বশ্টের শেষে অতি- নাটকীয়তা এই নাটকে অন্তগুণি থাকলেও অতিনাটকীয়তা, ধা যাত্রাধুগেব অঙ্গ বলেই পরিচিত ছিল তা বজ্জন করা হয়েছে আর এই নাটকের কয়েকটি চরিত্রই কবি বা কাব্যপসজ্ঞ-_তাই কাব্যের দিক-_ প্রেমের দিকেই বেশী দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে মোঘল ইতিহাস পর্যযা- লোচনা করলে দেখা ষায় যে জাহানারা, পিয়ারা, জেবউন্নিস1 প্রভৃতি অস্যম্পঠা হারেমবাসিনীগণও কবি ছিলেন। তারা বীতিমত শেখসাধী, হাফিজ, ফেণদৌসি, ওমরখৈয়ামের চর্চ1! করতেন

এই নাটকেব নামকরণ করতে সাহায্য করেছেন অন্ুজপ্রতীম বন্ধু শ্রীবিমল ভট্টাচার্ধ্য তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই নাটক লিখতে কয়েকখানি ভারতবর্ষের ইতিহাস ছাড়াও সাহাধ্য গ্রহণ করেছি-_টডের রাজস্থান, কবি শেখসাদী-প্রীহরেশচন্জ নন্দী, রোবাইয়াৎ ওমরখৈয়াম__ শ্রীনরেন্্র দেবু, গুলিস্ত'ার বঙ্গান্ুবাদ-_শেখ হবিবর রুহমান সাহিত্যরত্ব এবং সবচেষে বেশী সাহাধ্য গ্রহণ করেছি ষে বই থেকে তার নাম-_ নীলপান্না লালবাদশা--নিগুঢানন্দ | এদ্দের সকলেরই কাছে আমি মুক্তকণ্ঠে খণ স্বীকার করছি। দিল্লী, আগ্রা, ফতেপুরসিক্রীর গাইডদের কাছ থেকে অনেক ফারসীবয়েৎ কিন্বদস্ভী শুনেছি। দিল্লীর লাল- কেল্লায় বু ফারসীবয়েৎ লেখা আজও বিদ্যমান এই সব বয়ে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছেন মুলমান গাইভদের সাথে আমার দিলীর গাইড, আ্বামার পরমাত্ীয় শ্রঅনিলকুমার সরকার | লাগকেল্লার দ্বত্যস্তরে যে মিউজিয়াম আছে তা থেকেও বহু সাহায্য পেয়েছি কবি শা-

আপম্‌ দ্বিতীয় বাহাছুব শাব দরবারে উপস্থিত ছিলেন। এই মিউজিয়মে অবস্থিত একটি চিত্রে তার সৌমাদর্শন দেখে আমি মুগ্ধ হই। কাজেই কঁকে একটি প্রধান চরিত্রে রূপান্তরিত করেছি এই নাটকে এঁতি- হাসিকগণ ক্ষমা কববেন নাট্যকাবের এই স্বাধীনতায়__নাটক নাটক, ইতিহাস নয়।

এতিহাসিক নাটক লিখতে হলে ৮ডি, এল, বায়েব প্রভাব মুক্ত হওয়া খুবই শক্ত। অবচেতন মনেব মাঝে তাঁব প্রভাব পডা খুবই স্বাভাঁব্কি। তাই সেই অমব নাট্যকারের শতবাধিব জন্মোৎসবে জানাই ঠাকে আমাব সশ্র্ছ প্রণাম

প্রথম অভিনয় বজনীতে লক্ষা কব৷ গেছে যে নাটকটি আত দীর্ঘ হয়েছে। সময় সংক্ষেপে জন্য ততীষ ব্রাকেট দেওয়া! অংশগুপি বিশেষতঃ তৃতীয় অন্ষেব দ্বিতীয় দৃশ্ত' এবং চতুর্থ দু ছুটি বাদ দেওয়া! যেতে গারে

অক্লান্তকম্মী বন্ধুবব শ্ীতারকনাথ দে শ্টামপুকুর বান্ধব সম্মেলনীব অন্তান্ত কর্মকর্তাগণ এই নাটকেব অভিনয়ের আয়োজন করে আমাকে কণ্তজ্তাপাশে আবদ্ধ কবেছেন। আর এই খডের মুস্তিতে অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে যাঁর! প্রাণ প্রতিষ্টা করছেন সেই সব কুশীলবদেখ জানাই আমা আসন্তবিক স্তভেচ্ছা। জয় হিন্দ!

৭৪বি শ্টামপুরুর স্ত্রী অমল সরকার কলিকাতা

_ চরিত্র জাহান্দার শা__ভারত সম্রাট. ফারুকসিয়র-_-এ ভ্রাতুম্পুত্র, পরে সম্রাট আবছুলা হুসেন আলী শা আলম--কবি বকৃত খা-_ওম্রাহ মুশিদকুলি খা_বাংলার নবাব জনাবৎ__-এ সেনাপতি করিম

_-সৈয়দ ভ্রাতা

] __-এঁ সহকারী শোভনললাল

তিমুর বেগ- ফারুকসিয়রের সৈন্যাধ্যক্ষ ইব্রাহিম-__এঁ সহকারী এনায়েৎব_তিমুর বেগের শ্টালক সফদরজং__ সহকারী

বাচ্চি খা_-এ সৈন্য

জুলফিকার- জাহান্দার শার উজির মি্মজুমল। তকি খা রফিক---ফারুকসিক্মরের বুদ্ধ ভৃত্য অজিতসিংহপু-_-যোধরাধিপতি

] --মরাহগণ

1৫৮5

বসস্তসিংহ

সমরসিংহ _-রাঠোর সন্দারগণ অমবসিংহ |

ভগ্রসিংহ-__রাঠোর দৌবারিক

উইলিয়ম হামিলটন্‌- ইংরেজ চিকিৎসক মোঘল দূত

নিজাম- হাক্সভ্রাবাদের নিজাম নুক্সমহমন্মদ-_ঘাতক

বুফি উদ্দরাজাত- শাহজাদ। ফাক্ুকউন্নিসা _ভারত-সম্ত্রাজ্জী : লালকুধারী-_ হিন্দু নর্তকী

জিন্নতৎউন্নিসা _মুশিদকুলি খার কন্ঠ

রায় ইন্দব কুনয়ার-_ অজিতসিংহের কন্ত' নবোসেনারা বাঈজি

জুবেদা_রফি উস্শানের জী

প্রস্তা বন।

মঞ্চের ছুই পাশ হইতে স্পট. লাইট. পড়িলে দেখা যাইবে দিলীর লাল- ফেল্লায় ময়ু পিংহাসন। তাহাতে কেহ বসিয়া নাই-_দরবার শুন্য মাইকে নেপথ্যে ঘোষিত হইবে--তক্কে তাউস্-_মমুব সিংহাসন ভারত সম্রাট সাজাহান বহু অর্থব্যয়ে মণিমাণিকা খচিত এই মযুর সিংহাসন প্রতিষ্তিত করেন ষমুনাতীরে শুভ্র সমোজ্জবল মন্বর প্রাসাদ তাজমহলের দিকে তাকিয়ে দেখলে মনে হয়, সম্াট সাজাহান আজ নেই- কিন্তু তার অমর কীত্তি__প্রেমের অমর সৌধ আজও মমতাজের প্রতি তার গভীর প্রেমকে স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্ত সাজাহান কি শুধুই প্রেমিক? দগ্লিতার প্রতি তাব নশ্বর প্রেমকে অমরত্ব দেবার জন্যই কি এই মর্মর প্রাসাদ? মাজাহান শিল্পী তারই নিদর্শন পাওয়া যায় ভান্কর্ধ্যের প্রতি কণায় কণায়। শিল্পী কি স্বধু নিজ হন্তে অন্কন না করলে হয় না? তাজমহল কি শুধুই প্রেমিক সম্রাটের প্রেমের নিদর্শন না শিল্পগুণী সম্রাটের অপূর্ধ তাক্কর্ধোর বিকীরণ? কিন্তু একথা হয়তো আজ অন- কেরই স্মরণ নেই যেসেই সময়ে আগ্রা-দিলী-রাজপুতানা, এমন কি সমগ্র উত্তরভাবত ছুতিক্ষের করাল গ্রাসে পতিত হয়। সম্রাট সাজাহান-_ বিল্লামী সাঁজাহান- শিল্পী সাজাহান-_প্রজাদরদী সাজাহানের হ্াায়ের প্রতি কন্দবে ক্দরে জাগে হাহাকার অগণিত প্রজা দুবেলা ছুমূঠে অন্ন কিরপে সংস্থান করতে পারে তারই চিস্তায় বিভোর হয়ে দিন কাটান তিনি আগ্রার প্রাসাদে সমগ্র ভারতের শিল্পীকে তিনি একত্রিত করে আরম্ভ করলেন আগ্রায় তাজমহল আর দিল্ীতে লালকেল্লা। শত শত প্র্। হুতিক্ষের জালায় এগিয়ে আসে সম্রাটের আহ্বানে তাদের হয় কর্ধের সংস্থান-__তাদের জোটে হৃধেঙ ভুঘুঠো অগ্ন। সমন্তদিন প্রাণাস্ত

পরিশ্রমের পর তারা পায় সম্রাটের কোধাগার থেকে দিনাস্তে তাদের স্তাষ্য পারিশ্রমিক অসাধ্য সাধনও সম্ভব হয় দুতিক্ষের সময়েও। করালবাদন! ছুিক্ষকেও ক্রমে চলে যেতে হয় হিন্দস্থানের মায়! ত্যাগ

করে। যে ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে খগ্ছিন্ন বিক্ষিণ্থ ভারতকে এক ধন্মরাজ্য

পাশে বেঁধে দিতে শ্রীকষ্ণচকে অবতীর্ণ হতে হয় পার্থসারথী রূপে সেই কুরক্ষেত্রেরই নিকটে পাণিপথ। পথে এসেছে শক হন আর মোঘল পাঠান। কিন্তু তারা আসেনি এই ভারতের এহামিলনে-__-তারা এসেছে রাজ্য লিগ্লায়-_-ভারতের প্রতি সম্পদ তারা আহরণ করেছে এমনি এক দিন এক দুর্জয় ষশলিপ্ন, মহাবীর অসিমাত্র সহায় করে ন্থদুর আফ- গানিস্থান হতে দেখা দেন এই পাণিপথে। প্রতিষ্ঠা করেন মোঘল সাম্রাজ্য বাবর এই মোঘলেরই বংশধর সাজাহান মোঘল রক্ত তার শিরায় শিরায়- যুদ্ধের উন্মার্দনা তার বংশগত | কিন্তু হিন্বস্থানের হিন্দু- মহিষীর গর্ভজাত এই সম্রাট সাজাহান। ভালবেসেছেন তিনি এই দেশের প্রতি ধূলিকণাকে__ভালবেসেছেন তার শিল্পকে-_তার প্রতিটি মানুষকে | হিন্দুস্থানের ধনসম্পদ তিনি আহরণ করেন নি--তিনি করেছেন তাকে বিকশিত অমীম ধনসম্পদ--মণিমাণিক্য হয়েছে প্রশ্ফটিত তারই কপায়। তারই উজ্জল দুষ্টান্ত এই ময়ূর সিংহাসন-_তক্তে তাউস্‌। কিন্তু হতভাগ্য বৃদ্ধ সাজাহান পুত্র হস্তে বন্দী, কারণ-_তক্তে তাউস্‌। এই তক্তে তাউস্‌ চাই তার গ্রতিটি পুত্রের-_-দারা, মুরাদ, সুজা, আওরংজীব। সকলেই গত। আওরংঞজীবের ছুর্বল বংশধার! আজ ক্ষীয়মান। তাদের মধ্যেও প্রতিদিন যুদ্ধ বিবাদ লেগে আছে এই তক্তে তাউসের জন্য। তক্তে তাউস্‌ কি শৃন্ত থাকতে পারে? কে এর যোগ্য অধিকারী ? তক্তে তাউসের যোগ্য অধিকারী কে? ( মঞ্চ ঘুরিবে )

প্রথম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য

[ পাটনা। | সমর সন্ধ্যা জাঁকক্ীকাট! বারান্দা দিয়! চাদের জালে! অধসিতেছে। এক নুন্দর মোঘল যুবক বসিয়। আছে, তাহার দুই পার্থে ছই কুটচত্রী প্রৌঢ় মুসলমান তাহার। সৈয়দ ভ্রাতা নামে পরিচিত ।_একজন আবদুল্লা

অন্থজন হুসেন। যুবক ফারুকসিয়ার সমাট বংশজাত। বাংলাদেশে মানুষ হওয়ার মোঘলে বাংলায় কোমলে কঠোরে সমাবেশ তাহার চেহারায় ]

আবছুল্না তক্তে তাউসের যোগ্য অধিকারী কে?

হুসেন | সম্রাট বংশজাত আজিম উশশান্‌ পুত্র শাহাজাদা ফারুকসিয়র নিশ্চয়ই তক্তে তাউসে বসবার উপযুক্ত।

ফারুক” সেকি--তা কি করে সম্ভব ?

আবদুল্লা অসম্ভব ছুনিয়ায় কিছুই নেই শাহাজাদা। আপনি স্তধু রাজি হয়ে যান, দেখবেন সব সম্ভব হয়ে যাবে বান্দাদের ওপর নিঙর করুন, দেখবেন দিল্লীর তক্তে তাউস আপনার ৷.

ফারুক | কিন্ত জাহান্দার শা এখনও জীবিত। তিনিই সিংহাসন ছাড়বেন কেন ?

হুসেন তিনি কি. আর স্থোচ্ায় ছাড়বেন? আমর! ছিনিয়ে নেব

মসনদে মোঘল প্রথম অন্ক

ফারুক | কিন্তু আমিই ষে যোগ্য কথাটাই বা আপনার বুঝলেন কেমন করে ?

আবছুল্লা খোদাবন্দ, মানুষকে দেখলেই তাকে চেনা যায় আপনার ছোট বেল! থেকেই দেখে আমছি আপনার চলা, বলা, দেখা সব বাদশাহী ঢংয়ে। আর তাছাড়া আপনি আজিম উশশানের পুত্র। আমরা তো তাকে ভাল করেই চিনতুম। আলমগীরের পরে তার মত যোগ্য ব্যক্তি মুঘল রাঁজবংশে কেউ জন্মগ্রহণ করেনি তার উচ্চাকাজ্ষা বাদশার মতই ছিল। আর আপনি তো তাঁর যোগ্য পুত্র আপনার মজি আমর! সহজেই অনুমান করতে পারি। আর ভাবুন কেমন নৃশংসভাবে জাহান্দার তাকে হত্যা করলেন !

হুসেন যোঁগ্ পুত্রই পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয় |

ফারক | প্রতিশোধ! কি বলবো সৈয়দসাহেব, এক এক সময় আমার ভেতরের তৈমুরের রক্ত চঞ্চল হয়ে ওঠে আবার মাঝে মাঝে

ভাবি কি হবে এই গৃহ বিবাদে? সহায় সম্বলহীন, কেমন করে,

আমি বাদশার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে৷ ! কিন্ত এখন আপনার। আমার সহায়। কিন্ত আমাদের অগ্রমর হতে হবে খুব সাবধানে জানাজানি হলে আপনাদদেরও বিপদ, আমারও বিপদ

আবছুল্লা কোন ভয় নেই খোদাবন্দ। মেবার, অন্ববর আর মাড়বার একত্র হয়েছে সম্রাটের বিরুদ্ধে এই স্থুযোগে-_

ফারুক সেকি- গৃহযুদ্ধের স্থচনা করতে চান আপনারা ?

হুসেন | (মৃদু হামিয়] ) গৃহযুদ্ধটা বাদশাদের কাছে নৃতন কিছুই নয়। আকবর থেকে আরম্ভ করে আলমগীর পর্য্স্ত সবাই সিংহাসনের জন্য গৃহযুদ্ধ করেছেন। তক্তে তাউসের পথ রক্তে রাঙ্গা-_-ওখানে উঠতে হলে রক্ত একটু আধটু মাড়াতে হবে ঠবকি |

ফাঁকক | রক্তকে ভয় তৈমুর বংশধর করে না সৈয়দসাহেব | তবে-_

প্রথম দৃশ্ঠ মসনদে মোঘল

আবদুল্লা ভয় পাবেন ন! শাহাজাদা, হয়তো শেষপর্্যস্ত গৃহযুদ্ধ কবতে নাও হতে পারে- নিংহাসনট1 এমনিই পাওয়া যেতে পাবে।

ফাকক | তাব মানে?

আবছুল্লা শীত্রই জানতে পাববেন আব তাও যদি সম্ভব ন! হয় মাবাঠাবা আমাদেখ দলে আছে। তাদের দিয়ে কাজ হাসিল করা সহজ ভবে

হুসেন আব অপর দ্দিকে বাজপুতবাও চিবকাল মিলে-মিশে থাকতে পাববে | সেটা সম্ভবপর নয মোঘল বাদশাবা গৃহযুদ্ধ বন্ধ কখতেও পাবেন কিন্ত রাজপুতবা এই মাবামারি কাটাকাটি কখনও থামাতে পাবে না।

আবছুলা। আপনি শুধু রাজী হন।

ফাকক | সবই খোদার মঙ্জি আব আপনাদেব মেহেখবাণী | হিন্দু- স্থানে ভাব নেওয়া যদ্দি আমার উচিত হয় নিশ্য়ই আমি তাতে পশ্চাদপদ হব ন1।

হুসেন (কুনিশ কবিয়। ) হিন্দুস্থানের দাযিত্ব যদি নিতে রাজী থাকেন তবে জানবেন হিন্দুস্থান আপনাবই। আপনি শ্রধু আমাদের দুভাযের ওপর বিশ্বাস বাখুন, দেখবেন বান্দারা আপনাব জন্য প্রাণ দেবে

ফাকক | সবই খোদার মজি আমি আপনাদের বিশ্বাস কবি-- জানবেন তক্তে তাউস পেলে আপনাদের পরামর্শে তা পবিচালিত হবে

আবছুল্লা (কুণিশ কবিযা) তাহলে আসি খোদাবন্দ। তক্তে তাউসেব সামনেই আবার দেঁখ। হবে (সৈয়দ ভ্রাতাব৷ কুনিশ করিয়া চলিয়। গেলে ফারুকসিয়র অন্যমনস্কভাবে পিছন ফিবিয়! বাহিবের জ্যোত্ন্নার সৌন্দর্য দর্শন করিতে লাগিলেন কিছুক্ষণ পরে তাহার প্রিয়তম৷ পত্বী ফারুকউন্নিসা ধীরে ধীরে প্রবেশ করিল )

মসনর্দে মোঘল প্রথম অক্ক

উন্লিসা। কি দেখছেন জনাব?

ফারুক | পাটনার প্রাসাদের ওপর শান জ্যোৎনার খেল। দেখছিলাম (ষুছ হাসিয়া ) গুরংজীবের পর মোখলসাত্রাজ্যের ওপরও এমনি একটা শ্লান আভা নেমে এসেছে

উন্নিসা। আজ শাহজাদাকে নতুন মনে হচ্ছে।

ফারুক আমি কি পুরানো হয়ে পড়েছি তোমার কাছে?

উন্নিসা পুরানো ভবাব কোন প্রশ্নই আসে না, কারণ আপনি আমাব দয়িত। আর দয়িতাঁর কাছে প্রেম চিরনূতন তাই প্রেমিক কি কখনও পুরানো হয় ?

“ক্ষণেক যে গো বইতে নারি

তোমায় ছেড়ে আমি-_- পারিজাতের শোভায় মম তপি নাহি স্বামী সকল ছেড়ে তোমার দ্বারে আসি প্রেমেব টানে বারেক এলে ফিরে যাবার শক্তি নাহি প্রাণে |”

ফারুক | কিব্যাপার উন্নিসা? হঠাৎ আবাব শেখ সাদীকে মনে পড়ল কেন? সত্যিই আজ আমার বড ভাল লাগছে উন্রিসা।

উন্নিসা। কেন?

ফারুক | ভবিষ্যতের এক স্বপ্ন দেখে

উন্নিসা কিসের স্বপ্ন শাহাজাদ। ?

ফারুক | দিল্লীর তক্তে তাউস।

উদ্লিসা ( চমকাইয়। ) না, না শাহাজাদা, কাজ নেই। তক্তে তাউম বড় অভিশপ্ত তক্তে তাউসের ত্রষ্টা সম্রাট সাজাহানের কথা ভাবুন। কি বেদনাময় তার শেষ জীবন। ওখানে লোভ আছে, ক্ষমতা আছে কিন্তু প্রেম নেই। আর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভিশাপ,

প্রথম দৃশ্ত মসনদে মোঘল

কান্না, রক্ত ওখানে বসার গৌরব থাকতে পারে কিন্তু শাস্তি নেই। সিংহাদনের তলায় ষড়যন্ত, বন্ধুব বেশে পার্থ শত্রু, বাচবার জন্য শুধু যুদ্ধ। অবিশ্বাস, শঠতা, নিষ্টরতাই আজ দিল্লীর মস্নদের দৈনন্দিন ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে সিহাসনেগ দিকে লোভের দৃষ্টি দেবেন না শাহাজাদা। আমাদের জুখের- এই প্রেমের নীড় ভেঙ্গে যাবে। হয়তো-_হয়তো- দ্বারা, স্থজা, মুরাদ, আমার শ্বশুর আজিম্‌ উশশানের রক্ত__নাঃ না শাহাজাদ। দিল্লীর মস্নদের স্বপ্র দেখবেন না। বড় পাপের স্থান

ফারুক | ভুলে যেও না উন্নিসা, আমার মধ্যে দু্ধির্য তৈমুর চেঙ্গিস্‌ খার রক্ত বইছে মোঘল বাদশাহের সিংহাসনই যে আমাদের চরুম সার্থকতা সেযে আমার জাগ্রতের ধ্যান_ নিদ্রার স্বপ্ন সে স্বপ্ন কি আমি বাদ দিতে পারি ফাকরুকউন্নিসা ?

উন্নিসা কিন্ত তার পরিণামটাঁও ভেবে দেখবেন শাহাজাদা। সিংহাঁসনের জন্য দারাকে দিতে হয়েছিল শির, মুবাদকে দিতে হয়েছিল তার জীবন আর স্থজাকে ত্যাগ করতে হয়েছিল তার সাধের বাংলা, সাধের হিন্দুস্থান। আর তাছাড়া সিংহাসন পেলেও কি শান্তি পাওয়৷ যায়? পিংহাসন পেয়ে কি আলম্গীর সন্তষ্ট হতে পেরেছিলেন ? রাজদণ্ড গ্রহণ করবার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের শানস্তিও তিনি হারিয়েছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তো৷ সে কথা স্বীকার করে গেছেন।

ফারুক | তবু কি জান ফারুকউন্নিসা_বংশের একটা ধারা আছে, রক্তের একট দাবী আছে। বুঝেও আমরা বুঝতে চাই না। যদ্দি আলমগীর সিংহাসনে বসবার আগেই নিজের ভুল বুঝতে পারতেন তবু তিসি ভার আহ্বান কোন মতেই এড়াতে পারতেন না। দিল্লীর তক্তে তাউসের এক বিরাট আকর্ষণ আছে মোঘলের কাছে। তাষদি ন' হতো! দার! নির্তাকভাবে মরতে পারতেন না মুবাদ শত্যুর খুখোমুখি

মসনদে মোঘল প্রথম অন্ক

দাড়িয়েও সিংহাসনের আশা! ত্যাগ করতে পারেন নি। মজা যদি ওরংজীবের বশ্ঠতা স্বীকার করতেন, তবে কি তাকে আরাকানে বেঘোরে প্রাণ হারাতে হত? তবু কেন তিনি স্বীকার করলেন না ওুরংজীবের বশ্ঠতা ? কিসের মোহে 1 সিংহাসনের প্রবল মায়! আমাদের এড়ানো অসম্ভব_ বুঝেও আমর] বুঝতে পাবি না ( ফারুকউন্নিসা অতি করুণ- ভাবে স্বামীর মুখের দিকে তাকাইয়া রহিল ) ব্যথা পেয়ো! না প্রিয়তমে, মোঘল হারেমে থাকতে হলে প্রশ্নের সম্মুখীন হতেই হবে। যুদ্ধের জন্য, ষড়যন্ত্রের জন্য, রক্তের জন্য, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতেই হবে (মুখ তুলিয়! তাকাইল ফারুকউন্নিসা। তাহার অশ্রুভরা আখির দিকে তাকাইয়। ) কি হয়েছে তোমার, এত কি ভাবছ? (ঈষৎ হাস্য করিয়। তাহার একখানি হাত তুলিয়। ধরিয়া ) তোমার হৃদয়ের সিংহাসনের কোন অবমাননা হবে না উন্নিসা। যদি দিলীর তক্তে তাউসও পাই, তার ওপর আমি স্থান দেব তোমার হৃদয়সিংহাসনের। তাছাড়া ভয় পেয়ে লাভ নেই। বিপদ থেকে দূরে থাকলেও বিপদ যে আসবে না তা কি বল। ষায়? কাজেই বিপদকে গ্রাহ না করে এগিয়ে যাওয়াই উচিত। তৈমূরের রক্ত আমাদের মধ্যে সেই এগিয়ে যাবার প্রেরণাই দেয় ফারুকউন্নিস। |

উন্রিসা অত বিচারের ক্ষমত1 আমার নেই আমি আর ভাববো না, শাহাজাদা আপনার পথই আমার পথ হিন্দু নারীর মতই আমিও. স্বামীর মতকে অন্রাস্ত বলেই ধরে নেব। যর্দি আপনি পথে স্থখী হন, আমিও হবু কিস্ত-_

ফারুক এখনও কিন্তু কেন উন্নিসা ?

উন্লিসা গোস্তাকি মাপ করবেন জনাব। সত্যিই কি আপনি দিল্লীর সিংহাসনে বসতে চান ?

ফারুক কেন বলতো?

প্রথম দৃষ্ঠ মসনদে মোঘল

উদ্লিসা। কারণ জাহান্দার শা এখনও জীবিত। আপনি কি করে দিল্লীর সিংহাসন আশা! করতে পারেন?

ফারুক। ভাগা স্থপ্রসন্ন হলে কী সম্ভব নয়?

উন্নিসা। গৃহযুদ্ধ ছাড়া তা সম্ভব নয়।

ফারুক। মোঘল সিংহাসনের জন্য ভায়ে ভায়ে যুদ্ধ, আত্মীয়ের মধ্যে কলহ তো কম হয়নি।

উন্নিসা। কিন্তু আপনার পক্ষে দাড়াবে কে?

ফারুক। এবার বুঝেছি, এত ভয় পেয়ো না। আমার পক্ষে দাড়াবার লোকের অভাব হবে না। শুধুমনে রেখ আমি ছাড়াইনি, আমাকে দাড় করানো হচ্ছে। সৈয়দত্রাতা আবছুল্লা হুসেন খা মহা প্রতিপত্তিশালী। তার] জাহান্দার শার ওপর অসন্ধষ্ট। তীর! দিল্লীর মসনদ তাই আজিম উশশানের পুত্রকে দিতে চান। ওদের সমর্থন পেলে তক্তে তাউসে বস! খুব কঠিন কাজ নয়। (ফাককউন্নিসা তথাপি করুণ দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকাইয়! থাকিলে ফারুকিয়র তাহার নিকটে আসিয়া তাহার হস্তধারণ করিয়! ) ভয় কি কারুকউন্নিসা? আমি তো৷ আছি।

উন্নিসা। তাইতো ভয়। বাদশা হলে কি এমনি ভাবে আপনাকে পাব?

ফারুক। কেন?

উন্লিসা। তখন কত কাজ, কত ব্যস্ততা জীবনকে তো নিব্বিবাদে উপভোগ করবার সময় নেই সেখানে কি হবে ময়ুর সিংহাসনে? তার চেয়ে বড় নিংহাসন আমার হৃদয় আপনি মেখানেই একচ্ছত্র সম্রাট হয়ে বিরাজ করুন শাহাজাদা।

ঘিভীয় দৃশ্য

[ লালকেল্লা। সময় সন্ধা শীব মহল বৰ! আশি মহল। ইহ! সম্রাট জাহান্দার তৈরী করিয়েছেন নর্তকীদের নৃত্য উপভোগ করিবার জন্য দেওধালে দেওয়ালে আশি-_ তাহাতে নর্তকীর প্রতিবিম্ব প.ড়। হন্দরী তকণী নর্তকী লালকুমারীর প্রসাধন সাজ হইয়াছে তথাপি সে ঘুগিয়। ফিরিয়া আপন হন্দরমুখ দর্শন করিতেছে। এমন সময় আর একজন তরুণের মুখ ফুটিয়! উঠিল দর্পণে। তাহ! জাহান্দার শার। বাদশ! মুগ্ধ দৃষ্টিতে দর্পণের দিকে তাকাইয়1 রহিল ]

লালকুমাবী। কি দেখছেন জাহাপন। ?

জাহান্দার। দেখছি, দেখছি খোদাতালার স্থগ্টিকে আর ভাবছি তাঁর অনীম ক্ষমতাকে কিশক্তি আব কি শিল্প বোধ থাকলে সৌন্দর্য সট্টি করা যায়। আব ভাবছি তুমি মঙ্ো এলে কি জন্যে?

লালকুমারী। কেন? (ঈষৎ হাম্ত করিয়া) আপনারই জন্য জাহাপনা। |

জাহান্নার। আমার জন্ত ! তাহলে বলতে হয় আমাকে সুখী করবার জন্য খোদাতালা বেহেস্তকে বঞ্চিত করেছেন

লাল। কেন?

জাহান্দার। বেহেস্তের স্বর্গীয় উদ্যানের জন্যই তো হুরীর স্পট, মর্ত্যের জন্য নয়। তুমি সেই বেহেস্তের সর্বশ্রেষ্ঠ হুরী-_তুমি স্বর্গভষ্ট

লাল। ন্বর্গভ্রষ্ট দি আমি হয়ে থাকি, সেই আমার স্থখ খোদাবন্দ স্বগত্রষ্ট না হলে তো আমি আপনাকে পেতাম না।

জাহান্দার। বাঃ চমত্কার বলেছ পিয়ারী

লাল। আচ্ছা স্বর্গ কি খোদাবন্দ?

জাহান্দার। (উর্ধে দেখাইয়া) দিকে বেহেস্ত। আল্লার বরবার।

ছিতীয় দৃশ্য মসনদে মোঘল

লাল। না (বাদশা তাহার দিকে স্থির দৃহিতে তাকাইয়! রহিলেন ) ওখানে স্বর্গ নেই, স্বর্গ এই দুনিয়াতেই রয়েছে খোদাবন্দ। প্রেমই স্বর্গ, যে ভালবাসতে জানে সেই স্বর্গ লাভ করে যে ভালবাসা পায় সেই স্বগে বাস করে। (বাদশাহ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাইয়৷ রহিল) জাহাপনা কি আমার কথ! বিশ্বাম কবতে পাবছেন না?

জাহান্দীর করি, তোমার চেয়েও বেশী বিশ্বাস করি। এত বেশী করি ষে তুমি তা ভাবতেও পারবে না।

লাল। কেন সম্রাট?

জাহান্দার। তুমি প্রেমের মূল্য বোঝনি। হা ঠিকই বলেছি, স্বর্গের সঙ্গে তুলনা কবে তুমি প্রেমের অমর্যাদা করেছ।

লাল। সেকি জীহাপনা, প্রেমের সঙ্গে স্বর্গের তুলনা করে আমি কি অন্তায় কবেছি?

জাহান্দার। নিশ্চয়ই প্রেমের সঙ্গে তুলনা করা অন্যায়। ছুটোর মধ্যে তুলনাই হয় না।

লাল। বুঝতে পাবলাম না শাহান শা।

জাহান্দার। প্রেম স্বর্গের চেয়েও বড়। (লালকুমারী মাথা নীচু করিয়। রহিল। জাহান্দার শা তাহার মাথা তুলিয়া ধরিয়া) একি লাল, তুমি কাদছ?

লা না বাদশা আমার আনন্দের অশ্রু আপনি আমাকে এত ভালবাসেন !?

জাহান্দার। হ্যা।

লাল। কিন্তু আমি ষে সামান্য একজন নর্তকী নর্তকীরা শুধুই নিতে জানে, দিতে জানে না। আপনি ঠিকই বলেছেন জাহাপনা, আমি আর আপনাকে কতটুকু দিতে পেরেছি?

জাহান্দারি। অর্ভিঙ্গান ফৌত না লাল। তুমি আমাকে যা দিয়েছ

১৩ মসনর্দে মোঘল প্রথম অঙ্ক

তক্তে তাউসও আমাকে তা দিতে পারেনি আমি তোমায় নিজেব চেয়েও ভালবাসি

ধীরে ধীরে শ। আলমের প্রবেশ

শা আলম। চমৎকাব। অগব ফের দৌন্ত জমিনে হস্ত | হা মেনস্ত, হামেনম্ত, হামেনন্ত। এই ছুনিয়ায় ত্বর্গ যদি থাকে কোনখানে, তবে তা এইখানে এইখানে এইখানে

জাহান্দার। কে-_কে তুই কমবন্ত ?

লাল। কবি শা আলম জাহাপনা।

কবি কুনি'শ করিল

জাহান্দার কবি, তুমি এখানে সময়ে কেন?

শা আপম। সাঁকী আর স্থবাব মাঝে কি কোন সময়ের ব্যবধান থাকতে পারে জাহাঁপনা অন্ততঃ কবির কাছে নিশ্যযই থাকে না। আর ঠিক এই সময়ে এই শীষমহলে না এলে তো! বেহেস্তের দ্ৃশ্ত দেখবার সৌভাগ্য হত ন]।

জাহান্নান। হু এইবাব বল কি তোমার প্রয়োজন ?

শা আলম) ওমবাহদেব বিবিবা বোধ হয তার্দের তালাক্‌ দিয়েছে

জাহান্দার। তার মানে?

শা আলম। আজ্ঞে তাই তো মনে হচ্ছে। তানা হলে ইয়া বড় বড ওমরাহরা গোঁপ চুমরে এই রাতের বেলা দেওয়ানী আমে এসে হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে চায় কেন?

লাল। তারা কি করে জানলে যে বাদশ! এখানে আছেন?

ছিতীয় দৃশ্ঠ মসনদে মোঘল ১১

শা আলম। স্ু্ধ্য অস্ত গেলে যে সন্ধ্যা নামে কথা জানতে কি অস্থবিধ! হয়? আর সন্ধ্যা হলে ৫ষ সম্রাট কোথায়-__

জাহান্দার। শা আলম!

শা আলম। গোস্তাকী মাপ. করবেন জীহাপনা।

লাল। আশ্চর্য্য এত রাতে তার্দের কি প্রয়োজন থাকতে পারে?

জাহান্টার। প্রয়োজন ওর অনেক, কারণ গরদেরে আকাত্ফা অফুরন্ত। যতদিন আকাজ্ষার শেষ না হবে ততদিন ওদেব প্রয়োজনও ফুরোবে না!

লাল। তাহলে কোথাও কি কোন বিদ্রেহ দেখা দিয়েছে?

শ|!আলম। বিদ্রোহ কোথায় নেই? ঝড উঠেছে-_বাইবে অভ্যন্তরে সর্বত্র আজ বিদ্রোহ

জাহান্দার। যদি কোনদিন সত্যিই বিদ্রোহ হয় তবে কবি তুমি কোন পক্ষে যোগদান করবে? তুমিও কি আমায় পরিত্যাগ করবে বন্ধু?

শা আলম। বান্দা সামান্ত কবি। তলোক়্ার কোনদিকে ধরতে হয় তাই জানে না। যে হাতে কলম ধরি সে হাতে হাতিয়ার ধরতে গেলে উন্টে বিপত্তি হতে পারে জাহাপনা। আমার কাজ যে কবিতা লেখা, আঁর যিনি তক্তে তাউসে বসে থাকবেন তাকেই কবিতা শোনান

লাল। দরবারে ঘর্দি আপনার কোন প্রয়োজন থাকে আপনি এখনি যান সম্রাট

জাহান্দার। না। অন্যায়-

শাআলম। কি অন্যায় সম্ত্রা--আমার এখানে আসা না ওদের দেওয়ানী আমে আসা 1 কি অন্তায় খোদাবন্দ?

১২ মসনদে মোঘল গ্রাথম অঙ্ক

জাহান্দার। ওমরাহদের হঠাৎ দেওয়ানী আমে মিলিত হওয়া_

লাল। কেন জাহাপনা?

জাহান্দার। ওর! সম্রাটের আদেশ না নিয়ে কাজ করেছে।

শা আলম। কিন্ত সম্রাট যদি সুরা সাকীর মাঝে গা ঢেলে দেন ওরা কেমন করে তার নাগাল পাবে?

পাল। হয়ত কোন নিতান্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার-_

জাহান্দার। না, হঠাৎ কোন গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপারের জন্য এমন হয়নি। এর মাঝে আমি বিরাট এক গুঁদ্ধত্যের ইঙ্গিত পাচ্ছি। আবদুল্লা আর হুসেন খাঁ_সৈয়দ ভাইদের কাজ নিশ্চয়ই। এই উচ্চাকাজ্জী ভ্রুর সৈয়দ ভাইরা চায় যে দিলীর বাদশা ওদেরই তাবে থাকবে। তাই ওমরাহদের দিয়ে-_কিন্ধ জানে না যে জাহান্দার শা শুধু স্থরা পানে মত্ত হয়ে নর্তকীর নাচগানেই অভ্যন্ত নয়। কবি, তুমি ওমরাহদের জানিয়ে দাও হিন্দুস্থানের দায়িত্ব সমাট জাহান্দার শার। আর সে দায়িত্ব জ্ঞান তীর আছে। প্রয়োজন হলে সব ব্যবস্থাই তিনি করবেন, তার জন্য বাদশার অনুমতি ভিন্ন মহামান্য ওমরাহদের দরবারে মিলিত হবার কোন প্রয়োজন নেই নিজের বাহুবলেই জাহান্দার শা! তত্তে তাউস অধিকার করেছেন, নিজের তরবারি দিয়েই তিনি তা রক্ষা করবেন। ( শা আলম গমনোগ্ঠত ) হ্যা দাড়াও, ওরা চলে গেল কিনা সে খবরটা আমাকে দিয়ে যেও বন্ধু

কুনিশ করিরা *শ। আলমের প্রস্থান

লাল। আমাব কিন্ত ভয় করছে জনখব।

জাহান্দার। তোমার ভয়! হাঃ হাঃ হাঃ_-তোমার আবার ভম্ম কিসের, হিন্দুস্থানের বাদশা ঘখন তোমার করতলগত? কিন্তু তৃমি কি আজ লব কাজ ভূলে গেলে পিয়ারী? আমার যে বড় ততৃফা৷ পেয়েছে।

দ্বিতীয় দৃশ্য মমনদে মোধল ১৩

লাল। জল দেব জাহাপনা !

জাহান্দার। জল-জল কেন?

লাল। আজ আর সরাব পান নাই বা করলেন জাহাপন।

জাহান্দার। কি ভয় তোমার?

লাল। না না, আজ সরাবথাক। আমার বুক বারবার কেঁপে কেপে উঠছে।

জাহান্দার। বেশ সরাব ন। হয় নাই দিলে কিন্ত আবর-_

লাল। (হাসিয়া ) আমার নাচ?

জাহান্দার। তুমি কিজান না প্রতিটি সন্ধ্যা আমি উন্মুখ হয়ে থাকি তোমার নাচ গানের জন্য? সবাই আমাকে জানে আমি লম্পট, আমি স্থরাপায়ী-__আমি নর্তকীর চটুল নৃত্যগীতে মশগুল্‌্--কিন্ত তুমি, তুমি তো জান যে তোমার নাচের মাঝে আমি সার! ছুনিয়াকে দেখতে পাই--তোমার নাচের মাঝে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি। তৃলে যাই যে তক্তে তাউসের নীচেই ঘন অন্ধকার--ভুলে যাই যে মহামান্য ওমরাহরা আমাকে সেখান থেকে নামিয়ে অন্য একজন পুতুলকে সেখানে বসাতে চায়-_হয়তো বা ভুলে যাই এই দীনছুনিয়ার মালিক খোদাকে। __নাচো, পিয়ারী নাচো।

( লালকুমারীর অপুঝ্ব নৃত্যছন্দের মাঝে জাহান্দার শা মশগুল হইয়া রহিলেন )

তৃতীয় দৃশ্য

(পাটনার দরবার। সমর অপরাহ্‌ | উচচাস'ন ফারুকসিয়র, তাহাকে তিরিয়। বসিয়। আমির-ওমরাহগণ | তাহাদের মধ্যে সৈয়দ ভাইরাও আছে। দিলী হইতে ওমরাহ বকৃত থাঁও আদিধাছেন দিলীর ওমরাহগণের প্রতিনিধিরূপে )

বকৃত। জাহাপনা, মহামান্ত আজিম খ] আমাকে দিলী থেকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন।

ফারুক মহামান্ত আজিম খ। কি মনে করেন যে দিল্লীর বাদশার সমূহ বিপদ ?

বকৃত। সেবিষয় কোনই সন্দেহ নেই জনাব। জাহান্দার শা! মোঘল বংশের কলঙ্ক। মস্নদে বসে তিনি মদ আর নর্তকী নিয়ে ডুবে থাকেন।

আবছুল্লা। শুনেছি লালকুয়ারী নামে-_

বকৃত। সত্য কথা। সম্রাট আজ লালকুমারীর রূপে উন্মাদ সারাক্ষণ নর্তকী মহলেই পড়ে আছেন। রাজকার্যের কথা বললে তার অত্যন্ত গোস! হয়। সেধিন দেওয়ানী আমে মহামান্ত ওমরাহগণ তাকে ডেকে পাঠাতে তিনি তাদের যারপর নাই অপমান করে বিতাড়িত কবেন। অথচ 'রাজপুতানায় বিদ্রোহ হচ্ছে, সময়ে সেদিকে দৃষ্টিপাত কর! নিতান্ত গ্রয়োজন। কিন্তু সম্রাট সেই প্রয়োজন মূহুর্তে যদি এই ভাবে বিলাসে নিমগ্র থাকেন, তবে মোঘল সাআ্রাজ্যের সমূহ বিপদ, বিশেষ করে কাফেররা যে মুহূর্তে স্বাধীন হুবার চেষ্টা করছে। তাই এইবিপদের সময়ে জাহান্নার শাঁর ব্যবহারে সকলেই উত্ত্ক্ত।

তৃতীয় দৃশ্য মসনদে মোঘল ১৫

হুসেন। দিলীর ওমরাহর। তাহলে নিশ্চয় সকলেই অসন্তুষ্ট?

বকৃত। সকলেই।

হুসেন। এবার নিশ্চয়ই তারা লাহোরের যুদ্ধে আজিম উশ.শানের স্ত্যু ঘটানোর জন্য ছুঃখিত ?

বকৃত। হ্যা, তারা সবাই তার জন্য লজ্জিত-_কিন্ত এখন তো আৰ তার কোন উপায় নেই। আজিম উশশান আজ পরলোকে

আবছুল্লা। উপায় এখনে! আছে আজিম উশশান নেই কিন্ত তার উপযুক্ত পুত্র আজও বতমান। আর আজিম উশশানের সমস্ত গুণাবলীই রয়েছে তার পুত্রে মধ্যে দিল্লী যদি আমাদের সাহাষ্য করতে প্রস্তত থাকে তবে আমরাও দিল্লীর মসনদে একজন যোগ্য প্রার্থীকে দিতে পারি। সমগ্র এলাহাবাদ আমান করতলগত আর আমার ভাইয়ের সঙ্গে আছে হায়দ্রাবাদ শাহাজাদার সঙ্গে পাটন৷ প্রস্ততই আছে।

বকত। দিল্লীও প্রত্তত আছে।

আবদুল্পা আমর! তবে প্রস্তত আমরা ঠিক করেছি দিল্লীর তক্তে তাউসে জাহান্দার শাব মত একজন কম বক্তকে আর বসতে দেব না তাই শাহাজাদা ফাকুকসিয়রকে আমর! সেই ভাবেই প্রস্তত করে চলেছি _তিনিও প্রস্তত।

ফারুক আপনারা ষদি ইচ্ছা! করেন, তবে হিন্দস্থানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে আমি রাজি তাছাড়া আমি কোনদিন পিতৃহস্তাকে ক্ষমা করতে পারিনি--পারবো না পাটনাতে আমি স্বাধীন ভাবেই আছি দিলী অভিষানের ইচ্ছা! আমার বরাবরই আছে, স্থযোগের অপেক্ষায় আছি। সৈয়দ ভাইদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ--তার] যে আমার পিতা আজিম উশ.শানের কথা স্মরণ রেখে তার হতভাগ্য পুত্রকে সাহায্য করতে অগ্রসর হয়েছেন__

হুমেন আমাদের কর্তব্য শাহাজাদা আজিম উশশানের নিমক

১৬ মসনদে মোঘল প্রথম অঙ্ক

আমরা খেয়েছি গুরংজীবেরও নিমক খেয়েছি তাই মোঘল, সম্াজ্য ছিন্নভিন্ন হ'য়ে যাক আমরা দেখতে পারব না তাই-_

ফারুক। আপনাদের কৃতজ্ঞ! জানিয়ে আর লজ্জা দিতে চাই না। তবে আপনাদের বলতে পারি যে আমি অরুতজ্ঞ নই এব. আপনাদের আজকের সাহায্যের কথ! কখনও বিস্থৃত হব না! মল্লার মঞ্জিতে যদি কখনও মসনদে বসতে পারি আপনাদের পরামর্শ ব্যতীত আমি কিছুই করব না কথা আমি প্রতিজ্ঞ কবছি। ( আবছুল্লা হুসেনের মধ্যে দৃষ্টি বিনিময় হইল )

আবছুল্লা। ( বকৃত খাকে ) আপনারা যদি মনে করেন তৰে শীভ্তই আমর! দিল্লী অভিষান স্থুক করতে পাবি-_-তবে আপনাদেরও সাহায্য আমাদের প্রয়োজন |

বকত। বলুন কি সাহায্য?

আবদুল্লা। জাহান্দার শাকে এই সময় ব্যস্ত রাখতে হবে।

বকৃত। কিরকম ভাবে?

হুসেন কেন, দিল্লী গিয়েই এমন কতকগুলি সমস্যার স্থষ্টি করাল, যাব ফলে জাহান্দার শা যেন পাটনার দিকে আর দৃষ্টি দেবার অবসব না পান। আর আপনার। দিল্লী থেকে একদল ওমরাহ পাটনায় পাঠিয়ে দেবেন।

বকৃত তারপর ?

আবদুলা | তারপর আমরা আমাদের কাজ করব। কিন্তু মনে রাখবেন, দিল্লী থেকে ওম়রাহরা না আসা পর্যন্ত আমরা দিল্লীর পথে যাত্রা করবো না

বরৃত। বেশ মেইভাবেই কাজ হবে.। কিন্ধ, দেখবেন যেন আমাদের বিপদ্দে ফেলবেন না

আব্ছন্। তোরা,তোবা। এখনো খোর। আছেন, আশমানে: চত্

তৃতীয় দৃশ্য মসনদে মোঘল ১৭

সূর্য্য উঠছে-__-সৈয়দ ভায়েবা কখনও মিথ্যা কথা বলে না। তবু যদি আমাদের বিশ্বাস করতে না পারেন, শাহাজাদা ফারুকসিয়রকে নিশ্চয় বিশ্বাস করবেন

বকৃত। নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই |

হুসেন। আপনি তাহলে আর দেরী করবেন না, এই মুহুর্তে দিল্লীর পথে যাত্রা করুন আর আমরাও প্রস্তত হই।

কুনিশ করিয়। বকৃত খাঁ দরবার ত্যাগ করিল

আবছুল্লা। এইবার আমাদের কাজ আরম্ভ করতে হবে শাহাজাদা।

ফারুক। বলুন কি করতে হবে?

হুসেন। অস্ত্রের চেয়েও আমাদেব এখন বেশী প্রয়োজন অর্থ। আপনাকে প্রথমেই অর্থ সংগ্রহে মনোযোগ দিতে হবে।

ফারুক কি রকম ভাবে?

আবছুল্লা। বাংল! ধনশালিনী। বাংলার প্রেরিত অর্থই এখন দিল্লীর বাদশার একমাত্র সম্বল সেই অর্থ দিল্লীতে পাঠানো বন্ধ করতে হবে আর সঙ্গে সঙ্গে সেই অর্থ আপনাকে করায়ত্ত করতে হবে।

ফারুক তাকি করে সম্ভব?

হুসেন। এই মুহুর্তে আপনি জেকে বাদশ। বলে ঘোষণা করে দিন। বাংলার নবাব মুগ্দিদকুলি খাকে আদেশ করে পাঠান অথ পাঠা- বার জন্য |

ফারুক। আর যদ্দি তিনি না পাঠান?

আবছৃন্না। যাঁতে পাঠান তারই ব্যবস্থা করতে হবে। বাংল! আক্রমণ করব আমরা। মুশিদকুলি খার সাধ্য নেই আমাদের বাধা দেন। যদি তিনি অর্থ দিয়ে বিন! যুদ্ধে আমাদের বস্তা স্বীকার করেন

১৮ মসনদে মোঘল প্রথম অন্ক

ভালই, আর তা! না হলে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে। পেছনে শক্র রেখে দিল্লীর দিকে এগিয়ে যাওয়া! ঠিক হবে না জনাব।

ফারুক। বেশ সেই ব্যবস্থাই ককুন।

হসেন। তিমুর বেগকে বাংলায় পাঠান, কিছু সৈন্ নিয়ে সে কার্যোদ্ধার করে আস্থুক। আর একটা কাজ করতে হবে। নিজেকে সম্রাট বলে ঘোষণা করুন এই মূহুর্তে

(একদিকে আবছুল্ল! অন্তদিকে হুসেন আপন আপন তরবারি খুলিয় মাথ উপর দিকে ছুই তরবারি শ্ণ করিল। সেইরূপ অন্যান্য ওমরাহগণ দুইদিকে সারিবদ্ধ ভাবে

ধবাড়াইয়। তরবারিতে তরবারি ল্পশ” করিয়ণ দড়াইল। )

সকলে। জয় সম্রাট ফারুকসিয়রের জয়, জয় সম্রাট ফারুকসিয়রের জয়।

চতুর্থ দৃশ্য ( বাংলার বাজধানী যুশিদাবাছের মন্ত্রণ-কক্ষ। বৃদ্ধ নবাব যুশিদকুলি খ। উপবিষ্ট তাহার সিপাহ-শালার জনাবৎ খঁ| দণ্ডীয়ম।ন। সময় প্রভাত। )

মুশিদকুলি। কে কে বাদশা বলে নিজেকে জাহির করেছে ?

জনাব আঙ্জে ফারুকসিয়র পাটনায় নিজেকে বাদশা বলে ঘোষণা কবেছেন আর বাংলায় তার দূত রহমত খাঁকে পাঠিয়েছেন।

মুশিদ। টাড়াও, আমাকে ভাবতে সময় দাও। কি সবব্লছ? ফারুকসিয়র বাদশ! হয়েছে? আমার চিরছুষধমন আজিম উশশানের পুত্র বাদশা হয়েছে? তাহলে সম্রাট জাহান্দার শা গত হয়েছেন?

জনাবৎ। আজ্ঞে না, জাহান্দার শা বহাল তবিয়তেই দিল্লীতে আছেন।

মুশিদ। তুমি এই সকাল বেলাই কি সব ষাতা বলছ জনাব ? আমার বিশ্বাস তুমি প্রকৃত মুলমান এবং স্থরাপানে অত্যন্ত নও। এক 'তক্তে তাউসে দুজন বাদশ।-__হাঃ হাঃ হাঃ কি সব ছেলেমানুষের মত বলছ. জনাব?

জনাবং। আজ্ঞে আমি ঠিকই বলছি। ফারুকসিয়র এখনও দিল্লীর মস্নদে আরোহণ করতে পারেননি সত্য কিন্তু তিনি সৈয়দ ভাইয়েদের সাহায্যে পাটনায় নিজেকে বাদশ। বলে ঘোষণ। করেছেন-_ _নিঞ্ের নামে খুতবা! পাঠ করেছেন।

মুশিদ। তাইতো

জনাব। তিনি বাংলায় দূত পাঠিয়ে আদেশ করেছেন যে "বাংলা রাজস্ব এখন থেকে তাকেই দিতে হবে।

২০ মসনদে মোঘল _ প্রথম অঙ্ক

মুরিদ তা কেমন কবে সম্ভব ?

জনাবৎ। আমি গোপনে খবর পেয়েছি যে তিনি শুধু দূত পাঠিয়ে ক্ষান্ত হননি। দূতের সঙ্গে সঙ্ষে এক বিরাট বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন মহাবীর তিমুর বেগ তার সহকারী রসিদ খা। কাজেই এটা বেশ বোঝা যাচ্ছে যে রাজস্ব ন1 পেলে তার] বাংলা! আক্রমণ করবে।

মুশিদ। বা"লা আক্রমণ করবে? আমায় সাধের বাংলা _আমাব সাধের মুগিদাবাদ? তাইতো-_

জনাবৎ। আমার মনে হয় জনাব, ফারুকসিয়রের দূতকে কিছুদিন কৌশলে আটক রেখে ক্রতগামী অশ্বারোহী পাঠিয়ে গোপনে সম্রাট জাহান্দার শার কাছে সংবাদ প্রেরণ করি।

মুশিদদ। সম্রাট জাহান্দাব শা? সেকি করবে একটা হিন্দু নর্তভকীর রূপে মুগ্ধ হয়ে মে তো! রাজকাধ্য কিছুই দেখে না, কেবল সবাব নর্তকী তাকে আমি মনেপ্রাণে ঘ্বণা করি।

জনাব্। তবে জনাব, বাংলায় আপনি স্বাধীন নবাব হয়েও তাকে রাজস্ব দেন কেন?

মুশিদ। রাজন্ব আমি তাকে দিই না, দিই তক্তে তাউসকে-_দিই হিন্দুস্থানের বাদশাকে।

জনাবং। তাহলে ফাককসিমরকে রাজন্ব দিতে আপত্তি কি, আপনি ষখন জাহান্দার শাকে ত্বণা করেন?

মুশিদ। না, তা হয় না। যে শাহাজাদাই দিল্লীর সিংহাসনে বসবেন তাকেই মুপিদকুলি খঁ1 বাদশা! বলে কুনিশ করবে। বাংলার রাজন্ব পেতে হলে দিল্লীর মসনদে গিয়ে বস্থক আগে। ময়ুর-সিংহাসন যার নেই তাকে আমি বাদশা বলে মানি না। ফারুকদিয়র যদি দিল্লী অধিকার না করে এসে আমার কাছে রাজস্বের জন্ত জবরদস্তি করতে চায়

তবে যুদ্ধ অপরিহার্ধ্য।

চতুথ দৃশ্য মসনদে মোঘল ২১

জনাব ফারুকসিয়রেব বিরুদ্ধে, সৈষদ ভায়েদের বিরুদ্ধে আপনি কি বাংলাকে, আপনার মৃরিদাবাদকে রক্ষা করতে পারবেন ? ভাববেন নাষে আমি ভমেনখাবা তিমুর বেগবা ইব্রাহিম খার ভযে একথা বলছি। আপনি যদি চান আমি আমাব সৈন্য নিয়ে বণক্ষেত্রে প্রাণ দিতে পারি কিন্তু এই সামান্য সৈন্য নিয়ে এক বিবাট বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করা কি ঠিক হবে?

মুশিদ। তাইতো! কিন্তু__না থাক-_কিন্তু নাঁ_তাই বা কি করে হয়? তবে তুমি সন্ধিরই বাবস্থা কব-_কিছু অর্থ উপঢৌকন দিয়ে না হয় এবারকার মত রেহাই পাওয়া যাক!

(মুশিদকুলি খার কন্তা জিন্নতউপ্সিসার প্রবেশ। তাহার পরণে শালোয়ার__অনেকট] পুরুষের বেশ। রূপার জরিতে মণ্ডিত তাহার বেণী, কোমর বন্ধে তীক্ষধার ছুরি )

জিন্নতউন্লিসা। কখনই ন1। যে কেউ নিজেকে সম্ত্রাট বলে ঘোষণ। করবে আর আমাদের অমনি অর্থ দিয়ে রাজস্ব দিয়ে তারই পদলেহন করে বাংলার স্বাধীনতা বিক্রয় করতে হবে ? বাংলা আজ এতই হুনবীর্ধ্য হয়ে পড়েছে যে বিরাট সৈম্ত বাহিনীর ভয়ে সে স্বাধীনত৷ হারাবে? জনাবৎ ভাই, আজ অর্থ দিয়ে ওদের হটিয়ে দিতে পার কিন্ত__তারপর কি আবার এঁ অর্থলালসায় ওরা হান! দেবে না বাংলার বৃকে-__হানবে না তীত্র আঘাত? স্থজলা স্থুফল৷ বাংলার ধন-সম্পর্দের লোভে আবার তাদের রণদামাম| বেজে উঠবে না? তবে বাংলার যুবক যদি আজ হীন- বীরধ্য হয়ে থাকে -থাকুক্‌ তার] গৃহকোণে | নবাব বৃদ্ধ, স্থবির, অথর্ব-_ তাই বাংলার যুবক আজ পক্ু অসহায়। কোন ক্ষতি নেই, থাকৃক তারা সুখে গৃহকোণে বাংলার নারীর চক্ষে আজ নিদ্রা নেই। নিজে আমি যাব রপক্ষেত্রে_-বাংলার স্বাধীনতাকে ধুলিসাৎ হতে দেব না। পিতা, আপনি বাংলার স্বাধীন নবাব, এই স্বকষ্মিত লম্রাট ফারুকপিয়বের

মসনদে মোঘল প্রথম অঙ্ক

দ্ধত্োর জবাব দিন। তারা জানুক যে মুগিদকুলি খ'"! বৃদ্ধ, স্থবির কিন্ত তিনি বাংলার নবাব ওুদ্ধত্যের জবাব দিতে তিনি জানেন ন্বাধীনতা রক্ষা করতে তিনি পরাজ্মুখ নন।

জনাব ঠিক। আমি এতক্ষণ একি করছিলাম! ভম্ী, তুমি আমায় ক্ষমা কর। বাংলার যুবক আজ হীনবীর্ধ্য হয়নি-_স্বাধীনতা রক্ষা করবার জন্য তার! প্রাণ দিতে পারে তগ্রী, তোমাদের স্থান আমাদের পরে। যদি রণক্ষেত্রে আমাদের মৃত্যু হয় তবেই__আর্দেশ করুন জনাব ' ফারুকসিয়রের দৃূতকে উপযুক্ত জবাব দিয়ে দি।

মুশিদ। কিন্ত

জিন্নৎ | ( পিতার নিকটে গিয়। তীহাব মস্তকে হস্ত সঞ্চালন কবিতে করিতে ) কিছু ভাববেন না পিতা জনাবৎ খা, করিম খার মত দক্ষ সেনাপতি আমাদের সহায়-_আর তাছাড়া! আপনার আহ্বানে বাংলার প্রতিটি মান্ধষ বেরিয়ে আসবে তাদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য

মুশিদ। কিন্ত, আচ্ছা তাহলে আমাব জামাতা! বাবাজীবন স্থজাউ- দিনকে উডিষ্যা থেকে আসতে বলি?

জিন্নৎ। না।

মূশিধ সেকি জিৎ, সে তোর স্বামী, আমার জামাই আমার একমাত্র পুত্রকে হারিয়েছি, আর আমার কেউ নেই। সে তোর মর্ধ্যাদা রাখেনি, বাইজি আর অুরা নিয়ে মত্ত, তাই কি অভিমান তরে-_ জিন্নৎ | না পিতা, তার এখন উভিস্যা থেকে চলে আসবার প্রয়োজন নেই, সেখানে আলিবন্দি-_

মুপিদ ঠিক বলেছিস মা, ঠিক বলেছিম। উড়িস্তাতে আলিবর্দির ওপর দায়িত্ব ফেলে আসাটাও যুক্তিযুক্ত নয়। আলিবদ্দিকে আমি রিশ্বান করি না-_বাংলার মসনদের দিকে তার লোড়--তার চোখে.

চতুর্থ দত মসনদে মোঘল ২৩ আমি লালসার দৃষ্টি দেখেছি যে কোন সময়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে

পারে সে। জনাব কারও সাহাষোর প্রয়োজন হবে না জাহাপনা যতক্ষণ আমার আর করিম খর দেহে প্রাণ আছে।

মুখিদ তবে তাই হোক, কবিমাবাদের প্রান্তরে তোমর৷ প্রস্তত থাক। এই কে আছিম- _পাটনাব দ্ূত।

( সর্ববাঙ্গ কাল কাপড়ে আবৃত, মাথ পাগড়ী দূতের প্রবেশ)

দত। আর কতক্ষণ আমাকে অপেক্ষা করতে হবে? আমার প্রতি আদেশ আছে বাংলাব রাজন্ব নিয়ে যাবার

মুশিদ। দিজীর সিংহাসনে না বসা পধ্যস্ত কাউকে হিন্দুস্থানের বাদশ। বলে মৃশিদকুলি খ'! স্বীকার করেন ন]।

দূত। (অবন্ধাপ হাসি)কেকি ত্বীকার করেন না করেন তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না আমরা স্বীকার করি ফারুকসিয়র হিন্দু- স্থানের বাদশা, কাজেই রাজস্ব আমরা আদীয় করবই।

জনাবৎ। মুগিদকুলি খ] যদি রাজন্ব না দেন?

দূতশ মুশিদকুলি খাকে গদিচাত করা হবে।

মুখিদ। কামবক্ত-_

জিন্নৎ তবে রে পাষণ্ড--( ছুরিকা বাহির করিলেন )।

জনাবৎ। ( তরবারি বাহির করিয়া ) আদেশ করুন জনাব-_

মৃশিদ দূত অবধ্য, তাই আজ তমি শির নিয়ে ফিরে যেতে পারছ। নইলে-_

দুত। নইলে_(দূত তাহার কাল আবরণ পাগড়ী খুলিয়। ফেলিলে দেখ! গেল সেনাপতি তিমুর বেগের বীর মৃত, তরবারি কোবমূক্ত করিয়া)

২৪ মমনদে মোঘল প্রথম অন্ক

এই তরবারিই তাকে রক্ষা কখবে জনাব মামি দেখতে এসেছিলাম বাংলার বীরত্ব। ( অবজ্ঞা তরে ) দেখলাম বাংগা বীওপ্রমবিনী_বাংনার নবাৰ বৃদ্ব_অথর্ধ-_বাংলাব মেনাপতি 6ঞপমতি এক বাণক--আর বাংলার মন্ত্রী এক নাবী অবলা বেশ মিলেছে-বালক আর নারী_ ৰাঃ বাঃ (হাস্য ) দেখ! যাবে জনাব এই বালক আব এই নাবী নিয়ে কেমন কবে গদি বক্ষ কবেন।

প্রস্থান]

পঞ্চম দৃশ্য ( করিমাবা”দর প্রান্তর, রণক্ষেত্র িবির। সময অপরাহু। দেনাপতি তিমুর বেগের 'হ্যঃলক এনায়েৎ ধা তাহার সহকারী সফদরজং। এনায়েৎ বেঁটে মেটা, তাহার বিশাল ভুঁড়ি তাহার অ'গে আগেচলে এবং সফদ?গ্গং রোগা, লম্বা তাহার একজোড়া গোঁফ তাহার মস্তকের তুলনায় বড়। প্রথমে এনায়েৎ খ। এবং তাহার পিছনে সকদরভং মুক্ত তরবারি হস্তে প্রবেশ করিল 1)

এনায়েৎ। নফদরজং_

সফদর। আজ্ঞে হুজুর__

এনায়েৎ। আজ্জে হুজুর! কতদিন ধরে তোকে সহবৎ শেখাব ? আমি হলুম মহাবীব তিমুর বেগের শালা মহম্মদ আক্রামুল্লা এনায়েৎ খা। আমাকে জাহাপনা বলতে পারিস না? আর কদিন পরেই মৃণিদকুলি খশর গর্দানট] ক্যাচাং করে না কেটে দিয়ে তার মসনদে আমিই বসবো। তখন আমিই হব বাংলার নবাব

সফদর। আর বে-বে-বেগম হবে কে?

এনায়ে। কেন? মুগিদকুলি খশার একটা খুপস্থরৎ মেঘে আছে না তাকে আমার চাই

সফদর। কিন্তু জাহাপনা সে যদি আ-আপনাকে সা-সা-সাদি করতে না চায়?

এনায়ে। কি বল্লি কামবন্ত ? ( তাহাকে আক্রমণ করিতে উদ্যত )

সফদর। আজ্ঞে, আ-আ-আমি নই, আমি আপনাকে সা-সা-সাদি করতে চাই না বলিনি আ-আপনাকে আমার খুব প-প-পছদ

এনায়েখ। হা তাই বল। আমার মত খুপন্থরৎ চেহারা, আমার

২৬ মপনদে মোঘল প্রথম অন্ক

মত নওজোয়ান আর দেখেছিস? দেখবি মূর্িদকূলি খাঁর বেটাটা আমার পায়ে লুটোপুটি খাচ্ছে

সফদর। কিন্ধ হুজুর সে খবর শুনে সা-সা-সাসারাম থেকে আ- আ.-আপনার আর পঁচিশজন বিৰি ষদি ছুটে আসে?

এনায়েৎ। কি বল্লি, তারা যদি আসে? তবেই তো ভাবিয়ে তৃল্লি। একেই তো এই বিবাট যুদ্ধের ভাবনা ভাবতে আমি রোগা হয়ে গেলুম

সফদর আজে হুজুর, আপনি ন-ন-নবাব হলে-__

এনায়ে। চপ কর কামবন্ত, নবাব হলে কি রকম- নবাব তো আমি হয়েই গেছি দয়া করে এখন গদ্দিতে বসলেই হ'ল।

সফদব। আজ্ঞে নবাব সাহেব, আমি তাহলে কি হব ?

এনায়েৎ। কেন তুই আমাব সেনাপতি হবি।

সফদব। সে-সে-সেনাপতি? নানা সে আমি পাবব না। যুদ্ধ করা

এনায়েংৎ। সে কিরে বেয়াকুফণ, যুদ্ধকে তোর এত ভয় ? আরে যুদ্ধ করা খুবই সোজা সে আমি তোকে শিখিয়ে দোব এখন কেমন করে তিন তৃডিতে যুদ্ধ জয় করতে হয়। শোন, এদিকে আয়-_ আরও একটু কাছে আয়--_

সফদর আরও” গ-গ-গর্দানটা নেবেন না তে।?

এনায়েৎ। না না, কাছে আয় তোকে একট] চুপি চুপি কথা বলি। যুদ্ধে বাদশ। যদি তিমুর বেগকে সেনাপতি না করে আমাকে সেনাপতি করতেন তাহলে আমি বাংলাকে তিন তুড়ি দিয়ে উডিয়ে দিতুম।

সফদর। তিন তুড়ি, তিন তুড়ি (তরবারি নাচাইতে নাচাইতে ) বাঃ বাঃ সে বেশ হত।

এনায়েখ। আচ্ছা সফ্দরজং, তৃই সব সময়ে তলোয়ার খুলে হাতে বাখিস্‌ কেন?

পঞ্চম দৃশ্ত মসনদে মোঘল ২৭

সফদর। আজ্ঞে বাদশা

এনায়েৎ। বাদশা, বাদশা, তা মন্দ বলিসনি, নবাব যখন হয়েই গেছি তখন বাঁশ! হওয়ার আর বেশী দেবী নেই দেখ, তোকে আমি সেনাপতি করে দোব।

সফদর। আজ্ঞে হুজুর, তা-তা-তার চেয়ে আমাকে বরং উ-উ- উজির

করে দেবেন।

এনায়েৎ। বেশ, বেশ, তাই হবে, তোর ষখন যুদ্ধের এত ভয়। ত! ঠ্যাবে সফদরজ”, তুইতো বললি না কেন সব সময়ে তলোয়ার খুলে রাখিস?

সফদর। আজ্ঞে হুজুর এই বা-বা- বাঙ্গালী পল্টনগুলে! লোক বড় ক্থবিধের নয়_-ওর] বড় বে-বে-বেয়াড়া। যর্দি আমার তলোয়ার কেডে নিয়ে মাআমার গ-গ-গর্দানটা ক্যাচাং করে কেটে নেয় তো আমার সাধের এই গৌ-গো-গৌঁফের কি হবে?

এনায়েৎ। (হাসিয়!) হাঃ, হাঃ আরে মূখ, গার্দানটা যছি চলে গেল তো! গোফের কি হবে?

সফদর। তা বটে কিন্ত-_

এনায়েৎ। কিন্ত-টিন্ত আর নয়। বড় ক্ষিধে পেয়ে যাচ্ছে। এতক্ষণ বোধ হয় আমাদের বাবুচি কচিমিঞ্া ভেড়ার কাবাব বানিয়েছে

( নেপথ্যে কোলাহল-_. আল্লা হো আকবর", 'জয় সোনার বাংলার জয়” “জয় মৃশিদকৃলি খাঁর জয়” প্রভৃতি নানা রকম আওয়াজ ভাসিয়া আসিতে লাগিল )

সফদর। আর গোস্তের কাবাব! একেবারে আমাদের না কা-কা- কাবাব বানিয়ে ছেড়ে দেয়। হুজুর গতিক বড় স্বিধার নয়। আবার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। হুজুর এলো যে! (সফারজং এনায়েতের পিছনে লুকাইবার চেষ্ঠ। করিতে লাগিল এবং এনায়েখও

২৮ মলনদে মোঘল প্রথম অঙ্ক

তাহার পিছনে লুকাইবার চেষ্টা করিতে লাগিল। বেগে বাচ্চিখার প্রবেশ )

বাচ্চিখ1| হুজুৰ সর্বনাশ হয়েছে।

সফদব। হ-হযেছে? তখনই জানি বা-বা-বাঙ্গালী প-প-পণ্টন বড সাংধাতক। কি হবেহুজুব। ( পুনরায় লুকাইবার চেষ্টা করিল )

বাচ্চিখ!। হুজুর ভীষণ যুদ্ধ-_

সফদব। ভী-ভী-ভীষণ ওরে বাবাবে কোথায যাব? বিভীষণেব বেটা ভীষণ কি সাজ্ঘাতিক যো-যো-যোদ্ধারে ! হুজুর আ-আমার যে একটা মাত্র বি-বিবি, তাব কি হবে হুজুর ?

এনায়েৎ। আরে মুখ্য নিজে কি করে বাচবি আগে তাই ভাব, বিবির ভাবনা পরে ভাবলেও চলবে

বাচ্চিখ1। হুজুর, বাঙ্গালীরা তীষণ যুদ্ধ কবছে।

এনায়েৎ। আব আমাদের সৈন্যরা ?

বাচ্চিখা। তাদের তো একেক জনকে কচুপাতার মত কেটে কেটে €ফলছে-__

সফদর। ক-ক-কচু কাটা ওবে বাবারে আমার ত-ত-তলোয়ার__